বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছায়া
রিফাত রহমান
বিপ! বিপ! বিপ!
অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাংলো আজাদের।চোখ মেলে দেখলো পৌনে তিনটা বাজে।কিছুক্ষণ রুমের ছাদের দিকে তাকিয়ে রইলো ও।তাকিয়ে আজকের অ্যাসাইনমেন্টের কথা ভাবতে লাগলো।
গত পরশুই কাজটা হাতে এসেছে।অ্যামাউন্ট ভালই।মাত্র কিছুদিন আগেই ও একটা ডীল শেষ করে এসেছ।মাঝের এই সময়টা রেষ্টে থাকবে বলে ভেবেছিল।স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক কাজ নেয়া আজাদের স্টাইল না।তবু ও রাজি হয়েছে।ওই যে,ভাল অ্যামাউন্ট।আজাদ টাকা পেলে জমায় না,দুইহাতে উড়িয়ে দেয়।তাই গত কিছুদিন যাবত্ পকেট হালকা টানের ওপর আছে,এ কারণেই কাজটা নেওয়া।
তবে কাজটা কি ঠিকমতো করতে পারবে?আবার যদি সমস্যাটা হয়?
বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে গেল আজাদ।দাঁত ব্রাশ করে শাওয়ারটা ছেড়ে তার নিচে দাঁড়ালো।শাওয়ারের জলধারায় ভিজতে ভিজতে নিজের ছোটবেলার কথা মনে করার চেষ্টা করলো।
. . .
আজাদের বাবা ছিলেন একজন মসজিদের ইমাম।১০০ ভাগ সত্ ও হালাল জীবন-যাপন করতেন।আজাদ ছোটবেলায়ই তার মাকে হারায়।এক বড় বোন আর ইমাম বাবাকে নিয়েই ছিল তার জগত।
আজাদরা খুবই হতদরিদ্র জীবন-যাপন করতো।জীবনে কখনো সুখ কাকে বলে তারা জানে নি।পরিবারের কর্তা সামান্য এক মসজিদের ইমাম বলে ছিল অভাব-অনটনের সংসার।তবু এর মাঝেও আজাদের বাবা খুব যত্ন করে তাঁর দুই সন্তানকে কুরআন-হাদীসের তালিম দিয়েছিলেন।
. . .
আজাদ বাথরুম থেকে বের হলো তোয়ালে পেঁচিয়ে।ঘরে ঢুকে ওই অবস্থায়ই তার সবচেয়ে প্রিয় পিস্তলটা বের করলো।একটা নাইন এমএম ল্যুগার।
বিছানার পাশে একটা ছোট টেবিলে বসে অভ্যস্ত ভঙ্গিতে সময় আর যত্ন নিয়ে ওটাকে পরিষ্কার করতে লাগলো।ম্যাগাজিন থেকে বুলেটগুলো বের করে নিয়ে বার কয়েক স্প্রিং পরীক্ষা করলো।সন্তুষ্ট হয়ে রিলোড।আঙুলের ধাক্কায় আগের জায়গায় ম্যাগাজিন আঁট হয়ে বসলো।
বাঁটের চারপাশে শক্ত হয়ে চেপে বসলো ওর প্রতিটা আঙুল।ওজনটুকু আশ্বস্ত করলো ওকে,স্বস্তির পরশ লাগলো মনে।কিন্তু প্যাঁচ কষে সাইলেন্সার লাগাতেই ওজনটা বদলে গেল,ভারী হয়ে উঠলো সামনের দিক।এতে আজাদের দক্ষ হাতের কিছু যায় আসে না।এরপর রান্নাঘরে গিয়ে কয়েক পিস রুটি খেয়েই বের হয়ে গেল ওর অতি শখের কালো লেদার জ্যাকেট আর বাইকটা নিয়ে।
. . .
