বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেইরোজ। আমি মেইরোজ। নিজের প্রতি বিশ্বাসী মেইরোজ। কিছুদিন আগে ফেসবুকে যোগ দিয়েছিলাম কৌতুহলবশত। জানতে চেয়েছিলাম ফেসবুক কেমন সোশ্যাল মাধ্যম। তবে আফসোস, সেখানে কয়েকজন ছেলের সাথে আমার কথোপকথন এমন--------------------
১ম ছেলেঃ হাই।
আমিঃ (চুপ)।
১ম ছেলেঃ হ্যালো। আরে কথা বলছেন না কেন?
আমিঃ (চুপ)।
১ম ছেলেঃ এই যে মেডাম, এতো ভাব কীসের? নিজেকে কী খুব বড় মনে করেন?
আমিঃ (চুপ)।
ছেলেঃ বুঝেছি আপনার খুব অহংকার।এতো অহংকার ভালো না।এই অহংকারই আপনার পতনের কারন হবে।
(আমি এবার আর চুপ থাকতে পারলাম না।)
আমিঃ আল্লাহ সাক্ষী, আমার জানামতে আমি অহংকারী না। যার কথাই আপনি শুনেননি।যার সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না, তাকে আপনি এতো সহজেই অহংকারীর তকমা দিয়ে দিলেন?
ছেলেঃ তাহলে কী করব? আপনি তো অহংকারের জন্য কথাই বলছিলেন না।তো শুনেন, আমি কথা সোজাসাপ্টা বলি।তাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে না বলে আমার মনের কথা বলছি। আমি আপনার সাথে প্রেম করতে চাই। আপনি রাজি?
আমিঃ মাশাআল্লাহ। চমৎকার।হে যুবক, আমি তো আপনার ই অপেক্ষায় ছিলাম। আরো কিছু বলার আছে?
ছেলেঃ আপনি তো খুব ভালো।আরো অনেক কিছু বলার আছে। আমি আপনার পাশে সবসময় থাকতে চাই। আপনার সাথে সারাক্ষণ গল্প করতে চাই। আপনার নাম্বার টা দেন তো।
আমিঃ ওমা, তাই নাকি? কী সৌভাগ্য আমার। আপনার মতো মহাপুরুষ আমার মতো নগন্যের কাছে নাম্বার চাইছে। শুধু নাম্বারই? আর কিছু লাগবে না?
১ম ছেলেঃ আপনার কয়েকটি ছবি ও দেন। আপনি নিশ্চয় খুব সুন্দরী।
আমিঃ হ্যাঁ, বুঝেছি।আর কিছু বলার আছে?
১ম ছেলেঃ আপাতত এটুকুই।পরে আবার বলব।
আমিঃ অনেক ধৈর্য্য সহকারে আপনার মনের কথা শুনেছি। আপনি এবার আসতে পারেন।
১ম ছেলেঃ মানে?
আমিঃ (ব্লক করে দিলাম।হয়তো এখন তার উদ্দেশ্য অন্য কোন মেয়ে।)
উপরের কথোপকথন থেকে কী কিছু বুঝতে পেরেছেন? হয়তো। হয়তো না।
২য় ছেলেঃ হাই।কেমন আছো?
আমিঃ হ্যাঁ ভালো আছি।
২য় ছেলেঃ আমাকে তো জিজ্ঞেস করোনি কেমন আছি।
আমিঃ আসলে ভাইয়া প্রয়োজন মনে করিনি।
২য় ছেলেঃ আরে ভাইয়া বলার দরকার নেই। আমরা কী ফ্রেন্ড হতে পারি?
আমিঃ অবশ্যই না। আমার ফ্রেন্ডদের তালিকা এমনিতেই বেশি লম্বা হয়ে গেছে।
২য় ছেলেঃ তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে?
আমিঃ অবশ্যই না। আমি ছেলেদের তেমন দেখতে পারি না।
২য় ছেলেঃ আচ্ছা বিয়ে তো করবে?
আমিঃ এক্সিউজ মি, আমার বিয়ে নিয়ে ভাবার জন্য আপনাকে কী কেউ চামচা রেখেছে?
২য় ছেলেঃ আরে রেগে যাচ্ছো কেন? আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তোমার কথার প্রেমে পড়েছি।এটা যদি আমার অপরাধ হয় তাহলে আমাকে শাস্তি দিতে পারো।
আমিঃ শাস্তি দেব তো?
