বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চিরকুট প্রেম...............

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ছোট বেলা থেকেই খুব পড়াশুনা নিয়ে পড়ে থাকত মেয়েটা। স্কুল, বাসা,স্যার পড়া এই নিয়েই তার দিন ছিল। আর কিছু হোক আর না হোক সপ্তাহের ৫দিন পাব্লিক লাইব্রেরী তে তার একবার যেতেই হবে। আর বন্ধের দিন থাকলেতো কথাই নাই। তখন রমজানের ছুটি ছিল কলেজ। তাই প্রতিদিন একটু বেশি সময় নিয়ে লাইব্রেরী তে সময় দিত। ভাল লাগত তার বই পড়তে। গল্পের বই,কবিতার বই,উপন্যাস খুব ভাল পরত। " " " " প্রাপ্তি ছিল খুব বেশি সুন্দরী দেখতে। চশমা পড়ত মেয়েটা। চিকন চশমাটা পড়লে মেয়েটাকে খুব ভাল লাগত। লাইব্রেরীতে অনেক ছেলে মেয়েই যেত। কেউ যেত আড্ডা দিতে আবার কেউ যেত অল্প অল্প প্রেম করতে। কিন্তু প্রাপ্তি প্রতিদিন সেই পশ্চিম পাশের টেবিলটায় একলা বসত। ভাল লাগত তার ওই খানে বসতে। একটা উপন্যাসের বই সে প্রতিদিন পড়ছে কেননা একটু বড় তাই। অল্প অল্প করে পড়ে ভাল লাগে তার। প্রতিদিন এর মত একটা পেজে এসে একটা কথা তার মনে খুব ভাল লাগল। প্রাপ্তি ইচ্ছা করে সেই লাইনটা মারকিং করে রাখল। " " " "___________ সেইদিন ছিল সোমবার প্রাপ্তি চলে যায়। কেননা মঙ্গল বার তার স্যার এর কাছে পরিক্ষা ছিল। মঙ্গলবার প্রাপ্তি লাইব্রেরীতে আসতে দেরি করছে কেননা আজকে তার পরিক্ষা। কিন্তু আজকে অন্যকেউ তার বসার যায়গায় বসে আছে। খুব # নিশ্চুপ ভাবেই বসে আছে ছেলেটা,মন খারাপ করে। সবাই কোন বই না হয় পত্রিকা পড়ছে তাই ছেলেটা একটা বই পড়া শুরু করল আর বইটা ছিল প্রাপ্তির পড়া সেই উপন্যাসের বইটা। ছেলাটার নাম প্রান্ত,কিন্তু আজকে প্রান্তর একটু ভাল লাগছে না তাই সে লাইব্রেরী তে এসেছে। " " " " প্রান্ত বইয়ের পাতা উল্টাতে গিয়ে মারকিং কড়া যায়গা টা পেল সেখানে লেখাটা খুব ভাল লাগল। কিন্তু লেখাটা তার মত করে হলে ভাল হত,তাই প্রান্ত কলম দিয়ে বইয়ের পাতায় ছোট করে লিখে দিল। মুল লেখা ছিল এমন........ ""তোমায় নিয়ে প্রতি রাতে স্বপ্ন দেখি এতে তো আমার দোষ না"" প্রান্ত পাশে লিখে দিল........ ""সেই স্বপ্নে তুমি কেন আসো এটা যে তোমার দোষ"" " " কিছু সময় পর প্রান্ত চলে যায়। প্রাপ্তি আসে একটু পরে। কিন্তু ততক্ষনে প্রান্ত চলে গেছে। প্রাপ্তি এসেই বইটা পড়া শুরু করবে কিন্তু তার পরার যায়গায় যেতেই দেখল কেউ মারকিং করা যায়গাটায় কিছু লিখে রাখছে। তখন সে চিন্তা করছে কে যে বইতে লিখে।