বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছোট গল্প : লাড্ডু

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মুহাঃ এ.এস শেখ (০ পয়েন্ট)

X ছোট গল্প : লাড্ডু ' বাবা ! তুমি প্রতিদিন এভাবে সকাল বেলা লাড্ডু নিয়ে এই বাসায় চলে আসো কেনো ? তুমি কি বাচ্চা ! বাবা ? তুমি কেনো বুঝোনা যে আমি এখন আরেকজনের সংসার করি ! তোমার প্রতিদিন এই বাসায় আসাটা এই বাড়ির অনেকেই ভালো দৃষ্টিতে নেন না ! আমার শ্বাশুড়ি গতকালও বলেছেন - ' বেয়াই মানুষ যদি প্রতিদিনই আসে তবে বেয়াই এর দাম থাকে ? ' আমি আর লাড্ডু খাইনা বাবা ! লাড্ডু নিয়েও সবাই হাসাহাসি করে l আমার ছোট ননদ গতকাল সবার সামনে হাসতে হাসতে বলেছে - ' লাড্ডুওয়ালা আজকেও এসেছে ? ' তুমি কেনো বুঝতে চাওনা বাবা ? আমি ভালো আছি ..........., ( দীর্ঘশ্বাস ..........! ) অনেক ভালো l তুমি ওষুধ খেয়ো নিয়মিত বাবা , মায়ের দিকে খেয়াল রেখো l ' আমজাদ সাহেব আর তাঁর একমাত্র মেয়ে আফসানা দুজনের চোখেই পানি ....... ! তিনি একদৃষ্টিতে মেয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলেন - মেয়ের চোখে কষ্টের শৈবাল ভাসছে ! এই বিশ্বব্রক্ষান্ডের জঘণ্যতম পিতাও হয়তো মেয়ের চোখে ভাসমান কষ্টের শৈবাল দেখতে পারেন l কি কষ্ট! কি কষ্ট! আমজাদ সাহেবের সামনের ছোট্ট টেবিলে এককাপ চা, একগ্লাস পানি আর তাঁর কিনে আনা এক প্যাকেট লাড্ডু ! তাঁর খুব ইচ্ছে করছে পরনের পাঞ্জাবী দিয়ে আফসানার চোখের পানি মুছে দিতে .......! পারছেন না ! তাঁর মেয়ে আজ নিজের অনিচ্ছাতে , নিরুপায় হয়েই পিতা কণ্যার মধ্যে দূরত্বের একটা দেয়াল তুলে দিলো l আমজাদ সাহেব কিছু না বলেই গেইটে এগিয়ে গেলেন, হঠাৎ আফসানা বাবার পাঞ্জাবী টেনে ধরলো ......, মেয়েটা হাউমাউ করে কাঁদছে ......., চুপচাপ ......! কান্নায় কোনো শব্দই নেই ! অথচ দেড়মাস আগেও তাঁর বাসায় আফসানা ছোট্ট বিষয়েই হাউমাউ কান্না জুড়ে দিতো ......., ঠোঁট ফুলিয়ে কত্তো আহ্লাদ করতো ! আহা মেয়ে ! .......... বিয়ের মাত্র দেড়মাসের মাথাতেই একটা নারীর কি পরিবর্তন ! ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে আফসানা জিঞ্জেস করলো - ' বাবা ! তুমি কি নাস্তা করেছো ? ' - ' হ্যাঁ মা ! করেছি .......... , শরীরে ইনসুলিন নিয়ে নাস্তা না করলে তোর এই বুড়ো বাপ হাঁটতে পারতো , এতোক্ষণ কথা বলতে পারতো ? ' আফসানা বাবার বুকে মাথা রেখে এবার হা করে শব্দবিহীন কান্না কাঁদছে l আমজাদ সাহেব অনুভব করছেন - পাঞ্জাবীর সামনের অংশ অাফসানার চোখের পানিতে ভিজে গেছে l আমজাদ সাহেব বেরিয়ে পড়লেন ......... রাস্তা দিয়ে একাএকা হাঁটছেন , সকালে ভদ্রলোক নাস্তা করেননি, শরীর ঘামছে, দূর্বল লাগছে তাঁর l রক্তে গ্লুকোজ কমে যাচ্ছে , সকালে ইনসুলিন নিয়ে কিছু খাওয়া উচিত ছিলো l ফোন বাজছে ........., কাঁপা কাঁপা হাতে স্ক্রীণে তাকিয়ে দেখলেন মেয়ের ফোন! - ' হ্যাঁ মা ! বল্ ........ ! -' বাবা ! বাবা ........................ বাবা ..........! তোমাকে অনেক ভালোবাসি বাবা, ওরা তোমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে, কটু কথা বলে ...........! আমার সহ্য হয়না ! তুমি এতো ঘনঘন এই বাসায় আর এসোনা! ......( হাউমাউ কান্নার শব্দ............ ) ' কোন কথা নেই আর ......... শুধুই কান্না ! একটু পর আমজাদ সাহেব শুুনলেন .......... ' তোমরা বাপবেটি কয়েকদিন পরপর এমন কান্নাকাটি করো কেন্ বৌমা ? বলি ....... সংসার কি আর কোনো মেয়ে করে না ? তুমি একটা ........ ' পিপ ...... পিপ ......পিপ ( ফোন কেটে দেয়ার শব্দ ) আমজাদ সাহেব একটা টং দোকানে বসলেন , আস্তে করে বললেন - ' আমাকে কড়া চিনি দিয়ে এককাপ চা দিন ....... বাবা ! তাড়াতাড়ি ! ' দোকানদার ভ্রুঁ কুঁচকে জিঞ্জেস করলো - ' আবার কন্ তো চাচা মিয়া ...... চিনি বাড়াইয়া দিমু নাকি লিকার বাড়াইয়া চিনি ছাড়া চা দিমু l আপ্নের কি ডায়াবেটিস নাই ? ' আমজাদ সাহেব উপরে আকাশের দিকে তাকালেন ....... , আকাশে মেঘ জমেছে ! রিটায়ার জীবনে সঙ্গীহীন এই মানুষটা l স্ত্রী ( আফসানার মা ) স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী আজ তিন বছর , নড়াচড়া করতে পারেন না তেমন, কথাবার্তা বলতে পারেন না ........., শুধু ফ্যালফেলিয়ে তাকিয়ে থাকেন l আকাশে অনেকগুলা কাক উড়ছে ............., আমজাদ সাহেবের শরীর ঘামছে , মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবী আজ চরকীর মতো ঘুরছে l রক্তে সুগার একেবারেই কমে যাচ্ছে তাঁর, দোকানদার হা করে তাকিয়ে আছেন তাঁর দিকে , উত্তরের অপেক্ষায় l কিন্তু আমজাদ সাহেব উত্তর দিতে পারছেন না ......, ঠোঁট কাঁপছে তাঁর l আমজাদ সাহেবের মস্তিষ্ক দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ছে , ঘুমানোর আগে মস্তিষ্ক ফিরে গেছে বাইশ বছর আগের এক স্মৃতিতে ........! আফসানার বয়স এখন তিন বছর l অফিস ফেরত আমজাদ সাহেব কলিংবেল চেপেছেন ..........., ছোট্ট আফসানা দৌড়ে এসে জিঞ্জেস করলো - ' আমাল ( আমার) লাড্ডু আনছো বাবা ! ' আমজাদ সাহেব হাসতে হাসতে বলছেন - ' হ্যাঁ মা ........! বাবা মৃত্যুর আগের দিনও তোর পছন্দের লাড্ডু নিয়ে হাজির হবো ..........! বাবা সব ভুলে যাবো .........কিন্তু তোর লাড্ডুর কথা কোনোদিনই ভুলবো নারে মা ll '


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছোট গল্প : লাড্ডু

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now