বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"চিরকুটের শব্দ ২"
writer fb id: lokmanhosen.babu.7
।
৩য় পর্ব
।
--আখি
--হুম
--তোমার আম্মুকে আমি কি বলে ডাকবো?
--কেনো? তুমি জানো না?
--জানিতো, শাশুড়ি বলে ডাকবো।
--কিহ? গাঁধা নাকি?
--ওহ বুচ্ছি, আন্টি বলে ডাকবো।
--হাতুউউম
--কি ডাকবো আমি কি জানি নাকি? আগে কি বিয়ে করছি?
--আমি তোমার আম্মুকে কি ডাকি?
--আম্মুই ডাকো।
--তুমিও আম্মু নাহয় আম্মা ডাকবা।
--আচ্ছা।
.
ডুকেই শশুড়-শাশুড়িকে সালাম করলাম।
ওনাদের সাথে আরো কয়েকজন মুরুব্বি ছিলেন।
ওনারা নতুন জামাই দেখতে আসছে।
সবাইকে সালাম দিলাম।
শশুড় সাহেব বসতে বললেন।
--কেমন আছো বাবা? আসতে কোন অসুবিধা হয়নি তো?
--জি ভালো আছি, আসতে কোন অসুবিধা হয় নি। আপনারা সবাই ভালো আছেন?
--হা আমরা সবাই ভালো আছি, বেয়াই আর বেয়ান কেমন আছেন?
--জি ওনারাও ভালো আছেন।
--বেয়াই তো দেশে নেই, তো বেয়ান আসেনি যে?
--আসলে, আম্মু বাড়ি ছেড়ে কোথাও যান না। অনেক বার বলছি, কিন্তু আসেন নি।
--ও আচ্ছা, অনেক দুর থেকে আসছো, বিশ্রাম নাও, বিকেলে গল্প করবো।
--আচ্ছা বাবা।
.
আমার বউয়ের রুমে গিয়ে বসলাম।
কিন্তু বউ কই?
--দুউলা ভাই,
--কে?
--নাস্তা
--তুমি নাস্তা?
--জি না, আমি পাখি, আর এইযে এগুলা নাস্তা।
--(আমার ৫ হাজার টাকা গচ্ছা গেছে, দেখি কিছু উসুল করা যায় নি,) তোমার বয়স কতো?
--১৫ বছর, কেনো দুলাভাই?
--কেনো যে তোমার আপুর সাথে দেখা হওয়ার আগে তোমাকে দেখলাম না।
--দেখা হলে কি হতো দুলাভাই?
--তোমাকেই বিয়ে করতাম।
--কি বলছেন দুলাভাই? আমি কি খুব সুন্দরি?
--সুন্দরি মানে, একদম পরি।
--আপুর থেকেও সুন্দর?
--তা না হলে বিয়ে করবো বলছি কেনো?
--কি যে বলেন না দুলাভাই, আপু শুনলে আপনার খবর আছে।
--কিভাবে শুনবে?
--কথায় বলে না, "দেয়ালের ও কান আছে"
--কে বলে?
--কথায়
--কান আছে?
--হুম
--মুখ নেই?
--তা তো জানিনা।
--তাহলে কি লাভ শুনে? যদি মুখই না থাকে বলবে কেমনে?
--আমার তো সবই আছে।(আখি)
--কে?
--আমি, আপনার বউ।
--তু তুমি কখন এলে?
--ভুল সময়ে এসে পড়ছি, তাই না?
--আরে না না,
--কি বলছিলা ওকে?
--আপু আমি আসি, তোরা কথা বল।(বলেই দৌড়)
--কি বলছিলা বলো।
--কি বলছি?
--ওকে বিয়ে করতে?
--ছি ছি, একদম না।
--আমার থেকে ও বেশি সুন্দর?
--আমার বউয়ের থেকে বেশি সুন্দর কেউ হতেই পারে না।
--ও পরি?
--আমার বউ পরি।
--ওকে এগুলা কেনো বলছিলা?
--শালি তো, তাই দুষ্টুমি করছিলাম।
--দুষ্টুমি না? কথা বলবা না আমার সাথে।
--এই বউ এই, আরে কই যাও? যা বাবা, চলে গেলো।
.
জানি বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারবে না।
নিশ্চিন্তে নাস্তা খেয়ে শুয়ে পড়লাম। কিন্তু বউয়ের দেখা আর পাইলাম না।
নতুন শশুড় বাড়ি, তাই নিজের ইচ্ছায় বেরও হতে পারছি না।
অসস্থিকর একটা ব্যাপার। দুপুর হলো, শালি এসে খাওয়ার টেবিলে ডাকলো।
গিয়ে দেখি কতো আয়োজন। আহা-হা, জামাই আদর শুরু।
সে কি যত্ন করেই না খাওয়ালো।
সবাই একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করলাম।
দুপুর পেরিয়ে বিকেল হলো, বউ এলো না।
বউকে যে ডাকবো তারও কোন উপায় নাই, শশুড় বাড়ি বলে কথা।
এজন্যই আমি কোথাও যাই না। নিজের মন মতো চলতে পারি না, যদি পাছে লোকে কিছু বলে।
মন খারাপ করে শুয়ে পড়লাম।
ঠিক সন্ধ্যার সময় আখি রুমে আসে।
--কি হলো আখি? সেই সকাল বেলা থেকে তুমি গায়েব।
--তো?
