বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চাঁদের আলোয় চিকচিক করে ওঠে ওর চোখের জল
– এইই , তুমি কোথায়?
– ঘুমাই!
– এই বিকেলে! প্লিজ বাইরে আসোনা একটু! (কাঁদো কাঁদো সুরে)
.
অর্থীর কান্নাভেজা সুর শুনে শুভ্র অবাক হয়ে যায়। হলো কি মেয়েটার! অবাক সুরে জিজ্ঞেস করে-
– কি হইছে অর্থী?
– অনেক কিছু! ফোনে বলা যাবেনা। প্লিজ আসবা?
– হুম, বেরুচ্ছি এখন, কোথায় আসবো?
– বেইলী রোডে আসো
– হুম, আসছি
.
অর্থীর মনটা খুব খারাপ আজ। প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে ওর। শুভ্রকে বিষয়টা কিভাবে বলবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে রিকশা নিয়ে বেইলী রোড চলে এলো ও। এসে দেখে শুভ্র চলে এসেছে। অর্থিকে দেখে অবাক হয় শুভ্র।
.
গাল দুটো লাল হয়ে আছে মেয়েটার। চোখে কান্না কান্না ভাব। মনে হচ্ছে যেন, এখখুনি কান্না করে দিবে। মুচকি হেসে শুভ্র জিজ্ঞেস করে –
– কি হইছে বাবুটার?
– কিছুনা
– তাইলে কান্না করো কেন?
– কইই?
– আমাকে বলবানা?
.
এবার অর্থি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না। হু হু করে কান্না করে দিলো শুভ্রর হাত ধরে। অর্থির অবনত চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রুর দিকে শুভ্র তাকিয়ে থাকে অবাক চোখে ।
.অর্থি বাম হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে বলে –
– কি হইছে জানো?
– হুম?
– আব্বু আমাকে বিয়ে দিয়ে দিবে বলসে!
.
এই বলে অর্থি ঠোঁট উল্টিয়ে কেঁদে দিলো। অর্থির বাচ্চাদের মত কান্না করা দেখে শুভ্র হেসে বলে –
– ওয়াও! দারুণ নিউজ। ছেলে কি করে?
.
অর্থি চোখ তুলে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
– কি বললা?
– ইয়ে মানে, ছেলে কি করে? নাম কি?
.
অর্থি অবাক হয় ভীষণ। কান্না থামিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে জিজ্ঞেস করলো,
– তার মানে, তোমার কিছু যায় আসে না এতে!
– মোটেও না, হুহ!
– কি!
– কি?
– তুমি আমাকে বিয়ে করবানা?
– তোমার না বিয়ে হয়ে যাচ্ছে? তো কিভাবে করবো? আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না!
.
একথা শুনে অর্থির চোখ ভরে কান্না এলো ভীষণ। যে মানুষটাকে ও এতো বিশ্বাস করতো, সে ই আজ ওকে রেখে চলে যাচ্ছে এমন করে! অর্থি আর ভাবতে পারছে না কিছু! পাশে রাখা ব্যাগটা তুলে নিয়ে বেঞ্চ থেকে উঠে যায়। শুভ্র অর্থির হাত ধরে আলতো করে, কিন্তু অর্থি এক ঝটকায় হাত টা ছাড়িয়ে নিয়ে হাঁটতে শুরু করে। অর্থির মুখ বেয়ে নামা অঝোর কান্না শুভ্র দেখতে পায় না। অর্থি হেঁটে চলে একা, ভীষণ একা নীল আকাশটার সাথে। আর শুভ্র পিছনে বসে হাসছে!
.
অর্থি বাসায় চলে আসে। কাউকে কিছু না বলে নিজের রুমে এসে হু হু করে ভীষণ করে কেঁদে দেয় অর্থি। ও শুভ্রকে ছাড়া থাকবে কি করে, এটা ভেবেই নিজেকে আর আটকে রাখতে পারছে না। ভীষণ একা বোধ করছে আজ ও! শুভ্র ওর সাথে এমন করতে পারলো!
.
এর ফাঁকে কখন যে অর্থির ছোটবোন ফারিহা পাশে এসে দাড়িয়েছে , টেরই পায়নি অর্থি। ফারিহা জিজ্ঞেস করে,
– কাঁদছিস কেন আপু?
অর্থি তড়িঘড়ি করে চোখ মুছে বলে,
– কই, কে কাঁদছে! যা এখান থেকে!
– হুহ!
– যা বলছি!
– যাচ্ছি যাচ্ছি! ও, তোমার সাথে যার বিয়ে ওর ছবিটা তোমাকে দিতে বললো মা। এই নাও।
.
এই বলে ফারিহা ছবিটা অর্থির বালিশের পাশে রেখে চলে যায়। ওটার দিকে না তাকিয়ে অর্থি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে শোয়। লোকটার ওপর ভীষণ রাগ হচ্ছে ওর! শুভ্রর কথা মনে করে আবার কান্না চলে আসে অর্থির।
.
কিছুক্ষণ পর, কি মনে করে উলটো করা ছবিটা হাতে নেয় অর্থি। ভীষণ রাগে দুহাত দিয়ে ছবিটা দুমড়ে মুচড়ে ফেলে সে। তারপর কি মনে করে ছবিটা আবার ভাঁজ করে ওটায় হাসি হাসি মুখ করে থাকা ছেলেটার দিকে চেয়ে অর্থি অবাক হয়ভীষণ ! এটা যে শুভ্রর ছবি! অর্থি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছে না! এসব তাহলে শুভ্রর কান্ড!
.
ভীষণ অভিমানে চোখ ভরে প্রচন্ড কান্না চলে আসে অর্থির! বুকের ভিতরের হু হু চাপা ব্যাথাটা নেই আর! বরং চোখ বেয়ে নেমে আসে প্রচন্ড কান্নার অশ্রু! জানালার ফাঁক গলে আসা চাঁদের আলোয় চিকচিক করে ওঠে ওর চোখের জল।
.
হঠাৎ , ফোনটা ভীষণ করে বেজে উঠে অর্থির! শুভ্রর ফোন! উহু, অর্থি আজ আর ওর ফোন রিসিভ করবে না! আজ ভীষণ কান্না করবে ও! বাইরে তখন অঝোর বৃষ্টি! বৃষ্টির শব্দের সাথে অর্থির হু হু করে কান্নার আওয়াজ মিলিয়ে যাচ্ছে ওই দূরে!
.
প্রচন্ড জোরে বৃষ্টি পড়ুক আজ! ভিজিয়ে যাক সবকিছু, সিক্ত করে যাক সব অনুভূতিগুলো! পবিত্র ভালোবাসাময় হোক এই পৃথিবীটা!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now