বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছায়া

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Kamruzzaman khan (০ পয়েন্ট)

X লোকটা ছুটে এসে দাঁড়াল ধানখেতের আলের ওপর। এরপর চিত্কার করে বলতে লাগল, ‘খায়া ফেলতাসে! সব খায়া ফেলতাসে!’ মুনশি নামের টিঙটিঙে লোকটার কথা শুনে সবাই এগিয়ে এল। ঘটনা কী? ঘটনা হলো ইছাপুরা গ্রামের জঙ্গলে কদিন আগে এক অদ্ভুত প্রাণী এসেছে। কেউ বলে হাতির বাচ্চার মতো, কেউ বলে ভালুকের মতো। লম্বা একটা জিব আছে। সুড়ুৎ সুড়ুৎ করে টানে। সুড়ুৎ করে প্রাণীটা কী খেয়ে ফেলেছে? কলের পানি? ভাতের মাড়? করলা, আলু, চালকুমড়া নাকি কই মাছের ঝোল? ঢেঁকিশাক বা শিমের বিচির তরকারি নয় তো? ‘ছায়া খায়া ফালাইসে! আমগো সক্কলের ছায়া! গাছের ছায়া! বাড়ির ছায়া! ছাতার ছায়া!’ তাই তো! কারও ছায়া নেই! ছায়া গেল কই! হাত-পা নেড়ে কিছুক্ষণ পরীক্ষা করল ধানখেতে থাকা লোকগুলো। তারপর যখন বুঝতে পারল যে সত্যিই তাদের ছায়া গায়েব হয়ে গেছে, তারা আবার খেতের কাজে মন দিল। এক দৌড়ে গ্রামের ক্ষমতাবান লোকটার বাড়িতে গেল মুনশি। সভা হচ্ছিল উঠোনে। চিত্কার করে জানিয়ে দিল জঙ্গলের অদ্ভুত প্রাণীটা সবার ছায়া খেয়ে ফেলেছে। ‘তুমি কেমনে জানো যে ওই প্রাণীটাই ছায়া খাইসে?’ ‘আমি নিজের চোখে দেখসি। সুরুউউত করে টান দিসে, আর সব ছায়া গিয়া ঢুকছে ওর পেটে।’ সভায় উপস্থিত সবাই খেয়াল করল তাদের কারও ছায়া নেই। কেউ একজন বলল, ‘তাই তো কই এত গরম লাগে ক্যান।’ ক্ষমতাবান লোকটাও খেয়াল করল তার ছায়া নেই। তার খুব রাগ হলো। গ্রামের গরিব লোকগুলোর ছায়া নেই, তারও নেই। ব্যাপারটা তার ভালো লাগল না। তার সঙ্গে সারা দিন ঘুর ঘুর করে যে লোকটা তাকে ডাক দিল, ‘রুস্তম!’ ‘জি হুজুর।’ ‘গরম লাগতাসে, ছাতা ধর।’ ‘হুজুর ছাতা ধইরা কী লাভ, ছায়া তো নাই।’ রাশভারী লোকটা খুব খেপে গেল এবং ঘরের ভেতর চলে গেল। বাকিরাও উঠোন ছেড়ে উঠে গেল। ছায়া নিয়ে তাদের কাউকে চিন্তিত দেখা গেল না। তবে একটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো বাড়ির ভেতর কিন্তু ছায়া আছে। মানুষগুলো তাই বাইরে বেশিক্ষণ না থেকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে গেল। এভাবে কেটে গেল কয়েকটা দিন। গ্রামের লোকজন সময় পেলেই ছায়া খোঁজে। কিন্তু পায় না। ক্ষমতাবান লোকটার মতো যারা এত দিন ছাতা হাতে ঘুরে বেড়াত তারা আর ঘর থেকে বের হয় না। কারণ ছায়া ছাড়া বের হতে তাদের লজ্জা করে, গরমও লাগে বেশি। অদ্ভুত ছায়াখেকো প্রাণীটাকে মাঝে মাঝে দেখা যায়। কেউ কেউ দেখেছেও এর মধ্যে। তাদের মতে, গোলগাল নাদুসনুদুস একচোখা শিংওয়ালা প্রাণীটা বাচ্চাদের মতো। