বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছায়া ৪

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান selfiAan Razon (০ পয়েন্ট)

X নিগারের বাবা ফকিরহাট এসে মেয়েকে নরসিংদী নিয়ে গেলেন। ভদ্রলোক চট্টগ্রাম রেলওয়েতে চাকরি করলেও নরসিংদীতে জমি কিনে টিনশেডের বাড়ি করেছিলেন। তিনিও এক বছরের মাথায় মারা গেলেন। স্ট্রোক করেছিলেন। হয়তো মেয়ের নিস্করুণ বৈধব্যে রূপ দেখেই … নিগারের অথই সমুদ্রে ভাসছিল। মাথার ওপর অবিভাবক না থাকলে যা হয় …অনেকটা আকস্মিৎ ভাবেই নিগারের বড় চাচা কুমিল্লার এক বিপত্নিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে নিগারের বিয়ে ঠিক করেন। দ্বিতীয় স্বামী শফিকুল ইসলাম ভালো মানুষ। (তবে ভীষণ কাজপাগল … সংসারে মন নেই, এ কারণেই হয়তো হাসানের এসরাজ নিয়ে কোনও প্রশ্ন করেন নি) কুমিল্লা শহরে কান্দিরপাড়ে প্রেস আছে। ঠাকুরপাড়ায় চারতলা বাড়ি। মাস গেলে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা ভাড়ার টাকা নিগারের হাতেই জমা হয় । ভিতরে ভিতরে হাসানের জন্য মন পুড়লেও দ্বিতীয় স্বামীর সংসারে নিগারের অন্তত সুখ- স্বাচ্ছন্দ্য আছে। এখন বৃদ্ধ তান্ত্রিক জ্যোতিষী এসে কী কথা শোনালেন? সাধন আচার্য্য বললেন, আমি তোমার কাছে একটা জরুরি কথা বলতে এসেছি মা। বলেন কাকা। বলে আঁচল দিয়ে কপালের ঘাম মুছে নিল নিগার। বুকটা ঢিপঢিক করছে। ভোরে ছাদে হাঁটাহাঁটি করার সময় শফিকুলও ছায়া দেখেছে । ছায়াটা নারকেল গাছ থেকে টুপ করে লাফ দিয়েছিল। আসলে কি ছিল ওটা? এক তীব্র কৌতূহল আচ্ছন্ন করে নিগারকে। সাধন আচার্য্য পাঞ্জাবির পকেট থেকে ছোট একটি নকশাদার রুপোর ঢিবে বের করলেন। তারপর সেটি খুলে এক টিপ খইনি বার করে মুখে ফেললেন । বাতাসে শুকনো তামাকের গন্ধ ছড়ায়। খইনি চিবুতে চিবুতে বৃদ্ধ বললেন, তুমি কি ঘরে ছায়া দেখ মা? ছায়া? হ্যাঁ, ছায়া। ধূসর ছায়া। নিগারের শরীর কাঁপছে। না কাকা, ছায়া আমি দেখি না। তবে আমার স্বামী, কাজের ঝি আর আমার মেয়ে দেখে। এ নিয়ে আমি ক’দিন ধরে ভীষণ টেনশনে আছি কাকা। হুমম। আমি কিন্তু ছায়া দেখি না কাকা। তোমাকে একটা মন্ত্রপূতঃ কবজ দিয়েছিলাম না মা? হ্যাঁ, কাকা। ওটা কি তুমি এখনও বাহুতে ধারণ কর? হ্যাঁ, কাকা। এই যে। বলে ক্লালো রঙের ব্লাউজের হাতা সামান্য তুলে কালো কাইতন দেখাল নিগার। সাধন আচার্য্য মাথা নেড়ে বললেন, বুঝতে পেরেছি। ওই জন্যেই … কিন্তু, কিন্তু, ছায়ার কথা আপনি জানলেন কী ভাবে কাকা? শোন মা, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ জগতের আদি-রহস্যের সন্ধানে ব্রতী হয়েছি। তারা মায়ের আরাধনা করছি। শিবত্ম অর্জনের জন্য যোগসাধনা করছি। ভূ-ভারতে কত তান্ত্রিক- কাপালিকের সঙ্গে গূহ্য শাস্ত্র আলোচনা করেছি। তন্ত্রসাধনা করলে এসব জানা কঠিন কিছু বিষয় নয় মা। তন্ত্র আসলে বিজ্ঞান। অপরা বিজ্ঞান। ওটা ওটা কিসের ছায়া কাকা? হাসানের ছায়া মা। হাসানের মানে??? নিগারের মাথা টলে উঠল। হাসান এখনও ছায়া হয়ে পৃথিবীতে বেঁচে আছে। নিগারের শ্বাস আটকে যায় প্রায় । ও অস্ফুটস্বরে বলল, হাসান ছায়া হয়ে আছে মানে? আপনি কী বলছেন কাকা?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আঁখি ও অদৃশ্য ছায়া
→ নিজের ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ
→ ছায়ার পথে সতর্কতার আলো
→ ছায়ার ভেতর জ্বলে ওঠা আগুন
→ আধ্যাত্মিক সুখ : অদৃশ্য ব্যথার আলো-ছায়ার যাত্রা
→ বিষবৃক্ষের ছায়ায়
→ অসীম রহমতের ছায়ায়
→ দোষের কাঁধে সমাজের ছায়া
→ দানবের ছায়া
→ মুডের ছায়ায়
→ ছায়াশহর—০৬
→ ছায়া
→ কর্মের প্রতিচ্ছায়া
→ সময়ের ছায়া
→ শ্যামল ছায়া

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now