বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিয়ের সময় শুনেছি আমার বর লন্ডন থাকে, তার নাকি বাংলাদেশ একদম পছন্দ না, আবার শুনেছি বিয়ের পর আমাকে নিয়ে লন্ডনে চলে যাবে কিন্তু বিয়ের পর লন্ডন থাক দূরের কথা আজ পর্যন্ত শিশু পার্কেও নিয়ে যায়নি। বিয়ের দুই মাস চলছে এখন, একদিন রাতে বরের বুকে মাথা রেখে খুব যত্ন করে বললাম,
- আমার ইচ্ছের কোন দাম কি তোমার কাছে নেই?
- কি যে বলো!! থাকবে না কেন? অবশ্যই আছে..
- তাহলে কথা দাও, আমি যা বলবো তুমি তা শুনবে...
- আচ্ছা কথা দিলাম, বলো
- আমায় নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে যাবে?
বর আমার কথা শুনে রোবটের মতো উঠে বসে, আমিও উঠে বসলাম, বর খুব হতাশা নিয়ে বললো,
- কি দরকার ছিলো এত রাতে আমার সাথে মজা করার?
- মজা? মজা কোথায় করলাম!
- তুমি আমার বউ হয়ে এই কথা বলতে পারলে?
- কোন কথা?
- কক্সবাজার? তোমার মনে হয় আমি তোমাকে কক্সবাজার নিয়ে যাবো?
- নেবে না?
- না নেবো না! এই সামান্য পুকুরের সমান একটা সমুদ্র দেখাতে আমি তোমাকে কষ্ট দিয়ে নেবো না, তুমি আমার বউ কিন্তু তোমার নজর এত নিচে কেন বুঝি না!!
বরের কথা শুনে আমি থেমে গেলাম, কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না, কিছু না বলে শুয়ে পড়লাম, বরও শুয়ে পড়েছে। সকাল হতেই বর প্রতিদিনের মতো গোসল করে রেডি হচ্ছে, আমি অবাক হয়ে বললাম-
- কোথায় যাচ্ছো?
- অফিসে...
- অফিসে!!
- হ্যাঁ।
- আজ তো শুক্রবার!
- ওহহ নো!! দেখেছো একদম ভুলে গিয়েছি!
- রেডি যখন হয়েছো তখন থাক।
- কেন?
- আমার মামাতো বোনের শশুড় বাড়ি যাবো, বেশি দূরে না কাছেই...
আমার কথা শুনে ওর মুখ শুকিয়ে এলো তবুও না করলো না, আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। রিকশা ধরে বোনের শশুড় বাড়ির সামনে নেমে বরকে বললাম-
- তুমি কিছু নিলে না?
- কি নেবো?
- কিছু ফল, একটু মিষ্টি...
- তোমার কখনো কি কমনসেন্স হবে না?
- কেন?
- বাড়িতে থাকে তো তোমার মামাতো বোন,বোনের জামাই আর শশুড়, নিশ্চিয় শশুড় মিষ্টি খায় না ডায়াবেটিকসের জন্য আর ওরা দুজন হানিমুন করবে নাকি বসে বসে মিষ্টি খাবে?
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম, এ কেমন মানুষ? এর মধ্যে আমার মামাতো বোন নিচে নেমে আসে, ওর সামনে আর কিছু বলতে না পেরে ভেতরে গেলাম, আমার বর খুব মন খারাপ করে বসে আছে, বোন জিজ্ঞেস করলো,
- দুলাভাই আপনার মন খারাপ কেন?
- আর বলো না শালিকা! তোমাদের এলাকা এত খারাপ আগে জানলে আসতাম না!
- কেন? কি হয়েছে?
- এমনিতে আমি কখনো গাড়ি ছাড়া চলতে পারি না তার উপর তোমাদের এই এলাকায় বড় গাড়ি ডুকে না, তোমার বোনের কথা ভেবে রিকশায় করে আসলাম কিন্তু গলির মোড় থেকে কারা যেনো আমার হাত থেকে মিষ্টি আর ফলমূল নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেছে, এভাবে খালি হাতে আসতে হয়েছে ভেবে খুব খারাপ লাগছে!
ওর কথা শুনে আমার দৃষ্টি ঠান্ডা হয়ে গেলো! এত বড় চাপাবাজি? মানুষ তাহলে ঠিকি বলে আমার বর আসলেই একটা চাপাবাজ!
মামাতো বোন লাঞ্চের ব্যবস্থা করলো, আমরা তিনজন খেতে বসেছি, মামাতো বোনের জামাই ব্যবসার কাছে বাহিরে গিয়েছে, ওর শশুড় গ্রামে বেড়াতে গেছে, খাবার খেতে খেতে আমার বর বলে উঠলো,
- বুঝলে শালি? তোমাদের এমন আমারও তিনটা বাড়ি আছে, বড়সড় বাড়ি আমার পছন্দ না তাই ওমন ছোট বাড়িতে থাকি।
ওর কথা শুনে আমি এক গ্লাস পানি খেলাম!
