বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছাগলের মাজার

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মুহাম্মদ আজিজুর রহমান (০ পয়েন্ট)

X আমাদের সমাজের বেশকিছু লোক আছে যারা মাজার পাগল। এরা যদি কোন কবরস্তানের উপর লাল রঙের কাপড় অথবা পতাকার মতো লাল শালুক দেখলেই তারা সেটাকে এমনভাবে ভক্তি করে যে, রাতারতি তারা সেটাকে মাজার বানিয়ে ফেলে। তারা একটাবারও চিন্তা করে না যে, এটা কোনো অলী আউলিয়ার কবর, না কোনো সাধারণ মানুষেরর কবর, না কোনো পশুর কবর। শুধু একটা কবরের উপর লাল কাপড় অথবা লাল শালুক দেখলেই ঐ সমস্ত মাজার পাগলেরা সেই কবরটাকে মাজার বানাতে বেশিক্ষণ সময় নেয় না। তারা রাতারাতি সেটাকে মাজার বানিয়ে ফেলে। আর সাথে সাথেই সেখানে মানত করে, শিন্নি করে ইত্যাদি শিরিক জাতীয় কাজে লিপ্তত হয়। তারা একটাবারের জন্যও এটা ভাবে না যে, তারা যে কাজ করছে সেটা ঠিক না বেঠিক। তো বন্ধুরা আমি আপনাদের মাঝে এরকম জাতীয় একটা গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। এক মাজারের এক ভন্ড পীর তার একজন ভক্তকে একটা ছাগল উপহার দিল আর বলল- তুই এই ছাগলের যত্ন নিবি দেখবি এই ছাগল একদিন তর ভাগ্য বদলে দিবে, আমি তর জন্য দোয়া করলাম। ভক্ত এই ছাগলটাকে নিয়ে খুশিমনে তার বাড়ি চলে গেল, আর ছাগলটার ঠিকমতো যত্ন নিতে লাগল, তো একদিন ছাগলটা রাস্তা পাশ দিয়ে ঘাস খেতে খেতে যাচ্ছিল আর রাস্তার পাশে একটা মরা গাছ ছিল। মরা গাছটার নিছে ছাগলটা যখন ঘাস খেতে এল তখন মরা গাছটার একটা বড় মোটা শক্ত ডাল ভেঙ্গে পড়ল আর সেটা ঐ ছাগলটার উপরে গিয়ে পড়ল আর সাথে সাথে ছাগলটা সেখানে মারা গেলে। আর ঐ দিকে ভক্ত তার পীরের দেওয়া ছাগলটাকে দেখতে না পেয়ে হন্য হয়ে খুঁজতে লাগল। খুঁজতে খুঁজতে সে ঐ মরা গাছটার নিছে এসে দেখল মরা গাছটার ডাল ভেঙ্গে ছাগলটার উপরে পড়ার কারণে ছাগলটা মারা গেছে। তারপর সে ছাগলটাকে কবর দিল, কবর দেওয়ার পর সে ভাবতে লাগল এটা পীরের ছাগল, এটাতো আর কোন সাধারণ ছাগল না। তারপর সে ছাগলটার কবরের উপর একটা লাল কাপড় বিছিয়ে দিল,কবরটার চতুর্দিকে লাল শালুক(লাল পতাকা) লাগিয়ে দিল। আর যারা মাজারের অন্ধ ভক্ত অর্থাৎ মাজার পাগল, যখন তারা এই কবরটাকে দেখল তারা ভাবতে লাগল না জানি কোন বড় পীরের কবর, তখন তারাও সেখানে কবরের পাশে টাকা-পয়াসা দান করল। আর তা দেখে ওই পীরের ভক্ত ভাবতে লাগল, মনে হয় পীর বাবার দোয়া কজে লেগেছে। তো যখন দান করা টাকা-পয়সা একটু বেশি হল তখন সে সেখান থেকে নিজের প্রয়োজনের জন্য কিছু টাকা-পয়সা নিজের কাছে রেখে বাকি টাকা-পয়সা দিয়ে সে মাজারটাকে আরেকটু সুন্দরভাবে সাজাল, কবরটার চারিদিকে বেড়া দিল আরও লাল শালুক দিয়ে মাজারটা একটু সুন্দর করল। কাকতালীয় ভাবে এই মাজারটাতে যারা যে আশা নিয়ে মানত করতে আসত তাদের সেই আশা পূরণ হয়ে যেত। তো এই ভাবেই এই মাজারটা যশখ্যাতি বাড়তে লাগল। আর যখন দানের টাকা-পয়সা আরও বৃদ্ধি পেল তখন ঐ পীরের ভক্ত মাজারটার চারিদিকে আরও সুন্দর জাঁকজমক করে সাজাল আর মাজারের প্রবেশদ্বারে একটা গেইট দিল। আর ঐ গেইটে একটা নামের প্লেইট লাগালো আর তাতে লিখল হযরত গেদার শাহ-র মাজার অর্থাৎ ছাগলের মাজার। আর ঐ দিকে যে পীর তাকে ছাগল দিয়েছিল সেই পীরের মাজারের ভক্তরা আগের মতো বেশি করে আর কেউ যায় না, আর বেশি না যাওয়ার কারণে দান-খয়রাত কম হয় এর ফলে দান বাক্সে দান খয়রাতের টাকা আগের মতো বেশি করে হয় না। তখন ঐ পীর এর কারণ জানতে বের