বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বুঝে নেওয়ায় ভুল ছিল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সকালে চোখটা খুলেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। ঘুমভাঙ্গার কারণ মোস্তাকের কল। ঘড়ি দেখে বুঝলো ১০টা বেজে গেছে। তাই ছেলেটাকে বকতেগিয়েও থেমে গেলো তন্দ্রা। কিন্তু মাঝে মাঝেই এই ছেলেটার উপর ওর চরম মেজাজ খারাপ হয়এবং তার যথেষ্ট কারণও থাকে। মোস্তাকের সময়জ্ঞান খুবই খারাপ কিংবা সে ইচ্ছে করেইকাজটা করে। তন্দ্রা রাত ১১ টার মধ্যে ঘুমিয়ে যায় জেনেও ১২টা অথবা ১টার সময় কল দিয়েঘুম ভাঙাবে। বলবে, খুব ঘুম পাচ্ছে? মনে হবে যেন বেশী ঘুম পেলে ও ফোন রেখে দেবে।আসলে ও কখনই ঐ কাজটা করবে না। উল্টো বিচিত্র সব কাহিনি বলা শুরু করবে এবং তন্দ্রাজোর করে ফোনটা রাখার আগ পর্যন্ত সেই কাহিনি শেষও হয় না। আবার সে নিয়ে কখনো কখনোজনাবের প্রচণ্ড ঢং মার্কা রাগ হয়। কয়েকদিন ফোন করে না। কথা তো সামনাসামনি এমনিতেইকম বলে। তখন প্রায় বলেই না। তন্দ্রাও কখনও এই অবস্থা ঠিক করার চেষ্টা করেনা। নিজেইসপ্তাহখানেক পর হঠাৎ ফেসবুকে নক দিয়ে বলবে, কি খুব বিজি নাকি ???......হুহ!!! এইছেলের উপর মেজাজ খারাপ হবেনা তো কার উপর হবে! সবচেয়ে বড় কথা তন্দ্রার মতে এমন আচরণ কোন ছেলেকরতেই পারেনা। ছেলেরা এতো অকারণে রাগ করে কবে থেকে! যাক গে ভালই হল কলতা কেটে গেছেধরতে ধরতে। কিছুটা খুশিই লাগছে সেজন্যে। তন্দ্রা বিছানা ছেড়ে হাতমুখ ধুয়ে এলো। ‘মামুনি খাবো।’ হুম। এতক্ষণে তোমার ঘুম ভাঙল। ফোন করেছিল কে? রিংশুনলাম। কেউ না। ওই মোস্তাক আর কি । হুম। তন্দ্রা টেবিলে বসবে ঠিক এই সময়ে আবার ওর মোবাইলটা বেজে উঠল। ও গিয়ে কলটা ধরল। মোস্তাকেরকল। হুম,বল। হুম,কি অবস্থা??? ভালো,তোমার? হুম ,এইতো। শুনো যেটার জন্য ফোন করলাম। আমি ক্লাসের রুটিন হারায়ে ফেলছি। আজকে কখন থেকেক্লাস বলতো? ও।আজকে ১ টাই ক্লাস। ২ টায়। আসবা না? হুম।আসব তো। ২ টায় ক্লাস দেখেই এতক্ষণ পর্যন্ত ঘুমাচ্ছিলে? হুম।আমি তো বেশিই ঘুমাই। যাক গে ক্লাসে দেখা হবে। হুম,আচ্ছা। মোস্তাক কল কেটে দিলো। ও সবসময়ই এমন করে। এটাও নিতে পারেনা তন্দ্রা। কেউ বাই, খোদা হাফেয এসব না বলে কিভাবে ফোন ছেড়ে দেয়! বিরক্তিকর! তন্দ্রা ডিপার্টমেন্টে ঢোকার পথেই দেখল মোস্তাক কয়েকটা মেয়ের সাথে সিঁড়িতে বসে গল্প করছে। সবসময়ইএমনি দেখা যায়। তন্দ্রাকে দেখেও তাকাল না। তন্দ্রা চেহারায় কোন এক্সপ্রেশন না এনেহেটে যেতে লাগলো। পাশ কাটানোর সময় হঠাৎ দেখেছে এমন ভঙ্গি করে মোস্তাক বলে উঠলো,আরে, তন্দ্রা !!! তন্দ্রা এই আচরণ খুবই অপছন্দ করে। যেই