ও থেমে নেই, ও আবারও বললো,
- এই যে তুমি এত রান্না করেছো এতে আমি খুশি হইনি শালিকা...
- কেন দুলাভাই? রান্না ভালো হয়নি?
- না রান্না একদম ঠিক আছে কিন্তু প্রতিদিন একই খাবার খেতে কারই বা ভালো লাগে বলো? ভিন্ন কিছু হলে তৃপ্তি করে খেতাম..
মনে মনে বললাম, "নিজের মুরোদ নেই এক কেজি তেলাপিয়া মাছ কিনার আবার এত বড়বড় কথা বলছে!"
বিকেল হতেই বাড়ি ফিরে আসলাম, বাড়ি ফেরার পর থেকে আমার বর বিছানার সাথে লেপটে আছে, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম,
- কি গো? তোমার আবার কি হলো?
- আহহহ তোমার বোন আজ যা খাওয়ালো না! বাপ দাদার জন্মে এমন খাবার খাইনি...
মনে মনে বললাম, "খাবি কীভাবে? দেখেছিলি কখন?"
আমি একটু মুখ আটকে হেসে বললাম,
- তোমার শরীর ঠিক আছে তো?
- হ্যাঁ হ্যাঁ, শরীর একদম ঠিক আছে, বুঝলে বউ,মনে হচ্ছে কয়েকদিন না খেলেও চলবে।
- এত খেয়েছো?
- আর বলো না, এত ভালো ভালো খাবার দেখে মাথা একদম ঠিক ছিলো না।
- তাহলে তুমি বললে কেন, প্রতিদিন একই খাবার খেতে তোমার ভালো লাগে না?
- আরে বউ বুঝলে না তুমি! এইটুকু যদি না বলি তবে কি মানসন্মান কিছু থাকবে?
ওর কথা শুনে দ্রুত আমি রুম ত্যাগ করলাম, ওর কিছু না হলেও ওর চাপাবাজিতে আমার কান ফেঁটে যাবে, শ্বাশুড়ি আম্মার সাথে বেশ কিছুক্ষণ গল্পসল্প করে রুমে এসে দেখি ও নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে, বিয়ের পর এই প্রথম দেখলাম ও এত জোরে জোরে নাক ডাকছে, মৃদু কণ্ঠে শ্বাশুড়ি আম্মা বললেন,
- ও হয়েছে ওর বাবার মতো, মন মতো ভালো খাবার পেটে পড়লে নাক ডেকে ঘুমায়।
মাথায় কাপড় টেনে বললাম,
- আম্মা আপনি!
- পানি নিতে এসেছিলাম, ওর নাক ডাকার শব্দে রুমে আসলাম...
আম্মা চলে গেলেন, এবার মহাবিপদ আমার! একটা মানুষ এত নাক ডাকলে পাশে আরেকজন মানুষ ঘুমায় কীভাবে!! কানের উপর বালিশ চেপে ধরে কোনরকম রাত পার করে দিলাম।
সকালে উঠে দেখি ও এখনো ঘুমাচ্ছে, বিয়ের পর এটা প্রথম আমি ওর আগে ঘুম থেকে উঠেছি, আমি ওর মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম, মানুষটা যতই চাপাবাজ হোক না কেন অদ্ভুত ধরনের একটা মায়া আছে তার ভেতরে, এই নিষ্পাপ মুখের দিকে যে তাকাবে সে তার মায়ায় পড়তে বাধ্য, তার কপালে ছোট করে একটা চুমু খেয়ে আমি রান্না ঘরে গেলাম, আম্মাও উঠেছেন, আম্মা ওনার ছেলেকে দেখতে না পেয়ে বললেন,
- উঠেনি তাই না?
- জ্বি না আম্মা..
- আজ অফিসেও যাবে না দেখো।।
- কেন আম্মা? কেন যাবে না?
- ওই যে বাপের স্বভাব ধরে রেখেছে।
আম্মার কথা শুনে আমি দ্রুত রুমে গিয়ে ওকে ডাকাডাকি শুরু করি, ও গায়ে কাঁথা টেনে বলে,
- আজ অফিসে যাবো না...
- কেন? কেন?
- ভালোমন্দ খেয়ে শরীর দূর্বল লাগছে।
আমি হা হয়ে ওর কথা শুনলাম।
কেমন মানুষের পাল্লায় পড়লাম কে জানে!