২য় ছেলেঃ হ্যাঁ দেও। তবে আমাকে ভালোবাসতে হবে।
আমিঃ তাহলে আপনাকে আমি খুব যত্ন করে ব্লক করছি।আর কী যেন বললেন? ভালোবাসতে হবে? অবশ্যই বাসবো।কেন নয়? আমার ব্লকলিস্টে আপনার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা পাঠাব। তারপর ব্লক করলাম।
কিছু বুঝলেন এই কথোপকথন থেকে?
আচ্ছা বাদ দিন। দেখি ৩য় ছেলেটা একটু নিজেকে সংযত রাখতে পারে কী না।
৩য় ছেলেঃ আপু, যদি কিছু মনে না করেন তাহলে কী আমি আপনাকে মেসেজ করতে পারি?
আমিঃ মেসেজ তো অলরেডি করেই ফেলেছেন।
৩য় ছেলেঃ না আসলে সেটা না। বন্ধু হিসেবে সবসময় মেসেজ করতে পারি নাকি?
আমিঃ বন্ধু হিসেবে না।নরমালি যদি কিছু বলার থাকে তাহলে বলতে পারেন।
৩য় ছেলেঃ আচ্ছা যেভাবেই হোক। মেসেজ করতে পারলেই হলো। তুমি কোন ক্লাসে পড়?
আমিঃ স্কুলের গন্ডি এখনো পার হইনি।
৩য় ছেলেঃ ক্লাস কোনটা?
আমিঃ বলছি তো স্কুলের গন্ডি পার হইনি।বুঝেন না আমার কথা?
৩য় ছেলেঃ আচ্ছা ঠিক আছে, বুঝেছি বুঝেছি। তুমি কোথায় থাকো?
আমিঃ এই তো এখানেই থাকি।
৩য় ছেলেঃ কী? কোন খানে?
আমিঃ আরে ভাই এখন যেখানে আছি সেখানে ই থাকি।
৩য় ছেলেঃ কোন জায়গায়? ঠিক বুঝলাম না।
আমিঃ আপনি তো দেখছি আমার কোনো কথাই বুঝেন না। তাহলে কথা বলার দরকার নেই।
ছেলেঃ আরে না না। বুঝেছি আমি।
আমিঃ তাহলে আমি কী করবো?
৩য় ছেলেঃ কিছু করতে হবে না। তোমার কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে?
আমিঃ না নাই।
৩য় ছেলেঃ বয়ফ্রেন্ড হিসেবে তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?
আমিঃ কোনো ছেলেকেই না। আমার বাড়ির খরগোশ কে পছন্দ।
৩য় ছেলেঃ মানে?
আমিঃ (ব্লক করে দিলাম।তার উদ্দেশ্য তো জানাই হয়ে গেছে।) আপনারা কিছু বুঝতে পেরেছেন? না বুঝলে না বুঝেন। আমার কী? আমি তো বুঝেছি। বুঝেছি, সরেও এসেছি, সাবধান ও হয়েছি।
আমি অভিনয় ভালোই করতে পারি। যেমন দেখেছেন উপরের কথোপকথনে।কীভাবে কার কাছ থেকে কথা আদায় করতে হয় তা আমি খুব সহজেই বুঝে নিতে পারি। আমি এতো সহজে কাউকে বিশ্বাস করি না। বিশেষ করে এই যান্ত্রিক জগতে তো কাউকেই না। বিশ্বাস এমন একটা জিনিস যা ভাঙলে আর জুড়া লাগে না। কিছু ভুল শোধরানোর সুযোগ পাওয়া যায় না।তাই ভেবে চিন্তে পা ফেলতে হবে কাঁটাযুক্ত এই জীবন রাস্তায়। ভালো পথে চলতে গেলে হাজারো বাঁধা আসে।তাই বলে কী হার মানবো সেসব বাঁধার কাছে?
মেইরোজ হার মানবে না। যদি বিশ্বজগতের রব তাকে হিফাজত করে।
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।। আত্মবিশ্বাসী মেইরোজ। হ্যাঁ আমি সেই মেইরোজ।অদম্য মেইরোজ।------------সমাপ্ত-----------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now