বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছবির সাথে আমার পরিচয় মিথুন স্যারের কোচিং এ। সে ছিল হলিক্রসে আর আমি নটরডেমে। ফিজিক্স পড়তাম আমরা স্যারের কাছে। কখনো ছবির সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বলা হয় নি। খুব বেশী দরকার না হলে অবশ্য আমি মেয়েদের সাথে কথাও বলতাম না। তবে এই মেয়েটাকে কেন জানি আমার খুব বেশি অহংকারী মনে হত। দেখলেই বুঝা যেত তার দলের মেয়েদের লীডার সে। আর সবকিছুতেই কেমন যেন আগ বাড়িয়ে কথা বলা।
একবারের একটি ঘটনা মনে আছে। কোচিং এ স্যারের কাছে আমি একটু আগে চলে গিয়েছিলাম। কিছু মেয়ে বসা ছিল, আর সামনে ছিল স্যার। আমি মনে করলাম স্যার বুঝি অন্য ব্যাচ পড়াচ্ছেন। তাই ঢুকেও বের হয়ে যাই। স্যার ডেকে আমাকে বলেন - কি ব্যাপার নিজের ব্যাচের মেয়েদের চিন না। আর কাউকে না চিন ছবিকে তো সবাই চিনে।
আমি লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলাম সেদিন। আর তার দিকে তাকিয়ে দেখি দাঁত বের করে হাসছে। মেজাজটা তার উপর সেদিন থেকেই গরম।
তবে মেয়েটার প্রতি আমার এসব ধারনা ভুল ও হতে পারে .. সে অবশ্য পড়ালেখায় অনেক ভাল। আমি তেমনটা নই। এর মাঝেও টুকটাক কথাবার্তা হত ছবির সাথে।
এগুলা ইন্টার এর প্রথম দিকের কথা। তার সাথে আমার দেখা হবার জায়গা ওই মিথুন স্যারের কোচিংই।
আমি ম্যাথ কোচিং করতাম আমাদের কলেজের এক স্যারের কাছেই। একদিন হঠাৎ দেখি ছবিকে এই ম্যাথ স্যারের কোচিং এ। দেখে খুব অবাক হই। আরও অবাক হই তাকে একা দেখে। মানে তার দলের আর মেয়েরা নাই। ছবির সাথে কথা হয়নি ওইদিন। ভাবলাম কি দরকার আগ বাড়িয়ে কথা বলার??!!
ফিজিক্স কোচিং এ ছবি নিজে এসেই কথা বলল আমার সাথে।
- আমাকে চিনেও কথা বল নাই কেন?
- কি বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না।
- ও! আচ্ছা। আমি ওই স্যারের কাছে নতুন। আমাকে পারলে একটু হেল্প কইরো।
- আচ্ছা। তোমার সাথের মেয়েরা কোথায়?? ওরা ম্যাথ কোচিং করবে না?
- নাহ। ওরা আমাকে না জানিয়ে বাংলা কোচিং এ ভর্তি হয়েছে। তাই আমিও ওদের না জানিয়ে নটরডেমের স্যারের কাছে ম্যাথ পরবো।
- ও!
আমি মেয়েদের এসব ঝামেলার কথা বুঝি না। তাই মাথা নাড়ানো ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।
ছবির সাথে এরপর থেকে ভালোই কথা হত। বিশেষ করে ম্যাথ বিষয়ে। সে আমাদের কলেজের স্যারের পড়ানো তেমন বুঝত না। তাই প্রায়ই আমার কাছে এসে বুঝতে চাইত।
- আচ্ছা! তোমার ফোন নাম্বার দেয়া যাবে?
- আসলে আমি ফোন ইউজ করি না। বাসার নাম্বার দিতে পারি।
- ইস! কি ভদ্র ছেলেরে বাবা ।
যদিও ছবি কখনোই বাসায় ফোন করেনি। ছবির সাথে আমার যা কথা হত তা ওই কোচিং এই। ফোনে বা অন্য কোথাও কথা হত না। মেয়েটার সাথে কথা বলে ধারনা কিছুটা হলেও বদলালো আমার। যেমনটা মনে করেছিলাম হয়তো তেমন নয়!!