--তো মানে কি?
--আমাকে কি দরকার? শালি আছে তোমার, যা বলার তাকে বলো।
--কিহ?
--কিছুনা।
--ছিঃ তোমার বোনকে নিয়ে এটা বলতে পারলে?
--আমি কিছু বলিনি, সব তুমিই বলছো।
--তোমার এসব মনে হলো তাহলে। তোমার বিশ্বাস টাই এখনো অর্জন করতে পারলাম না।
--............
--আর এমন হবে না, আমি চলে যাচ্ছি, তোমার চোখের সামনে থেকে।
--কই যাচ্ছো?
--বাড়িতে। তোমার যাওয়ার সময় হলে ফোন করিও, এসে নিয়ে যাবো।(বলেই রুম থেকে হন হন করে বেরিয়ে পড়লাম)
--দুলাভাই কই যান?(শালি)
--বাবা কোথায় যাচ্ছো?(শশুড়)
--জ্বি একটা জরুরী কাজ পড়ে গেছে তাই চলে যাচ্ছি।
--না বাবা, ও কোথাও যাচ্ছে না।(হাত ধরে টেনে রুমে নিয়ে গেলো)
.
ধুম করে দরজাটা বন্ধ করে দিলো।
--কোথায় যাচ্ছো আমাকে একা রেখে?
--আমিতো আপদ, এখানে থাকলে তো শালিকে নিয়ে পালাবো, তাই দুর হচ্ছিলাম।
--(হঠ্যাৎ পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে) ও স্বামী, আমাকে ক্ষমা করে দাও না প্লিজ, জানিনা কি জন্য এমন রাগ উঠছিলো, যার কারনে এমন ব্যবহার করে ফেলেছি।
--(টেনে দাড় করালাম) আমাকে বুঝি এখনো বিশ্বাস হয় না? ওর সাথে শুধু একটু দুষ্টুমি করছি। শালির সাথে তে দুলাভাইরা দুষ্টুমি করেই।
--কি করবো বলো, আমার যে সহ্য হয় না। তোমায় যে অনেক ভালোবাসি।
--পাগলি একটা।
--(খুব শক্ত করে জড়িয়ে নিলো আমাকে)
--এতো ভয় পাও কেনো? আমি কি পাগল? যে কোন মেয়ের সাথে কথা বলছি মানে তার কাছেই চলে যাচ্ছি?
--সরি, আর কখনো এমন হবে না। এই যে কানে ধরছি।
--পাগলি কোথাকার, এভাবে হবে না।
--তাহলে?
--পাপ্পি চাই।
--এই যাহ, কি আছে এই পাপ্পিতে? শুধু পাপ্পিই চাও যে।
--এই পাপ্পিতে যে আমার বউয়ের সব ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে।
--তাই বুঝি?
--হুম, দিবানা?
--যাহ, আমার বুঝি লজ্জা লাগে না?
--লজ্জা? তো আমি দেবো?
--দাও
--তাহলে তো বাহিরে যেতে পারবা না। গাল দুটো যে লাল হয়ে যাবে।
--যাহ শয়তান, (বলেই দৌড়ে চলে গেলো)
.
আসলে আমার বউটা এমনি।
আমার পাশে কোন মেয়েকেই নাকি ওর সহ্য হয় না।
আমার কলেজ জীবনের কিছু বন্ধু আমার বিয়েতে আসতে পারেনি,
তারা বিয়ের পর আসে।
যার মধ্যে কিছু মেয়ে বন্ধুও ছিলো।
কেবল তাদের সাথে একটু কথা বলছিলাম।
পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলছিলো।
পরে অবশ্য সরি বলছিলো।
তাতে কি লাভ? ওর জন্য চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো, খালাতো বোন। কারো সাথেই কথা বলতে পারি না।
সবার সাথে কথা বলার জন্য প্রচুর রাগারাগি করছে।
পরে আবার সরিও বলছে। আজ নিজের বোনের জন্য ও এমন করলো।
আবার সরি ও বললো।
কি লাভ? পরে যে এমন করবেনা তার কি মানে আছে?
আমার বউটা একদম পাগল। খুব ভালোবাসে আমায়।
রাতে ঠিকই পাওনা বুঝে নিবো।
.
চলবে.................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now