বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অবশেষে পরিবারের চাপাচাপিতে বিয়ে তে রাজি হয়ে গেলাম।ইচ্ছা না থাকলে ও মাটি চাপা দিতে হলো নিজের ভালোবাসা কে।
কি আর করার বাবা -মা কে তো আর পর করে দিতে পারবোনা।আর বাবা মায়েরা কখনই সন্তানের খারাপ চান না,তাই অনেক ভেবে চিন্তে বাবা-মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করার জন্যই মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
-
আজকে আমার বিয়ে।
যদি ও ইচ্ছের বাহিরেই বিয়েটা করেছি,তবুও বউকে কষ্ট দেওয়ার একদমই ইচ্ছে নাই।কারন সে বেচারি ও তো আমার জন্যই তার আপন জন দের ছেড়ে আসবে।আর তার ও তো কোন দোষ নাই।কিভাবে তারে কষ্ট দেই।সেজন্যই অনেক ভেবে চিন্তে নিজের ভালোবাসা টা কেই নিজের বুকে কবর দিয়ে,শিখা কে নিয়ে সুখের সংসার করার স্বপ্ন দেখছি।শিখা আমার বউয়ের নাম।
-
বিয়েটা ভালো ভাবেই সম্পূর্ন হলো।
ভাবি- আপুরা জোর করেই বাসর ঘরে ডুকিয়ে দিলো।
ডুকতেই নজর গেলো বউয়ের দিকে।
হেব্বি সুন্দরী আমার বউটা।কাছে গিয়ে বসে শিখা কে মন ভরে দেখছিলাম।আল্লাহ যেন নিজের হাতে যত্ন করে বানিয়েছে তারে।
কেমন জানি মায়া অনুভব হচ্ছিলো শিখার প্রতি।মনে হচ্ছিল দুজন দুজন কে অনন্ত কাল ধরেই চিনি।
এইটাই কি তবে আল্লাহর প্রবিএ বাধঁন??শুধুমাএ বিয়ে নামক শব্দটার ফলেই দুজন অচেনা অজানা মানুষ সারাজীবনের মতো এক সাথে থাকার স্বপ্ন দেখে??
তবে কি সেজন্যই শিখার জন্য আমার মনে এত ভালোবাসা কাজ করছে মনে মনে??
নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছি।
হঠাৎই শিখার ডাকে বাস্তবে ফিরলাম।
কি এমন করে দেখছেন আপনি??
আমি বললাম,হুমমমম??
কই নাতো।
এই যে,মিঃ খোকা মিথ্যা কেন বলছেন??
জ্বি না ম্যাডাম শিখা, আমি খোকা নই আমার নাম বাবু।
বুঝলেন আপনি??
জ্বি মিঃ বাবু।
তবে মন টা ও বাবুর মতোই,নাকি বেজাল আছে??
আমি চেচিঁয়ে বলে উঠলাম কখনই না।একদম নিষ্পাপ মন।
কথাটা শুনেই হেসে ফেললো।
এত হাসছিল, কি বলবো।
আমি শুধু তাকিয়ে দেখছিলাম।
পরে অনেক কথাবার্তা গল্প গুজবের পর মনে হচ্ছিল শিখা ও হয়তো আমাকে পেয়ে অনেক খুশি।
তাই শিখার অনেক কথাই মেনে নিচ্ছিলাম।
হঠাৎ শিখা আমাকে জিঙ্গাসা করলো কোরআন শরীফ আছে তোমাদের ঘরে??
আমি বললাম হুম,কেন তুমি পড়বা??
ও বলল,যাই করি।তুমি নিয়ে এসো যাও।
আমি কুরআন টা আনতেই শিখা আমাকে বলল,আজকে আমাকে একটা কথা দিবে এই কুরআন টা ছুঁয়ে??
বিশ্বাস করো তেমন কিছুই চাইবোনা।
তখন এমন একটা পরিস্থিতিতে ছিলাম।না পারছিলাম শিখার কথা শুনতে না পারছিলাম নিজের মনের কথাটা শুনতে।
কিন্তু কি আর করার শিখার চাপাচাপি তে কুরআন টা তে হাত রেখে কথা দিলাম।শিখা আজকে যা চাইবে তাই দিবো।
শিখা ও তার সুযোগ টা একদমই হাত ছাড়া করলো না।এমন কিছু চাইলো,যা দেওয়ার মতো সামর্থ থাকলেও মন সায় দিচ্ছিলো না।
শিখা আমাকে বলল,সে একজন কে ভালোবাসে।আমি যেন তাকে তার প্রেমিকের কাছে দিয়ে দেই।তবে এখন না।যখন তার প্রেমিকের তাকে নেওয়ার মতো পজিশন হবে।
কথাগুলো শুনে যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো।
কার জন্য নিজের ভালোবাসা কে কবর দিলাম?যে কিনা নিজের বুকে অন্যের জন্য ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছে??