ছোটবেলায় আজাদ খুবই ভাল একজন ছেলে ছিল।অভাবের কারণে বিগড়ে যাওয়া অন্যান্য ছেলেদের মত একেবারেই ছিল না।এর পেছনে কাজ করেছে ওর ইমাম বাবার আদর্শ।তিনি সবসময়ই বলতেন,"আল্লাহর উপর ভরসা রাখো বাবা,আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।তিনি আমাদের খালি পরীক্ষা করতেছেন।একদিন সব ঠিক হইয়া যাবে।"
আজাদের মা যখন চিকিৎসার অভাবে মারা যান,তখন ওর বাবার চোখে একফোঁটা পানিও দেখা যায় নি।তিনি শুধু বলেছিলেন,"আল্লাহর উপর ভরসা বাবা।সব ঠিক হইয়া যাবে।"
ছোট্ট আজাদ বুঝতো না,আল্লাহ শুধু তাদেরকেই পরীক্ষা করেন কেন?পাশের বাড়িতে যাদের ঘরে ভালমন্দ রান্না হয়,যাদের খাবারের গন্ধে আজাদের পেট মোচড় দিয়ে উঠে,তারা কি পরীক্ষার বাইরে?কিংবা যারা আনন্দ-উত্সবের দিনে নতুন নতুন কাপড় পড়ে বেড়াতে যায়,তারা?ও কিছুতেই বুঝতো পারতো না।
একদিন আজাদরা চরমতম পরীক্ষার সম্মুখীন হল।এক সন্ধ্যায় মসজিদে বাবার খোঁজ নিতে যাওয়া আজাদের বোনকে রাস্তায় একা পেয়ে খুবলে খেল কিছু নরপশু।পরদিন সকালে তার ছাদ থেকে ঝুলন্ত দেহটা নামাতে গিয়েই আজাদ সর্বপ্রথম তার বাবার চোখে পানি দেখতে পেল।এবং সেইদিন বিকালেই বোনের কবরের পাশ থেকে ফিরে বাবাকে নিথর পেল সে।বুঝতে পারলো,জীবনের শেষ পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে তার বাবা চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
সেইদিন থেকেই আজাদ হয়ে উঠলো সম্পূর্ণ নতুন এক মানুষ।জন্ম হলো ভয়হীন,পিছুটানহীন আজকের এই আজাদের।
. . .
বাইক চালিয়ে যেতে যেতে আরেকবার আজকের টার্গেটের কথা ভাবতে লাগলো আজাদ।এইবারের কাজটা মোটামুটি বড়ই বলা যায়।সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন হলো টার্গেট।কাজটা করাতে চান তারই প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী সোহেল রহমান।বাজেট ৬ লাখ।সাড়ে দুই দেওয়া আছে ডীলের সময়ই,বাকিটা কাজ হবার পর।এখন যাচ্ছে আনোয়ার হোসেনের খামারবাড়ীর উদ্দেশ্যে।
অপরাধ জগতে আজাদের একটা আলাদা নামডাক আছে।ওর অসাধারণ ঠান্ডা মাথা আর দুঃসাহস এর পেছনে কাজ করেছে।আরেকটা কারণ ওর নিঃশব্দে,কোন চিহ্ন না রেখেই কাজ করা।কোন কাজ করে চলে যাওয়ার আগপর্যন্ত ওর গতিপথ বা কাজ করার স্থান আজতক কেউ ট্র্যাক করে উঠতে পারে নি।ও কাজ শেষে বা করার আগে বলতে গেলে একপ্রকার যেন হাওয়ার সাথে মিশে থাকে।তাই তো অন্ধকার জগতে আজ ওর এত চাহিদা।
