বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বউ ছাড়া একদিন

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মেহেদী হাসান হৃদ্ধ (০ পয়েন্ট)

X টি টিট টি টিট.... টি টি টিট টিটিটিট.....। এই সাত সকালে এলার্ম ঘড়ির শব্দে ঘুমটা ভেংগে গেল।বউ আমাকে উঠানোর জন্য সকাল ৫ টা বাজে এলার্ম দিয়ে রাখে। তাও আবার দুইটা এলার্ম ঘড়ি। আমার ডানে ও বামে। কিন্তু আজকে আমার বউ বাড়িতে নাই। গতকাল রাতে আমার সাথে ঝগড়া করে বাপের বাড়ি চলে গেছে। ২০০০০ টাকা দেওয়া নিয়ে ঝগড়া। আমার কাছ থেকে ৪ -৫ হাজার টাকা করে প্রত্যেক সপ্তাহে নিত। টাকা নিতে নিতে বেশি লাই পেয়ে গেছিল। তাই কাল্কা ২০০০০ টাকা চাইছল।তারপর কষিয়ে এক থাপ্পড় দিয়েছি।* এরপরেই ব্যাগ গুছিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেছে। আজকে আমার অফিস নাই।তাই এলার্ম ঘড়িগুলো বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম থেকে উঠলাম ১২ টা বাজে।পেটে ক্ষিধে!! বিছানা থেকে উঠে বাথরুমটা করে আসলাম ।পাকঘরে গেলাম।খাওয়ার মত কিছুই নেই। ফ্রিজে ৩-৪ পুটলা মাছ মাংস আছে।মিস্রিফের উপর ব্রেডের প্যাকেট পেলাম।মাত্র দুটি ব্রেড আছে!!এগুলো খেয়েই পানি খেয়ে নিলাম। বারান্দার দিকে চোখ পরতেই দেখতে পেলাম ভেজা কাপর গুলো।সেগুলো বাইরে দিয়ে আসলাম। দুপুর হয়ে গেছে। ভাবছি।ব্রেকফাস্ট আর দুপুরের খাবার একসাথে খেয়ে নিব।মাছ মাংস আমি রাধতে পারি না।ফ্রিজে ডিম আছে। ডিম বিরান করব।আর ভাত।ছোটবেলায় মাকে দেখতাম চাল ধুয়ে চুলায় বসিয়ে দিতে। মাজখানে কয়েকবার লাড়া দিত।শেষে মার গালত।আমিও চাল ধুয়ে চুলোয় বসিয়ে দিলাম।ডিম বিরান করার জন্য পেয়াজ কাটতে হবে।পেয়াজ কাটার সময় লক্ষ করলাম পেয়াজের ঝাজ আমার নাক দিয়ে ঢুকেছে (তাই তো মনে হয়)। একটু পরেই আমার চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগল।কয়েকবার বেসিন থেকে চোখ ধুয়ে এসেছি। কিন্তু যখনই পেয়াজ কাটতে যাব তখনই আবার শুরু হয়। আবার বেসিন থেকে মুখটা ধুয়ে আসলাম। দুই মিনিট রেস্ট নিয়ে আবার ধরতে যাব তখনই আবার পানি পরতে শুরু করল।তারপর আমার মাস্কটা পরে নিলাম।তারপরেও কমছে না। আবার মুখ ধুয়ে আসলাম।হঠাৎ করে মনে হল আমার ঘরে একটা গগলস আছে। তারাতাড়ি সেই গগলসটা পড়ে নিলাম। তারপর পেয়াজটা খুব সাচ্ছন্দে কাটতে লাগলাম।তখন শুনলাম কেউ একজন হাসিছে।ভয় পেলাম।পরক্ষণেই দরজার দিকে তাজাতেই দেখলাম পাশের বাড়ির আক্কাসের বউ সখিনা আইসে। "একটা পেয়াজ কাটতে মাস্ক আর গগলস লাগান লাগে!!!" বলে সে আবার হাসতে লাগল। হাসি থামিয়ে বলল, "ভাবি কই?" "তোমার ভাবি কাল রাতে বাপের বাড়ি গেছে।" "তাই নাকি!! আমারে যে কয়া গেল না।