বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ১

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ১ বিদ্যুৎ বিভাগের লাইন চেকিং কাজের লক্কড় মার্কা একটা গাড়ি ড্রাইভ করে আহমদ মুসা বার্বারোস বুলেভার্ড থেকে ১০১ নম্বর বাড়ির সংযোগ রাস্তায় প্রবেশ করল। আহমদ মুসার পরনেও বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যানদের পোশাক। মাথার চুল অগোছালো। চেহারায় রোদ পোড়া, ক্লান্ত ভাব। পায়ে পুরানো ময়লা বুট। বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়িটি ১০১ নম্বর বাড়ির সংযোগ রাস্তায় ঢুকতেই দু’জন লোক এসে হাত তুলে গাড়ির সামনে দাঁড়াল। গাড়ি দাঁড় করাল আহমদ মুসা। ‘কোথায় যাও?’ বলল একজন। ‘একশ’ এক নম্বর বাসা থেকে টেলিফোন করেছে। জরুরি।’ স্থানীয় টার্কিস ভাষায় বলল আহমদ মুসা। এ ধরণের প্রয়োজনীয় কয়েকটি বাক্য সে গত আধা ঘন্টা ধরে মুখস্থ করেছে। উত্তর শুনে লোক দু’জন একটু দ্বিধায় পড়ে গেল। পরস্পর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল। একজন আরেকজনকে বলল, ‘নিশ্চয় লাইনে কোন সমস্যা দেখা দিয়েছে, জরুরি টেলিফোন করেছে।’ অবশেষে তারা সামনে থেকে সরে গেল। হাত দিয়ে ইশারা করে যেতে বলল। হাঁফ ছেড়ে বাঁচল আহমদ মুসা। ওদের দু’জনের পকেটে রিভলবার আছে, তাদের পকেটের ওজন দেখেই তা বুঝতে পেরেছে আহমদ মুসা। সেই সাথে আরও বুঝতে পারল, বাড়িটাকে তারা কড়া পাহারায় রেখেছে। আহমদ মুসার লক্কড় মার্কা পিকআপ গাড়িটা গিয়ে বাড়ির গাড়ি বারান্দায় থামল। হাতে প্লাস্টিকের ছোট্ট থলে নিয়ে লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নামল আহমদ মুসা। গাড়ি বারান্দার পরেই তিন ধাপের সিঁড়ি পেরিয়ে ওপরে উঠলেই মূল বারান্দা। মূল বারান্দাতেই বড় দরজা। এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করা যায় বাড়ির ড্রইং রুমে। কিন্তু আহমদ মুসা এ দরজার দিকে না এগিয়ে বারান্দাটির পাশ দিয়ে বাড়িটিতে প্রবেশের আরেকটি বড় দরজার দিকে এগোলো। বাড়িতে প্রবেশের এটাই প্রধান দরজা। দরজায় দ্রুত নক করল আহমদ মুসা, কাজের তাড়া থাকলে যেমনটা হয়। দরজা খুলে গেল। দরজায় দাঁড়িয়ে গুন্ডাকৃতির একজন মানুষ। কঠোর মুখে ভীষণ বিরক্তি প্রকাশ করল আহমদ মুসাকে দেখে। কিছু বলতে যাচ্ছিল লোকটি। তার আগেই আহমদ মুসা ‘আমি ইলেকট্রিসিয়ান, ভেতর থেকে জরুরি কল করেছে’ বলে অনুমতি না নিয়েই ভেতরে ঢুকে গেল। লোকটি এমনটা আশা করেনি। সে দু’ধাপ পিছিয়ে গিয়ে দু’হাত প্রসারিত করে বাঁধা দিয়ে বলল, ‘দাঁড়াও, যেতে পারবে না এখন। আমি জিজ্ঞেস করে দেখি, তোমাকে কেউ ডেকেছে কিনা?’ ‘যাও, জিজ্ঞেস করে এসো।’ বলল আহমদ মুসা। লোকটির দু’দিকে প্রসারিত হাত নেমে এলো নিচে। ‘তুমি এখানে দাঁড়াও। আমি ভেতরের লোকের সাথে কথা বলছি।’ বলে লোকটি পকেট থেকে মোবাইল বের করে পেছন ফিরে দাঁড়াল কথা বলার জন্যে। আহমদ মুসার বাম হাতে ঝুলছিল একটা টুলস ব্যাগ, ডান হাত খালি ছিল। লোকটি ঘুরে দাঁড়াতেই আহমদ মুসার ডান হাত দ্রুত তার ডাক পকেটে চলে গেল, আর বাম হাতের টুলস ব্যাগ বাম কাঁধে তুলে নিয়ে হাতটি মুক্ত করল। আহমদ মুসার ডান হাত বেরিয়ে এলো একটা ভাঁজ করা ছোট্ট রুমাল নিয়ে। লোকটা তখন সবে সম্পূর্ণ ঘুরে দাঁড়িয়েছে মাত্র। আহমদ মুসা দু’ধাপ সামনে এগিয়ে গেল দ্রুত, বিড়ালের মতো নিঃশব্দে। সংগে সংগেই তার বাম হাত চোখের পলকে পেঁচিয়ে ধরল লোকটির গলা সাঁড়াশির মতো। সেই সাথে তার ডান হতের রুমাল এসে চেপে বসল লোকটির নাকে। লোকটি নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে প্রাণপণ চেষ্টা করল কয়েক মুহূর্ত। কিন্তু পারল না। কয়েক মুহূর্তেই সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। আহমদ মুসা তার সংজ্ঞাহীন দেহ ডিঙিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল। ভেতরটায় একটা লাউঞ্জ। লাউঞ্জের চারদিকেই ঘর। পশ্চিম-উত্তর কোণে একটা সিঁড়ি ওপর দিকে উঠে গেছে। সিঁড়ির গোড়া দিয়ে লাউঞ্জ থেকে একটা করিডোর চলে গেছে পশ্চিম দিকে। আহমদ মুসাদের পাওয়া তথ্য সত্য হলে এই বাড়িতেই এনে তোলা হয়েছে কিডন্যাপড হওয়া অসুস্থ বিচারপতিকে। বাড়ির ভেতর-বাইরের পাহারাও এটাই প্রমাণ করেছে। কিন্তু এখন কোন্ দিকে অগ্রসর হবে বুঝতে পারলো না আহমদ মুসা। লাউঞ্জের বাম দিকের ঘরগুলোর সব দরজাই বন্ধ। ভাবল আহমদ মুসা, এক তলার কোন ঘরে অবশ্যই তিনি নেই। এসব ঘরে সাধারণত প্রহরী ও বাড়ির কর্মচারীরাই থাকে। হয় তাকে আন্ডারগ্রাউন্ড কোন ফ্লোরে রাখা হয়েছে, না হয় ওপর তলার কোথাও। বাড়িটি তিন তলা। সিঁড়ি দিয়ে ওপর তলায় ওঠা যায়, কিন্তু পশ্চিম দিকের করিডোরটি কোথায় গেছে? আহমদ মুসা এগোলো সিঁড়ির গোড়ার দিকে। সিঁড়ির গোড়ায় পৌঁছেই আহমদ মুসা দেখতে পেল, সিঁড়ির গোড়া থেকে করিডোরের যে দেয়াল শুরু হয়েছে, সিঁড়ির গোড়ার পরেই এর সংলগ্ন দেয়ালে লিফটের দরজা। লিফটের দরজার ফ্লোর ইনডিকেটরে গ্রাউন্ড প্রথম ও দ্বিতীয় ফ্লোরের আগে আরও দু’টি ফ্লোর ইনডিকেটর, ইউজি ওয়ান ও ইউজি টু রয়েছে। এর অর্থ আন্ডারগ্রাউন্ডে দুটি ফ্লোর আছে এবং এই লিফট দিয়েই সেখানে যাওয়া যাবে। আহমদ মুসা পা তুলল লিফটের দিকে যাওয়ার জন্যে। এই সময় তার মনে হলো তার পেছনে মানুষ। পকেটের হাতটা রিভলবারের বাঁটটা চেপে ধরল। মাথা ঘোরাতে যাচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই দু’পাশ থেকে দু’টি শক্ত বস্তু এসে তার মাথায় চেপে বসল। স্পর্শ থেকেই বুঝল দু’টিই রিভলবারের নল। আহমদ মুসা পকেট থেকে হাত বের না করে ওদেরকে কথায় জড়িয়ে সময় নিতে চাইল। বলল সে, ‘তোমরা কে, কি চাও?’ কথার সাথে সাথেই দু’জন তার সামনে এসে দাঁড়াল। তাদেরও হাতে রিভলবার। আহমদ মুসার মাথা থেকে রিভলবারের নল এক তিলও সরেনি। তার সামনের গিয়ে দাঁড়ানো একজন বলল, ‘আমরা কে, কি চাই, তা নয়। তুমি কে, কি জন্যে এখানে ঢুকেছ, সেটা বলো।’ ‘তোমরা আমাকে এ প্রশ্ন করছ কেন, তোমরা জান আমি কে?’ বলল আহমদ মুসা। ‘কেন প্রশ্ন করছি জান না? গেটের আমাদের প্রহরীকে তুমি সংজ্ঞাহীন করে ভেতরে ঢুকেছ। তুমি বিদ্যুৎ বিভাগের লোক নও, কে তুমি?’ বলল সেই আগের লোকটিই। কথা বলার জন্যে আহমদ মুসা মুখ তুলেছিল লোকটির দিকে। তাকাতে গিয়ে সিঁড়ির মাথায় দাঁড়ানো একটা মেয়ের ওপর চোখ পড়ল। হাতে তার বই, পরনে ক্রিম রংয়ের প্যান্টের ওপর ক্রিম রংয়ের বিশেষ কাটিং-এর কোট। হঠাৎ আহমদ মুসার মনে পড়ল এটা ‘বসফরাস কলেজ অব টেকনোলজি’র ছাত্রীদের ইউনিফরম। মেয়েটি বিস্ময় বিস্ফোরিত চোখে এদিকে তাকিয়েছিল। আহমদ মুসার চোখে চোখ পড়তেই মেয়েটি কয়েক ধাপ ওপরে উঠে আড়ালে সরে গেল। উত্তর না দিয়ে আহমদ মুসাকে এদিক-ওদিক তাকাতে দেখে ধমক দিয়ে সেই লোকটি তার রিভলবার আহমদ মুসার দিকে তাক করে বলল, ‘চালাকি করার চেষ্টা করো না, চারদিকে গুলীতে মাথার খুলি গুঁড়ো হয়ে যাবে।’ ‘কি জানতে চাও তোমরা?’ বলল আহমদ মুসা শান্ত কণ্ঠে। ক্রোধে ফেটে পড়ল সামনে লোকটি। আহমদ মুসার কপালে রিভলবার ঠেকিয়ে বলল, ‘তুমি এখানে এসেছ কেন?’ ‘তোমরা জান যে, প্রধান বিচারপতিকে উদ্ধার করতে এসেছি আমি এখানে। তাকে তোমরা কিডন্যাপ করে এখানে নিয়ে এসেছ।’ লোকটির মতোই উচ্চ স্বরে দৃঢ় কণ্ঠে বলল আহমদ মুসা। সামনের লোকটি আহমদ মুসার কপাল থেকে রিভলবার সরিয়ে আহমদ মুসার হাঁটুতে একটা লাথি মারল এবং দু’ধাপ পেছনে সরে গিয়ে চিৎকার করে বলল, ‘এবার তুই মর্।’ তার হাতের রিভলবারটা আবার উঠে আসতে লাগল আহমদ মুসার লক্ষ্যে। লাথিটা খুব জোরেই মেরেছিল। আহমদ মুসা তার পা’টা একটু শিথিল করে না নিলে হাঁটুটা ভেঙেই যেত। এভাবে আকস্মিক লাথি খেলে পড়ে যাবার কথা। আহমদ মুসাও পড়ে গিয়েছিল। এমন একটা সুযোগই চাইছিল সে। পড়ে যাওয়ায় সে পেছন থেকে টার্গেট-করা দুই রিভলবারের আওতার বাইরে চলে এসেছে। পড়ে যাওয়ার সময় আহমদ মুসার দেহ মেঝে স্পর্শ করার আগেই তার ডান হাত পকেট থেকে বের হয়ে এসেছে রিভলবার নিয়ে। আহমদ মুসা চিৎ হয়ে পড়ে গিয়েছিল বলে তাকে লাথি মারা লোকটি তার সামনেই ছিল। ‘এবার তুই মর্’ বলে লোকটি তার রিভলবারের ট্রিগার টেপার আগেই আহমদ মুসা তার ট্রিগার টিপে দিয়েছিল। আহমদ মুসার রিভলবারের গুলী ৪০ ডিগ্রী এ্যাংগেলে গিয়ে লোকটির বাম বক্ষ বিদ্ধ করেছে। গুলী খেয়ে তার দেহ ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলেও তার তর্জনিটা রিভলবারের ট্রিগারে ঠিকই চেপে বসেছিল। কিন্তু টার্গেটটা দেহের কম্পনের সাথে কেঁপে গিয়েছিল। গুলীটা আহমদ মুসার মাথার ওপর দিয়ে গিয়ে পেছনে দাঁড়ানো একজন রিভলবারধারীর হাঁটুতে গিয়ে বিদ্ধ করল। লোকটির হাত থেকে রিভলবার পড়ে গেল। সে দু’হাত দিয়ে হাঁটু চেপে ধরে বসে পড়ল। আহমদ মুসা প্রথম গুলী করেই দ্বিতীয় গুলীটি করল সামনে দাঁড়ানো দ্বিতীয় লোকটিকে লক্ষ্য করে। আহমদ মুসা তখনও পড়ে আছে চিৎ হয়ে। দ্বিতীয় গুলী করেই চোখ ফিরিয়ে দেখল পেছনে দাঁড়ানো অন্য লোকটি তার ডান পাশে। লোকটির রিভলবার উঠে এসেছে আহমদ মুসার লক্ষ্যে। আহমদ মুসা তার রিভলবার ঘুরিয়ে নিয়েছে, কিন্তু টার্গেটকে তাক করার সময় নেই। আহমদ মুসার এই চিন্তা যত দ্রুত চলেছে, তার চেয়ে দ্রুত সচল হয়ে উঠেছে তার শরীর। উদ্ধত রিভলবারের ওপর চোখ পড়ার সাথে সাথেই আহমদ মুসার দেহ মিডল ব্যাটে পেটানো ফুলটস ক্রিকেট বলের মতো