বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
যতবার চায়ে একটা চুমুক দিচ্ছে ততবারই চশমাটা ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে আদিবার।তারপর চোখের সাজও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।ওকে পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছে বলেই সাজগোজ করা।প্রতি আধঘন্টায় একবার চা না খেলে ওর আবার শরীর মন দুটোই কাজ করা বন্ধ করে দেয়।চা বেশি খায় বলে বন্ধুরা ওকে আদিবা না ডেকে ডাকে চাদিবা।কোনো পাত্রপক্ষের সামনে এবার প্রথমবারের যাওয়া আদিবার,আবার ভারী সাজগোজ করার অভ্যেস নেই,সবমিলিয়ে ও খুব নার্ভাস।মা এসে ডাক দিলে চা'টা কোনোমতে গিলে চশমাটা মুছে বসার ঘরে গেল সে।সুন্দর করে বলল,
"আসসালামুআলাইকুম"
পাত্রের মা উত্তর দিলেন,
"ওয়ালাইকুমুসসালাম মা,বসো"
আদিবা বাধ্য মেয়ের মত বসে পড়লো।পাত্রকে ছবিতে দেখেছে আদিবা,হালকা চাপ দাঁড়ি,মাথায় কোঁকড়া চুল।কোঁকড়া চুলের প্রতি আলাদাই এক ভাললাগা আছে আদিবার।আজ পাত্র আসে নি,শুধু পাত্রের মা,বাবা,ছোট বোন আর খালা এসেছেন।মুখ টিপে একটু হেসে মাথা নিচু করে বসে থাকলো সে।পাত্রের মা জিজ্ঞেস করলো,
"কেমন আছো মা?"
"আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি..."
"মা তুমি রান্না পারো?"
আদিবা মিষ্টি করে হেসে বললো,
"জ্বি পারি"
"কি কি পারো?"
"লাল চা,আদা চা,দুধ চা,মশলা চা,অপরাজিতা চা,সাতরঙা চা,কোল্ড টি,গ্রিন টি..."
"থামো মা থামো,চা ছাড়া আর কিছু পারো?"
"জ্বি না"
তারপর আদিবাকে চায়ের দিকে থাকতে দেখে পাত্রের খালা বলল,
"তুমি কি কিছু বলবে মা?
"জি আপনি চা টা না খেলে আমি আপনার টা খেতে পারি,ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো.. "
পাত্রের বোন তো কথা শুনে শব্দ করে হেসে ফেলল,আর পাত্রের মা কোনোমতে হাসি চেপে বলল,
"হ্যা মা,তুমি খাও সমস্যা নেই"
আদিবা সত্যি সত্যি চা নিয়ে খেতে শুরু করলো।
আদিবার মা থতমত খেয়ে গেলেন,উনি ভাবলেন যাহ,এত ভাল পাত্র হাতছাড়া হয়ে গেল।ছেলেপক্ষ চুপচাপ হয়ে গেল,কিছুক্ষণ পর আদিবার মা বাবার সাথে টুকটাক কথা বলে পরে ফোনে জানিয়ে দেব বলে চলে গেল।আদিবার মা রেগে মেয়েকে বেশ খানিক বকা দিলেন,এভাবে কেও চা চা করে নাকি পাত্রপক্ষের সামনে।আদিবার মনটাই খারাপ হয়ে গেল,ছেলেটাকে ভাল লেগেছিল ওর।মন খারাপ থাকলে আদিবা মশলা চা খায়,তখন একটু শান্তি পায়।বসার ঘর থেকে সোজা রান্নাঘরে গিয়ে চা বানিয়ে ঘরে গিয়ে দরজা আটকে দিল।চা খাওয়ার পর শুয়ে থাকতে থাকতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে টেরই পায় নি।দরজায় বারবার শব্দ হওয়ায় সে জেগে গেল,দেখে সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে। দরজা খুলে দেখে মা,বাবা আর ছোট ভাই খুব উত্তেজিত, কিছু একটা বলতে চাচ্ছে।তার চেয়েও অবাক ব্যাপার মায়ের হাতে চায়ের কাপ,মা চায়ের কাপ আদিবার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
"নে চা খা,খুশির খবর আছে"
আদিবা নির্লিপ্তে একটা চুমুক দিয়ে বললো,
"চিনি বেশি হয়েছে,কিসের খুশির খবর বলো"
"পাত্রপক্ষ রাজি হয়েছে,তোর ছবি দেখে সায়ন বলেছে সে রাজি,তাই ওর বাড়ির সবাই ও রাজি..."