আমরা তো আজকে আবার শপিং মলে গেলাম অইলে।ভাবির তো একটা শাড়ি পছন্দ হয়সল।৪৫ হাজার টাকা দামের।" আমি চোখ বড় বড় করে বললাম, "কত????" "আরে হ, দোকান্দারকে কইয়ে টইয়ে আরেকটু পটিয়ে ২৫ হাজার টাকাই রাজি করানো হইসল।" ভয়ে ভয়ে বললাম, " তাই নাকি?" আমার মাসিক বেতনইতো ১২০০০ টাকা আর একটা শাড়ি কি না............. ' আরে ভাই, তোমার ভাত পড়িযাইতেসে!" আমি লক্ষ করলাম ভাতের ডেক থেকে ইতিমধ্যে ফেনা(ভাতটা সিদ্ধ হয়েছে) পড়তে শুরু করেছে।আমি বললাম, "থাক" " আরে ভাই তারাতাড়ি চুলা ডিম করেন।" আমি চুলা ডিম করলাম। "প্রতম বার রান্দেন নাকি?" 'হু" " ভাতের লগে যে চিনি আর লবণ দেওয়া লাগে তা জানেন না?" "না" " তারাতারি দিয়ে দেন । আমি শপিং এ যাইতেসিগা।" বলেই সে বের হয়ে গেল। আমিও ভাতে কয়েক চামচ চিনি আর লবণ দিয়ে দিলাম। তারপর অনেক কষ্টে ডিমটা বিরান করে নিলাম। তাও আবার ভালো করে করা হয় নি! একেবারে পুড়ে গেছে!! কিন্তু মনে হচ্ছে খাওয়া যাবে। আজকের খাবারটা হলো অন্যরকম।মনে হচ্ছিল আমি শিরনির সাথে ডিম খাচ্ছি(সিলেটি ভাষায় তাবারক কে বলা হয় শিরনি/শিন্নি।আর এখানে শিরনি হলো পায়েস বা সেমাই জাতীয় কিছু) সখিনা চিনি আর লবণ দেওয়ার কথা বলে গেসিল।।কিন্তু কত চামচ দিমু তা বলে নাই। মনে হয় একটু চিনি বেশি দেওয়া উচিত ছিল। বমি বমি ভাব হচ্ছিল।কিন্তু তা খুব কষ্টে আটকে রাখলাম।এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার বাথরুমে গিয়েছি। সন্ধায় আমার বউরে এস এম এস দিলাম, " জরিনা, তুমি কই?? বাসায় আইয়াফর।আমি তোমারে ২০০০০ টাকা দিয়ে দিমু।" ও মা ১০ মিনিট পরেই জরিনা এসে বলল, " ওই মফিজ টাকে দে! আমি এখনই শপিংয়ে বেরুব।" আমি ভাবলাম, ২০০০০ টাকে যাক। আজকের মত কষ্ট যেন আমার আর না হয়। টাকাটা দিয়ে আমি আবার বাথরুমের দিকে দৌড় দিলাম। ========================= * কারন ব্যাতিত স্ত্রীলোকদের উপর হাত তোলা হারাম। ========================= মাস্ক আর গগলস লাগিয়ে পেয়াজ কাটার পরীক্ষা টা আমি করেছি।মজা লেগেছে।আর কোনো উপায় আছে কি এর থেকে রক্ষা পাওয়ার।কোন বইয়ে পড়ছিলাম কি করলে যে কি হয়..... মনে নায়। আপ্নারা জানলে বলবেন।প্লিজ!! ========================= ফ্রান্সকে বয়কট করুন =========================


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বউ ছাড়া একদিন
→ একদিন ? কেমনে থাকব তোমায় ছাড়া!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now