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে আর মাঝে মাঝে ফুঁপিয়ে ওঠে। মনে হয় তার অনেক খিদে। আরও দুতিন গ্রামের ছায়া পেলে পেট ভরত। একদিন জঙ্গলে হাঁটছিল কিশোর রতন। বনে ছায়া নেই। গরমে ঘেমে একাকার। হঠাৎ দেখে একটা গাছের ডালে ঝুলছে অদ্ভুত প্রাণীটা। রতনকে দেখে ভয় পেয়েছে। ‘ওই, তুই আমার ছায়া খাইছস ক্যান! ছায়া ফিরাইয়া দে! আমার গরম লাগে।’ ‘আমি ছায়া ফেরত দিতে পারব না।’ বাহ এ দেখি কথাও বলে! তাও আবার শুদ্ধ বাংলায়! এ কয়দিনে তাহলে প্রাণীটা ভাষাও শিখেছে। ‘ক্যান দিবি না! একশবার দিবি!’ ‘আমার অনেক দুঃখ। ছায়া খেলে দুঃখ কমে।’ ‘অ্যাঁ, তুই আইসক্রিম খাবি? আইসক্রিম খাইলে আমার দুঃখ কমে। তোর বাড়ি কই, মা-বাপ কই?’ ‘আমার বাড়ি অনেক দূর। অন্য গ্রহে। বাবা আছে ওখানে। মা নেই।’ ‘ওহহ! আচ্ছা বেলা অনেক হলো। বাড়ি গেলাম।’ রতন বাড়ি গেল। মা রান্না করে রেখেছে। মাকে গিয়ে বলল অদ্ভুত প্রাণীটার কথা। সব শুনে মা বললেন, ‘আহারে..’। এরপর একান ওকান হয়ে সবার কানে গেল। গ্রামবাসী ঠিক করল অদ্ভুত প্রাণীটাকে ধরবে। সকালে রতনের দেখানো পথে গ্রামবাসী জঙ্গলে গিয়ে ঘিরে ফেলল প্রাণীটাকে। কারও হাতে লাঠি। কারও হাতে জাল। মুনশি চেঁচিয়ে বলল, ‘তুই ছায়া ফেরত দে। নইলে মাইর দিমু।’ ‘আমি ছায়া ফেরত দিতে পারি না। আমার অনেক দুঃখ।’ ‘তোর দুঃখ তাতে আমগো কী! ছায়া ফেরত দে! গরম লাগতাসে!’ ধমক শুনে প্রাণীটা ভয় পেলেও কিছু বলল না। মনে হয় সে ছায়া ফেরত দিতে পারবে না। যেটা খেয়ে ফেলেছে সেটা ফেরত দেবে কী করে! লাঠি হাতে এগিয়ে আসছে দুজন। একটু পরই মার পড়বে। এমন সময় দৌড়ে এল রতনের মা। এগিয়ে গেল প্রাণীটার দিকে। তাকে কোলে নিয়ে গাছ থেকে নামাল। রতনের মায়ের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে প্রাণীটা। কড়া রোদের কথা ভুলে গিয়ে গ্রামের লোকজনও হাঁ করে তাকিয়ে দেখছে। যারা লাঠি হাতে এগিয়ে গিয়েছিল, তারা দুপা পেছাল। রতনের মা প্রাণীটার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, ‘তোর খিদা লাগছে? ছায়া খাবি?’ প্রাণীটা দ্রুত উপর-নিচ মাথা নাড়ল। রতনের মা তার পরনের অনেক পুরোনো শাড়িটার আঁচল তুলে দিলেন অদ্ভুত প্রাণীটার মাথায়। কী আজব! প্রাণীটার মাথায় ছায়া পড়ল! রতনের মা তার আঁচল ধরে রেখেছেন। একটু পরই চোখ বুজে ঘুমিয়ে পড়ল প্রাণীটা। তৃপ্তির ছাপ তার মুখে। এমন ছায়া সে জীবনেও খায়নি। এদিকে গ্রামবাসী তখনো টের পায়নি যে তাদের ছায়া আবার ফিরে এসেছে..................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিজের ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ
→ ছায়ার পথে সতর্কতার আলো
→ ছায়ার ভেতর জ্বলে ওঠা আগুন
→ আধ্যাত্মিক সুখ : অদৃশ্য ব্যথার আলো-ছায়ার যাত্রা
→ বিষবৃক্ষের ছায়ায়
→ অসীম রহমতের ছায়ায়
→ দোষের কাঁধে সমাজের ছায়া
→ দানবের ছায়া
→ মুডের ছায়ায়
→ ছায়াশহর—০৬
→ ছায়া
→ কর্মের প্রতিচ্ছায়া
→ সময়ের ছায়া
→ শ্যামল ছায়া
→ ^অদৃশ্য ছায়া^

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now