বুক ফেটে কাঁন্না বের হচ্ছিলো।
কিন্তু কাঁন্না করতে পারছিলাম না।অধিক কষ্টে পাথর হয়ে গেছে এই নিরিহ মন টা।
তবে কি আর করার,কথা যেহেতু দিয়েই ফেলেছি।তাছাড়া আর যাই হোক জোর করে তো আর কারো মন পাওয়া যায় না।হয়তো পারতাম স্বামীর মিথ্যা অধিকার নিয়ে শরীর টা কে পেতে কিন্তু আমি এত বড় কাপুরুষ নই।
তাই নিরবে মেনে নিলাম।
কিন্তু আরেক টা শর্ত হলো আজকে রাতের চিরন্তন সত্য গুলো শুধু আমি আর শিখা ছাড়া কেউ ই জানতে পারবেনা।
আসলে বাস্তব জীবনটা নাটকের চেয়েও বেশি নাটকীয় তা আজকে আবারো উপলব্দি করলাম।
-
পরে আর কি,শিখা নাম মাএ আমার বউ হয়ে রয়ে গেল।
আমি তার দায়বাড় সবই বহন করি,তবে স্বামীর অধিকারটা পাইনা।
মাঝে মাঝে যখন অফিস থেকে বাসায় আসার পর , দরজায় নক করলে শিখা দরজাটা খুলে,খুব ইচ্ছে করে একটু জরীয়ে ধরে কপালে একটা চুমু একে দেই।কিন্তু পরক্ষনেই মনে পরে যায়,সে তো আমার সম্পত্তি নয়।তবে কিভাবে আমি তাকে আদর করবো।
একান্ত নিরিবিলি তে যখন থাকি নিজের জীবনের অঙ্কটার ফলাফল টা ভাবতে থাকি।
কি পেলাম আমি জীবনে??বাবা-মাকে ভালো রাখতে তাদের পছন্দে বিয়ে করলাম।কিন্তু নিজে তো কিছুই পেলাম না।খুব ইচ্ছে ছিল বউকে নিয়ে সুখে সংসার করবো,তাও হলো না।সে আমার এত কাছে থেকে ও আমার না।
সে প্রতিনিয়ত অন্যের জন্য স্বপ্ন বুনছে।
তার সারাক্ষনের বুনা স্বপ্নে আমার কোন স্থান নেই।
দুই বছর পর ই শিখা চলে যাবে তার ভালোবাসার কাছে।
তখন কিভাবে থাকবো আমি??পারবো তো শিখা কে ভুলে থাকতে?
যে মানুষটা কে সারাটা দিন দেখি,যার অস্তিত্ব বিরাজ করছে আমার মনে।তাকে কিভাবে অন্যের হাতে তুলে দেব আমি?
পারবোনা এতটাও উদার হতে।
কিন্তু তাও যে আমাকে শত বাধা বিপত্তিকে দূরে ঠেলে শিখাকে তার ভালোবাসার কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
শিখা আমার কাছে অন্যজনের আমানত মাএ।
-
বাস্তব জীবনের নাটকটাতে আমরা এমন ভাবেই সুখি দম্পতীর অভিনয় করে যাচ্ছি যে,আমার পরিবার একটু আচ্ পর্যন্ত করতে পারেনি।তারা বুঝতেই পারেনি আমি এই নাটকের নির্বাক দর্শক মাএ।যেখানে নায়কের চরিএে থাকার কথা ছিল আমার।সেখানে নায়ক অন্য কেউ ।যেখানে আমি কিনা সারাক্ষণ ই সুখি হওয়ার মিথ্যা অভিনয় করছি। সুখের বিন্দু মাএ নেই আমার জীবনে।
যখন ই শিখার দিতে তাকাই,তখনই মনে পরে যায়,আর তো মাএ দুইটা বছর, তার পরেই আমার ডিউটি শেষ।শিখা অন্যকারো হাত ধরে চলে যাবে আমাকে একা করে।
তখন তো আমার জীবনের কিছুই আর বাকি থাকবেনা।
তখন পরিবার কে ই বা কি জবাব দিব।
বন্ধু মহলেই বা কিভাবে মুখ দেখাবো।সবাই আমাকে কাপুরুষ বলবে।
বলবে নিজের বউকে অন্যের জন্য আমানত হিসেবে রেখে দিয়েছিলাম।
তাদের কে তখন কিভাবে বুঝাবো আমি,শিখা আমার সরলতার, সত্যিকারের ভালোবাসার সুযোগ টা নিয়েছিল।
আমি বেশি বিস্বাস করে কসম করেই ঠকে গেছি।
তবে হয়তো জোর করে বউ বানাতে পারতাম।কিন্তু চেষ্টা ও করিনি।
কারন আমি ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে চেয়েছি জোর করে নয়।
-
এখনও চলছে আমাদের লোক দেখানো স্বামী স্ত্রী খেলা।
জানিনা কবে শেষ হবে এই নাটক।তবে শেষ হতে হতে আমার জীবনের ও আর কিছুই বাকি থাকবেনা।
এখন প্রতিনিয়তই অনিশ্চিত সুখটার আশায় প্রহর গুনি।দেখি কবে ধরা দেয় সেই সুখ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now