বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের গেটে আহমদ মুসার গাড়ি ব্রেক করতেই একজন লোক, গোয়েন্দা অফিসারই হবে, ছুটে এলো আহমদ মুসার গাড়ীর জানালায়। আহমদ মুসা নিজের আইডি কার্ড তাকে দেখাতেই সে স্যালুট দিয়ে সরে দাঁড়িয়ে ইংগিতে গেট খুলে দিতে বলল। আহমদ মুসার গাড়ি কার পার্কে দাঁড়াতেই একজন প্রোটোকল অফিসার ছুটে এলো। আহমদ মুসার গাড়ির দরজা খুলে স্বাগত জানিয়ে বলল, ‘ইনুনু স্যার ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, আমি প্রোটোকল অফিসার আহমদ তুঘরিল।’ আহমদ মুসা গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। হাঁটতে লাগল প্রোটোকল অফিসার আহমদ তুঘরিলের সাথে। কার পার্কের পরে প্রেসিডেন্ট ভবনের মূল ফটক। ফটকে বডি স্ক্যানিং এর ব্যবস্থা আছে। স্ক্যানিং মেশিনের ভেতর দিয়েই সকলকে যেতে হয়। কিন্তু প্রোটোকল অফিসার আহমদ মুসাকে পাশের গ্রীল গেট দিয়ে নিয়ে গেল যে গেট শুধু প্রেসিডেন্টই ব্যবহার করেন। প্রাসাদে প্রবেশ করল আহমদ মুসা। আহমদ মুসা প্রাসাদের আশেপাশে যাদেরই দেখল, তাদের মধ্যে একটা ত্রস্ত ভাব। ‘আপনাদের যে বার্ষিক গেট টুগেদার হচ্ছিল, সেটা কি চলছে? মি. ইসমত ইউসুফ ইনুনু কি ঐখানেই ব্যস্ত?’ প্রোটোকল অফিসারকে জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা। ‘স্যার, মহামান্য প্রেসিডেন্ট হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি গেট টুগেদার অনুষ্ঠনে আসছিলেন। আসার পথে হঠাৎ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। তাঁকে সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে যেতে দেখে তার পিএস ও চারজন সিকিউরিটি অফিসারও সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। ইনুনু স্যার খবর পেয়ে ছুটে যান। তিনি বেন গালিব গিদনকে ডাক্তার ডাকার জন্যে পাঠিয়ে দিয়ে কয়েকজনকে নিয়ে ধরাধরি করে প্রেসিডেন্টকে তার কক্ষে নিচ্ছিলেন। আমি তখন এসেছি আপনাকে রিসিভ...।’ প্রোটোকল অফিসারের কথা শুনে আহমদ মুসা একবারে বজ্রাহতের মতো হয়ে গেল। প্রবল উদ্বেগ-আতংকের ছায়া নেমেছে তার চোখে। রহস্যময় সেই চিঠির ‘ঘুম’-এর কথা তার মনে পড়েছে। মুহূর্তের জন্যে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিল সে। পরক্ষণেই সম্বিৎ ফিরে পেয়ে প্রায় চিৎকার করার মতো কন্ঠে বলল, ‘আমাকে প্রেসিডেন্টের কাছে নিয়ে চল। সেখানে মি. ইনুনুও নিশ্চয় আছেন। চলো, দৌড় দাও।’ প্রোটোকল অফিসার একবার আহমদ মুসার দিকে তাকিয়ে দৌড় দিল। আহমদ মুসাও তার পিছনে দৌড়াচ্ছে। দৌড়াবার পথেই আহমদ মুসা এক জায়গায় দেখতে পেল পাঁচ ব্যক্তি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে আছে। চারজন অস্ত্রধারী, একজন নিরস্ত্র। আহমদ মুসা থমকে দাঁড়ালো। বলল প্রোটোকল অফিসারকে লক্ষ্য করে, ‘এঁরাই কি প্রেসিডেন্টের পিএস ও পাঁচ জন সিকিউরিটি?’ প্রোটোকল অফিসারও থমকে দাঁড়িয়েছে। বলল, ‘হ্যাঁ, স্যার।’ আহমদ মুসা বসে পড়ে একজনের নাকের কাছে মুখ নিয়ে গন্ধ শুঁকার চেষ্টা করল। গন্ধ শুঁকেই চমকে উঠল সে। যা সন্দেহ করেছিল। তাদের সংজ্ঞাহীন করে রাখা হয়েছে। যে গন্ধটা পেল তা এক ধরনের ক্লোরোফরম জাতীয় গ্যাস। এর বৈশিষ্ট্য হলো দূর থেকে ফায়ার করে গ্যাসটা বাতাসে ছড়িয়ে দিলে এক থেকে তিন মিনিটের মধ্যে কেউ এর সংস্পর্শে এলে সে ধীরে ধীরে তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। ব্যাপারটা মানুষের কাছে অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো দেখায়। আহমদ মুসা নিশ্চিত হলো, এটা বেন গালিব গিদনদেরই কাজ। তাহলে প্রেসিডেন্টের কি অবস্থা? ওরা ক্লোরোফরম বাতাসে ছড়িয়ে দিয়ে চুপ করে অবশ্যই বসে নেই। তাহলে কি করেছে ওরা? আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। উদ্বেগে আচ্ছন্ন তার মুখ। প্রোটোকল অফিসারকে বলল, ‘চল। প্রেসিডেন্টকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে?’ আবার ছুটতে লাগল প্রোটোকল অফিসার আহমদ তুঘরীল। তারা প্রবেশ করেছে প্রেসিডেন্টের রেসিডেন্সিয়াল উইং-এ। পেছনে পায়ের শব্দ শুনে মুখ ঘুরিয়ে দেখল, পোশাক পরা কয়েকজন সিকিউরিটির লোক ছুটে আসছে। আরও কিছুটা এগিয়ে সুন্দর সাজানো একটা লাউঞ্জ পার হয়ে কয়েকটা ঘরের একটা সুন্দর ব্লক দেখতে পেল। ফ্লোরটা তিন তলায় হতে পারে। প্রোটোকল অফিসার বলল, ‘ঘরগুলোর সবই প্রেসিডেন্টের শয়নকক্ষ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শয়নকক্ষে তিনি থাকেন।’ ঘরের সামনে তিনজন লোককে দাঁড়ানো এবং চারটি দেহ পড়ে থাকতে দেখল। আরও কাছে এগিয়ে তারা দেখে বুঝল চারটি দেহই সংজ্ঞাহীন। প্রোটোকল অফিসার বলল, ‘স্যার, প্রেসিডেন্টকে যারা ধরাধরি করে নিয়ে এসেছিল, সেই চীফ অব স্টাফ ইসমত ইউসুফ ইনুনু ও আরও চারজন সিকিউরিটির লোকও সংজ্ঞাহীন পড়ে আছে। আহমদ মুসারা পৌছে গেল সেখানে। আহমদ মুসা দাঁড়িয়েই দাঁড়ানো তিনজনের দিকে চেয়ে প্রশ্ন করল, ‘প্রেসিডেন্ট কোথায়? দ্রুত ও শক্ত কন্ঠ আহমদ মুসার। পেছন থেকে দৌড়ে আসা সিকিউরিটির লোক এসে দাঁড়িয়েছে। তারাও শুনতে পেল আহমদ মুসার প্রশ্ন। তিনজনের একজনের হাতে ডাক্তারী ব্যাগ। সেই বলল, ‘মি. গিদন আমাকে ডাকতে গিয়েছিল অসুস্থ প্রেসিডেন্টকে এসে দেখার জন্যে। আমরা এসে প্রেসিডেন্টকে পাইনি। এঁদের পাঁচজনকে সংজ্ঞাহীনভাবে পড়ে থাকতে দেখতে পেলাম। প্রেসিডেন্টের পার্সোনাল স্টাফ এসে বলল, মুখে গ্যাস মাস্ক লাগানো ডাক্তারের মতো এ্যাপ্রোন পরা চারজন লোক প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে গেছে।’ থামল ডাক্তার, সে ইংগিত করে প্রেসিডেন্টের পার্সোনাল স্টাফকে দেখিয়ে দিয়েছিল। ‘কোথায় তুমি তাদেরকে দেখছ?’ আহমদ মুসার প্রশ্ন সেই পার্সোনাল স্টাফকে উদ্দেশ্য করে। ‘লিফটের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।’ বলল লোকটি। ‘তুমি চেন তাদের?’ ‘না।’ ‘তুমি তাদের ফলো করনি, অন্তত গেট পর্যন্ত?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘স্যার, আমাকে ওরা বলল, আমরা প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যাচ্ছি। তুমি গিয়ে ডাক্তারকে ডেকে আন। তিনি অবশিষ্টদের ব্যবস্থা করবেন। আমি সংগে সংগেই ডাক্তারের খোঁজে চলে যাই। ডাক্তারকে না পেয়ে দ্রুত এখানে ফিরে এসে দেখি ডাক্তার সাহেব এখানে।’ আহমদ মুসা পাশে এসে সিকিউরটির লোকদের একজনকে বলল, ‘আপনারা নিশ্চয় নিচের সিকিউরটি ক্যাম্প থেকে এসেছেন। সংজ্ঞাহীন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে নিশ্চয় কেউ নিচে নামেনি? আমরা নিচ থেকে আসলাম। আমরা এটা দেখিনি।’ ‘গেটের দিকে যাবার পথেই আমাদের ক্যাম্প। কেউ নিচে যায়নি।’ ‘আর কোন গেট নেই?’ জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা। ‘আছে, কিন্তু সেগুলো পার্মানেন্টলি বন্ধ। বন্ধ থাকলেও সে গেটগুলোতেও পাহারা আছে।’ বলল সিকুউরিটিদের একজন। ‘কিন্তু গেটগুলো তো কেউ খুলতেও পারে!’ বলল আহমদ মুসা। আমাদের সিকিউরিটি অফিস থেকে গেটগুলোকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হয়। আমরা এখানে আসার আগ পর্যন্ত গেটগুলো আমাদের পর্যবেক্ষণে ছিল। কিন্তু সেদিকে কেউ যায়নি।’ আহমদ মুসা এবার তাকাল ডাক্তার ও পার্সোনাল স্টাফ লোকটার মাঝখানে দাঁড়ানো লোকটার দিকে। আহমদ মুসা নিশ্চিত এই লোকটাই বেন গালিব গিদন। তবু আহমদ মুসা জিজ্ঞেস করল, ‘আপনিই কি বেন গালিব গিদন?’ লোকটি ভীত ও বিস্মিত চোখে তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল, ‘জি স্যার।’ ‘ওরা কোন্‌ দিকে যেতে পারে মি. গিদন?’ ‘আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা স্যার। ডাক্তার আনতে গিয়েছিলাম। এসে দেখি এই অবস্থা।’ বলল গিদন। ‘গেটগুলো ছাড়া বাড়ি থেকে বেরুনোর আর কোন পথ আছে?’ ‘আমি জানি না স্যার। আমার মনে হয় সে রকম কোন ব্যবস্থা নেই।’ বলল গিদন মুখটা নিচু রেখেই। ‘তাহলে ওরা গেল কোন্‌ দিক দিয়ে?’ বলল আহমদ মুসা। আহমদ মুসা এখানে আসার আগে গাড়ীতে বসে যতটা সম্ভব প্রাসাদের লে-আউটের ওপর নজর বুলিয়েছে। গ্রাউন্ড মানে ফার্স্ট ফেজ লে-আউটের দক্ষিন-পূর্ব কোণের দিকে এক জায়গায় নিম্নমুখী একটা এ্যারো আঁকা আছে। এ ধরনের এ্যারো লে-আউটের অন্য আর কোথাও নেই। আর প্রেসিডেন্টের শয়নকক্ষের যে ব্লক, তা প্রাসাদের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকাতেই। এখান থেকে বসফরাসের পানি ও তীর খুব বেশি দূরে নয়। লে-আউটের তীরটা এই দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় সুনির্দিষ্টভাবে কোন এলাকাকে মিন করছে তা বলা মুস্কিল।’ ‘এটাই এখন সবচেয়ে বড় রহস্যের স্যার।’ বলল লোকটি। ‘আপনার কাছেও এটা রহস্য?’ লোকটি চোখ তুলে চাইল আহমদ মুসার দিকে। তার চোখে-মুখে বিস্ময় ও ভয় দুইই! বলল, ‘শুধু রহস্য নয় স্যার, সাংঘাতিক একটা রহস্য।’ ‘এ সময়টা মিথ্যা বলার সময় নয় মি. গিদন। কিছু জানলে সেটা বলুন।’ বলল আহমদ মুসা নরম কন্ঠে। লোকটির চোখ দু’টি চমকে উঠে তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল, ‘স্যার আমি যা জানি তাই বলেছি।’ চারজন সিকিউরিটির লোকসহ সবার দৃষ্টি বেন গালিব গিদনের দিকে। সবার মনেই বিস্ময় কেন তাকে এভাবে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে! তাকে কি সন্দেহ করা হচ্ছে? কেন? আহমদ মুসা পকেট থেকে রিভলবার বের করল। তাক করল তার দিকে। বলল, ‘আমি কিন্তু এক কথা দু’বার বলি না। বল, প্রেসিডেন্টকে কিডন্যাপ করে কোন্‌ পথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে?’ শক্ত কন্ঠ আহমদ মুসার। বেন গালিব গিদন ভয়ার্ত চোখে তাকাল আহমদ মুসার দিকে। কিন্তু কোন কথা বলল না। আহমদ মুসা তার চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝল, এ থ্রি জিরোর কোন পাকা ক্যাডার নয়। ‘থ্রি জিরো’র অনেককেই সে মুখোমুখি দেখেছে। তাদের চোখে ভয় থাকে না, থাকে হিংসার আগুন, ক্রোধের বহ্নি শিখা। ওদের কথা বলানো যায় না, একে কথা বলানো যাবে। আহমদ মুসা আবার কথা বলল। ‘আমি তিন গোণা পর্যন্ত সময় দিলাম।’ বলেই আহমদ মুসা গুণতে লাগল, এক দুই...। বেন গালিব গিদন চিৎকার করে কেঁদে উঠল, ‘আমি কিছুই জানিনা। আমাকে...।’ আহমদ মুসার তর্জনি ট্রিগারে চেপে বসল। একটি গুলি বেরিয়ে গিয়ে বেন গিদনের কব্জির নিচে হাতের তালুর ওপরের একটা অংশ খাবলা দিয়ে তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেল। সে চিৎকার করে কব্জি চেপে ধরল। চমকে উঠল উপস্থিত সবাই। ভীত-বিব্রত সবাই। কিন্তু আহমদ মুসাকে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না কেউ। তারা মনে করছে সে এ ব্যাপারে নিশ্চয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ। আহমদ মুসার রিভলবারের নল একটুও নড়েনি। বলল কঠোর কন্ঠে, ‘গুলিটা তোমার কব্জি টেস্ট করেছে। যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর না দিলে এবার মাথা গুঁড়ো করে দেব।’ আহমদ মুসার রিভলবারের নল উঠতে লাগল তার মাথা লক্ষ্যে। ‘আমি বলছি, আমি বলছি স্যার।’ চিৎকার করে বলল বেন গালিব গিদন। কান্নায় ভেঙে পড়ল সে। বলতে লাগল, ‘ওরা সুড়ঙ্গ পথে এসেছিল। প্রেসিডেন্টের পারসোনাল সিকিউরিটি অফিসার এক লাখ ডলারের বিনিময়ে সুড়ঙ্গের মুখ ভেতর থেকে খুলে দিয়েছিল। আমিই তাকে টাকাটা দিয়েছিলাম। ঐ সিকিউরিটি অফিসারই তাকে দেয়া গ্যাসটিউব স্প্রেয়ার থেকে ক্লোফরম স্প্রে করেছিল।’ ‘সুড়ঙ্গের মুখ কোথায়?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘প্রেসিডেন্টের বেড রুম ব্লকের ঠিক কেন্দ্রে বিশাল স্টিল লকারের মধ্যে।’ বলল বেন গালিব গিদন। ‘প্রেসিডেন্টের সে সিকিউরিটি অফিসারের নাম কি?’ আহমদ মুসা বলল। ‘সোলেমান আফেন্দী।’ বলে সামনে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে থাকা চারজন সিকিউরিটি অফিসারের একজনকে দেখিয়ে দিল সে। মোবাইল বেজে উঠল আহমদ মুসার। মোবাইল পকেট থেকে বের করে স্ক্রীনের দিকে একবার তাকিয়ে মুখের কাছে তুলে নিয়ে সালাম দিয়ে বলল, ‘জেনারেল মোস্তফা, সব শুনেছেন। আমি আসার পূর্বক্ষণে ঘটনা ঘটেছে। প্রেসিডেন্টকে সংজ্ঞাহীন করে কিডন্যাপ করা হয়েছে। তার সাথে আটজন সিকিউরিটি অফিসারও সংজ্ঞাহীন। সিকিউরিটি অফিসার সোলেমান আফেন্দী বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সেই সুড়ঙ্গ পথ খুলে দিয়েছে।’ ‘প্রেসিডেন্টকে সুড়ঙ্গ পথে নিয়ে গেছে? তাহলে তো গোটা বসফরাস ও তীরবর্তী সব রাস্তা বন্ধ করে দিতে হবে। এখন আপনি কি করছেন? আমরা আর কি করব? প্রেসিডেন্ট কিডন্যাপ হয়েছেন এই সংবাদটাকে গোপন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ ভীত, উদ্বেগ-ভরা কন্ঠে বলল জেনারেল মোস্তফা। সুড়ঙ্গ দিয়ে কিডন্যাপের কথাটা বেন গালিব গিদনের কাছ থেকে বের করেছি। সোলেমান আফেন্দীর নামও সেই বলেছে। শুনুন...।’ ‘ধন্যবাদ মি. খালেদ খাকান। তাকে যে আপনি এত তাড়াতাড়ি কথা বলাতে পেরেছেন।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘কথা বলাবার জন্যে তাকে গুলী করে আহত করতে হয়েছে। যাক। শুনুন, আমি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করছি। আপনারা সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে পালাবার সব পথ বন্ধ করে দিন। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে মিনিট সাতেক সময় গেছে। ওরা নিশ্চয় সুড়ঙ্গ থেকে বের হতে পারেনি।’ ‘ধন্যবাদ মি. খালেদ খাকান, সিকিউরিটি অফিসারদের কাউকে নিয়ে আপনি সুড়ঙ্গে নামুন।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘সুড়ঙ্গ দিয়ে এগোতে হবে ওদের অলক্ষ্যে। ওদের টের পেতে দেয়া যাবে না। ওরা নিশ্চয় সুড়ঙ্গ পথকে বিপজ্জনক করে গেছে। সুড়ঙ্গে ওদের সাথে লড়াই করা যাবে না। কারণ ওদের হাতে প্রেসিডেন্ট আছেন। ওখানে নিরব লড়াইয়ের প্রয়োজন হবে। সুতরাং লোক বেশি নিয়ে লাভ নেই। ওদের অস্ত্রে ওদের ঘায়েল করব, এটাই হবে আমাদের চেষ্টা।’ ‘ধন্যবাদ, মি. খালেদ খাকান। আপনার সিদ্ধান্তই ঠিক। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে বড়।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘আরেকটা বিষয়, সুড়ঙ্গ কি একমুখী, না এর শাখা-প্রশাখা আছে?’ জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা। ‘আমি সুড়ঙ্গে কোনদিন প্রবেশ করিনি। তবে জানি, সুড়ঙ্গটা একমুখী। কিন্তু ধাঁধা সৃষ্টির জন্যেই এর ব্লাইন্ড শাখা-প্রশাখা রয়েছে।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘ধন্যবাদ, জেনারেল মোস্তফা। আর কিছু?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘আর কি বলব! প্রধানমন্ত্রী শুনে কেঁদে ফেলেছেন। তিনি বলেছেন উপরে আল্লাহ এবং তাঁর বান্দা খালেদ খাকানই আমাদের ভরসা। আল্লাহ আপনাকে সব সময় সাহায্য করেছেন। এই কঠিন বিপদেও তিনি আপনাকে, আমাদেরকে সাহায্য করুন। পুলিশপ্রধান ও অন্যরা দুই-এক মিনিটের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পৌছে যাবেন। আমি এদিকটা দেখব।’ ‘আল্লাহ সহায়। আসসালামু আলাইকুম।’ আহমদ মুসা কল অফ করে দিল। তাকাল আহমদ মুসা সিকিউরিটি অফিসারদের দিকে। বলল, ‘তোমরা একজন এখনই এই বেন গালিব গিদন ও সোলেমান আফেন্দীকে গ্রেফতার কর। আর দু’জন যাও সুড়ঙ্গের মুখ ঠিক আছে কিনা দেখ। অন্যজন আমাকে ওখানে নিয়ে চল।’ সিকিউরিটি অফিসারদের চারজনেই পা ঠুকে আহমদ মুসাকে স্যালুট দিল। আহমদ মুসা ব্যাগ খুলে একবার চেক করল তার গ্যাস মাস্ক, অত্যাধুনিক গ্যাস গান মাল্টি ডিটেক্টর, নাইট ভিউ গগলস, হিউম্যান বডি ওয়েভ, সেঞ্জিং মনিটর ইত্যাদি সব ঠিক আছে কিনা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৭ বাকি অংশ (শেষ)
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now