ছেলেটা প্রায় প্রত্যেকদিনসূর্য উঠলো কী ডুবলো টাইপ কথা বলার জন্যে দিনে চার পাঁচবার করে ফোন দেয় সেই একইছেলে সামনাসামনি এমন অদ্ভুতভাবে কথা বলে। এটা কেমন কথা !!! তন্দ্রাও তেমনি সৌজন্যতামূলকহাসি দিয়ে চলে গেলো। ২টা বাজতে আর মাত্র ৫ মিনিট বাকী। তন্দ্রা তাই কোনদিকে নাতাকিয়ে ক্লাশ এর দিকে দৌড় দিলো। মোসতাক অবশ্যই আরও ৫ মিনিট পরই ওখান থেকে উঠবে এবংপড়িমরি করে ক্লাসে ঢুকবে। তন্দ্রা সেটা ভাবনায় নিতে চাইলো না।ক্লাসে গিয়ে দেখলো যেস্যার আজ একটু আগেই এসে পরেছেন। হাসিমুখে দাড়িয়ে সবাইকে দেখছেন। তন্দ্রা পেছনেরদরজা দিয়ে ঢুকে পড়লো। গিয়ে ওর বান্ধবীদের সাথে বসে পড়লো। ক্লাসের সময় শুরু হতেইস্যার ‘হ্যালো এভরিবডি’ বলে যথারীতি লেকচার শুরু করলেন। প্রায় ১৫মিনিট পর মোস্তাককোথা থেকে দৌড়ে এলো। স্যার জিজ্ঞেস করলেন, এতক্ষণ কোথায় ছিলে? ও খুবস্বাভাবিকভাবেই বলল, স্যার রাস্তায় এখন অনেক জ্যাম। দুপুরবেলা তো। বাসা থেকে আরওআগে বের হওয়া দরকার ছিল মনে হয়। বুঝতে পারি নাই, সরি স্যার। স্যার বললেন, হুম। এই সময়ে ক্লাস দিলে এই এক সমস্যা। যাক ১ দিনই তো। এসো বস। মোস্তাকহাঁপিয়ে গেছে এমনভাবে নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে ক্লাসে ঢুকে শেষ বেঞ্চিটার আগের বেঞ্চেবসে পড়লো। বসতেই ওর তন্দ্রার সাথে চোখাচোখি হল। মোস্তাক দেখল তন্দ্রার চোখে একধরণের বিদ্রূপ। তাতে ও বিচলিত হলো না। খুব স্বাভাবিক হাসি বিনিময় করলো ভাবটা এমন। ‘ ওভালোই। প্রতিদিন দেরি করে এসেও কিছু হয়না। আমরা একদিন দেরি করলে দেখতিশ কি হয়!’পাশ থেকে সন্ধ্যা বলল। হুম।ছাই...! সেদিন রাতে ১০ টার পরে খুব বৃষ্টি নামলো। বাইরে ঝড়ো হাওয়া। শনশন শব্দ শোনা যাচ্ছে। তন্দ্রা বিছানায় ঘাপটি মেরে পড়ে আছে।অদ্ভুত সুন্দর সময়। তন্দ্রার মনে হচ্ছে ও ১ টাঅসাধারণ লেভেলের আলস্য অনুভব করছে। এই সময় মোস্তাকের কল এলো। তন্দ্রা কিছুটা খুশিইহল। কথা বলার জন্য এরকম সময় অসাধারণ। ও খুব খুশি গলায় কথা বলা শুরু করলো। এলোমেলোকথাবার্তা। ওর কোন স্কুলের বন্ধু গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে ভাগসে। সেই দেখে ওঅনুপ্রাণিত। বন্ধু হিসেবে তন্দ্রারা যেন তখন একটু সাপোর্ট দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি।তন্দ্রা এখন বেশ মজাই পাচ্ছে। কথার মাঝখানে মোস্তাক ধুম করে বলে বসলো, ‘তুমি প্রেমকরছো না কেন ? তুমি তো মনে মনে অনেক রোম্যান্টিক।‘ রোম্যান্টিক!কে বলল? হাহ। হুম।