দুইটি বছর খুব তাড়াতাড়ি ই চলে যায়। আমাদের এইচ এস সি পরীক্ষা এসে পরে।
কোচিং ছেড়ে দেবার পর ছবির সাথে আর কথা হয় নি। তার নাম্বার আমার কাছে থাকলেও দেয়া হয়নি ফোন।
রেসাল্ট জানাতে মিথুন স্যারের ওখানে যাবার পরই আবার ছবির সাথে দেখা। দুইজনই গিয়েছিলাম স্যারের কাছে দোয়া নিতে। এই কয়েকদিনে মেয়েটাকে অনেক অচেনা মনে হল। বুঝতে পারলাম পড়ালেখা নিয়ে অনেক ব্যস্ত। আর সামনে যে ভর্তি পরিক্ষা। !!
ছবিকে এবার নিজে থেকেই আমার নাম্বারটা দিলাম। বললাম - আমি মোবাইল নিয়েছি। চাইলে এটায় ফোন করতে পার।
কথাপ্রসঙ্গে জানতে পারলাম সে মেডিকেলের জন্য কোচিং করছে। আমিও তাই। তবে দুইজনের ব্রাঞ্চ ভিন্ন।
দুই সপ্তাহ পরের কথা। ছবি ফোন দেয় আমার মোবাইলে।
- তুমি কোন ব্রাঞ্চে কোচিং করছ?
- ফার্মগেটে । কেন??
- আসলে আমি যেখানে করছি সেটায় পড়া হচ্ছে না। একই কোচিং কিন্তু ব্রাঞ্চ ভিন্ন। তাই তোমার ওখানে শিফট করে চলে আসতে চাচ্ছি।
- আস। এখনও কিছু সিট ফাকা আছে।
কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের ব্রাঞ্ছে ছবিকে দেখতে পাই। হঠাৎ শিফট করায় তেমন বন্ধুও নেই তার। তাই প্রতিদিন প্রায় আমার সাথেই বসত সে।
এভাবে আমাদের বন্ধুত্ত্বটা বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে ছবি আমার অনেক ভাল বন্ধু হয়ে যায়। পড়ালেখা নিয়ে প্রায়ই রাত জেগে কথা হত। আর এমনেও অনেক কথা হোত তার সাথে। তার পরিবার সম্পরকে জানলাম। তার অবসর সময় কাটানো, ভাল লাগা মন্দ লাগা এসব।
আমাদের মেডিকেলের পরীক্ষার ডেট দিয়ে দেয়। আমার কাছে বায়োলজি জিনিশটা কঠিন লাগত। তবুও মা বাবার ইচ্ছায় মেডিকেলের জন্য ট্রাই।
আমার পরিক্ষা জঘন্য হয়। বুঝতেই পারি যে চান্স তো হবেই না পাস মার্ক ই উঠবে না। তবে আশা ছিল ছবির হবে।
কিন্তু রেসাল্টের সময় ছবিকেও হতাশ হতে হয়। সে ৫ নাম্বারের জন্য সরকারি মেডিকেলে চান্স পায় না। আর আমি তো নাইই।
পরের ঢাকা ভার্সিটির পরিক্ষায় আমার চান্স হয়ে যায় ফলিত রসায়নে। কিন্তু ছবির আর কোন জায়গাতেই চান্স হয় না।
ছবি অনেক ভেঙ্গে পরে। তার সাথের বান্ধবিরাও ভর্তি হয়ে যায় বিভিন্ন যায়গায়। আমিও ঢাকা ভার্সিটিতে ই ভর্তি হই।
ছবি আমার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। সে সেকেন্ড টাইম মেডিকেলে দিবে বলে ঠিক করে। আর হয়তো আমাদের সাথে কথা বলতেও তার খারাপ লাগতো।
কিছুদিনের মধ্যেই এই মেয়ের অভাব আমি টের পাই আমার মধে। বুঝতে পারি কিছু একটা মিস করছি।
আমি নিজে থেকেই ছবির খোঁজ খবর নিতাম। তাকে সময় দিতাম। তার মন ভাল করার চেষ্টা করতাম। মেয়েটাও তার দুঃখে র কথা আমাকে বলত। এভাবে সম্পর্ক টা অনেক সুন্দর হয় আমাদের মধে। তার বন্ধু লিজা, তানিশা, নিহা তার খোঁজ খবর তেমন নিত না কিন্তু আমার তার প্রতি এত কেয়ারিং দেখে আমার প্রতি সে দুর্বল হতে থাকে।
আমার ভার্সিটি র ক্লাস শুরুও হয়ে যায়। তবুও আমি ওকে ভুলে থাকতে পারি নাই। ক্লাস থেকে এসে প্রথমেই ওকে কল দিতাম। মাঝে মাঝে দেখাও করতাম।
৩রা মার্চ------ ছবি আমাকে টি এস সি তে আসতে বলে।
ছবি খুব গম্ভীর ভাবে আমাকে বলে-- তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
আমি ভয় পেয়ে যাই। তার এমন রাশভারী কন্ঠ শুনে,, কি না কি বলবে?!!