আনোয়ার হোসেনের খামারবাড়িতে পৌঁছে আজাদ সর্বপ্রথম ঘড়িটা দেখলো।সাড়ে পাঁচটা বাজে।আনোয়ার হোসেন প্রতিদিন সকাল সোয়া পাঁচটায় দুজন লোক সাথে নিয়ে হাঁটতে বেরোয়।ফেরে ছয়টা বা পৌনে ছয়টায়।ফিরেই গোসল করে বারান্দায় এসে চা খায়।আজাদ এগুলো সবই জানে।জানা ছাড়া যে উপায় নেই,এগুলো ওর কাজের জন্য খুবই জরুরী।
খামারবাড়ি থেকে একটু দূরে আজাদ বেছে বেছে গাছপালায় ঘেরা জংলামত একটা জায়গায় বসলো।এখান থেকে আনোয়ার হোসেনের বারান্দা ভালমত দেখা যায়।আর জায়গাটা নির্জনও।
ও যে আজ এখানে এসেছে,এটা কেউই জানে না।সবাই জানে ও এখন সেন্টমার্টিনে।এমনকি যে সোহেল রহমান ওকে কাজ দিয়েছে সেও।এর কারণ হলো গত পরশুদিন ডীলের টাকা নিয়েই ও সবাইকে দেখিয়ে,শুনিয়ে,মোটকথা একপর্যায়ের ঢাকঢোল পিটিয়েই সেন্টমার্টিন গিয়েছিল।ঢাকা এসেছে গতকাল রাতে,তাও নাম বদলে।আজাদ আপনমনেই একটু হাসলো।ওর গতিবিধি,কাজকর্ম সম্পর্কে ওর নিজের ছায়াই ভালভাবে কিছু জানে না,অন্যরা কিভাবে জানবে?
গাছে হেলান দিয়ে এসব ভাবতে ভাবতে মাটির দিকে চোখ পড়তেই দেহের পেশি শক্ত হয়ে গেল আজাদের।ওরই ছায়া ওর দিকে তাকিয়ে কুত্সিতভাবে হাসছে।ছায়াটা যে ওর,এটা বুঝা যাচ্ছে তার চেহারা দেখে।হ্যাঁ,ছায়াটার ঘাড়ে আজাদের চেহারা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।কিন্তু চেহারাটা রক্তাক্ত,এখানে সেখানে থেঁতলে আছে।নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে,চোখ দিয়ে,মুখ দিয়ে মোটকথা সব জায়গা থেকেই রক্ত পড়ছে।ছায়াটা যেন ইশারায় আজাদকে কয়েকবার ডাকলো।আজাদ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।ছায়াটি যেমন হঠাত্ করে এসেছিল তেমনি হঠাৎ করেই আবার সাধারণ রূপে মিলিয়ে গেল।
আজাদ কিছুক্ষণ চোয়াল শক্ত করে বসে রইলো।না,সে ভয় পায় নি।ভয় সে পায় না।অপরাধ জগতে দুঃসাহসী বলে তার নাম আছে।আজাদ তার জীবনে এমন সব কাজ করেছে,যার অংশবিশেষ শুনলেও সাধারণ মানুষের বুক কেঁপে উঠবে।মানুষ হত্যার পর যে তার মাথা কেটে নিয়ে ফুটবল খেলেছে,অনেককে মারার পর তাদের পরিবারের সামনেই নিজ হাতে টুকরো টুকরো করে কুকুরদের খাইয়েছে,অপরাধ জীবনের শুরুর দিকেই খুন করে পালানোর সময় পুলিশের ভয়ে পচাগলা লাশের সাথে যে এক কবরে শুয়ে রাত কাটিয়েছে,নিজের ছায়া দেখে ভয় পাওয়া তার সাধে না।আজাদ ভয় পায়ও না,কিন্তু ও চিন্তিত হয়।যা ভেবেছিল তাই হচ্ছে।গত কয়েকদিন যাবত্ ওর এই সমস্যাটা হচ্ছে।নিজের ছায়ায় সে নিজের চেহারা দেখে,ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়।আজ সকালেও আসার আগে ও এই ব্যাপারেই ভাবছিল।