অবশ্যই। বঝা যায় তো। পুতুপুতু রোম্যান্টিক ফিল্ম দেখো। লাস্ট টাইম A walk toremember দেখতে গিয়ে তো কানতে কানতে কানা হয়ে গেসিলা। আরেনা। কই! আর আমার বাস্তবে এসব ফিলিংস নাই। শুধু মুভি দেখলেই একটু ইমোশনাল হয়ে যাইআর কি।......................................................................................... সকালে প্রচণ্ড আরামের ঘুম ছেড়ে উঠতেই ইচ্ছা হচ্ছিলো না। বালিশের পাশ থেকে মোবাইলটা হাতেনিয়ে দেখল ১টা মেসেজ। ও মেসেজটা ওপেন করলো। মোস্তাক পাঠিয়েছে। লিখেছে- সত্যিই কিতোমার বাস্তবে ওইসব ফিলিংস নাই? কখনো মনেও হয় নাই তুমি কারো প্রেমে পড়তে পারো?কিংবা এখনো মনে হয় না??? ও কিছুক্ষন মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকলো। মেসেজটা দেখে অদ্ভুত লাগছে। কিন্তু মোস্তাকআসলে কখনও সিরিয়াস হতেই পারে না, তন্দ্রা ভাবলো। তন্দ্রার কাছে মোস্তাকের সবকিছুইভাঁড়ামি মনে হয়। ও চেক করে দেখলো মেসেজটা রাত সাড়ে তিনটায় এসেছে। ও দীর্ঘশ্বাসছেড়ে ভাবলো ছেলেটার ইনসমনিয়া আর গেলো না। ও প্রত্তুত্তরে gj লিখে সেন্ড করে দিলো।এদিকে ঘরে চিৎকার শোনা যাচ্ছে। ও খাবার ঘরে গিয়ে অবাক হয়ে গেলো। ওর বোন আর দুলাভাইএসেছে । তাদেরেই ২বছরের ছেলেটা ঘরে শোরগোল বাঁধিয়ে দিয়েছে।তন্দ্রার তো আর খুশী ধরেনা। ওদেরসাথে সারাদিন যে কীভাবে কেটে গেলো তন্দ্রা নিজেও জানে না। রাতে দুই বোন এক বিছানায়ঘুমুতে গেল।কথায় কথায় বড় আপু জিজ্ঞেস করলো, কিরে তুই কি এখনো সিঙ্গেল নাকি রে?তন্দ্রা বলল , হুম। আপূবলল, মোস্তাক ছেলেটার খবর কি রে? কি আর হবে! তেমনি। ওর সাথে কিছুই হোলো না। আমরা খুব ভালো ফ্রেন্ড ও হতে পারলাম না আবারঅপরিচিতও না। ফোনে অনেক গল্প হয়। কিন্তু সামনাসামনি তেমন ই। কাল কি মেসেজ করেছে জানো ! আমি সত্যইপ্রেমে পড়েছি নাকি কখনো ! আমার মনে হয় ও তোকে নিয়ে অন্যভাবে ভাবে। ভেবে দেখ কিছুদিন পরই তোদের অনার্স ফাইনাল। এইচার বছরেও তোদের সম্পর্কটা তেমনি আছে। তুই বলছিস তোরা ভালো ফ্রেন্ড হস নি। কিন্তুআমার তো মনে হয় তদের সম্পর্ক আসলে অনেক ভালো। তুই তো আমাকে বলেছিলি একবার যে ওকিছু করলে, জানলে আগে তোকে বলে। প্রয়োজনে সবই করে। কিন্তু সামনাসামনি যেটা হয় সেটামে বি ও কোন কারণে uncomfortable feel করে। এটা কখনো ভেবে দেখেছিস? আপুতুমি যেভাবে বলছ সেরকম না। ও আমাকে কখনও কিছু বলেই নাই... আহা। বলতে পারলে তো আর সামনাসামনি অমন আচরণ করত না। আর তুই তো কখনও ওর রাগ ভাঙাস না।নিজে থেকে খুব বেশী যোগাযোগও করিস না। সেই থেকে হয়ত ও আর এসব বলতে পারেনি। দেখ,আমি তোকে কনফিউসড করতে চাচ্ছি না। আমি জানি তুই সহজে কনফিউসড হবিও না। বাটছেলেটাকে যদি তুই সেভাবে কখনও না ভাবিস তবে শুধু শুধু ছেলেটা কষ্ট পাবে। আরে ধুর। সরো ঘুমাই। তুমি যে কি সব বলতেসো !!!