ওর এসব মেনে নেওয়া যায় না তাই মনে মনে একটা প্ল্যানিং করলাম, শ্বাশড়ী আম্মাকে পটিয়ে ওকে নিয়ে আমি আমার গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসলাম, সব জায়গায় একই অভ্যাস চাপাবাজি!! একদিন বিকেলে আমি ওকে নিয়ে গ্রামে ঘুরতে বেরিয়েছি, কিছুটা পথ হাঁটার পর আমার কলেজের কয়েকজন ছেলে বন্ধুর সাথে দেখা, ও আমার বন্ধুদের সাথে ভাব বিনিময় করে, বন্ধুদের সাথে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে ও বলে,
- বুঝলে তোমরা? শহরে আমার অনেক বড় বড় অফিস আছে, সেই অফিস থেকে এক দিনে ইনকাম হয় দুই কোটি টাকার উপরে, তোমাদের বন্ধু মানে আমার বউ তো টাকার উপর শুয়ে থাকে সব সময়, তোমাদের কারো যদি চাকুরী দরকার হয় তবে বড় ভাই হিসেবে আমাকে বলবে, আমি নিজের অফিসে তোমাদের চাকুরী দেবো...
ওর কথা শুনে আমি পাথর হয়ে যাচ্ছিলাম, দ্রুত ওকে নিয়ে সেখান থেকে চলে এলাম, নদীর পাড়ে বসে কিছুক্ষণ গল্প করার পর ও বললো,
- বুঝলে বউ, গ্রাম আসলেই অনেক সুন্দর, ভাবছি মা আর তোমাকে নিয়ে গ্রামে চলে আসবো।
- ওসব থাক এখন! তুমি থাকো, আমি যাচ্ছি...
- হ্যাঁ বউ তুমি বাড়ি যাও আমি দোকান এক কাপ চা খেয়ে আসছি...
- তাড়াতাড়ি এসো কিন্তু!
বরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি চলে আসলাম। রাত প্রায় দশ'টা, ও এখনো বাড়ি ফিরেনি, আমি অনেকবার কল করলাম কিন্তু ফোন বন্ধ, দ্রুত বাড়ির সবাইকে কথাটা বললাম, সবাই বসে বসে চিন্তা করছে, তখন রাত প্রায় বারো'টা, বরের ফোন থেকে ফোন আসে, রিসিভ করার পর বর বললো,
- বউ! বউ গো আমাকে বাঁচাও, আমি কিডন্যাপ হয়েছি...
- কি বলছো! কারা ওরা?
- জানি না! মুখে কাপড় বাঁধা, ওরা বলেছে এক কোটি টাকা দিলে আমাকে ছেড়ে দেবে, বউ এত টাকা আমার বাপদাদাও চোখে দেখেনি, আমি এত টাকা কোথায় পাবো? আমাকে বাঁচাও বউ!
বরের কান্না শুনে খুব খারাপ লাগছে, নিশ্চিয় খুব ভয় পেয়েছে কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবো?
সবাই মাথায় হাত দিয়ে বসে আছি, তখন রাত প্রায় দুই'টা, হুন্ডার শব্দে সবাই বাহিরে দৌড়ে এসে দেখলাম দু'জন লোক আমার বরকে ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছে, তাদের দৌড়ে ধরতে পারেনি কেউ, বর কে ঘরে এনে পানি খাওয়ালাম, বর প্রচুর ভয় পেয়ে আছে, চোখ মুখ শুকিয়ে শুটকি লেগে গেছে, ও আরো দুই গ্লাস পানি খেলো, আমি একটু আড়ালে গিয়ে কিডন্যাপার কে কল করে বললাম,
- বন্ধু তোর দুলাভাইর অবস্থা খারাপ, এবার মনে হয় চাপাবাজি ছাড়বে।
- কি হয় জানাইস!
বন্ধুর ফোন কেটে বরের পাশে আসলাম, এসে দেখি ও আমার বাবাকে বলছে,
- আর বলবেন না বাবা, ওরা কিডন্যাপার নাকি নিজের ভাই ঠিক বুঝলাম না।
বাবা বললো,
- কেন বাবা? কি করেছে ওরা?
- আমি কোটিপতি ভেবে আমাকে তুলে নিয়ে গেছে, ওরা আমার কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছে, আমি দুই কোটি টাকার একটা চেক দিয়ে এসেছি, তারপর আর কি বলবো বাবা! ওরা আমাকে মাছ,মাংস,বিরিয়ানি খাইয়ে বুকে টেনে নিয়েছে....
আমার মাথা ভ্রমরের মতো ঘুরে উঠেছে!
এ মানুষ কখনো পরিবর্তন হওয়ার মতো না।
ওর এসব কথা শুনে আমি বেশিক্ষণ জ্ঞান ধরে রাখতে পারিনি, আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now