বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-চারুলতা তোমার চোখটা যে অনেক সুন্দর এটা কি
তুমি জানো ?
-আবার পাম মারা শুরু করলেন ?
-কেন পাম মারবো ? যেটা সত্যি সেটাই বলেছি ।
-চোখের নীচে কালো হয়ে গিয়েছে আর আপনি এগুলো
বলছেন পাম না তো কি ?
বিষয়টা আমি আর বেশীদূর নিতে চাইলাম না বেশী
দূর এগোলে বেশী কিছু হবে । আর বেশীকিছু আমার
একদম অপছন্দ । অভ্যাসটা অবশ্য ইদানিংকালে
হয়েছে । আগে বেশী সবকিছুই বেশী ভালো লাগতো ।
.
এরপর একটু গম্ভীরভাব আসে সময়ে । বাইরে
তাকিয়ে দেখি বৃষ্টি হচ্ছে অঝর ধারায় ।
গম্ভীরভাবটা কাটাতে বলে ফেলি বর্ষা পেরিয়ে যায়
চারু চলো একসাথে ভিজি ।
আমার একথা শোনার পর বোধহয় চারু আকাশের
চাঁদ হাতে পেলো তা মুখ দেখেই বুঝা যায় ।
আমার হাত ধরে টানতে টানতে ছাদে নিয়ে গিয়ে হাত
দুটো মেলে দিলো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে । মুখে
লেগে আছে একপশলা হাসি ।
আমিও চাই চারু ঠিক এরকম হাসি খুশী থাকুক । তবে
খুশীর চেয়ে যদি ক্ষতিটা বেশী হয় তখন খুশীটাকে
পরিহার করা উত্তম । এতোদিন ঠিক সেটাই করে
এসেছি । বৃষ্টিতে ভিজতে দেই না । বৃষ্টিতে ভিজলে
চারুর ঠান্ডা লাগে আর তাতে হাসিখুশী মুখটাতে নেমে
আসে অন্ধকার । আমি চারুর অন্ধকারচ্ছন্ন মুখটা
দেখতে পারি না । অন্ধকারে ওর ঘুমন্ত অবস্থায়
হাসি মুখটা অনেক প্রিয় । আর অসুস্থ ভার মুখটা
দেখে দয়া হয় । ভয় ও হয় অচেনা ভয় । জানি সেই
ভয়টা কি প্রকাশ করতে দেই না মাটি চাপা দিয়ে
রাখি থাক মাটির নীচেই চিরকাল আমার আর চারুর
মধ্যে ভুলেও বাগড়া দিস না । কিন্তু উপরওয়ালার
নিয়ম মেনে চলতে হয় মানতে বাধ্য । আমরা
অসহায় ।
.
প্রতিদিন বৃষ্টি নামলে নিয়মকরে বৃষ্টি ভেজার
আবদারটা দুরে ঠেলে দেই । এতে চারুর কখনো একটু
মন খারাপ হয় কখনো আবার রাগ হয় তবে সেগুলো
মুখে অন্ধকার নামার চেয়ে অনেক ভালো ।
তবে একটা কথা যে প্রিয় মানুষটার আবদার আপনি
পূরণ করতে পিছপা হলে আপনি প্রিয় মানুষটা
থেকেই পিছপা হচ্ছেন ।
কয়েকদিন পর তো একবারেই পিছপা হতে হবে ।
তখন ? কষ্ট হয় একরকম কুড়ে কুড়ে খাওয়ার কষ্ট
। জানি এ কষ্ট আমায় বাঁচতে দিবে না আস্তে
আস্তে ফেলে দিবে জাহান্নামে । আসলে আমি কি
এখন পৃথিবীতে আছি ? আছি বোধহয় খানিক
সময়ের জন্য যতক্ষণ এই সুন্দর হাসি মুখটা আমার
সামনে আছে ।
.
বৃষ্টিতে ভেজা হয়ে গেলে আমি রুমে চলে যাই ।
কিছুক্ষণবাদে রুম থেকে বাইরে এসে খিচুড়ির গন্ধ
পাই ।এইতো একবছর আগেও বৃষ্টির দিনে চারুকে
হাতে পায়ে ধরেও খিঁচুড়ি রান্না করাইতে পারতাম না
। সব কথার এককথা বলতো সে খিঁচুড়ি টিচুড়ি রান্না
পারে না ! শেষ পর্যন্ত আমি খিঁচুড়ি টাইপ কিছু
রান্না করতাম আর চারু খেতে বসে বমি করার ভান
করতো । দিনগুলো কত তারাতারি অতীত হয়ে যায় ।
.
খাবার টেবিলে বসতেই চারুর হাতের খিচুড়ি এসে
হাজির । প্লেটে বেড়ে দিয়ে চারু অন্য মুখ হয় ।
আমি বুঝতে পারি না কোন কিছু । জেদ ধরে বসি
আমার পাশের চেয়ারে বসে খাইয়ে না দিলে খাবো না
। চারু জেদের বসে কান্না ভেজা চোখ নিয়ে আমার
দিক ফিরে চায় । আমার পাশের চেয়ারে বসে অমৃত
খিচুড়ি খাইয়ে দিতে থাকে । দুচার গাল চোখ বন্ধ
করে অমৃতের স্বাদ নেওয়ার পর চারুর দিকে তাকিয়ে
দেখি চারু অঝর ধারায় কাঁদছে । দুর্ভাগ্য বশত
আমি এই কান্নার পেছনের গল্প জানি । কিন্তু
লিখবো না কারণ দুজনের মাঝে এমন কিছু কথা থাকে
যা দশকান করতে নেই ।
.
আমি চারুর খাবার মাখা হাতটা ধরে বলি -
- চারুলতা বৃষ্টিতে ভিজতে চাও ?
- চিরজীবন(চারু)
- চিরজীবন নয় ঐটা হবে চিরকাল । তুমি স্বর্গে
যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যে আমিও স্বর্গে চলে
আসবো এরপর দুজনে সেখানে চিরকাল বৃষ্টিতে
ভিজবো আর তোমার হাতের খিঁচুড়ি খাবো কেমন ?
আর হ্যাঁ শুনেছি স্বর্গে সবকিছু বেশী সুন্দর হয়
তার মানে তুমি আরো বেশী সুন্দর হবে,তোমার
হাতের খিঁচুড়ি আরো বেশী সুস্বাদু হবে, তোমার
আমার বৃষ্টি ভেজা মুহূর্তগুলো আরো বেশী সুন্দর
হবে আর তখন তোমার বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডাও
লাগবে না !
একনিশ্বাসে কথাগুলো বলি আমি । ভেতর থেকে
খোঁচা অনুভব করি । অনুভব করি ভেতরটা বোধহয়
ভেঙ্গে পরছে ।সামলে নেই নিজেকে সামনের
মানুষটার জন্য । কারণ আমি ভেঙ্গে পরলে চারুকে
আরো দ্রুত হারাতে হবে । আমি সেটা কোন কালেই
চাই না ।
.
কথাগুলো বলার পর সামনে চারুর দিকে তাকিয়ে দেখি
চারুর মুখে একপশলা নিরেট হাসি । আহা এই হাসির
জন্য আমি সবকিছুই করতে পারি । তবে চারুর
চোখটা লাল হয়ে যাচ্ছে । তাই আর দেরি না করে
ডাক্তারের কাছে ছুটলাম ঔষাধের আনতে । অসুখ
যেন সুন্দর মুহুর্তগুলোতে বাগড়া দিতে না পারে সেই
জন্য ।
লেখক:- অলিভার কুইন(শুভ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now