- তন্দ্রা পাশ ফিরে শুলো। কিন্তু ওরমাথায় বিষয়টা ঘুরতে লাগলো। আসলেই কি তাই ? তবে এটা তো ঠিক ছেলেটা ওর সাম্নেইঅদ্ভুত আচরণ করে। ২/১বার মোস্তাকের আচরণে তন্দ্রা নিজেও টাশকি খেয়ে গেসিলো। ওরবন্ধুদের সঙ্গে এক ফাল্গুনে ক্যাম্পাসেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো। ওর স্কুল লাইফেরফ্রেন্ড ছিল ওরা। মোবাইলে কল দিয়ে প্রথমে ওকে একপাশে ডেকে এনেছিল ও। তারপরবন্ধুদের কথা বলেছিল।আর শুধু ওকেই ওদের সাথে দেখা করতে নিয়ে গিয়েছিল। বন্ধুগুলোওছিল একেকটা ছাগল! একজন তো দেখা মাত্রই বলে উঠলো, “ আরও কাছাকাছি দাড়া না তোরা।“তার একটু পরেই অবশ্য তন্দ্রা চলে এসেছিলো। আর এসব নিয়ে ওরা দুজনই আর কখনও কোন কথাতোলেনি। সেই ফার্স্ট ইয়ারের কথা। দুজনই দুজন কে space দিয়েছিলো বলা যায়। আর ভুলেইগিয়েছিল সেই দিনের ওইটুকু সময়।আজ আপুর কথায় আবার মনে হল। আর মনে হল আরও কিছুপ্রশ্ন। সত্যিই কি আপু যা বলছে তাই! মস্তাক কখনই ওর রূপ সঙ্ক্রান্ত কোন প্রসংশাকরেনি। এমন কি ফেসবুকেও কখনও ওর কোন ছবিতে লাইক দেয়নি! কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্যেমোবাইলে অনেক পিড়াপীড়ি করলেও সামনাসামনি জিজ্ঞেসও করে না। তন্দ্রা মনে মনে রেগেযায় এবং ঘুরতে যেতে চাইলেও অনেক সময় যায় না। এটা অবশ্য মোস্তাক গাধাটা বুঝতে পারেবলে মনে হয় না। তন্দ্রা সবাইকেই তুমি করে বলে। ওকেও বলে। মোস্তাক সবাইকে তুই করেবলে কিন্তু ওকে তুমি বলে। তন্দ্রার ধারণা ও তুমি বলে বলেই মোস্তাক এটা করে; যদিওঅন্যরা তুই করেই বলে। আরও একটা বিষয়ও তো অদ্ভুত। ওরা মোবাইলে কিংবা চ্যাটে অনেককথা বললেও সামনাসামনি চুপ করে থাকে। কারণ তখন মোস্তাকের কোন কথা থাকে না। আরতন্দ্রা তো এমনিতেই কম কথা বলে। এভাবে ভেবে দেখলে ওদের সম্পর্কটা অদ্ভুত সত্যি।কিন্তু সেটা কি আসলেই ভালবাসার মতো কিছুর দিকে ইঙ্গিত করে ? আচ্ছা তন্দ্রা নিজে কিভাবে ওকে নিয়ে। ও কি মোস্তাকের মতো একটা ছেলেকে পছন্দ করতে পারে? যাকে ওর হাফলেডিস, নটাঙ্কি, গাধা ইত্যাদি টাইপ ছেলে মনে হয়! তন্দ্রার মনে হল, না! কখনই না।তবু সাথে সাথে আরেকটা বিষয় ওর মাথায় এলো। মোস্তাক যদি সত্যি ওকে কখনও প্রপোজ করে ওকি না বলতে পারবে? পরিচিত হয়েও ওদের সম্পর্কটা বেড়ে উঠেছে মোবাইলে, ফেসবুকে। আরএভাবে তৈরি সম্পর্কে তো ওরা একজন আরেকজনের অনুভুতি, চিন্তা-চেতনাকে অনেক গুরুত্বইদিয়েছে। ওইখান থেকে তন্দ্রা সরে আসতে পারবে বলে মনে হয় না। অনেক সময় এই ছেলেটার জন্যেকারণে অকারণে ও সহানুভুতি দেখিয়েছে। তন্দ্রা অনেক বিরক্ত হয়েছে, রাগ দেখিয়েছে।