বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
উৎসর্গঃ সকল জিজে বাসীকে আমলের নিয়তে উৎসর্গ করলাম।
প্রথম পর্বে কিছু দোয়া দিয়েছিলাম যেগুলো পড়লে আল্লাহ আপনাকে অনেক নেকি দান করবেন ।
আজকে কিছু দোয়া যথাঃ -
আসসালামু কবলাল কালামঃ- অর্থ কথা বলার প্রথম বাক্যটা যেন সালাম হয়।
১. সালাম দিয়ে তার সঙ্গে মুসাফাহা করা যায়। ( মুসাফাহা করলে আল্লাহ উভয়ের সমস্ত সগিরা গুনাহ( ছোট গুনাহ) মাফ করে দিবেন।
২. নবীর করিম (সা.) এর নাম শুনে যে ব্যক্তি ( সা.) বলবে না, রাসূল (সা.) কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিস করবেন না । আর রাসূল (সা.) সুপারিস ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না । [প্রথম বার রাসূলের নাম শুনে (সা.) পড়া ওয়াজিব (অবশ্যকীয়) , পরবর্তী যে কয় বার শুনবে তার পর (সা.)বলা সুন্নাত ।
৩. সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ ১০০ বার পড়া । যে ব্যক্তি একদিনে এই দোয়াটি ১০০ বার পড়ে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়; যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়।
৪. সুবহানাল্লাহিল আজিম’ অথবা ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া- বিহামদিহি’ ৫০ বার পড়া যায়। এ দু’টি বাক্য আমলের পাল্লাতে অনেক ভারী হবে; আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়; ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম এ বরাতে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৫. প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘সুব্হানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আক্বার পাঠ করা, যা কিছুর উপর সূর্য উদিত হয়েছে সবকিছু থেকে আমার কাছে অধিক প্রিয়’ (মুসলিম-২৬৯৫)। এক মিনিটে বাক্যগুলো ১৮ বারের বেশি পড়া যায়। এ বাক্যগুলো আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। এগুলো সর্বোত্তম কথা এবং আমলের পাল্লায় এগুলোর ওজন অনেক বেশি।
৬. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আমার প্রতি সকালে দশবার এবং বিকালে দশবার দরুদ পাঠ করবে, সে কেয়ামতের দিন আমার সুপারিশ পাবে।
৭. যে ব্যক্তি ‘সুবহান আল্লাহিল আজিমি, ওয়াবি হামদিহি’ পাঠ করবে, প্রতিবার তার জন্য জান্নাতে একটি করে (জান্নাতি) খেজুর গাছ রোপণ করা হবে। (তিরমিজি)।
৮. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সর্বোত্তম জিকির। (তিরমিজি ও ইবনে মাজা)।
৯. পথ থেকে ক্ষতিকর কোনো বস্তু সরিয়ে দেওয়া ।
(ইমানের সত্তরটার অধিক শাখা আছে এবং এর মধ্যে শেষটা হচ্ছে এটা )
১০. যে ব্যক্তি সব সময় ইসতিগফার(আসতাগফিরুল্লাহ)
পাঠ করবে আল্লাহ তার মনের নেক বাসনা পূন্য করে দিবেন।
#এটা নিয়ে একটা ঘটনা বলিঃ আর আমি দুঃখিত ,আমাদের প্রশিদ্ধ চার ইমাম রয়েছে এই চার ইমামের মধ্যে থেকে যেকোন এক ইমাম হবে। আমার ভালো মনে নেই। আর এখান থেকে যেহেতু আমরা শিক্ষাটা নেব তাই ব্যক্তি বড়ো কোন ইসু নয়।