আজাদ মাথাটা ঝাঁকুনী দিল।না,এখন এসব ভেবে যে কাজ করতে এসেছে তা নষ্ট করা চলবে না।যতকিছুই হোক,কাজ তাকে শেষ করতেই হবে।তারপর কোন একসময় ভাল দেখে একজন ডাক্তার দেখালেই হবে।
হঠাৎ আজাদ খেয়াল করলো যে খামারবাড়ি থেকে কথাবার্তার আওয়াজ আসছে।তারমানে আনোয়ার হোসেন ফিরে এসেছে।শরীরে একটা ঝাঁকুনী দিয়ে ও সোজা হয়ে বসলো.অপেক্ষা করতে লাগলো ঠিক মুহূর্তের।
একসময় বারান্দায় দেখা যায় আনোয়ার হোসেনের বিশাল দেহটা।পিস্তলটা হাতে নিয়ে নিশানা তাক করে আজাদ।"আজ তোমার জীবনের শেষ ভোর আনোয়ার হোসেন"-বিড়বিড় করে বলেই ট্রিগারে চাপ দেয় ও।থ্যাপ করে একটা শব্দ হয়,প্রায় সাথে সাথেই ঢলে পড়ে যায় আনোয়ার হোসেন।নাইন এমএম ল্যুগার অব্যর্থভাবে তার হৃদপিন্ড ভেদ করে।যতক্ষণে তার বাড়ির লোকেরা এটা টের পায়,ততক্ষণে বাইকের উপর বাতাস কেটে আজাদ বহুদূরে।
. . .
বেশ কিছুদিন পর,সন্ধ্যা।আজাদ তার কালো জ্যাকেট গায়ে বাইকের উপর।যাচ্ছে কাজী সোহেল রহমানের কাছে।তিনি ফোন করে যেতে বলেছেন,ডীলের বাকি টাকাটা নিতে।এই মাঝের কয়েকটা দিনেও ছায়ার দেখা পেয়েছে,তাই যেতে যেতে ও ভাবলো আজকে টাকাটা আনতে যাওয়ার পরই ডাক্তারের কাছে যাবে।ভালো দেখে একজন ডাক্তারের খোঁজ ও নিয়ে রেখেছে।
সোহেল রহমানের বাসায় যাবার পথে হঠাৎ একজায়গায় এসে আজাদ বাইক থামালো।বিশাল একটা গাছ রাস্তার উপর পড়ে আছে।ও বাইকের উপর বসে কিছুক্ষণ ভাবলো,গাছ পেরিয়ে কিভাবে সামনে যাবে।তারপর বাইকটা একপাশে রেখে চেষ্টা করতে লাগলো,যদি গাছটা সরে।
গাছ ধরে টানাটানি করতে করতেই হঠাত্ কি কারণে যেন ও মুখ তুললো,তুলেই শক্ত হয়ে গেল।সামনের দিক থেকে রাজু ১৫-২০ জনকে নিয়ে আসছে।রাজু আনোয়ার হোসেনের টপ ক্যাডার।তার যত আজেবাজে কাজ সব রাজুই করে।আজাদ তাড়াতাড়ি একটা ল্যাম্পপোষ্টের আড়ালে লুকিয়ে পড়লো।এক্ষেত্রে তার কালো জ্যাকেট অন্ধকারে মিশে যেতে কিছুটা সাহায্য করলো।
ল্যাম্পপোষ্টের আড়ালে দাঁড়াতেই আজাদ দেখলো তার এবং ল্যাম্পপোষ্টের মিলিত ছায়াটি আকার নিতে শুরু করেছে।মুহুর্তের মধ্যেই ছায়াটি ক্ষতবিক্ষত চেহারা নিয়ে আজাদের দিকে তাঁকিয়ে হাসা শুরু করলো।এবং আজ,জীবনে এই প্রথমবারের মত আজাদ ভয় পেল,অবর্ণনীয় ভয়।ও বুঝতে পারলো না এ ভয় কিসের,শুধু বুঝলো যে অকল্পনীয় ভয়ে তার হাত-পা যেন পেটের ভেতর সেঁধিয়ে যাচ্ছে।
