বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছলিমের তিন ছেলে বাসি ,পঁচা আর মুঁইতা । একবার এক বন্ধু তাঁর বাড়িতে
দাওয়াত খেতে এলেন, মাংস এবং অনেক ভালো খাবার রান্না হচ্ছে ,
কিন্তু ভদ্রলোক অনেক দূর থেকে এসেছেন তাই ক্ষুধায় ছটফট করছেন ,
ছলিমকে বললেন বন্ধু আমি খুব ক্ষুধার্ত , আর ভালো খাবার না হয় পরে
খাওয়া যাবে আপাতত যা আছে তাই নিয়ে আসো , ছলিম বড় ছেলেকে ডাক
দিলেন বাসি তরকারী আন , মেঝ ছেলেকে বললেন পচা ভাত আন , আর ছোট
ছেলেকে বললেন মুঁইতা ডাল আন । ভদ্রলোক কিছু বুঝে উঠার আগেই অজ্ঞান
। কৌতুকটি শুনে একেকজন একেক যায়গায় হেসে লুটুপটি খায় , ফুয়াদ আস্ত
একটা হাসির সিন্দুক ,তার কৌতুক বলার বাচনভঙ্গি যেকোনো মুখে হাসি
আনেবই । লবণ ছাড়া যেমন তরকারী হয়না তেমনি ফুয়াদের কৌতুক ছাড়া
আড্ডা জমেনা।
,,,,,
সাকিব , মুশফিক বা মাশরাফি হওয়ার স্বপ্ন না থাকলেও পাড়ার মাঠে
সেই সেরা,অর্থাৎ র্যাংকিং ওয়ান বলে কিছু যদি থাকে তবে তা ফুয়াদের
দখলে । বাড়ি ফিরে মায়ের শাসন আর আদর মাখা বকুনি এবং ছোট তিন
বোনের সাথে দুষ্টুমি তার নিয়মিত রুটিন ।
,,,,
কয়দিন আগেও সে সর্বদা মন খারাপ করে থাকতো , কিন্তু বাবার বুকে
জমা চাপা কষ্টগুলো সে এখন বুঝে , তার বাবাও আগের মতো যখনতখন
রাগারগি করেননা , তাই ফুয়াদের মেজাজ খুবই ফুরফুরে । সৎ ভাইবোনের
মাঝে বেড়ে ওঠা ফুয়াদের বাবা অনাদর আর ভালোবাসাহীন এক
পরিবেশের মানুষ,তাই মেজাজ ছিল খিটখিটে , এখন সে সমস্যা নেই ,
সন্তানদের মাঝে হয়তো ফিরে পেয়েছেন হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা আর
আনন্দের ছোঁয়া।
,,,,.
ফুয়াদের ছোটছোট আবদারগুলোর প্রতি বাবার কোনো খেয়াল ছিলনা ,তাই
সেও তেমন কোনো আবদার করেনি, তবে এইবার বাবার মনের পরিস্থিতি
বুঝে সে একটা সাইকেলের আবদার করে । বাবা ঐদিনই একটা সাইকেল
কিনে আনেন , শোরুম থেকে আসতে আসতে রাত হয়ে গেল , ফুয়াদ ঘুমিয়ে
পড়েছে ,বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে আস্তে আস্তে তাকে ডাকলেন , সে ঘুম
মাখা চোখ নিয়ে চাইতেই তার সামনে সাইকেল দেখে এক লাফে গিয়ে
সাইকেলে চড় বসল ,ততক্ষেণে চোখের ঘুম হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে । বাবা
এক পলকে তাকিয়ে রইলেন , ছেলেমেয়েদের চাহিদা মেটানোতে এতো
আনন্দ তা কখনো বুঝেননি , আনন্দে চোখ বেয়ে নিরবে কয়েক ফুটা অস্রু ঝরে
গেল । ফুয়াদের ঘুম আসেনা ভোরের অপেক্ষায়।
,,,,
বাবা নিজে ধরে ধরে ফুয়াদকে সাইকেল চালানো শিখালেন , মাত্র
তিনদিনেই সে ড্রাইবার বনে গেল। সাইকেল নিয়ে সারা পাড়ায় ঘুরে
বেড়ানোও এখন তার রুটিনের আওতাভুক্ত । একদিন বিকালে ফুয়াদ বাড়িতে
আসা মাত্রই খবর পেল বাবা হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছেন , সে দৌড়ে
পাশের ঘরে গেল মা এবং ছোট বোনেরা পাশে বসে আছে , ডাক্তার
ডাকতে লোক পাঠানো হয়েছে ,ফুয়াদ কাছে যেতেই এক অপলক দৃষ্টিতে তার
দিকে তাকালেন ইশারায় কাছে ডাকলেন , সে বাবার মাথায় হাত বুলিয়ে
দিতে লাগল ,এক পর্যায় তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন , এতক্ষণে ডাক্তার চলে
এসেছেন , ডাক্তার হাত ধরে কি যেনো দেখলেন আর বড় বড় করে সবার
দিকে চাইলেন ,দুই দিকে মাথা দুলছে , ফুয়াদের মায়ের বুঝতে বাকি রইলনা
যে তার স্বামী আল্লাহর ডাকে চিরকালের পথে পাড়ি দিয়েছেন , সারা
বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেলো , ফুয়াদকে কেউ থামাতে পারেনা,
বাবার এতো নীরবে চলে যাওয়া তাকে প্রচন্ড আঘাত দেয়,অসুস্থ হয়ে পড়ে
