বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছায়াশহর

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ছায়াশহর লেখক : রাকিব হাসান ২ য় পর্ব নীচতলা থেকে আমার নাম ধরে ডাকল মা। বারান্দার অন্ধকার মাথার দিকে একবার তাকালাম আমি। তারপর ছুটে নামতে শুরু করলাম সিঁড়ি দিয়ে। " মিঃ জোনস!", চেঁচিয়ে বললাম, " এ বাড়িতে কি ভূত আছে?" হেসে উঠলেন জোরে মিঃ জোনস। যেন মস্ত রসিকতা করে ফেলেছি। " না, নেই",মিঃ জোনস বললেন, " তবে এই এলাকার অনেক বাড়িতেই আছে।" " তবে কি যেন দেখলাম মনে হল," নিজেকেই কেমন বোকা মনে হচ্ছে আমার। " ছায়া নড়তে দেখেছ",মা বললেন, " এত গাছপালা , অন্ধকারে গাছপালার ছায়া তো নড়তে পারে।" " বাইরে গিয়ে সুজাকে বলো", বাবা বললেন, " মজা পাবে ও। এ বাড়িতে থাকার আগ্রহ পাবে। ইতিমধ্যে আমরা মিঃ জোনসের সঙ্গে জরুরী কথাবার্তাগুলো সেরে ফেলি"। " যাচ্ছি", বলে আবার ছুটলাম। বাইরে এসে থমকে দাঁড়ালাম। একি! কোথায় সুজা! কিটুকেও দেখলাম না। কোথায় গেল ওরা? দুজনেই গায়েব! " সুজা! সুজা!" প্রথমে সুজার নাম ধরে ডাকলাম। তারপর কিটুর নাম ধরে। কিন্তু দুজনের মধ্যে কেউই সাড়া দিল না। দৌড়ে এসে গাড়ির জানলা দিয়ে ভেতরে উঁকি দিলাম। না, গাড়ির ভেতরেও নেই ওরা। মা আর বাবা এখনো বাড়ির ভেতর। মিঃ জোনসের সঙ্গে দরকারি কথায় ব্যস্ত। আমি রাস্তায় বেরিয়ে এসে এদিক ওদিক তাকালাম। নেই ওরা। সুজাও নেই। কিটুও নেই। " সুজা! এই সুজা!" অবশেষে তাড়াহুড়ো করে মা- বাবা বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন। দুজনেই শঙ্কিত। নিশ্চয়ই আমার চিৎকার কানে গেছে ওঁদের। রাস্তা থেকেই চেঁচিয়ে বললাম, " সুজা আর কিটুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।" " বাড়ির পেছনে খুঁজে দেখেছ?" বাবা জিজ্ঞেস করলেন। ড্রাইভওয়ে ধরে ছুটলাম। আমার পায়ের খোঁচায় মাটিতে পড়ে থাকা ঝরা পাতাগুলো উড়ছে। রাস্তায় প্রচুর রোদ, বেশ গরম। কিন্তু যেই আবার উঠোনে নামলাম, ছায়া ঢেকে ফেলল আমায়। আবার ঠাণ্ডা। " এই সুজা, কোথায় তুই?" ডাকতে গিয়ে গলা কেঁপে গেল আমার। কিন্তু এত ভয় পাচ্ছি কেন আমি? নিজেকেই নিজে জিজ্ঞেস করলাম। সুজা তো এমনই। কাউকে কিছু না বলে যখন তখন উধাও হয়ে যায়। বুঝলাম, জায়গাটা আমার স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি করছে। বাড়ির পাশ ধরে প্রাণপনে ছুটলাম। বড় বড় গাছ ঝুঁকে রয়েছে এদিকটায়। রোদ প্রায় ঢুকতেই দিচ্ছে না। দূর থেকে যতটা মনে হয়েছিল, পেছনের উঠোনটা তার চেয়ে অনেক বড়। ক্রমশ ঢালু হয়ে নেমে গেছে একটা কাঠের বেড়ার কাছে। সামনের মতো পেছনের উঠোনটাও বড় বড় আগাছায় ভর্তি। পুরু হয়ে জমে আছে বাদামী ঝরা পাতা। পাখিদের গোসল করার জন্য একটা পাথরের গামলা বানানো হয়েছিল, ঘাসের ওপর উলটে পড়ে আছে এখন। ওটার অন্যপাশে একটা গ্যারাজের একপাশ চোখে পড়ছে। মূল বাড়িটার সঙ্গে মিল রেখেই অন্ধকার হয়ে রয়েছে জায়গাটা। " সুজা! সুজা!" জবাব নেই। মাটিতে পায়ের ছাপ খুঁজলাম, কিংবা এমন কোনও চিহ্ন যাতে বোঝা যায় ওরা কোনদিকে