- আমি একজনকে আমার সারাজীবন এর জন্য পেতে চাই, আমি বুঝতে পেরেছি তাকে ছাড়া আমার বাকি জীবনটা অপূর্ণ থেকে যাবে। তুমি কি আমার সেই একজন হবে? তোমাকে ঘিরেই আমার সব স্বপ্ন দেখা।
আমি সেদিন তার হাত ধরে বলেছিলাম - আমি আছি, থাকব তোমার সাথে। তোমার হয়ে। তোমার বাকি জীবনের সাথী হিসেবে।
সেই থেকে আমাদের নতুন জীবনের পথচলা শুরু। এ এক অন্য রকম জীবন। তাকে ঘিরেই মনে হতে থাকে আমার সব ভালোলাগা। সারা রাত জেগে গল্প, মাঝে মাঝে দেখা করা। এভাবে সুন্দর যাচ্ছিল সময় গুলা।
আমি ক্লাসের শেষে হুট করেই চলে যেতাম তার কোচিং এর সামনে। মাঝে মাঝে তাকে খুব বেশি চমকে দিতাম। ছবিকে নিয়ে ছবির মত যাচ্ছিল সব কিছু। …………………………………….
বছর ঘুরে আবার মেডিকেল পরীক্ষা এসে পরে। তাকে এসময় খুব বেশি ভাবে মেন্টাল সাপোরট দেই, যেটাই ছিল তার সবচেয়ে বেশি দরকার। আমি জানতাম এবার সে চান্স পাবেই। আরো মনে প্রানে চাচ্ছিলাম যেন ঢাকাতেই চান্স হয়।
অবশেষে সেই দিন এসে পরে, চান্স পায় সে, তবে সিলেট মেডিকেল এ। খুশি হলেও অন্য এক বিষন্নতা ভর করে তাকে। আমার থেকে দূরে চলে যেতে হবে। মনটা আমার ও খারাপ ই হয়, কিন্তু যে জন্য তার এত স্বপ্ন দেখা, ডাক্তার হওয়া তাকে আমি ভেংগে দিতে পারি না। তার মনে সাহস দেই। তাকে ভর্তি হতে বলি।..
অবশেষে ছবি ভর্তি হয় সেখানে। যাওয়ার আগে খুব কেঁদেছিল মেয়েটা। আমি তার চোখের পানি মুছে দিয়ে হাসতে হাসতে বলেছিলাম _-- দূরত্ব যতই হোক কাছে থাকুন। সেও হেসে দেয় গাল ভরে। একদিকে চোখে পানি অন্য দিকে গাল ভরতি হাসি। অপরুপা লাগছিল ছবিকে।
তার ক্লাস শুরু হয়। নিজেকে তার খুব বেশি একা লাগত। একদিকে বাড়ি ছেড়ে চলে আসা অন্যদিক এ আমার অভাব টের পাওয়া। আমিও যখনি পারতাম তাকে ফোন দিতাম। কিন্তু দেখা হওয়া আর কথা বলা কি এক??
হোস্টেল লাইফের সাথে খাপ খাওয়াতে তার খুব কষ্ট হয়। আমার কাছে ফোনে প্রায়ই সে কাঁদত। খুব ইচ্ছে করত কাছে যেয়ে তার চোখ দুটি মুছে দিয়ে আসি। কিন্তু তা হত না। সময় করতে দিত না।
আরেক ৩রা মার্চ। আমাদের পথচলার এক বছরে তাকে আমি চমকে দেই। হুট করে চলে যাই সিলেট। সে আমাকে দেখে এত অবাক হয়। তার চোখদুটি দেখে বুঝতে পারি সে কথা। খুব সুন্দর যায় সেই দুইদিন।
কিন্ত চাইলেই তো আর তার কাছে আগের মত চলে যাওয়া যায় না, তার হাত দুটি ধরে বসে থাকা যায় না।..