ধরে নেই ইমাম হাম্বলি (র) (সম্ভাবত ইনিই হবেন) একদিন দূরবর্তী এলাকায় সফরে উদ্দেশ্যে রওনা হলেন । তখন যানবাহন বলতে উট, ঘোড়া , গাধা, খচ্চর এগুলো ছিলো । কিন্তু ওনার কাছে কোন যানবাহন ছিলো না , পায়ে হেটেই রওনা হয়েছেন। যেতে যেতে সন্ধা হয়ে গিয়েছে। রাত্রে থাকার জন্য কোন জায়গা পাওয়া যাচ্ছিলো না। অচেনা এলাকা , ওখানে কোন চেনা জানা ব্যক্তিও নেই যে তার কাছে গিয়ে সাহায্য চাইবে। রাতে এশার নামাজ শেষে মসজিদের এক পাশে বসে জিকির করতেছিলেন। সবাই নামাজ শেষে চলে গিয়েছে , মুয়াজ্জিন মসজিদে গেটে তালা দিয়ে দেবে । তাই ওনি দেখে নিলেন কেও আছে কি না । দেখলেন সেই ব্যক্তিটা বসে আছে , মুয়াজ্জিন তাকে মসজিদ থেকে যেতে বললেন ,আল্লাহর ওলি তখন মুয়াজ্জিনের কাছে অনুমতি চাইলেন রাত কাটানোর জন্য। তখন ছিলো শীত কাল । কিন্তু অচেনা লোক , মসজিদে অনেক দামি জিনিস পত্র রয়েছে তাই তিনি অনুমতি দিলেন না । আল্লাহর ওলি তার ব্যাগ নিয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে হাটতেছেন আর আল্লাহর কাছে থাকায় জায়গার প্রার্থনা করতেছেন । হঠাৎ করে তিনি দেখতে পেলেন দূরে মিটমিট করে একটা আলো জ্বলতেছে । তিনি তখন আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন । এই শীতের রাতে ওই আলোটার পাশে বসে থাকলে হয়তো শীত কম লাগবে এই ভেবে তিনি ওইখানে চলে গেলেন । গিয়ে দেখলেন একটা চায়ের দোকান । তিনি চায়ের দোকান দারে কাছে অনুমতি নিয়ে চুলার পাশে বসলেন এবং কিছু নাস্তা করলেন । আর দোকানির সাথে গল্প করতেছিলেন । তিনি জানতে চাইলেন সারা দোকান খোলা রাখবে কি না । তখন দোকানি বললো পাশে একটা কারখানা আছে যেখানে রাতেও কাজ কারা হয় তার জন্য দোকানটা রাতেও খোলা রাখতে হয় ওখান থেকে লোক এসে নাস্তা করে যায় ।
আল্লাহর ওলি খেয়াল করলেন দোকানদার নাস্তা বানাচ্ছে আর কি যেন মনে মনে বলতেছে । সারা রাত বিষয়টা তিনি লক্ষ করলেন ।
ভোরে যখন মুয়াজ্জিন আযান দিলেন তখন আল্লাহর ওলি বললেনঃ ভাই এখন আমাকে যেতে হবে , আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সাহায্য করার জন্য। আপনকে একটা কথা জিঙ্গাসা করব ?
দোকানদারঃ জি বলুন ।
আল্লাহর ওলিঃ ভাই আমি সারা রাত লক্ষ করেছি আপনি কি যেন মনে মনে পড়েছেন । ভাই আমাকে কি বলবেন আপনি কি পড়েন ??
দোকানদারঃ তেমন কিছু বলি না , আমি একদিন একটা ইসলামিক আলোসভায় গিয়েছিলাম । তখন এক বক্তা বলেছিলো ইসতিগফার(আসতাগফিরুল্লাহ) সব সময়
পাঠ করলে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন । তখন থেকে আমি সব সময় পড়ি । আর আল্লাহ আমার সব দোয়া কবুল করেছেন । কিন্তু একটা দোয়া বাদে ?
আল্লাহ ওলিঃ সেটা কি দোয়া ছিলো ?
দোকানদারঃ আমার ইচ্ছে এযুগের শ্রেষ্ট এক জন আলেম তার নাম ইমাম হাম্বলি (র) এর সাথে দেখা করার । কিন্তু আল্লাহ আমাকে দেখা করার কোন সুযোগ করে দেয়নি ।
আল্লাহর ওলিঃ কান্না করতে করতে বলেন আল্লাহ আপনার সেই দোয়াটাও আজকে পূরণ করে দিয়েছেন। আপনাকে তার কাছে যেতে হবে না , আল্লাহ তাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন ! আমি সেই ইমাম হাম্বলি (র.) ।
দোকানদার তখন তাকে জরিয়ে ধরে কান্না করে ফেলে । এবং আল্লার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
শিক্ষাঃ ????
কি শিখতে পেরেছেন , আপনার মহামূল্যবান বক্তব্যটি পেশ করবেন।
পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।
তৃতীয় পর্ব কি লিখবো?
*আল্লাহ হাফেজ*
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now