সে ।
,,,,
তিন বছর পর--
মায়ের ভালোবাসা বাবার সৃতিকে কিছুটা ভুলিয়ে রাখে ,বাবার মতো
তারাও তাদের চাচা চাচিদের অবহেলার পাত্র । তবে তার কষ্ট গুলো
সাময়ীক চাপা পড়ে নানুর বাড়িতে গেলে ,বিভিন্ন উপলক্ষে যেমন
মামারা কেউ বিদেশ থেকে এলে, ঈদ কিংবা অন্য কোনো আয়োজনে নানুর
বাড়িতে অন্য খালারাও এসে জমায়ত হয়। সবাই বেশ আনন্দের কয়টা দিন
কাটায় । এইবার ঈদেও সবাই এসেছেন , তবে ছোটখালা এখনো আসেননি সূদুর
ঢাকা থেকে কুমিল্লার পথ আসতে আসতে বিকেল হয়ে গেছে , ছোটখালার
সাথে ফুয়াদের দেখা হয়নি । কি একটা জরুরি কাজে সে শহরে গেছে ,
সন্ধ্যায় নানুর বাড়ির বড় পুকুরে গোসল সেরে খানিক বিশ্রামের জন্য টিভি
রুমের দিকে গেলো । রুমে ডুকে টিভিতে চোখ রাখার আগেই এক ডানা
কাটা পরির হরিণ টানা চোখে তার চোখ আটকে গেলো , না সে অন্য কেউ
নয় তার ছোট খালার মেয়ে সুমাইয়া।
,,
কয়েদিন আগেও নানুর বাড়িতে এলেই সুমাইয়া কুত কুত আর গোল্লাছোট
খেলা নিয়ে মেতে উঠতো ,আজ তার বাড়ন্ত শরীর আর চঞ্চল মনে যে কেউ
প্রেমে ডুব দেওয়ার মন্ত্রণা পাবেই ।
,,,
এ কয়দিনে হয়তো ফুয়াদও সেই মন্ত্রে দূর্বল হয়ে পড়েছে । ঢাকায় বড় হওয়া
চালাক মেয়ে সুমাইয়া সেটা বুঝতে দেরি করেনা , সেও সাড়া দিয়ে
ফুয়াদকে প্রেমের আহ্বান জানায় । সবার অগোচরে তাদের প্রেম পর্ব
গভীরতা লাভ করলেও তা বেশীদূর
গড়ায়নি ।
,,,,,
কয়দিন পরেই সুমাইয়ার কলেজ আর ফুয়াদের ভার্সিটি খুলবে , ইতিমধ্যে অন্য
খালারাও চলে গেছেন আগামিকাল ছোটখালাও চলে যাবেন , রাতে ছাদের
কোণে নিরবে বসে থাকে সুমাইয়া , ফুয়াদ কাছে যেতেই তার বুকে মাথা
রেখে অঝরে কাঁদে । সে ফুয়াদকে সমাজের চলমান রীতির ধারনা দেয় , আর
দুই বছর পরে কলেজ শেষ হলে তার বিয়ের জন্য বাবা মা উঠে পড়ে লেগে
যাবে , সুপাত্রের কন্যাদানের চেষ্টা চলবে , কিন্তু সেই পাত্র যদি ফুয়াদ না
হয়ে অন্য কেউ হয় তবে তার মৃত্যু ব্যাতিত কোনো উপায় থাকবেনা , ফুয়াদ
তাকে শান্তনা দেয় । তার উপর ভরসা রাখতে বলে ।
,,,,,
ঢাকায় যাওয়ার পর থেকে সুমাইয়া প্রথম প্রথম ফুয়াদের সাথে খুব
বেশী যোগাযোগ রাখতো , তবে এখন আর সে রকম হয়ে উঠেনা । আধুনিক এই
যুগে যোগাযোগের অনেক মাধ্যম থাকলেও পারিবারিক চাপে ফুয়াদের
সাথে তার যোগাযোগ একে বারে কমে যায় ।
,,,,
ফুয়াদ পড়ালেখার পাশাপাশি একটা চাকরি যোগাড় করে , সে আর কোনো
ভালোবাসাকে হারিয়ে যেতে দেবেনা ,মাঝে মাঝে সুমাইয়ার জন্য ছোট
ছোট উপহার কিনে , এই কয়দিন আগেও একটা নেকলেস কিনেছে যা
যোগাযোগের অভাবে এখনো দেওয়া হয়নি তবে দেবে, সেদিন হয়তো বেশী
দূরে নয় । আত্নবিশ্বাসী ফুয়াদ কঠিন পরিশ্রমকে পুজি করে সামনে এগিয়ে
যাওয়ার সকল চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে । যে করেই হোক সে তাকে চায় ,
সারাজীবনের জন্য চায় ।বাবার চুপি সারে চলে যাওয়ায় তার হৃদয়ে যে ক্ষত
সৃষ্টি হয়েছে তা হয়তো কোন ভালোবাসাই ভালো করতে পারবেনা , কিন্তু
তবুও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সামনে এগুতে হবে । জীবনে যেমন হারিয়ে
যাওয়া আছে , তেমনি আছে চাও পাওয়ার স্বাদ । জীবনের বাকিটা পথ
চলতে গেলে , চাই সুখ , কিছু চাওয়া কিছু পাওয়া । সুমাইয়ার মাঝে এর
সন্ধান হয়তো পেয়েছে ফুয়াদ । তাই এ ভালোবাসাকে তার আপন সত্বায়
মিশিয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে কাটাতে চায় যোগল জীবনের বাকিটা সময় ।
.
লেখাঃ এইচ.এম আলমগীর
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now