বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রাইভেট পড়ি,
শহরে যাওয়া আসা করি খুব ভোরে,,
সপ্তাহে তিন দিন।। সূচি অনুযায়ী আজও
তার ব্যতিক্রম হলনা।। দুপুরের আগেই
বাসায় ফিরে আসি।। কিন্তুু আজ একটা
বিশেষ কাজে আটকা পড়েছি।। গ্রুপ
পান্জাবি কিনতে গেছি।। কিনছি ও।।
গাড়িতে উঠতে উঠতে প্রায় সাড়ে
তিনটা বেজে গেল।।
গাড়ি ঔ সি,এন,জি
টেম্পো( টিকটিকি)। সাথে ছিল আমার
এক বন্ধু,ভাই ও বলতে পারেন। গাড়িতে
উঠে দুজন ই লাস্ট কর্ণারে গিয়ে
বসলাম। হাস্যজ্জ্বল ভঙ্গিমায় পান্জাবি
নিয়ে আলোচনা করছি হঠাৎ আমাদের
বিপরীতে ফাস্ট কর্ণারে একটি
মেয়েকে লক্ষ্য করলাম,চিনতে
কষ্ট হলনা।। তারপর ও সন্দেহ দূর করার
জন্যে কিছুক্ষন দেখার পর নিশ্চিত
হলাম। অনেকটা চেন্জ। দেখার সাথে সাথে বুকের বাম
পাশটা ছ্যাৎ করে উঠল,,,মুহুর্তেই
নিস্তব্দ পাথর হয়ে গেলাম,,,মাথাটা
প্রচন্ড ঘুরছিল, হাত পা অবশ প্রায়।
মেয়েটি আমাকে দেখে মুচকি হাসি
দিল আমি না বুঝার ভান করে ঘুরে
গেলাম।।তার উপর আগে থেকে অসম্ভব রাগ ছিল,, হইত হঠাৎ তাকে দেখার রাগটা আরো বেড়ে গেল,,
যাক, অতঃপর সব ভুলে আমি অনেকবার তার
মায়াবী অসহায় মুখের দিকে তাকিয়েছি
কিন্তু সে আমার দিকে আর একবার ও
তাকাইনি।। মনের পাড়ে অসহ্য
যন্ত্রনাগুলো জড় হতে লাগল
জলহীন কান্নায় বুকটা ফেটে যাচ্ছিল।কিছুই করার নেই নিস্তব্দ হয়ে থাকা ছাড়া।
কিন্তু কেন? কে এই মেয়ে।।
এই সেই মেয়ে যে আমাতে
সারাক্ষন বিভর থাকত, যে আমায় এক
পলক দেখতে(যদিও আমি সুন্দর নই)
ওপারে ঘন্টার পর ঘন্টার দাড়িয়ে থাকত, যে আমার সাথে একটু কথা বলার আশায়
সারাক্ষন ওপার হতে কলের পর কল
করে যেত। এই সেই,
যে আমায়
প্রচন্ড ভালবাসত,আমায় ছাড়া কিছুই
বুজতনা।।
কিন্তু আমি তো অবহেলা
করিনি,, সাধ্যের বেশি ভালবেসেছি।।মন প্রান দিয়ে ভালবেসেছি।
তবে কেন আজ সে আমার সামনে
থেকেও অনেক দূরে,কেন সে
আজ আমার দিকে তাকাইনা,,,কেন সে আজ দেখেও
বলেনি কেমন আছ? এখন কেন আর ওপার হতে কোনো
কল আসেনা,sms আসেনা,ভালবাসি
বলেনা। প্রশ্ন হাজারটা কিন্তু উত্তর দেওয়ার কেউ নেয়।।।
গাড়ি চলছে, আর কথাগুলো ভাবছি।।
অসম্ভব কান্না পাচ্ছিল।।।
পড়ন্ত বিকেলের সূর্যটা হাতঘড়ির
গ্লাসের উপড় পড়ল,, আলোর
প্রতিবিম্বটা সরাসরি ওর মুখে
পড়ল,,খেয়াল ও করিনি।। হঠাৎ চোখে
পড়ল,, সুযোগটা মিস করিনি ইচ্ছা করেই
প্রতিবিম্বটা ফেলছিলাম ওর মুখে এই
উছিলাই যদি সে একটু দেখত।।
কিন্তু ব্যর্থ আমি।।
না তাকাইনি।
কিছুক্ষন পর লক্ষ্য করলাম, নয়ন দুটি
আড়াল করে মুছতে,ওড়না দিয়েই।।
তবে কি এতক্ষন ধরে সে আমায়
ভাবছিল।আমায় ভেবে চোখের জল
ফেলল।।
হইত, হইত না।।
আমি জানিনা।।
তার নিষ্পাপ অসহায় চেহারাটা দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। কিন্তু কিছুই করার নেই।।
এক সময় দুজন
দুজনার খুব আপন ছিলাম কিন্তুু আজ
অভিনয়ে আমরা অপরিচিত দুটি মুখ।। একি
বাহনে দুজনই যাত্রী।। গন্তব্যের খুব
কাছাকাছি চলে এসেছি।।
কিন্তু সে গন্তব্যের আগেই
গাড়ি থেকে নেমে গেল।।।
শেষবারের মত তাকে দেখছি আশা
ছিল এবার হইত আমার দিকে তাকাবে।।
কিন্তু না তাকাইনি,, গাড়ি আবার চলছে যতদূর
চোখ যাই দেখে আছি,, এক সময়
সে অনেক ছোট আর ঝাপসা হতে
লাগল।। হারিয়ে গেল হাজার লোকের
ভীড়েে।। আমি আগের মতই।
এভাবে কেটে যাবে কয়েকটি দিন
সপ্তাহ মাস।। তারপর হইত আবার দেখা
হবে চিরচেনা সেই মুখটি চির অচেনা
হয়ে। সত্যি সময় বড় নিষ্ঠুর আজ। ভাল থাকুক ভাললাগার সেই মানুষটি।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now