গড়িয়ে গেল লোকটির দু’পায়ের দিকে। লোকটি গুলী করেছিল। গুলীটি আহমদ মুসার গড়ানো দেহের প্রান্ত থেকে মাত্র ছয় সাত ইঞ্চি দূরে মেঝেকে গিয়ে বিদ্ধ করেছে। যথাসময়ে তার দেহ না গড়ালে গুলীটি তার বাম বুককে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিত। রিভলবারের টার্গেট সরিয়ে নিয়ে লোকটি দ্বিতীয় গুলীর জন্যে ট্রিগারে তর্জনি চাপছিল। কিন্তু তার আগেই আহমদ মুসার গড়ানো দেহ প্রচন্ডভাবে আঘাত করল তার দু’পায়ে। লোকটি হুমড়ি খেয়ে উপুড় হয়ে পড়ে গেল। আহমদ মুসা উঠে বসেছে। লোকটিও পড়ে গিয়েই এক মোচড়ে দেহটাকে ঘুরিয়ে নিয়ে উঠে বসেছে। রিভলবার সে ছাড়েনি। তার রিভলবারও ঘুরে আসছে আহমদ মুসার দিকে। লোকটির চোখে-মুখে বেপরোয়া ভাব। আহমদ মুসার হাতের রিভলবারও উদ্ধত ছিল। বেপরোয়া লোকটিকে সময় দেয়া যাবে না ভেবেই আহমদ মুসা তর্জনি চাপল তার রিভলবারের ট্রিগারে। রিভলবার থেকে বেরিয়ে গেল একটা গুলী। আর তার সাথে সাথেই আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। উঠে দাঁড়িয়ে স্থির হবার আগেই তার দেহটা ঝাঁকুনি দিয়ে কেঁপে উফল। একটা গুলী তার উরুতে এসে বিদ্ধ হয়েছে। গুলীটা বাম উরুর বাম পাশের একটা অংশকে আগ্রাসি এক কামড় দিয়ে কিছু অংশ তুলে নিল। আহমদ মুসার দেহ কেঁপেছে, কিন্তু তার রিভলবার ধরা ডান হাত ও দু’চোখ এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেনি। দু’চোখ ও রিভলবার এক সংগেই ঘুরে গেল শব্দ লক্ষ্যে। আহমদ মুসা দেখল, হাঁটুতে গুলী খাওয়া লোকটিই রিভলবার তুলে নিয়ে তাকে গুলী করেছে। তার দিকে চোখ পড়ার সংগে সংগেই আহমদ মুসা গুলী করল লোকটিকে তাকে দ্বিতীয় গুলী করার সুযোগ না দিয়ে। বসে থাকা লোকটির মাথা গুঁড়ো হয়ে গেল। নিঃশব্দে সে ঢলে পড়ল মেঝেতে। আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়াল সিঁড়ির গোড়ার দিকে। তাকে হয় আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোরে নামতে হবে, নয়তো ওপরে যেতে হবে। সে নিশ্চিত এই বাড়িতেই প্রধান বিচারপতি বন্দী আছেন। ঘুরে দাঁড়াতে গিয়ে সিঁড়ির দিকেও চোখ গেল আহমদ মুসার। দেখল সিঁড়ির মাথায় সেই মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে। তার সাথে সৌম্য দর্শন একজন বৃদ্ধ। লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়ানো। তার বাম হাত সিঁড়ির রেলিংয়ে রাখা। লোকটির মাথার চাঁদিতে ছোট্ট একটা টুপি। তার মানে বৃদ্ধটি ইহুদি, মেয়েটি নিশ্চয় বৃদ্ধটিরই কেউ। তাহলে সেও তো ইহুদি! তারা কি এই কিডন্যাপারদের অংশ? কিন্তু ওরা তো এ্যাকশনে নেই। একই দলের হলে ওরা নির্বিকার দর্শক হবে কেন? একই দলের হলে হয় এ্যাকশনে আসার কথা, নয়তো পালানোর কথা, অথচ তাদের দেখে মনে হচ্ছে শংকিত, বিস্মিত দর্শকের ভূমিকায়। একই বাড়িতে তাহলে এরা কারা? আহমদ মুসার চোখে-মুখে যখন এসব প্রশ্ন, তখন শংকিত, বিস্মিত বৃদ্ধটি বলে উঠল, ‘এসব এখানে কি ঘটছে, কেন ঘটছে, ওরা কারা? আপনি কে?’ এক নিঃশ্বাসে অনেক প্রশ্ন করে থামল বৃদ্ধটি। কণ্ঠে তার শংকা ও উদ্বেগ ঝরে পড়ল। ‘আপনি এই লোকটিকে চেনেন না? এরা তো এই বাড়িরই লোক মনে হচ্ছে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘না, এদের আমি চিনি না। আমি ওপর তলায় থাকি। নিচ তলাটা আমি ভাড়া দিয়েছি ডেভিড ইয়াহুদ নামে একজন ভদ্রলোককে অফিস করার জন্য। তারা কয়েকদিন হলো এখানে বসছেন।’ বলল বৃদ্ধটি। ‘ডেভিড ইয়াহুদকে আপনি কতদিন ধরে চেনেন?’ আহমদ মুসার জিজ্ঞাসা। ‘জার্মানিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আমি পড়ি, তখন সে ছাত্র ছিল সেখানে।’ বৃদ্ধটি বলল। বৃদ্ধ থামতেই মেয়েটি ফিস ফিস করে তাকে কিছু বলল। শুনেই চমকে উঠল বৃদ্ধটি। বিস্ফোরিত চোখে তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল বৃদ্ধটি চিৎকার করে, ‘প্রধান বিচারপতিকে ওরা কিডন্যাপ করে এখানে এনেছে, এটা নাকি আপনি বলেছেন? কি ঘটনা?’ ‘জি, ওরা আজ প্রধান বিচারপতিকে কিডন্যাপ করে এখানে এনেছে। আমরা নিশ্চিত জেনেই তাকে উদ্ধারের জন্যে এসেছি।’ বলল আহমদ মুসা। ‘তাঁর মানে প্রধান বিচারপতি এখন আমার এই বাড়িতে বন্দী আছেন!’ কম্পিত কণ্ঠে বলল বৃদ্ধটি। ‘আমি তাই মনে করি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ওপরের তলায় নেই, আমি ওপরে থাকি বলে নিশ্চিত করে বলতে পারি। তাহলে নিচ তলায় আছেন। চলুন দেখি।’ বলল বৃদ্ধটি। ‘বাবা, কিন্তু উনি তো আহত। ঊরুতে গুলী লেগেছে ওনার।’ বলল মেয়েটি। মেয়েটির হাতে তখনও কয়েকটি বই। ‘ঠিক তো। যাও, তুমি গিয়ে ফার্স্ট এইড বক্সটা নিয়ে এসো। আমি নিচে নামছি।’ বলল বৃদ্ধটি। ‘না, এসব এখন নয়। আসুন, আগে প্রধান বিচারপতির সন্ধান করি। ওটাই বেশি জরুরি।’ ‘জরুরি অবশ্যই। সাধারণ ব্যান্ডেজে সময় বেশি লাগবে না।’ বলল মেয়েটি। ‘আমার হাঁটুতে ক্রেপ গার্ডার আছে। আমি ওটা টেনে ওপরে তুলে নিয়েছি। অন্তত রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে এতে।’ বলল আহমদ মুসা। বৃদ্ধটি এক হাতে সিঁড়ির রেলিং ধরে অন্য হাতে লাঠিতে ভর দিয়ে নিচে নেমে এলো। তার সাথে মেয়েটি নেমে এলো। আহমদ মুসাও সিঁড়ির গোড়ায় চলে এসেছে। বৃদ্ধ ও মেয়েটি এসে তার সামনে দাঁড়াল। বৃদ্ধটি বলল, ‘আমি ডেভিড হারজেল। বসফরাস কলেজ অব টেকনোলজি থেকে আমি রিটায়ার করেছি। ফিজিক্স পড়াতাম। তবে অধ্যাপনা নয়, ব্যবসায় ছিল মূল নেশা। এখন ব্যবসাটা কর্মচারীরা দেখে।’ আর বৃদ্ধ মেয়েটিকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে বলল, ‘আমার মেয়ে হান্নাহ হাগেরা, বসফরাস কলেজ অব টেকনোলজি ছাত্রী। কলেজ-হোস্টেলেই সে থাকে।’ ‘আপনি বোধ হয় কলেজেই ফিরে যাচ্ছিলেন?’ আহমদ মুসা বলল মেয়েটিকে লক্ষ্য করে। ‘কি করে বুঝলেন?’ বলল মেয়েটি। তার বিস্ময় ভরা দৃষ্টি আহমদ মুসার দিকে। ‘কয়েকটি বই হাতে নিয়ে আপনি নামছিলেন।’ আহমদ মুসা বলল। মেয়েটি হাতের বইগুলোর দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, ‘ভুলেই গিয়েছিলাম বইগুলোর কথা। এই জরুরি বইগুলো নেয়ার জন্যে আধ-ঘন্টা আগে বাসায় এসেছিলাম। ফিরতে গিয়েই এই সাংঘাতিক ঘটনার মুখে পড়লাম।’ ‘সাংঘাতিক ঘটনা না ঘটিয়ে উপায় ছিল না। চলুন, আমরা দেখি।’ বলে আহমদ মুসা চলতে শুরু করল লিফটের দিকে। তার পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল হান্নাহ হাগেরা ও বৃদ্ধ ডেভিড হারজেল। আহমদ মুসা গিয়ে দাঁড়াল লিফটের সামনে। নিচে নামার জন্যে ডাউন বাটনে চাপ দিল, কিন্তু লাইট ইনডিকেটর জ্বলল না। লিফটের দরজার চারদিকটা একবার দেখল আহমদ মুসা। তারপর টপে ফ্লোর ইন্ডিকেটরের ডান পাশে প্রায় অদৃশ্য একটা বোতামের ওপর চাপ দিল। সংগে সংগেই ডাউন মুভিং ইন্ডিকেটরে আলো জ্বলে উঠল। বৃদ্ধ ডেভিড হারজেল নিরবে আহমদ মুসার কাজ দেখছিল। তার চোখে-মুখে বিস্ময়! লিফটের মুভিং ইন্ডিকেটর যে বিদ্যুৎ কানেকশনের অভাবে কাজ করছে না, তা বুঝল কেমন করে? প্রায় অদৃশ্য বাটন সে খুঁজে পেল কেমন করে এত দ্রুত? আর টপ ফ্লোর ইন্ডিকেটরের দু’পাশেই অনুরূপ বাটন আছে, কিন্তু ডান দিকের বাটনটাই চাপল কেন? এসব প্রশ্ন ও একরাশ বিস্ময় নিয়ে বৃদ্ধ ডেভিড হারজেল বলল, ‘ফ্লোর ইন্ডিকেটরের দু’পাশেই অনুরূপ বাটন আছে। আপনি কি করে বুঝলেন ডান পাশের বাটন টিপলেন লিফট বিদ্যুৎ কানেকশন পাবে?’ ‘এ ব্যবস্থা আপনারাই করে রেখেছেন। বাম বাটনের সারপেসের দিকটি দুই অর্ধবৃত্তে বিভক্ত এবং ডানেরটি বিভক্ত নয়। এতেই বামেরটি ডিসকানেক্ট, আর কানেক্ট করার বাটন।’ আহমদ মুসা বলল। ‘অসাধারণ আইকিউ আপনার! এ পর্যন্ত কেউই না বলে দিলে এই গোলকধাঁধাঁ ভাঙতে পারেনি। আপনার কাছেই প্রথম এই গোলকধাঁধাঁ পরাজিত হলো।’ বলল বৃদ্ধ। ‘শুধু আই কিউ নয়, লড়াইতেও অসাধারণ! উনি যে অবস্থায় পড়েছিলেন, তাঁর বাঁচা অবিশ্বাস্য ছিল। কিন্তু উনি শুধু বাঁচেননি, যাদের পরাজয় অকল্পনীয় ছিল, তারা সবাই মরেছে ওনার হাতে।’ মেয়েটি বলল। ‘আসুন’ বলে লিফটে প্রবেশ করল আহমদ মুসা মেয়েটির কথা শেষ হবার আগেই। ডেভিড হারজেল ও হান্নাহ হাগেরা লিফটে প্রবেশ করল। প্রথমে তারা সার্চ করল আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোর ওয়ান। লিফট ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোর ওয়ান’- এ পৌঁছলে আহমদ মুসা বৃদ্ধ ও মেয়েটিকে লিফট থেকে নামতে অনুরোধ করে লিফট লক করে পরে নিজে নামল। ‘লিফট লক করার দরকার হলো কেন?’ জিজ্ঞাসা ছিল বৃদ্ধ ডেভিড হারজেলের। ‘যাতে অন্য কোন ফ্লোর থেকে কেউ লিফট ব্যবহারের সুযোগ না পায়।’ আহমদ মুসা বলল। ‘বুঝেছি, আর ইতোমধ্যে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোর-টু’ থেকে কেউ পালাতে না পারে, এজন্যেই এ ব্যবস্থা। আপনি অনেক দূরের ভবিষ্যতকেও দেখেন।’ বলল হান্নাহ হাগেরা। ‘এটা ভবিষ্যত দর্শন নয়। ভবিষ্যত স্রষ্টা ছাড়া আর কেউ জানেন না। আমি যেটা করেছি সেটা কমনসেন্সের ব্যাপার।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোর ওয়ান’ কতকগুলো প্রায় ফাঁকা কক্ষের সমষ্টি। সব কক্ষেই অনুসন্ধান হলো, কিন্তু কিছুই মিলল না। অফিস ঘরের টেবিলে একটা নোট-শিট পেল। আজকের তারিখ দেয়া ওপরের শিটটাতেই শুধু বিক্ষিপ্ত কিছু লেখা। শিটটা ছিঁড়ে আহমদ মুসা পকেটে পুরল। বলল মেয়েটি ও বৃদ্ধকে লক্ষ্য করে, ‘এ ফ্লোরটি বন্দী কাউকে রাখার উপযুক্ত নয়। চলুন, নিচের ফ্লোরটি দেখি।’ বলে আহমদ মুসা লিফটের দিকে পা বাড়াল। সবাইকে নিয়ে লিফট নেমে এলো ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোর-টু’ মানে আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোরের সবচেয়ে নিচের তলায়। লিফট থেকে ডেভিড হারজেল ও হান্নাহ হাগেরা নেমে গেলে আহমদ মুসা লিফট লক করে বেরিয়ে এলো। নিচের ফ্লোরটির অর্ধেকটাই ফাঁকা। বাকি অংশের তিন দিকে সারিবদ্ধ কেবিন। এর পরেই মাঝখানে রয়েছে প্রশস্ত অনেকখানি জায়গা। ‘এখানে অল্পক্ষণ আগেও লোক ছিল, এখন নিশ্চয় নেই।’ আহমদ মুসা বলল। ডেভিড হারজেল হাঁটতে হাঁটতেই তাকাল আহমদ মুসার দিকে। তার চোখে-মুখে প্রশ্ন। বলল, ‘কেন বলছেন এ কথা?’ আহমদ মুসা কেবিনগেুলোর দরজা খুলে দেখছিল। সব কেবিনের দরজা বন্ধ, কিন্তু লক করা নয়। এক প্রান্তের একটা কেবিনের দরজাই শুধু খোলা। আহমদ মুসা সে দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। বলল ডেভিড হারজেলের প্রশ্নের জবাবে, ‘খেয়াল করে দেখুন, পাতলা একটা সুগন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এই ফরাসি মৃগনাভির সুগন্ধ আমি আপনাদের গেটে এর চেয়ে বেশি পরিমাণে পেয়েছি। আমার বিশ্বাস এখানকার সুগন্ধের উৎস আগের, গেটেরটা পরের। তুরস্কের প্রধান বিচারপতি এই সুগন্ধ ব্যবহার করেন, এটা আমি তার লাইফ-ডসিয়ার থেকে জানি। ইন্টারনেটে এই লাইফ-ডসিয়ার আছে।’ ‘আপনার এই অনুমান প্রশংসনীয়, কিন্তু এতটুকুতেই কি বলা যায় প্রধান বিচারপতিকে এখানে আটকে রাখা হয়েছিল? ফরাসি ঐ মৃগনাভি অনেকেই ব্যবহার করেন, এটাই স্বাভাবিক।’ বলল হান্নাহ হাগেরা। ‘আপনার কথাও ঠিক।’ বলে আহমদ মুসা খোলা দরজা দিয়ে কেবিনে প্রবেশ করল। ডেভিড হারজেল ও হান্নাহ হাগেরাও কেবিনের দরজায় এসে পড়েছে। কেবিনটির খাটের এদিকের পায়ার পাশে পড়ে থাকা একটা চকচকে ছোট্ট জিনিসের দিকে আহমদ মুসার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। আহমদ মুসা গিয়ে ওটা তুলে নিল। জিনিসটার ওপর চোখ বুলিয়েই আহমদ মুসা একটু উচ্চ স্বরে বলে উঠল, ‘হ্যাঁ, মি. ডেভিড হারজেল, প্রধান বিচারপতি এখানে ছিলেন। তার চিহ্ন তিনি এখানে ফেলে রেখে গেছেন।’ ডেভিড হারজেল ও হান্নাহ হাগেরা দু’জনেই জিনিসটা তুলে নেয়াকে উৎসুকের দৃষ্টিতে দেখছিল। বলল হান্নাহ হাগেরা দ্রুত কণ্ঠে, ‘কি ওটা পেলেন?’ আহমদ মুসা জিনিসটা তাদের দিকে তুলে ধরে বলল, ‘বিচারপতির মনোগ্রামের কোটপিন। বিচারপতিরা এটা পরেন।’ ডেভিড হারজেল ওটা দেখে বলল, ‘ঠিক বলেছেন। এটা বিচারপতিদের কোটপিন।’ বলার সাথে সাথে বৃদ্ধ ডেভিড হারজেলের মুখটা কঠোর হয়ে উঠল। বলল, ‘ওরা আমার বাড়িকে সন্ত্রাসের আড্ডা বানিয়েছিল! ডেভিড ইয়াহুদকে আমি প্রতিভাবান একজন ভালো মানুষ মনে করতাম।’ মুহূর্তের জন্যে একটু থেমেই আবার বলে উঠল, ‘কিন্তু তাঁকে নিয়ে এসেই আবার সরিয়ে নিল কেন?’ ‘ওরা বুঝতে পেরেছিল, তাদের এই আড্ডার ঠিকানা আমরা পেয়ে গেছি।’ বলল আহমদ মুসা। ‘আপনারা কে? আপনার পরিচয় কিন্তু জানা হয়নি।’ জিজ্ঞাসা ডেভিড হারজেলের। ‘আমি খালেদ খাকান। আমি আপনাদের পুলিশকে সাহায্য করছি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আপনার নাম বললেন, পরিচয় কিন্তু বললেন না। আপনি পুলিশ এটুকু মাত্র বোঝা গেছে।’ বলল হান্নাহ হাগেরা। ‘প্লিজ এসব কথা পরে হবে। এখন উদ্বেগজনক হলো অসুস্থ প্রধান বিচারপতি কোথায় কিভাবে আছেন! তাকে অবিলম্বে উদ্ধার করতে না পারলে তার ক্ষতি হতে পারে।’ আহমদ মুসা বলল। আহমদ মুসার গম্ভীর কণ্ঠে উদ্বেগ ঝরে পড়ল। ডেভিড হারজেল ও হাগেরার চোখে-মুখে উদ্বেগের ছায়া খেলে গেল। বলল ডেভিড হারজেল, ‘কিন্তু তারা প্রধান বিচারপতিকে কিডন্যাপ করেছে কেন? তাকে নিয়ে তারা কি করবে? আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।’ ‘এর উত্তর দিতে হলে অনেক কথা বলতে হবে। শুধু এটুকু জেনে রাখুন, ওরা বিদেশের স্বার্থে গোপনে কাজ করেন। রোমেলী দুর্গের ল্যাবরেটরী অব টেকনোলজিকে ওরা ধ্বংস করতে চায়। ওরা ল্যাবরেটরীর প্রধান বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসিকে কিডন্যাপ করেছিল। তাকে উদ্ধার করা হলে ওরা সুযোগ পেয়ে চীফ জাস্টিসকে কিডন্যাপ করেছে। সম্ভবত পণবন্দী হিসেবে কিংবা প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে ওরা প্রধান বিচারপতিকে হত্যাও করতে পারে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘সাংঘাতিক ঘটনা! কিন্তু প্রধান বিচারপতিকে ওরা সরিয়ে নিয়েছে। কোথায় পাওয়া যাবে ওদের?’ উদ্বেগে ডেভিড হারজেলের কণ্ঠ কাঁপছিল। ভাবছিল আহমদ মুসা। বলল, ‘ওরা বেশিক্ষণ আগে যায়নি প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে। ওরা চারজনকে পেছনে রেখে গিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্য পেছনটা নিরাপদ রাখা এবং তাদের এ ঘাঁটির সন্ধান সত্যিই কেউ পেয়েছে কিনা, কেউ আসে কিনা, সেটা দেখার জন্যে। আমার ধারণা তাদের এখান থেকে পালানোর সময় আধা ঘন্টার বেশি হবে না।’ ভ্রু কুঞ্ছিত হয়ে উঠেছিল হান্নাহ হাগেরার। আধা ঘন্টা আগে বাড়িতে আসার সময় ঠিকই সে দেখেছিল দু’টি গাড়িকে তাদের বাড়ি থেকে চলে যেতে। সামনে একটা মাইক্রোবাস ছিল, পেছনে একটা জীপে ছিলেন ডেভিড ইয়াহুদ আংকেল। তাহলে কি প্রধান বিচারপতিকে নিয়েই তারা পালাচ্ছিলেন ঐ সময়! বুকটা কেঁপে উঠল হান্নাহ হাগেরার। বলল সে, ‘হ্যা, আধা ঘন্টা আগে আমি বাড়িতে আসার সময় দু’টি গাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে যেতে দেখেছি। একটা মাইক্রো, অন্যটা জীপ। জীপ চলাচ্ছিলেন ডেভিড ইয়াহুদ আংকেল নিজে।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৭ বাকি অংশ (শেষ)
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৭
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৬
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৫
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৪
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৩
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ২
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now