বইয়ে দাগানো,ছেড়া নিষেধ সে জানে না। আর তার একটা প্রিয় বই। প্রাপ্তি ভাবল তাকে একটা চিরকুট দিয়ে যাবে যাতে বইতে না লেখে। প্রাপ্তি তার ব্যাগ থেকে কাগজ বের করে চিরকুট লিখল। ""কে আপনি জানি না কিন্তু আমার প্রিয় বইতে আর কিছু লিখবেন না। বইতে দাগানো ভাল না। প্রাপ্তি ভাবল আর লোকটার কথার একটা উত্তর দিয়ে যাবে? """" তুমি আমায় স্বপ্নে কেন ডাকো?আমি তো তোমার ডাক শুনে চুপ থাকতে পারি না""" এইটা লিখে একটু মুচকি হাসল প্রাপ্তি। সে জানে না লোকটা কেমন?ছেলে নাকি মেয়ে?নাকি তার বড়। কিন্তু একটু প্রশ্ন করলে কেমন হয় চিরকুটের নিচে লিখল আপনি কি ছেলে নাম কি? এই সব করতে করতে অনেক সময় চলে যায় প্রাপ্তি দেখে অনেক বেজে গেছে।চলে যায় সে আজকে বাসায়। " " " "______ পরেরদিন প্রান্ত আবার আসে,সেই একি বই নিয়ে পড়তে গিয়ে তার হাতে আজকে একটা চিরকুট আসল,যেটা লেখা ছিল প্রাপ্তির। চিরকুটটা পড়ে প্রান্ত বুজল এইটা কোন মেয়ে হবে,কেননা সে ছেলে কিনা তা জানতে চাইল কেন। এবার সে উত্তর দিবে চিরকুটের। """" আমার কাছে কাগজ ছিল না তাই আমি বইতে লিখছি।আর আপনার ছন্দের উত্তর....... """""তুমি আমার স্বপনের কথা শুনতে পাও অতছ আমার অবুজ মনে কথা বুজতে পারলে না""""" আর হ্যা আমি ছেলে।আমার নাম প্রান্ত আপনি? " " " " এমনি করে তাদের মাঝে চিরকুট প্রেম চলছে কিন্তু কেউ কাউকে দেখেতে পায়না।কেননা যখন প্রাপ্তি আসে তখন প্রান্ত চলে যায় আবার প্রান্ত যখন আসে তখন প্রাপ্তি পড়তে চলে যায়। আস্তে আস্তে তাদের খুব ভাল বন্ধুত্ব হল। ফোন নাম্বার শেয়ার করল একে অপর কে। এর পর তাদের ফোনে কথা হত,ফেসবুকে কথা হত। কিন্তু কেউ কাউকে দেখেনি। প্রান্ত খুব ভালবেসে ফেলেছে প্রাপ্তি কে। প্রাপ্তি ও প্রান্তর জন্য খুব টান অনুভব করত।কিন্তু সে অপেক্ষা করছে প্রান্তর জন্য।কবে তাকে এসে বলবে ভালবাসি আমি তোমায় আর তোমায় নিয়ে আমি স্বপ্ন সাজাতে চাই। সেই দিনের অপেক্ষা করতে করতে একদিন প্রান্ত বলল আচ্ছা চল আমরা দেখা করি? " " " " প্রাপ্তি বলল কিন্তু এখনি আর কেন দেখা করব?প্রান্ত আছে তোমায় একটা সারপ্রাইজ দিব।প্রাপ্তি জানে হয়ত সারপ্রাইজ কি,কিন্তু তবুও না বোঝার ভান করে থাকে। আচ্ছা কবে দেখা করবে বল? আচ্ছা চল ঈদের দিন দেখা করি,প্রান্ত বলল। আচ্ছা আর কোন দিন পাইলা না ঈদের দিন।প্রাপ্তি বলল। সমস্যা কোন আচ্ছা থাক তবে, না না ঈদের দিন করব। কই করবে বলো? ঠিক হল ঈদের দিন তারা তাদের এলাকার বড় ব্রিজে দেখা করবে,ঠিক ৫টায়। কথা মত ঈদের দিন বিকালে প্রান্ত অপেক্ষ্যা করছে প্রাপ্তির জন্য। " " " " পনের মিনিট লেট করে আসল প্রাপ্তি। এই মেয়ে গুলি প্রেম করতে গেলে সব সময় লেট করে আসবেই।