বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"চেতনা বেইচা দিছি"
[মাইকিং]
এই মুহূর্তে বিশাল ব্যানার নিয়ে আমাদের এখানে উপস্থিত
চেতনা।
তার হাতে শুখনো কুঁড়ি ঝরে পরা কোন ফুল।
শহিদ বেদি তে ফুল দিয়ে সে চলে যাচ্ছে।
পুর সমাগম স্থির পিন পতন নীরবতায় আচ্ছিন্ন হয়ে গেল এই অভূত পূর্ণ দৃশ্য দেখে।
সবার মনে প্রশ্ন কি করে বিবেকের তালা ভেঙে চেতনা এখানে।
সাংবাদিক গন তার দিকে ছুটে জেতেই বাঁধা পেল দেশের সুরক্ষা বাহিনীর।
কেউ এগিয়ে আসবেন না বিশৃঙ্খলা করবেন না তাকে জেতে দিন।
হটাত শৃংখল বাহিনীর পিছন থেকে আওয়াজ এল
সবাইকে আসতে দিন আমি ভিআইপি কেউ না সবার সাথেই আমার উঠা বসা।
আপনাদের সাথেও, সুধু আপনারা বিবেকের দরজায় তালা বেধে আমাকে বন্দি রাখেন, আজও কি তাই করবেন?
গনমাধ্যম প্রশ্ন করা শুরু করেছে, সবাই পাগলের মত প্রশ্ন করছে -
আপনি আসলেন কি করে? আপনি কি কোন অবয়ব না বস্তু না প্রান? আপনি কি ফিরে যাবেন? কি করবেন এখন?
সব চুপ, গর্জে উঠল চেতনা।
তোদের প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাদ্ধ না। আমি তোদের প্রশ্ন করি উত্তর দে।
আপনি অভদ্রের মত কথা বলছেন কেন?
আবার কথা বলে বেয়াদব। তরা কি ভুলে গেছিস আমি কে?
আমি চেতনা।
তোদের মাঝে বন্দি ছিলাম। তোরা আমাকে বন্দি করে রেখেছিলি ভদ্রতার নামে কাপুরুষতা দিয়ে।
তোরা আমাকে প্রশ্ন করিস। তোরা সত্য মিথ্যা এক সাথে কচলিয়ে ভত্তা বানাস আর আমাকে ভদ্রতা শিখাস।
তোদের মাঝে আমি থেকেও বন্দি ছিলাম হাজার কোটি চেষ্টা করে তোদের দিয়ে সব সময় সত্য বলাতে পারিনি।
এই যে পাশের শৃঙ্খল বাহিনী তাদের ভিতর আমি চেতনা ছিলাম তাও ভুলে গিয়েছি।
দমন পীড়ন অন্যের হুকুমে নিজের বিবেক-কে আর আমাকে প্রশ্রয় না দিয়ে কত কি না করে গেল।
ওই যে দূরে ছেলে মেয়েরা এক সাথে সেলফি তুলছে ওদের চেতনা কি এই রাত্রে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করা?
নিজের বিবেক কে তোরা পুঁজিবাদ দেখিয়ে কুলশিত করেছিস আমাকে বন্দি। সেই আমার থেকে ভদ্রতা আশা করিস।
এই দেশের লাখ মানুষের ভেতরের চেতনা আমি, আমি দেখেছি কে কি চায়।
বাৎসরিক দিবস গুলায় তোমার ভালবাসা উপচাইয়া পড়ে তখন আমার নাম নিয়া এক এক কাজ কইরা যাও।
কই কোন দিন ত দেখলাম না আমার উচিত ব্যাবহার করতে।
কোন দিন সৎ নাগরিকের দায়িত্ব পালন করছস? কোন দিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দারাইছস?
কিছুই করস নাই। যারা করছিলো তাগোর লগেও থাকস নাই।
তোগো মত মানুষ সেই ৫২ তে'ও ছিল। যাদের এই খানে ফুল দিতে আইছস তারা আমারে জাগ্রত করছিলো।
তাই তোরা আজ বাংলায় কথা কস। তোরা হইলে তো ঘর থেকেই বাইর হইতি না পেট জান বাচানির চিন্তায়।
আর এরা পুলিশ আনসার বিডিয়ার ভাইয়েরা নিজেরে বিক্রি কইরা দিছে শাসকের কাছে।
নাগরিক দায় ভার এরাইয়া যদি তোমরা মহা মানব জাতি হোউ তাহলে তোমাগো "চ" বর্ণ দিয়া শব্দ বানিয়া কইতে হইব।
এইহানে শহিদ বেদি তে ফুল দেউ আর কও আমার কথা।
"একুশের চেতনা মানে মাথা নত নয়া করা"।
সেই চেতনা মানে আমারে পুঞ্জি করে যখন এক দল সুন্দরবন নিয়া কথা কয় মাইর খায় তহন তোমারা আমারে বাক্সে বন্দি কর।
আমি সেই চেতনা যা তোমাগ মত নিসচুপে অপরাদ অন্যায় মেনে নেওয়া অপদার্থের থেকে বাহির হইয়া আইছি।
উপস্থিত সকলে চুপ, চেতনার প্রস্থান।
পর দিন টেলিভিশনে খবর...
সকলে আনন্দের সাথে শহীদদের সম্মান করে পুষ্প স্থাপন করে সেলফি তুলে বাঙলা ভাষার চেতনা জাগ্রত করে ফিরে যায়।
আর এক গাঁজাখোর বেদির সামনে পাগলামি করায় পুলিশ বাহিনী তাকে পিটিয়ে পাবনায় চালান করে দেয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now