ধীরে ধীরে সেও ব্যস্ত হয়ে পরে। ওয়ার্ড, আইটেম, ক্লাস এমন হাজার ও নাম মেডিকেল এ। সন্ধ্যাতেও তার ক্লাস থাকত। রাতে এসে বেশি কথাও বলা হত না। এভাবে দূরত্ব বাড়তে থাকে। তবুও এটা ভেবে ভাল লাগত তার একাকি তো কমেছে।
মাঝে মাঝেই ফোন দিলে সে বলত গ্রুপ স্টাডিতে আছি। পরে ফোন দিও। মাঝে মাঝে বলত বড় ভাইয়ার কাছ থেকে নোটস, পড়া বুঝতে আসছি। এখন কথা বলতে পারছি না। তাকে পরে ফোন দিতে বলতাম কিন্ত সেই পরে আর তার হত না।
এর মাঝে দুই একবার তার সাথে গিয়ে দেখা করে আসি। কিন্তু তার মাঝে আগের সেই আগ্রহ আমি খুঁজে পাই না।
এভাবে ৫/৬ মাস চলে যায়। দূরত্ব যেন ক্রমেই বাড়তে থাকে। তার ফোন মাঝে মাঝেই ওয়েটিং পাই। কারন বললে বলত পড়া নিয়ে কথা বলছিলাম।..
শত ব্যস্ততার মাঝেও মাঝে মধ্যে তাকে ফেসবুকে পেতাম। কথা হত। কিন্তু সে রিপ্লাই দিত অনেক পরে পরে। তবুও অপেক্ষা করে থাকতাম তার উত্তরের। অপেক্ষা তো ভালবাসার মানুষের জন্যই করতে হয়!!!
কিছুদিন পর তার টাইমলাইন এ এক ছেলের সাথে তার আপলোড করা ছবি দেখতে পাই। লাইব্রেরি তে বসে তোলা ছবি কিন্তু সাধারণ মনে হবার মত নয়। তাকে জিগ্যেস করলাম কে ইনি? তার উত্তর ছিল বড় ভাই। আমার মন অজান্তেই কেঁদে উঠেছিল। তবে কি আমি আমার ছবিকে হারাতে বসেছি?? আমার সব শংকাকে সত্য করে দেয় ছবি নিজেই। ভাবলেশহীন ভাবে সে আমাকে বলে...
-- দেখ! তোমার সাথে আমার যাচ্ছে না। আমার কথা শেয়ার করার মত মানুষের খুব অভাব। তুমি আমার খুব ভাল একজন বন্ধু ছিলে, তোমাকে আমি সব বলতাম ও কিন্তু এখানে এসে আমাকে সাপোট দেয়ার মত মানুষের খুব বেশি অভাব বোধ করি। সবসময়ই মনে হত কাউকে যদি কাছে পেতাম। রিফাত কে আমি সেসময় কাছে পাই। আমার থেকে দুই বছরের সিনিয়র, বড় ভাই কিন্ত সে সবসময় আমার ছায়া হয়ে ছিল। বন্ধুর চেয়েও বেশি হিসেবে। আমি মনে করি আমার একাকী সময়ে সেই আমাকে সাহায্য করতে পারবে। তুমি অনেক ভাল একজন ছেলে। আমার চেয়েও অনেক ভাল মেয়ে তুমি পাবে। আর আসলে এভাবে দূরত্ব নিয়ে ভালবাসা যায় না। আমার যখন প্রয়োজন তখন তুমি ছুটেও আসতে পারবে না। আমার নিসংগের সাথী হতে পারবে না যা আমি রিফাতের মধ্যেই পেয়েছি। ভাল থেকো তুমি। ..
কথাগুলা আমাকে ফেসবুকে জানায় ছবি। এরপর পাগলের মত ছুটে গিয়েছিলাম সিলেট এ। কিন্তু সে আমাকে এড়িয়ে চলে। অনেক পরে যখন তার সাথে কথা হয় সে বলে- আমাকে ক্ষমা কর। যা বলার আমি তোমাকে বলেই দিয়েছি। এভাবে ভালবাসা হয় না। আমি তাকে বুঝাতে ব্যর্থ হই। এভাবেই ছবির সাথে আমার ছবির মত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
মাঝে মাঝেই মনে হয় আমি কি এক মিছে মায়ার পিছে এতদিন ছুটেছি? নাকি সেই আমাকে মিছে মায়া দেখিয়েছিল? উত্তর জানতে খুব ইচ্ছে করে কিন্তু যে উত্তরে কারও কোন লাভ নেই সেই উত্তর জানা কি খুব বেশি জরুরি????
----- কাজী ওয়ালীউল হাসান
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now