ল্যাম্পপোষ্টের ক্ষুদ্র আকৃতি আজাদকে বেশিক্ষণ আড়াল করতে পারলো না।সে রাজু ও তার দলবলের চোখে পড়ে গেল।একমুহুর্তের জন্য আজাদ চেষ্টা করলো দৌঁড় দেওয়ার জন্য,কিন্তু পরমুহুর্তেই পায়ে রাজুর করা গুলির আঘাতে আর্তনাদ করে রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়লো।
রাজুর দল এসে আজাদকে এলোপাতাড়িভাবে হকিস্টিকের বাড়ি দিতে লাগলো,সাথে অবিরত লাথি তো আছেই।এর মাঝে একজন এসে ড্যাগার চার্জ করতে লাগলো।দুই ইঞ্চি লম্বা ড্যাগারের ফলা আজাদের দেহে ঢুকতে আর বেরুতে লাগলো।আজাদ অকথ্য যন্ত্রণায় চিত্কার করে উঠলো।একটানা বেশ কিছুক্ষণ পিটানোর পর একটা ছেলে রাজুকে জিজ্ঞাসা করলো,"কেমনে মারুম ভাই?"
পাশ থেকে আরেকজন বলে উঠলো,"উস্তাদ,কানের সাথে নল লাগাইয়া গুল্লি মারি?"গুলির দাম বেশি হওয়ায় রনি অস্বীকৃতি জানালো।তার নির্দেশে অর্ধমৃত আজাদকে ধরে বসানো হলো।সে পকেট থেকে একটি গজাল ও হাতুড়ি বের করলো।গজালটি আজাদের মাথার তালুতে রেখে রাজু সর্বশক্তিতে একটা বাড়ি দিল।৬ ইঞ্চি লম্বা লোহার গজালটি সম্পূর্ণভাবে আজাদের মাথায় ঢুকে গেল।ওই অবস্থায়ই আজাদ একটা মরণ চিত্কার দিয়ে উঠলো।এরপর আরও দুটি গজাল ঢুকিয়ে আজাদের নিথর দেহটা তারা রাস্তার উপর ফেলে আসলো।
পরদিন সকালে পুলিশ খবর পেয়ে যখন এলো,তখন আজাদের দেহটিকে পিঁপড়ারা ছেঁকে ধরেছে।একটা চোখ বেরিয়ে আছে,মগজ রাস্তার পিচে ছড়িয়ে আসে।লাশটা যেই দেখলো,সেই সাথে সাথে বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়লো।কি ভয়ংকর!!কি বিভত্স!!!
. . .
ওদিকে কাজী সোহেল রহমানের বাড়িতে,
-স্লামাইকুম স্যার।
-কে,রাজু?আরে আসো আসো!!
-ওই আজাইদ্দার কাম তো শেষ কইরা দিয়া আইলাম স্যার।
-হ্যাঁ,শুনছি।খুব ভালো করেছ।এখন এককাজ করো,কয়েকদিনের জন্য গায়েব হয়ে যাও।আর মুখ বন্ধ রাখবা।
-মুখ তো স্যার আর একাএকা বন্ধ হইবো না।মুখে কিছু দিয়া না রাখলে তো বন্ধ হইবার চায় না।
-ও,ইদানীং ভালোই বুঝে গেছ,নাকি?এই নাও,এখানে আড়াই লাখ আছে।আর এত বুঝো না,পরে সমস্যা হবে।
-ওই কথা কইয়া লাভ নাই স্যার।ওইসব সমস্যায় আমার কিছুই হইবো না।আসি,স্লামাইকুম।
তারা দুজন দু'দিকে চলে গেল।কিন্তু খেয়াল করেও দেখলো না,আড়ালে তাদের ছায়াগুলোও বিকট আকার ধারণ করতে শুরু করেছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now