কিন্তু সে কারণেও ওদের সম্পর্ক ভেঙে যায়নি। আর সেটা হয়েছে মোস্তাকের নটাংকি আচরণেরজন্যেই। যতই নাটক করুক রাগ ভুলে ওই তো ফোন দেয়। তন্দ্রা বলে ওর মন খারাপ। মোস্তাকযেন নিজে থেকেই ওই সময় অনেক কথা বলার দায়িত্ব নিয়ে নিত। সেই ছেলেটা এসে যদি তারভালবাসার কথা কনফেস করে ও কি না করতে পারবে! পারবে না বোধ হয়। সম্পর্ক টা আরও জটিলহয়ে যাবে। কিংবা ওরা সুখী দম্পতি হয়ে যাবে। তন্দ্রা একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলেভাবলো, আপু দিলো আজকের ঘুমটা নষ্ট করে! .................................................................. তবে তন্দ্রার এই ভয় টা কখনও সত্যি ওকে face করতেহয়নি। ভয়টাকে এড়ানোর জন্য ও প্রথমে মোস্তাকের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছিলো। আরতখনই খেয়াল করলো ওর আসলে মোস্তাকের প্রতি ভিন্ন ধরণের অনুভুতি কাজ করে! প্রথমপ্রথম ও এটা স্বীকার করতে চাইত না। কিন্তু পড়ে মেনে নিয়েছিলো। সেই সময় যদি মোস্তাকওকে প্রপোজ করত ও হয়ত খুশী মনেই প্রেম করা শুরু করে দিত! কিন্তু এমনটি হয় নি।সন্ধ্যা একদিন বলছিল নোমান বলেছে মোস্তাক তন্দ্রাক নিয়ে অনেক পকপক করে। হয়ত বাওদের কিছু হতে পারে! তন্দ্রা শুনে খুব হেসেছিল। যেন খুবই হাস্যকর কথা! তখন কয়েকদিনমোস্তাকের কল ধরার আগে নিজেকে কিছুটা প্রস্তুত করে নিত। মোস্তাক সবসময়ই মেয়েদেরসাথে মজা করত। আর সেটা নিয়ে তন্দ্রা খোঁটা দিলে যখন মোস্তাক কৈফিয়ত দেওয়ার ভান করত, আশ্চর্যজনক হলেও সত্য তন্দ্রা সে কথা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশী মনযোগ দিয়েশুনত এবং অনেককিছু বিশ্বাসও করত। অথচ সাভাবিকভাবে ওর এরকম কথাবার্তা পছন্দ হতোনা। কিন্তু মোস্তাক এই সময়টা কাজে লাগায়নি। বরং যেন তন্দ্রার কাছ থেকে একটু দুরেইসরে গিয়েছিলো। তন্দ্রা অবাক হতো। কখনো কখনো ভাবতো, কেনো এমন হচ্ছে ? কোন উত্তরপেতো না। এই নিরুত্তর পরিবেশ তন্দ্রার মধ্যে এক ধরণের হাহকার তৈরি করেছিল। ওর মনে হতোওর বন্ধু মোস্তাকও আর নেই। ধীরে ধীরে তন্দ্রাও ওই অবস্থা হতে সরে আসলো। ওর মনে হলআপুর কারণে ওর মধ্যে যে চিন্তাটা ঢুকেছে তার জন্যেই এমন হচ্ছে। মোস্তাক এসব কিছু ভাবেইনা। কিন্তু ওর কোন আচরনেই হয়ত ওর তরল ভাবটা প্রকাশ হয়ে গেছে। তাই ফোন কমে গেছে,মেসেজ কমে গেছে। ও ভাবল, কিছুই নাই ওদের মাঝে। হয়ত খুব ভালো বন্ধুও নয় ওরা। .............................................................................. মাস্টার্সের শেষ পরিক্ষার দিন মোস্তাক তন্দ্রা কে ডেকে বলেছিলো, মাঝে মাঝে আমার সাথে দেখা করো। কখনও কখনও তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করে বলেই তো জোর করি এখানে চলো ওখানে চলো।