বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছায়ার আলো
-রাসেল আহমেদ
...রুমেল ভার্সিটিতে পড়ে। আর বেশিদিন পড়বে না, এগারো সেমিস্টার চলে। চাকুরী খোজা শুরু করে দিসে। মামা টাকা কিছু নাই। তাই চাকুরী ও নাই। প্রতিদিন নিয়ম করে পত্রিকায় চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে। আর পাত্র চাই পাতায় চোখ বুলায়। পাত্র চাই পাতায় শুধু ডিভোর্সি মেয়েদের আনাগোনা বেশি দেখা যায়। রুমেলের ভালো লাগে না। নিয়ম করে পেপারের লাক্সের বিজ্ঞাপন দেখে। মেহজাবীন এর মত একটা সুন্দরী পাত্রী রুমেলের চাই।
ওত সুন্দরী মেয়ে ইলা ছিলো এখন নেই। বিয়ে হয়ে গেসে। বড়ই বড়লোকের মেয়ে। রুমেলের এক্স। ষষ্ঠ সেমিস্টার পর্যন্ত প্রেম করেছে। এখন ওই কথা মনেও নেই। কি করবে, যার জুতো কালি করে ইন্টারভিউ মুরোদ নাই তার আবার ইলার বিয়ে আটকানো। হাস্যকর কথা। কিন্তু রুমেল না হেসে মুখ গোমড়া করে আছে। কারণ বাসায় চাকরি করে টাকা পাঠাতে হবে। জলিল সাহেবের সরকারি চাকুরীর মেয়াদ শেষের পর্যায়ে। রুমেল কোনকিছুর কূল পায় না। তাই কোনমতেই কুল হতে পারে না। মন মেজাজ হট হয়ে থাকে।
এই হট মেজাজ দেখানোর মানুষ লাগে। ইলার সাথে দেখাতো, ইলা নেই। দেখার মানুষ নেই। কিন্তু ইলার একজন কার্বনকপি দরকার। এটা রুমেলের মৌলিক চাহিদা। চাকরিও মৌলিক। তাহলো রুমেলের মৌলিক চাহিদা এখন সাতটি। মধ্যবিত্তের মৌলিক চাহিদা বাড়ানোর মানে বিলাসিতা না। সেটা আসলেই মৌলিক। লিংকিন পার্কের হোয়াট আই হ্যাভ ডান গান বাজছে। রুমেলের মোবাইলে। এটা রুমেলের মোবাইলের রিংটোন। এই গান নাকি রুমেলের সাহস যোগায়। গ্রাম থেকে ফোন দিয়েছে জলিল সাহেব।
- হ্যালো বাবা।
- কেমন আছো বাবা? চাকরির কি খবর?
- এইতো বাবা ভালো আছি। সামনের মাসে চাকরি পাওয়ার কথা আছে।
সুন্দর করে মিথ্যা বলা শিখে গেসে রুমেল। এটাকেই বলে বিশ্রী সুন্দর। দুঃখে মাথার চুলগুলো ন্যাড়া করতে মনে চাচ্ছে রুমেলের। কিন্তু করবে না, অনেক দিন মাথায় শ্যাম্পু না করতে করতে কয়েকটা উকুন জন্মেছে। ন্যাড়া করলে ওরা মারা যাবে। এটা চিন্তা করে আর ন্যাড়া করা হলো না। বড়ই উদার মামুষ রুমেল। আর বেশিদিন উদার থাকা যাবে না। একটা কিছু করতে হবে। বাড়িতে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
ইদানিং সকালের পত্রীকা রাত করে পড়া হচ্ছে। রাতে বাসায় গিয়ে গতকাল রুমেল চাকরির বিজ্ঞাপন না দেখে সরাসরি পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দেখছে। একটা বুদ্ধি করে রেখেছে বড়লোক মেয়ের ঘরজামাই হয়ে থাকতে পারলে বাড়িতে কিছু টাকা পাঠানো যাবে। কয়েকটা ডিভোর্সি বড়লোক মেয়ের বিজ্ঞাপন থেকে মোবাইল নাম্বার খাতায় টুকে রাখলো রুমেল। এবার লটারির পালা, রুমেলের বিশ্বাস যেই নাম্বারটি সুন্দর সেই মহিলাটাও নিশ্চয়ই সুন্দরী হবে। ডিভোর্সিরা মহিলাই হয় মেয়ে হতে পারে না। যাক একটা নাম্বার পেয়েও গেল রুমেল। ফোন দিলো, মহিলার সাথে কথা হলো। আজকে সকালে ওই মহিলার সাথে দেখা করতে গেল রুমেল।
মহিলাটির বাসা বনানী। এলাকার সাথেই বড়লোক একটা ভাব আছে। মহিলাটা আজকে শুধু রুমেলকেই এপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে। ঠিকানা অনুযায়ী পৌছে গেল রুমেল। রুমেলের কাছে এটা একটা চাকরির মতই মনে হচ্ছে। ওয়াও কত সুন্দর বাসা। রুমেল চিন্তা করছে আমার চাকুরী হয়ে গেলেই আমি এই বাসায় থাকবো। দারোয়ান গেট পার হয়েই সোজা দোতলায় চলে গেল রুমেল। মহিলাটির দরজায় নক করলো রুমেল। মহিলাটি দরজা খুলে দিলো।
- একি ইলা তুমি??!!
- রুমেল তুমি এখানে??!!
●●●
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now