হল যে মানুষেরা তার মাজারে না এসে কোন মাজারে যায় বর্তমানে। আর সে খুঁজতে খুঁজতে ঐ গেদার শাহ-র মাজারে এসে উপস্থিত হল। তখন তার ঐ ভক্ত তাকে চিনে ফেলল আর বলল- বাবা তোমার দোয়ায় আজ আমার ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে গেছে। আর ঐ ভন্ড পীর তাকে দেখে কিছুটা বিস্মিত হয়ে বলল- তুমি কে? তখন ঐ পীরের ভক্ত বলল- বাবা আমাকে চিনতে পারছেন না, আমি সেই ভক্ত যাকে আপনি আপনার ছাগল দিয়েছিলেন আমি হচ্ছে সেই সুভাগ্যবান ভক্ত। তখন ঐ ভন্ড পীরের স্মরণ হল যে একজন ভক্তকে সে তার একটা ছাগল দিয়েছিল আর স্মরণ করার পর বলল- আমি তোমাকে চিনতে পেরেছি তুমি সেই ভক্ত যাকে আমি আমার ছাগল দিয়েছিলাম। তখন ভন্ড পীর বাবা বলল- আমার সেই ছাগল কোথায় আর এই মাজার কার? তোমাকে কেন এই মাজারের ভক্তরা পীর বলে সম্মোধন করছে? তখন পীরের ভক্ত বলল- বাবা আপনি আমাকে যে ছাগলটা দিয়েছিলেন সেই ছাগলটা উপর একটা মরা গাছের ডাল পড়ার কারণে সেই ছাগলটা মারা যায় আর আমি সেই ছাগলটাকে কবর দিয়ে দেই, ছাগলটা আপনার ছিল বলে আমি আপনার সম্মানার্থে সেই ছাগলটার কবরের উপর লাল কাপড় আর লাল শালুক কবরটার চারিদিকে দিয়ে দিই। আর মানুষের এটাকে মাজার মনে করে দান-খয়রাত করে যায় আর সেই দান-খয়রাতের টাকা-পয়সা দিয়ে আমি এই মজারটাকে সুন্দরভাবে জাঁকজমক করি আর আমি এই মাজারটার নাম গেদার শাহ নাম রাখি আর তাতেই আমি আজ এত্ত ধন-বান হতে পেরেছি, শুধু আপনার দেয়া ছাগলটা আর আপনার দোয়ার জন্য আজ আমি এই মাজারের পীর হতে পেরেছি। আর ঐ ভন্ড পীর এই কথা শুনে নিজের মনে মনে বলতে লাগল যে, শালার বেটা আমি ঐ ছাগলটা পোষতে পারছিলাম না, তাই তরে দিয়েছিলাম, আর তুই আমার ছাগল মাইরা পীর বাবা হইয়া গেছত গা। আর ভন্ড পীর একটু পরে তার ভক্তকে বলল- যে ছাগলটার বাপের খবর আমার মাজারে, আগে মানুষ মাজারে গিয়া দান-খয়রাত করত তাই তর মাজারে যে ছাগলটা ছিল সে ছাগলটার বাপের দোয়ায় তর আজ এই অবস্থা। এখন কেউ আমার মাজারে যায় না তাই ছাগলটা বাপ আমারে স্বপ্নে দেখা দিয়া কইছে যে, তার পোলার মাজারে মানুষ বেশি যায় দেক্কা এখন আর কেউ তার মাজারে আয় না, সে আমারে কইছে আমার পোলার মাজারের পীররে গিয়া কও আমারে মাজারে যদি লোক না আয় তাহলে আমার অভিশাপে আমার পোলার মাজারে কেউ যাইব না। আর ছাগলটার বাপ আমারে কইচে যে আমি গিয়া যাতে তার পোলার মাজারের পীররে গিয়া কই যাতে তার মাজারে যাতে লোক পাঠায়। একথা শোনার পর সেই পীরের ভক্ত কইল- বাবা আমি এখ্কুনি গিয়া কইতেছি যে আপনার ছেদার শাহ-র মাজার দান কইরা তারপর যাতে আমারে মাজারে দান-খয়রাত করে তাইলেই ভক্তদের মনের আাশা পূরণ হইব। তখন ঐ পীরের ভক্ত নিজের কথামতো কাজ করল। তারপর থেকে মাজারের ভক্তরা দুই মাজারে দান-খয়রাত করতে শুরু করল। প্রথমে ছেদার শাহ-র মাজার তারপর গেদার শাহ-র মাজারে দান-খয়রাত করতে লাগল। মানে প্রথমে ঐ ভন্ড পীরের মাজার তারপর ঐ পীরের ঐ ভক্তের মাজার মানুষ দান করতে লাগল। [ আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা আমি আপনারদের আমাদের সমাজের বাস্তব দ্বারা সম্পর্ক অবগত করলাম। আজ আমাদের চারিদিকে সবাই নিজের সেচ্ছায় শিরিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। আল্লাহ যাতে আমাদের এই সমস্ত শিরিক কার্যকলাপ থেকে আমাদের মুক্ত রাখেন। সবাই বলুন(আমিন)।]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছাগলের মাজার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now