আদিবা ভাবতেই পারেনি আজ যা হয়েছে তারপর বিয়েটা হবে,খুশিতে গদগদ হয়ে গেলেও বাইরে প্রকাশ না করে আবার ঘরে ঢুকে গেল।তাড়াতাড়ি এই চা টা শেষ করে আবার দুধ চা আদা দিয়ে বানাতে হবে,অতিরিক্ত খুশি হলে আদিবা আদা দিতে দুধ চা খায়!
পনের দিনের মধ্যে আদিবার বিয়ে হয়ে গেল,এর মাঝে একবারও সায়নের সাথে ওর দেখা বা কথা হয়নি।বিয়ে বাড়ির শোরগোলে দিনে মাত্র সাতবার চা খেতে পেরেছে সে,বিদায় নেবার সময় সবাইকে ছেড়ে যাচ্ছে এই দুঃখের সাথে চায়ের জন্যও মন কেমন করতে লাগলো।এজন্য পাশে বরের দিকে ভাল করে তাকিয়ে দেখা পর্যন্ত হয়নি।এদিকে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে সোজা একটা ঘরে ঢুকিয়ে নিয়ে সবাই বসে আছে।কাওকে যে বলবে আমাকে একটু চা দিন তারও উপায় নেই।রাত বাড়ছে আর আদিবার চায়ের তৃষ্ণা বেড়েই চলছে।ঘরে সবাই কত রকম কথা বলছে সব যেন মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।তারপর ওকে বাসর ঘরে দিয়ে যে যার যার মত চলে গেল।আদিবার তো কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে,কখনও এতোক্ষন চা না খেয়ে থাকেনি।কিছুক্ষণ পর সায়ন ঘরে ঢুকলো,হাল্কা কেশে আদিবার পাশে এসে বসে বলল,
"আমার নামতো তুমি জানোই,সায়ন"
"হুম"
"মা যেদিন এসে বললো মেয়ে হাজার রকম চা ছাড়া আর কিছুই বানাতে পারে না তখন তোমার ছবি না দেখেই হ্যা বলে দিয়েছিলাম,পরে ছবি দেখে তো ডাবল প্রেমে পড়ে গেছি"
আদিবা অবাক হয়ে সায়নের দিকে তাকিয়ে বলল,
"ডাবল প্রেমে?!"
"হু,এত রকম চা বানাতে শুনে প্রথম বার প্রেমে পড়েছি,আসোলে আমি খুব চা খোর কিনা!"
আদিবা ফিক করে হেসে দিলো,এমনটা হবে ও কল্পনাও করে নি।
সায়ন আবার বললো,
"আজ মাত্র সাত কাপ চা জুটেছে কপালে বুঝলে,আমার খুব ইচ্ছা ছিল বউকে নিয়ে বাসর রাতে চাদঁ দেখতে দেখতে চা খাবো,দেখো বড় জানালা দিয়ে চাঁদ দেখা যায়"
আদিবা বিছানা থেকে নেমে হেসে বলল,
"রান্নাঘরটা কোনদিকে বলুন তো,দু কাপ লাল চা বানিয়ে আনি,খুশিতে আত্নহারা হলে কড়া চিনি দিয়ে লাল চা খেতে হয়"
#_লাবণ্য
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now