– মোস্তাকমুচকি হাসলো। তন্দ্রা ভাবলো হয়ত বলবে। কিন্তু এতদিন পর! এখন তো সব পালটে গেছে। ওরআংটি বদলের কথা হচ্ছে। ছেলেটা কে সবাই পছদ করে। ও নিজেও দেখে, কথা বলেই হ্যাঁবলেছে। কিন্তু মোস্তাক...! ও রুদ্ধশ্বাসে মোস্তাকের দিকে তাকিয়ে রইলো। মোস্তাকবলল, জানি এটা খুবই অদ্ভুত। তবু...। আশ্চর্য মোস্তাক আর কিছু বলল না! ও চলে গেলো উল্টো ঘুরে। তন্দ্রা তাকিয়ে থাকলো। ওর লজ্জালাগছিলো। ও কি ভাবছিলো! কিন্তু মোস্তাক তো তার আশেপাশে দিয়েও গেলো না। যথাসময়ে ওরআংটি বদল হয়েছিলো। মালা বদলের সময়ও হয়ে এলো। মোস্তাক কিছু বলে নাই ওকে। মোবাইলেযোগাযোগটা এখনো বেশ আছে। তবে তন্দ্রা ওর বিয়ে সংক্রান্ত কোন কথা বলত না যদিও ওজানতে পারতো। engagement এর কথা শুনে নাকি বলেছে, তন্দ্রার বরের তো বারোটা বাজবে। এই মেয়ে কারো ফিলিংস পাত্তা দেয় না। নোমান এই কথা বলার কারণ জানতে চেয়ে জোর করলে ওনাকি রেগে আড্ডা ভেঙে চলে গিয়েছিলো। নোমানকে নাকি পরে বলেছিলো তন্দ্রা বুঝতে পেরেওওকে গ্রীন সিগন্যাল দেয়নি। ও নাকি তন্দ্রাকে ভালোবাসতো। কিন্তু চাইতো এই কথাতন্দ্রাই সবার আগে জানুক, বুঝুক। কারণ তন্দ্রা প্রায়ই বলত ছেলেরা ভালবাসার কথাসবাইকে বলে এটাও পাবলিক করে দেয়। এটা তো বোঝার ব্যাপার। তন্দ্রা শুনেছে সন্ধ্যারকাছে। মোস্তাক ফার্স্ট ইয়ার সেকেন্ড ইয়ারেই অনেক চেষ্টা করেছে বুঝাতে। পরে হালছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু ওর সাথে যোগাযোগ না করে থাকতে পারত না। বিয়ের ২দিন বাকি। তন্দ্রা ছাদে বসে একা একা ভাবছে আসলে কি হয়েছিলো ওদের মধ্যে। কেন কেউকাউকে কখনোই বলতে পারল না,’ভালবাসি’। কিছু পরে হলেও তন্দ্রাও তো এই কথাটা শুনতেচেয়েছে। কিন্তু ও তো বলেনি। অথচ সবসময়ই যোগাযোগ ছিল। তন্দ্রার চোখে জল। সত্যি বলতেকোন কারণই নাই যে জন্যে ওরা বলবে এই জন্যে বলতে পারি নাই। আরে গাধা! ভালবাসা বোঝারবিষয় হলেও মুখে তো একবার বলতে হয় নাকি! তন্দ্রার হাসি পেলো। আর একটা কথা-তন্দ্রাতো এখনও শুনতে চায়! তন্দ্রা ঠিক করলো মোস্তাকের সাথে কথা বলবে। মোবাইলটা হাতে নিয়েমোস্তাকের নাম্বারটা ডায়াল করলো। পর পর দুবার রিং হল। কেউ কলটা ধরল না।তন্দ্রাতৃতীয় বার ডায়াল করলো। তন্দ্রার নিঃশ্বাস গাঢ় হচ্ছে। বুক ঢিপঢিপ করছে। ওর মনে হলকেউ আর কল রিসিভ করবে না। ঠিক এমন সময় অপাশ থেকে বলে উঠলো, ‘ হুম, কি অবস্থা ?’ -শাহিদা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বুঝে নেওয়ায় ভুল ছিল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now