গেছে। কিন্তু পুরু হয়ে জমে থাকা পাতায় কিছুই চোখে পড়ল না। " কি, পেলে ওদের ?" হাঁফাতে হাঁফাতে কাছে এসে দাঁড়াল বাবা। " নাহ" " গাড়িতে দেখেছ?" বাবার গলায় উদ্বেগের চেয়ে রাগ বেশী। " হ্যাঁ। প্রথমেই ওখানে দেখেছি", পেছনের উঠোনটার দিকে আর একবার চোখ বুলিয়ে নিতে নিতে বললাম আমি, " কোনও কারণ ছাড়া এভাবে উধাও হয়েছে ও, বিশ্বাস করতে পারছি না।" " আমি পারছি", রাগত স্বরে বললেন বাবা, " তোমার ভাইকে চেনো না তুমি, বাড়িটা পছন্দ হয়নি, তাই লুকিয়ে পড়ে এখন ভয় দেখাতে চাইছে আমাদের।" " গেল কোথায় ও?", আমরা সামনের আঙিনায় ফিরে এলে মা জিজ্ঞেস করলেন। " হয়ত এখানকার কোনও ছেলের সঙ্গে দেখা হয়েছে, তার সঙ্গেই কথা বলতে বলতে চলে গেছে", জবাব দিলেন বাবা। বাদামী কোঁকড়া চুলের মধ্যে দিয়ে আঙুল চালালেন বাবা। তালুতে চুলকোলেন। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, উদ্বিগ্ন হতে শুরু করেছেন তিনি। " কিন্তু খুঁজে তো বের করা দরকার " মা বললেন, " একেবারে নতুন জায়গা। কিছুই চেনে না। শেষে হারিয়ে না যায়।" সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে উঠোন থেকে নেমে এলেন মিঃ জোনস। চাবিটা পকেটে রাখলেন। " বেশীদূর যায়নি নিশ্চয়", মা'র দিকে তাকিয়ে হাসলেন তিনি, " চলুন, গাড়িতে করে ব্লকটা একবার ঘুরে আসি। চিন্তা করবেন না। আপনাদের ছেলেকে ঠিকই পাওয়া যাবে।" বাবার দিকে তাকিয়ে মা বললেন, " আমি ওকে মেরেই ফেলব আজ।" আস্তে করে মায়ের কাঁধ চাপড়ে দিলেন বাবা। যেন অভয় দিতে চাইলেন। আমাদের ছোট গাড়িটার ট্রাঙ্কের তালা খুললেন মিঃ জোনস। গায়ের গাঢ় রঙের ব্লেজারটা খুলে ছুঁড়ে দিলেন ভেতরে। উঁচু কানাওয়ালা একটা কাউবয় হ্যাট বের করে মাথায় দিলেন। হ্যাটটা বিচিত্র , কালো রঙের কানা, মাথায় বসানোর জায়গাটা সাদা। বাড়িতে ঢোকার আগে হ্যাটটা খুলে রেখে গিয়েছিল। " আপনার হ্যাটটা কিন্তু দারুণ! " গাড়ির সামনের প্যাসেঞ্জার সিটে উঠে বসলেন বাবা। " হ্যাঁ, রোদের মধ্যে খুব আরাম!" মিঃ জোনস বললেন, " মুখে রোদ লাগে না, রোদ থেকে বাঁচতেই এটা পরি", গাড়ির ড্রাইভিং সিটে উঠে বসলেন তিনি। আমি আর মা বসলাম পেছনের সিটে। মা'র দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমার মতোই উদ্বিগ্ন। ব্লক ধরে এগিয়ে চললাম আমরা। চারজনেই চুপচাপ। গাড়ির জানলার বাইরে তাকিয়ে আছি। যেসব বাড়িগুলোর পাশ দিয়ে যাচ্ছি, সবই পুরনো। কিছু কিছু বাড়ি আছে, যেগুলো আমাদের বাড়ির চেয়েও বড়। সবগুলোই বেশ ঝকঝকে, তকতকে। সুন্দর করে ছাঁটা লন। কোনও বাড়িতেই কোনও মানুষ চোখে পড়ল না। না বাড়ির ভেতরে, না বাইরে। এমনকি রাস্তাতেও কোনও লোক চোখে পড়ল না! ৷ ৷ (চলবে....)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছায়াশহর—০৬
→ ছায়াশহর
→ ছায়াশহর
→ ছায়াশহর
→ ছায়াশহর
→ ছায়াশহর (পর্ব ১৩ এবং শেষ)
→ ছায়াশহর—১২
→ ছায়াশহর—১১
→ ছায়াশহর—১০
→ ছায়াশহর—১০
→ ছায়াশহর—০৯
→ ছায়াশহর—০৮
→ ছায়াশহর—০৭
→ ছায়াশহর—০৫
→ ছায়াশহর—০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now