বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সিদ্ধার্থ
হেরমান হেস
অনুবাদ- জাফর আলম
ক্যাটাগরিঃ উপন্যাস
মুদ্রিত মূল্য -১৮০
পৃষ্ঠা -১০০
প্রকাশনা- বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র প্রকাশনা
নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান লেখক হেরমান হেস এর লেখা অন্যতম জনপ্রিয় একটি উপন্যাস সিদ্ধার্থ।গৌতম বুদ্ধের সময়ে ব্রাক্ষণ পরিবারে জন্মগ্রহনকারী "সিদ্ধার্থ" নামে এক যুবকের আধ্যাত্বিক অভিযাত্রা এবং দর্শন এই উপন্যাসের তুলে ধরা হয়েছে।
হেরমান হেস এর এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল জার্মান ভাষায় । হেরমান হেস ১৯১০ সালে ভারতে কিছুদিন কাটানোর পর, বইটি সর্বপ্রথম প্রকাশ পায় ১৯১২ সালে । বইটি যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম প্রকাশ পায় ১৯৫২ সালে এবং ৬০ এর দশকে বেশ প্রভাব বিস্তার করে। হেস বইটি উৎসর্গ করেন প্রিয় বন্ধু এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি নাট্যকার রোমেইন রোনাল্ড কে।
আত্মার প্রশান্তি তখনই আসে যখন মানুষের হৃদয় পবিত্র জ্ঞান, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় থাকে সিক্ত।আর ভালোবাসা ও জ্ঞান মানুষ লাভ করে চারপাশের মানব জগত, মানুষের চরিত্র ও প্রকৃতি থেকে যা সিদ্ধার্থ উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।
জ্ঞানের তাড়নায়, নিজেকে আরো ভালোভাবে জানার আকাঙ্ক্ষায়, বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সকল সৃষ্টি , ঈশ্বরের অস্তিত্ব ও জ্ঞানের চরম শিখায় আরোহণের উদ্দেশে সিদ্ধার্থ প্রথমে তার বন্ধু গোবিন্দের সাথে সন্ন্যাসব্রত গ্রহন করে। তিন বছর সন্ন্যাসব্রত করেও সিদ্ধার্থের জ্ঞান পিপাসা মেটেনি। গৌতম বুদ্ধের কথা শুনে দুই বন্ধু গৌতম বুদ্ধের সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয়। গৌতম বুদ্ধের চোখে- মুখে জ্ঞানের অসাধারণ দীপ্তি তাদের করে মুগ্ধ যার আভাস পাওয়া যায় সিদ্ধার্থের কথায়- " শুধু একজন লোক দেখেছি যার সামনে দাড়িয়ে আমার চোখ নত হয়।কত লোক দেখেছি কিন্তু এমন লোক শুধু একজন।"
গোবিন্দ গৌতম বুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহন করলেও সিদ্ধাথ করেনি, সে নিজের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে চেয়েছিল। পরবর্তীতে কমলার সাথে পরিচয় ও প্রণয়ের পর সিদ্ধার্থ নিজের জ্ঞান, উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুলে যায়। অর্থ লিপ্সার কারনে সিদ্ধার্থ হতে থাকে ধনী সেইসাথে তার অন্তর হতে থাকে কালিমাযুক্ত, জ্ঞান হতে থাকে লুপ্ত।
অবশেষে বোধদয় হয় সিদ্ধার্থের। প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টিই আমাদের জীবন সম্পর্কে অবিরত শিক্ষা দেয়। নৌকার মাঝি বাসুদেবের মত নদী থেকে জ্ঞান আহরন শুরু করে সিদ্ধার্থ। নদীর গতিপ্রবাহ, অবিরত স্রোত ধারা থেকে তার উপলব্ধি- " নদীর কাছে একমাত্র বর্তমানই সত্য; অতীতের বা ভবিষ্যতের ছায়া পড়ে না তার বুকে।"
কমলার মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলেকে নিজের কাছে ধরে রাখবার অক্লান্ত চেষ্টা ছিল সিদ্ধার্থের যদিও সে চেষ্টা হয়েছিল ব্যর্থ। কিন্ত সে বুঝতে পেরেছিল প্রতিটি সম্পর্কের মাঝেই ভালোবাসার অপার শক্তি, সুখের প্রকৃত উৎস বিদ্যমান।
শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধার্থ জ্ঞানের খোঁজ পেয়েছিল? জানতে পেরেছিল জগতের সকল সৃষ্টির উৎস? পেরেছিল জ্ঞানের চরম শীর্ষে পৌঁছুতে?
বেশ চমৎকার একটি বই ‘সিদ্ধার্থ’। আশা করি পাঠকের ভালো লাগবে।
[সংগৃহীত]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now