বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ২

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ২ গাড়ি বারান্দায় গিয়ে গাড়ি থামতেই ডেভিড ইয়াহুদ লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নামল। দ্রুত বারান্দার তিনটি ধাপ পেরিয়ে বারান্দায় উঠে গেল। বারান্দায় দাঁড়িয়েছিল বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমান আরিয়েহ। আবু আবদুর রহমান আরিয়েহের চোখে-মুখে উত্তেজনা। সে দাঁড়িয়েছিল যেন ডেভিড ইয়াহুদের অপেক্ষায়! ডেভিড ইয়াহুদ বারান্দায় উঠে আসতেই তার সাথে হ্যান্ডশেক করে আবু আবদুর রহমান আরিয়েহ তাকে টেনে নিয়ে ঘরে ঢুকে গেল। পাশাপাশি সোফায় বসেই আবু আবদুর রহমান আরিয়েহ বলল, ‘আপনারা এ কি করলেন? এ বিপজ্জনক বন্দীকে এখানে নিয়ে এলেন কেন?’ ‘করার কিছুই ছিল না। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বন্দীকে আমরা তুলেছিলাম ডেভিড হারজেলের ওখানে। আমাদের একটা ভুলের জন্যে ঐ ঠিকানাটা প্রতিপক্ষের হাতে চলে যেতে পারে সন্দেহ করেই দ্রুত ওখান থেকে সরে আসতে হয়েছে।’ বলল ডেভিড ইয়াহুদ। ‘ঐভাবে এ ঠিকানাও শত্রুপক্ষের জানা হয়ে যেতে পারে। এ সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি।’ আবু আবদুর রহমান আরিয়েহ বলল। ‘ঠিক হয়নি এটা আমি জানি। এই সেনসেটিভ ঠিকানার ওপর কারও কোন প্রকার সন্দেহের দৃষ্টি না পড়ে এই সার্বিক প্রচেষ্টা আমাদের রয়েছে। এখন কি করা যায় বলুন।’ বলল ডেভিড ইয়াহুদ। ‘আমরা যে গবেষণার কাজ এখানে করছি, তার অগ্রাধিকার সবার ওপরে। যে কোন মূল্যে এর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। আমি মনে করি, বন্দীকে অবিলম্বে অন্য কোথাও শিফ্‌ট করুন।’ বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমান বলল। ‘কিন্তু ইস্তাম্বুলে নিরাপদ কোন আশ্রয় আমাদের আর নেই। এখানে বন্দীকে রাখা ঠিক হবে না, এ বিষয়ে আমিও একমত। তাহলে কি করা যায় বলুন?’ বলল ডেভিড ইয়াহুদ। ‘আপনারা প্রধান বিচারপতিকে কেন বন্দী করেছেন, বলুন তো?’ জিজ্ঞাসা বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমানের। ‘বিজ্ঞানী হাতছাড়া হয়ে যাবার পর সুযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাকে পণবন্দী করা হয়েছে চাপ সৃষ্টি করে বিজ্ঞানেীকে ফেরত পাওয়া বা অন্য কোন সুবিধা লাভের ক্ষীণ আশায়।’ বলল ডেভিড ইয়াহুদ। ‘আপনাদের সিদ্ধান্ত ঠিকই তাৎক্ষণিক, সুচিন্তিত নয়। কারণ প্রধান বিচারপতির বিনিময়ে তারা বিজ্ঞানীকে আমাদের হাতে তুলে দেবে না। প্রধান বিচারপতিকেই উদ্ধারের জন্যে তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। প্রধান বিচারপতিকে বন্দী করে রাখার মধ্যে কোন লাভ নেই, ষোল আনাই ক্ষতির আশংকা।’ বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমান বলল। ‘আপনার পরামর্শ কি তাহলে?’ জিজ্ঞাসা ডেভিড ইয়াহুদের। চোখ বন্ধ করে এক মুহুর্ত ভেবে বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমান বলল, ‘তাকে ছেড়ে দিয়ে আসাই সব দিক থেকে মঙ্গল। প্রধান বিচারপতিকে পেলে ওদের অনুসন্ধান বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রক্ষা পেয়ে যাবে এবং নতুন করে সংঘবদ্ধ হয়ে আমরা নতুন উদ্যোগে কিছু করার সুযোগ পাব।’ ডেভিড ইয়াহুদ একটু ভেবে বলল, ‘আপনার যুক্তিই ঠিক মি. আরিয়েহ। তাহলে ওদের আমি বলে দিই ওরা তাকে রাস্তার পাশে কোন এক জায়গায় ফেলে রেখে আসবে।’ ‘উনি কি অবস্থায় আছেন?’ জিজ্ঞাসা বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমানের। ‘উনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আছেন। আগে চোখ বাঁধা ছিল, এখন বাঁধা নেই।’ বলল ডেভিড ইয়াহুদ। ‘ঠিক আছে, যেভাবে বলেছেন সেটাই করুন। আপদ বিদায় হোক!’ বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমান বলল। ‘আসছি আমি, বলে আসি ওদের।’ বলে ডেভিড ইয়াহুদ দ্রুত উঠে গেল। দু’মিনিট পরে ফিরে এলো ডেভিড ইয়াহুদ। বলল, ‘ওদের পাঠিয়ে দিয়েছি। সাবধানে কাজটা সারতে বলেছি।’ ডেভিড ইয়াহুদ বসল বিজ্ঞানী আবু আবদুর রহমান আরিয়েহর পাশে। ‘এটাই ভালো হলো, ড. ডেভিড ইয়াহুদ! আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। নিশ্চিত লাভ ছাড়া ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ানোর কোন দরকার নেই।’ বিজ্ঞানী ড. আরিয়েহ বলল। সোফায় গা এলিয়ে দিয়েছিল ডেভিড ইয়াহুদ। সোজা হয়ে বসল। তার সারা মুখ জুড়ে হতাশার ছাপ। বলল ধীরে ধীরে, ‘অনেক দিনের পরিকল্পনার জাল পেতে বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসিকে ধরলাম। লাভ হলো না। জাল কেটে বেরিয়ে গেল। এই আহমদ মুসাই অতীতে আমাদের বার বার সর্বনাশ করেছে। এবারের সর্বনাশটাও সে-ই করল। সে দৃশ্যপটে উদিত না হলে সোর্ডের ফর্মুলা, সোর্ডের মডেল সবই এতদিন আমাদের হাতে এসে যেত। হঠাৎ কোত্থেকে উদয় হলো এই শয়তানটা!’ ‘হঠাৎ কেন আসবে? ওআইসি ও তুরস্ক সরকার পরিকল্পনা করেই তাকে নিয়ে এসেছে। আহমদ মুসা এখন ইসলামী বিশ্বের শেষ তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখা যাচ্ছে, যেখানেই তাদের অনতিক্রম্য ক্রাইসিস, সেখানেই আহমদ মুসাকে হাজির করা হচ্ছে।’ বলল বিজ্ঞানী ড. আরিয়েহ। ‘বুঝতে পারছি না আমি, আমরা এখন কোন্ পথে এগোবো? আমি নতুন করে তেলআবিব ও ই্উরোপ-আমেরিকার আমাদের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করেছিলাম, আহমদ মুসাকে মোকাবিলা করতে পারে এমন কাউকে পাঠানোর জন্যে। তারা কোন আশ্বাস দিতে পারেনি। তারা বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসিকে হাতে আনাকেই গুরুত্ব দিয়েছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তাকে হাতে এনেও রাখতে পারলাম না। আমি ভাবছি, তাকে কিডন্যাপ করার নতুন উদ্যোগ শুরু করার কোন বিকল্প নেই। একজন ব্যক্তিকে তারা তো বাক্সবন্দী করে রাখতে পারবে না। প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে তাকে হাতে পাওয়ার একটা সুযোগ পাওয়া যাবেই।’ বলল ড. ডেভিড ইয়াহুদ। দূর্বল ও বেদনার্ত কণ্ঠ তার। সোফায় গা হেলান দিয়ে ভাবছিল বিজ্ঞানী ড. আরিয়েহ। তার চোখ দু’টি বোজা ছিল। সে সোজা হয়ে বসল। মাথা নিচু হলো তার। বলল, ‘ফোটন পারটিকেলস’-এর ঝাঁককে একটা স্বয়ংক্রিয় ডিফেনসিভ শিল্ডে পরিণত করা এবং তাকে স্বয়ংক্রিয় ক্যারিয়ারে পরিণত করে বন্দী মারণাস্ত্রকে গভীর মহাশূণ্যে নিয়ে ধ্বংস করার বিজ্ঞান ও টেকনোলজি আমার কাছে এখনও আকাশ কুসুম বলেই মনে হয়। বুঝতেই পারছি না এই অসাধ্য ও কল্পনার একটা বিষয়কে ড. আন্দালুসিরা কিভাবে বাস্তবে পরিণত করল। এতো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ডিফেন্স টেকনোলজি! একে হাত করতে না পারলে তো আমাদের সব আশা-ভরসাই শেষ হয়ে যাবে!’ হতাশ কণ্ঠস্বর বিজ্ঞানী ড. আরিয়েহর। ‘আমাদের সাফল্য আর কত দূরে ড. আরিয়েহ?’ জিজ্ঞাসা ডেভিড ইয়াহুদের। ‘ল্যাবরেটরি টেস্ট তো অনেক আগেই হয়ে গেছে। মডেল টেস্টও সফল হয়েছে। অপারেশন শুরুর জন্যে প্রস্তুত হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।’ বলল ড. আরিয়েহ। ড. ইয়াহুদের চোখ দু’টি উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বলল, ‘রোমেলী দুর্গের ওদের ‘ইনস্টিটউট অব রিসার্চ এন্ড টেকনোলজি’, ওদের সোর্ড, ওদের বিজ্ঞানীরা আমাদের প্রথম টার্গেট হতে পারে না? সবার অলক্ষ্যে ওদের সব চিহ্ন আমরা দুনিয়ার বুক থেকে মুছে ফেলতে পারি না?’ ‘একটা বিকল্প পথ হিসেবে এটা আমাদের সামনে আছে। কিন্তু এর পথে আছে অদৃশ্য দেয়ালের বাধা। ওদের সোর্ডের ডিফেনসিভ শিল্ডের মনিটর যদি সুপার সেনসেটিভ হয় এবং যদি সোর্ডের শিল্ড হাইয়েস্ট পাওয়ার পারটিকেলের হয়, তাহলে আমাদের ফোটন সাইলেন্ট ডেস্ট্রাকশন ডেমন (Foton Silent Destruction Deomon-FSDD) ধ্বংস করার বদলে সোর্ডের হাতে বন্দী হয়ে যেতে পারে। সুতরাং আমাদের ফোটন সাইলেন্ট ডেস্ট্রাকশন ডেমন (FSDD) বা ‘ডাবল ডি’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা আছে।’ বলল বিজ্ঞানী আরিয়েহ গম্ভীর কণ্ঠে। ‘কিন্তু তারা যদি অপ্রস্তুত অবস্থায় থাকে এবং সে সম্ভাবনাই বেশি।’ ড. ডেভিড ইয়াহুদ বলল। ‘সেটাও সম্ভাবনার ব্যাপার।’ নিশ্চিত করে বলা যায় না যে, তারা সব সময় প্রস্তুত থাকে না। থাকারই কথা।’ বলল ড. আরিয়েহ। ‘আর কি বিকল্প আছে?’ বলল হতাশ কণ্ঠে ড. ডেভিড ইয়াহুদ। ‘বিকল্প আর কিছু নেই। ওদের বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসিকে কিডন্যাপ করা অথবা মেরে ফেলা অথবা ওদের ধ্বংস করা-এই দুই পথেই আমাদের এগোতে হবে।’ ড. আরিয়েহ বলল। ‘কিন্তু ওদের ধ্বংস করার পথই তো অনিশ্চিত।’ বলল ডেভিড ইয়াহুদ। ‘আমি তত্ত্বগত অসুবিধার কথা বলেছি। বাস্তবে সুবিধাও থাকতে পারে, আশংকা সত্য নাও হতে পারে। বিষয়টা আরও বিবেচনা সাপেক্ষ, যা ভাবছি সে রকম অসম্ভব নাও হতে পারে।’ ড. আরিয়েহ বলল। ড. আরিয়েহর কথা শেষ হবার আগেই ড. ডেভিড ইয়াহুদের টেলিফোন বেজে উঠেছিল। ড. ইয়াহুদ তার মোবাইল বের করে নিয়েছিল তার পকেট থেকে। ড. আরিয়েহর কথাও তখন শেষ হয়ে যায়। ড. ইয়াহুদ মোবাইলে ও প্রান্তের সাড়া পেতেই বলে উঠল, ‘কি খবর জোনাহ, কাজ শেষ?’ ‘হ্যাঁ, শেষ। তাকে এই মাত্র ওরা তুলে নিয়ে গেছে।’ বলল ওপার থেকে। ‘এত তাড়াতাড়ি? তোমরা ওখানেই?’ এপার থেকে প্রশ্ন ড. ইয়াহুদের। ‘বলছি। আমরা তাকে হাইওয়ের বাঁদিকেই চৌরাস্তার টপ ফ্লাইওভারে ফেলে রেখে চলে এসে আবার রাস্তা ঘুরে ওদিকে গিয়েছিলাম। মানুষের জটলা দেখে আমরা যাচ্ছিলাম ওখানে। পৌঁছতেই দেখলাম একজন তার সংজ্ঞাহীন দেহ গাড়িতে তুলল। গাড়িতে তুলে দরজা বন্ধ করে মোবাইলে কথা বলতে বলতে গাড়ির ড্রাইভিং সিটের দিকে যাচ্ছিল। স্পষ্ট শুনলাম উনি বলছিলেন, ‘জেনারেল, তাকে পাওয়া গেছে মাঝপথেই। প্রয়োজন নেই আর আপনাদের আসার। হাসপাতালে ফিরুন। আমি ওঁকে নিয়ে হাসপাতালে আসছি।’ কথা শেষ করেই গাড়ি নিয়ে উনি ছোটেন সিজলীর দিকে। আমার মনে হয় লোকটি কোন সরকারি লোক হবেন।’ ‘লোকটি কেমন? ইউনিফর্মে ছিল?’ জিজ্ঞাসা ড. ইয়াহুদের। ‘না, সিভিল ড্রেসে। একহারা সাধারণ ফিগার। এশীয় চেহারা।’ বলল ওপার থেকে জোনাহ। ‘ঠিক আছে তোমরা চলে এসো। ওকে।’ বলে মোবাইল মুখের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে অফ করে দিল। মোবাইলের লাউড স্পীকার অন ছিল। মোবাইলের সব কথা ড. আরিয়েহও শুনছিল। মোবাইল বন্ধ করে ড. ইয়াহুদ কিছু বলার আগেই ড. আরিয়েহ বলে উঠল, ‘মি. ইয়াহুদ, বুঝা যাচ্ছে, যে লোকটি প্রধান বিচারপতিকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেছে সে তাকে উদ্ধার করতেই এদিকে আসছিল এবং জেনারেল মোস্তফারাও আসছিল উদ্ধার অভিযানেই। কিন্তু এদিকে কেন?’ থামল ড. আরিয়েহ। তার চোখে-মুখে উদ্বেগের ছায়া। বলল সে, ‘টেলিফোনে জোনাহ যা বলল তাতে তো বুঝা যাচ্ছে ওরা এদিকেই আসছিল। কিন্তু কেন এদিকে বলা মুস্কিল। এ পথ দিয়ে তো অনেক দিকেই যাওয়া যায়।’ ‘তা যাওয়া যায়। এখানেও তো আসা যায়।’ বলল ড. আরিয়েহ। ‘তা আসা যায়। কিন্তু তারা এখানে আসবে কেন?’ বলল ড. ইয়াহুদ। ‘এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। কিন্তু যে উত্তর আমাদের জানা নেই, তা কারও জানা নেই, তা ঠিক নাও হতে পারে। ডেভিড হারজেলের বাড়ির সন্ধান তারা পেয়েছিল, এ কথা আমরা জানি। সুতরাং আমাদের এ ঠিকানার নিরাপত্তা নিয়ে আশংকা আমরা করতেই পারি।’ বলল ড. আরিয়েহ। ড. ইয়াহুদ কোন উত্তর দিল না। তাকিয়ে ছিল সে ড. আরিয়েহর দিকে। একটু সময় নিয়ে ধীর কণ্ঠে সে বলল, ‘ড. আরিয়েহ, আপনি ঠিক বলেছেন। আহমদ মুসা যেন বাতাস থেকে সব কিছুর গন্ধ পায়! এখন আমাদের করণীয় কি ভাবছেন?’ ‘আমি আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছি। এ ঠিকানাও ছেড়ে দিতে হয় কিনা তা আমাদের ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়াল।’ ড. আরিয়েহ বলল। ‘আপনার ভাবনা ঠিক। কিন্তু প্রধান বিচারপতিকে উদ্ধারের পর আমাদের এই ঠিকানা ওদের সন্দেহের তালিকায় আর নেই। কারণ প্রধান বিচারপতিকে তারা পেয়েছে অন্য এক জায়গায়। এর অর্থ এখানে তাকে আনা হয়নি। অতএব, এ ঠিকানার সন্ধান তারা পেলেও এটা এখন তাদের ভুলে যাবার কথা।’ বলল ড. ইয়াহুদ। ‘আপনার যুক্তি ঠিক। প্রধান বিচারপতিকে উদ্ধারের পর আমাদের এ ঠিকানা নিয়ে তাদের ভাববার কথা নয়। এ যুক্তির সাথে আমিও একমত। কিন্তু আশংকা থেকে মুক্ত হতে পারছি না।’ ড. আরিয়েহ বলল। ‘আশংকা থাকা ভালো। আমরা সাবধান হতে পারব। কিন্তু সাবধান থাকার জন্য বেশি কিছু করার দরকার নেই।’ বলল ড. ইয়াহুদ। ‘আপনার কথা ঠিক। কিন্তু আমাদের ‘ডাবল ডি’ মানে ‘ফোটন সাইলেন্স ডেসস্ট্রাকশন ডেমন’ (FSDD) গবেষণার অংশ বিশেষ অন্যত্র আমি সরিয়ে ফেলতে চাই, বিশেষ করে ‘মডেল’ ও ‘টেস্ট’ অংশ অন্যত্র সরিয়ে রাখাই ভালো। শুধু ‘রিসার্চ অংশ এখানে থাকবে।’ ড. আরিয়েহ বলল। ‘কিন্তু এত বড় জায়গা কোথায় পাওয়া যাবে?’ জিজ্ঞাসা ড. ইয়াহুদের। ‘চিন্তা করুন। আমিও চিন্তা করছি। জায়গা অবশ্যই পাওয়া যাবে। ইউরোপ-আমেরিকার দূতাবাস কর্তৃপক্ষ যারা ইস্তাম্বুলে আছেন তারাও আনন্দের সাথে আমাদের সাহায্য করবেন। ‘ঈশ্বর আমাদের সহায় হোন! আমরা আরও একটু ভাবনা-চিন্তা করি। আপনি যেটা বলেছেন সে রকমই সিদ্ধান্ত হতে পারে, যদি জায়গা পাওয়া যায়। ধন্যবাদ ড. আরিয়েহ আমি উঠি। আমাদের কোথায় কি অবস্থা একটু খোঁজ নিতে হবে।’ উঠে দাঁড়াল ড. ইয়াহুদ। ড. আরিয়েহও উঠে দাঁড়াল। হাত বাড়িয়ে দিল ড. ইয়াহুদের দিকে। বলল, ‘ভাববেন না, ড. ইয়াহুদ, আমরা দুর্বল হইনি। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মারণাস্ত্র এখন আমাদের হাতে এবং এই খবর কেউ জানে না, ইউরোপ-আমেরিকাও নয়। ওরা জানলে পাগল হয়ে যাবে। আমাদের কোন শর্তই ওরা অপূর্ণ রাখবে না। সোর্ড ইউরোপ-আমেরিকার আতংকের কারণ বটে, কিন্তু ‘ডাবল ডি’র খবর জানলে ওদের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাবে। অতএব, আমাদের চিন্তার কিছু নেই।’ ‘ধন্যবাদ ড. আরিয়েহ। ‘সোর্ড’-এর ফর্মুলা হাত করা এবং সোর্ড ও তার গবেষণা ধ্বংস করার জন্যে ওরা আমাদের সাহায্য করছে। এই সাহায্য আমাদের ও আমাদের ‘ডাবল ডি’র শত্রু ‘সোর্ড’কে ধ্বংস করতে যেমন আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে, তেমনি আমাদের ‘ডাবল ডি’র গবেষণা তৈরিতেও সাহায্য করছে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি তাঁর আশীর্বাদ আমাদের ওপর ঢেলে দিয়েছেন।’ কথা শেষ করে ড. আরিয়েহর হাত ছেড়ে দিয়ে বলল, ‘আসি, বাই!’ ‘ঈশ্বর আমাদের সহায় হোন! আসুন।’ বলল ড. আরিয়েহ। ইস্তাম্বুল সামরিক হাসপাতালের ভিভিআইটি স্যুট। ইজি চেয়ারে শুয়ে বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি। তার বাম ও ডান পাশের সোফাগুলোর বাম পাশের একটি সোফায় বসে আছে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ সিকউরিটি চীফ জেনারেল মোস্তফা কামাল এবং ডান পাশের পাশাপাশি দু’সোফায় বসে আছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আহমদ আরদোগাল বাবাগলু ও প্রধানমন্ত্রী হোসেইন ইসমাইল সেলিক। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দেখতে এসেছেন বিজ্ঞানী ড. আব্দুল্লাহ আন্দালুসিকে। জেনারেল মোস্তফা কামাল হাসপাতালেই ছিলেন। ভিভিআইপি অতিথিদের তিনিই সাথে করে কক্ষে নিয়ে এসেছেন। বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি অনেকখানি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তার সুস্থ হেয়ে উঠতে সময় লাগছে। ইলেক্ট্রিক শক তার দেহের কোষগুলোর বিরাট ক্ষতি করেছে। আস্তে আস্তে সেরে উঠছেন। সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কুশল বিনিময় ও টুকটাক কথা চলছিল বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি এবং প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দু’জনেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছিলেন যে, আল্লাহ শুধু বিজ্ঞানীকে নন, একটা শ্রেষ্ঠ গবেষণাকে তিনি রক্ষা করেছেন।’ ‘ঠিক বলেছেন স্যার, মানবতার পক্ষের একটা গবেষণাকে তিনি সব দিক দিয়েই সাহায্য করেছেন। খালেদ খাকান কে আমি জানি না। তবে তাকে সাক্ষাত ফেরেশতা বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। তিনি আসার পর যা ঘটছে, তিনি যা করছেন এবং আমাদের উদ্ধারের ঘটনা আমি দেখলাম, তাতে তিনি আল্লাহর তরফ থেকে এক জীবন্ত সাহায্য। আপনাদের মোবারকবাদ যে, এমন একজন ব্যক্তিকে আপনারা বাছাই করেছেন।’ ‘ড. আন্দালুসি, আপনি যেমন আল্লাহর এক বিশেষ সাহায্য মুসলিম উম্মার জন্যে, তেমনি তিনিও এক সাহায্য। আল্লাহর অসীম দয়ার জন্যে আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।’ বললেন প্রেসিডেন্ট। এভাবেই তাদের অনির্দিষ্ট আলোচনা এগিয়ে চলছিল। প্রেসিডেন্টের পি.এস. এসে প্রবেশ করল। প্রেসিডেন্টকে কানে কানে কিছু বলে সরে দাঁড়ালো পেছন দিকে। প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আহমদ মুসা এসেছে। তাকে আসতে বলি?’ ‘ইয়েস মি. প্রেসিডেন্ট, আপনার যদি আপত্তি না থাকে।’ প্রধানমন্ত্রী বললেন। ‘আমার আপত্তি থাকার কোন প্রশ্নই নেই।’ বলে তাকালেন বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসির দিকে। বললেন, ‘মি. খালেদ খাকান আসছেন, ড. আন্দালুসি!’ ‘ওয়েলকাম। তার আসার জন্যে কোন অনুমতির দরকার নেই।’ বলল বিজ্ঞানী ড. আন্দুলুসি। প্রেসিডেন্টের পি.এস. বেরিয়ে গেল। মিনিট খানেকের মধ্যে আহমদ মুসাকে নিয়ে প্রবেশ করল ভিভিআইপি রুমটির সিকিউরিটি অফিসার তুর্কি সেনাবাহিনীর একজন কর্ণেল। আহমদ মুসা ঘরে প্রবেশ করে সালাম দিয়ে বলল, ‘স্যরি, আমি নিশ্চয় অসময়ে এসে পড়েছি।’ কক্ষের সবাই সালাম দিয়ে আহমদ মুসার দিকে তাকিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘না, মি. খালেদ খাকান, আপনি নিশ্চয় সুসময়ে এসেছেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনারেল মোস্তফাসহ বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি। কিন্তু আপনার কাছ থেকে কিছু শোনা হয়নি। ওদের পর পর কয়েকটা সেট ব্যাক হবার পর এবং প্রধান বিচারপতিকে তারা ছেড়ে দেয়ার পর কি মনে হয় যে, তারা অফেনসিভে আসবে? কিন্তু তার আগে বলুন, আপনি কেমন আছেন? কবে আপনি হাসপাতলে থেকে বেরুলেন? আপনার আঘাতের অবস্থা কি? আঘাতটার ব্যাপারে কিন্তু আপনি নিজের প্রতি যথেষ্ট অবহেলা দেখিয়েছেন, ডাক্তারের কাছে আমি শুনেছি।’ ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো আছি। গতকাল হাসপাতাল থেকে বেরিয়েছি। জেনারেল মোস্তফা তখন ছিলেন সেখানে।’ বলে একটু থেমেই আবার বলা শুরু করল, ‘আপনি প্রধান বিচারপতিকে ছেড়ে দেয়ার কথা তুলেছেন। প্রধান বিচারপতিকে পণবন্দী রেখে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল হবে না ভেবেই তারা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। তাদের উদ্দেশ্য সফল না হওয়া কিংবা তাদের ষড়যন্ত্রের মূলোচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অফেনসিভের আশংকা বাদ দেয়া যাবে না।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ঠিক, মি. খালেদ খাকান। ওদের অফেনসিভ যে কোন দিক থেকে যে কোন সময় আসবে এটাই ধরে নিতে হবে। ওরা যথেষ্ট দূর্বল হয়েছে, তবে ওদের মূলোচ্ছেদ ঘটেনি।’ বললেন প্রেসিডেন্ট। ‘ঠিক, মি. প্রেসিডেন্ট।’ বলে একটু থামল আহমদ মুসা। তাকাল প্রেসিডেন্টের দিকে। বলল, ‘কিছু জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্যে আমি এসেছিলাম। আপনাদের যদি আপত্তি না থাকে, ড. আন্দালুসি যদি অনুমতি দেন, তাহলে কথা বলতে পারি।’ ‘আমাদের আপত্তি থাকবে কেন? আমাদের উপস্থিতিতে কথা বলায় আপত্তি নেই তো?’ বললেন প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্টের কথা শেষ হতেই বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি বলে উঠল, ‘আমার অনুমতির প্রয়োজন এ কথা মেনে হলো কেমন করে আপনার? আপনাকে যে কোন সহযোগিতা করতে পারলে খুশি হবো।’ ‘ধন্যবাদ সকলকে। যে কথাটা আমি বলতে চাই, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে আমার কাছে। মি. প্রেসিডেন্ট ও মি. প্রধানমন্ত্রী তা শোনার মতো সময় দিলে আমি খুব খুশি হবো।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ধন্যবাদ মি. খালেদ খাকান। তাহলে শুরু করুন আপনার কথা।’ প্রেসিডেন্ট বললেন। ‘ধন্যবাদ মি. প্রেসিডেন্ট।’ বলে একটু থামল। মুহুর্তের জন্যে একটু ভাবল। তাকাল বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসির দিকে। বলল, ‘ড. আন্দালুসি, আমাদের সোর্ড (Saviour of World Rational Domain-SOWRD) তো ডিফেনসিভ অস্ত্র, ফোটন পারটিকেলস দিয়ে কি অফেনসিভ অস্ত্র তৈরী সম্ভব?’ বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসির চোখে-মুখে বিস্ময় ফুটে উঠল। সে গভীর দৃষ্টিতে তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল, ‘মি. খালেদ খাকান, এ প্রশ্ন কেন করছেন?’ ‘কারণ পরে বলব। আপনি বলুন এটা সম্ভব কিনা?’ বলল আহমদ মুসা। ‘মি. খালেদ খাকান, যে শক্তি বা বস্তু ব্যবহারে ডিফেনসিভ অস্ত্র বানানো যায়, তা দিয়ে অফেনসিভ অস্ত্র বানানোও সম্ভব।’ বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি বলল। ‘ধন্যবাদ ড. আন্দালুসি। ফোটন পারটিকেলস দিয়ে যে অফেনসিভ অস্ত্র তৈরী হবে, তার চরিত্র কেমন হতে পারে, তার ধ্বংসকারী ক্ষমতা কি ধরণের হবে?’ বলল আহমদ মুসা। সংগে সংগে উত্তর দিল না বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি। একটু ভাবল। তারপর বলল, ‘অস্ত্রের চরিত্র ও ধ্বংসকারিতা নির্ভর করবে কি ধরণের ফোটন পারটিকেলস কি মাত্রায় ব্যবহার করা হবে তার ওপর।’ ‘প্রচলিত পরমাণু অস্ত্র ও ফোটন অস্ত্রের মধ্যে চরিত্রগত পার্থক্য কি হতে পারে?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। হাসল বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি। বলল, ‘আমি বুঝতে পারছি না, আপনি এসব সাংঘাতিক বিষয় নিয়ে কেন আলোচনা করছেন।’ বলে থামল বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি। গম্ভীর হয়ে উঠল তার মুখ। শোয়া অবস্থা থেকে মাথাটা ওপরে তুলে বসার চেষ্টা করল ইজি চেয়ারে। তারপর বলল, ‘ফোটন বুলেট বা ফোটন এক্সপ্লোশনের সাধারন যে চরিত্র তাতে সহজ ভাষায় যা বলা যায় তা হল, পরমানু অস্ত্র ধ্বংস করে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, আর ফোটন ধ্বংস করবে নিরব-নিস্তব্ধ আঘাতে এবং এ ক্ষেত্রে ধ্বংসও হবে টোটাল, কোন ধ্বংসাবশেষও থাকবে না। এ এমন এক ভয়ংকর দৃশ্য যার কল্পনাও মানুষের বিবেক ও সত্তাকে অবশ করে দেয়ার মতো’। বলল বিজ্ঞানী ডঃ আন্দালুসি। তাঁর গোটা মুখমণ্ডল বেদনাক্লিস্ট হয়ে উঠেছে। উপস্থিত সকলের চোখে-মুখেও বিস্ময় ও বেদনার চিহ্ন! ‘ড. আন্দালুসি, এ ধরনের অস্ত্র তৈরির গবেষণা চলছে এবং গবেষণার চূড়ান্ত সাফল্য গজ খানেকের বেশি দুরে নয়, এমন তথ্য তথ্য বা এমন দাবি কি বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে?’ আহমদ মুসার কথা শুনেই তড়াক করে উঠে সোজা ইজি চেয়ারে বসল ড. আন্দালুসি। তাঁর চোখে-মুখে বিস্ময় ও আতংকের চিহ্ন! তীব্র দৃষ্টিতে সে তাকিয়েছে আহমদ মুসার দিকে। বলল দ্রুত ও শুকনো কণ্ঠে, ‘নিশ্চয় মি. খালেদ খাকান, আপনি কোন ভয়ংকর রসিকতা করছেন না!’ ‘না জনাব। যদি বিষয়টা ভয়ংকর হয়, তাহলে আমি ভয়ংকর বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছি। তথ্যটা আমি যেখান থেকে যেভাবে পেয়েছি, তাতে এটা বিশ্বাস করেছি।‘ বলল আহমদ মুসা। ‘কে বা কারা এই অস্ত্র তৈরি করেছে বা করছে?’ জিজ্ঞাসা বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসির। তাঁর কণ্ঠে কম্পন স্পষ্ট। ‘ওয়াল ওয়ার্ল্ড অরবিট বা থ্রি জিরো’ এই অস্ত্র তৈরি করেছে বা করছে।‘ বলল আহমদ মুসা। ‘থ্রি জিরো’ মানে যারা আমাদের গবেষণা হাত করার চেষ্টা করছে, যারা আমাকে কিডন্যাপ করেছিল, তারা?’ ‘ইয়েস ড. আন্দালুসি, আমি এই তথ্যই পেয়েছি।’ আহমদ মুসা বলল। জবাবে কোন কথা বলল না বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি। তাঁর গোটা চেহারা উদ্বেগ ও আতংকের কালো চাদরে ঢেকে গেছে। সেই সাথে গভীর ভাবনার রেখা তাঁর চোখে-মুখে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৭ বাকি অংশ (শেষ)
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৭
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৬
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৫
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৪
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৩
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ২
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now