ভাবছে প্রান্ত। প্রান্ত প্রথম দেখেই প্রাপ্তি কে চিনে ফেলল।কেননা সে এমন একজন কে কল্পনা করছে মনে মনে। প্রাপ্তির ও ভাল লাগছে প্রান্ত কে। একজন মেয়ের যেমন চাওয়া তার সব কিছুই আছে প্রান্তর মধ্যে আছে। দেখতে শুনতে খুব ভাল। তারা সন্ধ্যা অব্দি এক সাথে ঘুরল খুব ভাল লাগছে দুই জনের।একে অপর কে পেয়ে খুব খুশি। প্রান্ত তো সব লোকের মাঝে বসে প্রাপ্তি কে চিৎকার করে বলল ভালবাসি প্রাপ্তি আমি শুধু তোমায় ভালবাসি। প্রাপ্তির খুব খুশি লাগছিল আবার লজ্জাও পাচ্ছিল এত লোকের মধ্যে তবুও ভালবাসে প্রান্ত কে। " " " " অনেক সময় পর প্রাপ্তি জানতে চাইল আচ্ছা তুমি ঈদের দিন দেখা করতে চাইলে কেন? প্রান্ত বলে আরে বাবু সবাই ঈদের দিন কত মজা করে আর তুমি,আমি তো সকালে নামাজ পড়ছি ফ্রেন্ড দের সাথে ঘুরছি আর এখন তোমার সাথে? কথাটা শুনেই প্রাপ্তির মাথাটা ঘুরে গেল। মানে নামাজ পড়ছ মানে তুমি মুসলিম? প্রান্ত বলল হুম কেন?তুমি মুসলিম না? না আমি হিন্দু প্রাপ্তি বলল। দুই জনের মুখে কোন কথা নাই শুধু এক জন আর এক জনের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রাপ্তি বলল প্রান্ত তুমি আমায় ভুলে যাও আমার পক্ষে তোমাকে ভালবাসা সম্ভব না। এই বলেই চলে গেল,প্রান্ত কিছু বলতে পারল না।অনেক ডাকল কিন্তু প্রাপ্তি কেঁদে কেঁদে চলে গেল। " " " "রাতে অনেক ফোন দিছে প্রান্ত কিন্তু প্রাপ্তি পিক করেনি। কি করে করবে তাদের এই ভালবাসার সম্পর্ক কেউ মানবে না। শুধু কাঁদছে আর বালিশ এ চোখের জলে একাকার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শুধু তার প্রান্তর ভালবাসি কথাটা কানে বাজছে।কি করে ভুলবে তাকে। খুব বেশিই ভালবাসে যে প্রান্ত কে। যা হবার হবে ভবিষ্যৎ এ কিন্তু পারবে না প্রান্ত কে ছাড়তে, এই ভেবে প্রান্তর ফোন পিক করল,প্রান্ত ফোন দিয়েই কেঁদে দিল প্লিজ প্রাপ্তি তুমি আমায় ছেড়ে যেও না।আমি শুধু তোমায় ভালবাসি।আমি তোমায় ভালবাসছি তবে কেন তুমি এখন ধর্ম এর জন্য আমায় ছেড়ে যেতে চাচ্ছ। এক সময় সব বুঝিয়ে তারা একে অপরকে ছেড়ে যাবে না প্রতিজ্ঞা করল। হোক না ভবিষ্যৎ তাদের অনেক কষ্ট পেতে হবে কিন্তু তাদের ভালবাসা দিয়ে চেষ্টা করবে সব অসম্ভব কে সম্ভব করতে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চিরকুট প্রেম...............

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now