বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বসেন_বসেন_বসে_যান-২

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান R.H (dangeor-virus) (০ পয়েন্ট)

X #পর্ব_দুই এরপর আবার মহিলা শিল্পীর শাড়ীর আঁচল পরে যাবে। ঘামে ভেজা ব্লাউজ দেখে তখন বাবা ভক্তদের কামনা চরমে। মহিলা শিল্পী আবারো শাড়ীর আঁচল তুলে বলবেন," বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।" এই হচ্ছে আমাদের দেশের মারফতি আর ভাণ্ডারিদের ইসলাম। এরপরেই শুরু হবে গান। আকাশটা কাপছিলো কেন দিয়ে শুরু হবে গানের মাধ্যমে ইবাদতে আসর। যখন মাঝরাত হবে তখন শুরু হবে গানে গানে যুক্তিখন্ডন। যুক্তিগুলো এরকম - " মনের নামাজ বড় নামাজ; দেহের নামাজ পরে কি লাভ?" তারপর আরেকটা যুক্তি হচ্ছে- " মনের পর্দা বড় পর্দা দেহের পর্দা তুলো রে।" আমার এই যুক্তিটা সবচেয়ে বেশী মজা লাগে। একবার দেখেছিলাম মহিলা শিল্পী দেহের পর্দা তুলতে বলে নিজের বুক থেকে শাড়ীর আঁচলই ছুড়ে ফেলেছেন। থাক আর বলবো না বাবার মুরিদদের নিয়ে। নয়তো কখন আমাকেই মেরে তাদের বাবাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তবে তেতো হলেও সত্য ইসলামে কোন কিছু চাইতে হলে আল্লাহর কাছে চাইতে হয়; নবী(স) এর কাছেও না। সেখানে এরা দোয়া চায় বাবাদের কাছে। নতুন কিছু বলার আগে একটা মজার বিরহের গল্প বলি- কয়েক মাস আগের ঘটনা। আমার বন্ধু শাহেদের বিয়ের ব্যপারে আলাপ কর‍তে ওর প্রেমিকার বাসায় গেলাম। প্রেমিকার বাবা প্রায় এক বাক্যে রাজী।মেয়ের ইচ্ছেই সব তার কাছে। আমরা সবাই একসাথে খেতে বসলাম। খাওয়ার ফাঁকে এক পর্যায়ে প্রেমিকার বাবা শাহেদকে জিজ্ঞেস করলেন," মেট্রিক কোথায় থেকে পাস করেছো?" -" ও লেভেল আর এ লেভেল দু'টোই করেছি স্কলাস্টিকা থেকে।" শাহেদের উত্তর শুনে প্রেমিকার বাবা চমকে গেলেন। একগাদা রাগ নিয়ে বললেন," খেয়ে সোজা বের হয়ে যাও।কোন নাস্তিকের কাছে আমার মেয়ে বিয়ে দেবো না।" শাহেদ বুঝতেই পারলো না কি থেকে কি হলো? আসলে আমাদের সমাজে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তার মাঝে একটা হলো-" যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে কিংবা পড়েছে তারা খারাপ। তারা নাস্তিক।তারা অশ্লীল।ব্লা ব্লা ব্লা।" অথচ বেচারা শাহেদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পড়তে কপালে দাগ পরে গেছে। শুধু এটাই নয় আরো কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অবশ্য বেশীরভাগই মেয়েদের নিয়ে।যেমন- * গ্রাম থেকে আসা ঢাকায় পড়তে আসা মেয়েরা ঢাকার আবাসিক হোটেলে দেহ বিক্রি করে। তার মানে বাংলাদেশের আবাসিক হোটেলেগুলোই হচ্ছে স্কুল কলেজ ভার্সিটি। সিরিয়াসলি? * হোস্টেলে থাকা মেয়েরা নোংরা হয়।লেসবিয়ানও হতে পারে। তাদের হোস্টেলে বেগুন ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। তবু এই ধারণার প্রবক্তারা স্বীকার করবে না তারা লেসবিয়ান পর্ণ দেখতে দেখতে হোস্টেলের মেয়েদের প্রতি এই রকম চিন্তা ভাবনার জন্ম দিয়েছে। * যারা ইউরোপ আমেরিকায় থাকে তারা আন্ডারওয়্যার অথবা বিকিনি পরে থাকে সব সময়।নাস্তিকতায় বিশ্বাস করে। তাইলে স্যুট টাই,গ্রাউন এসবের জন্ম কারা দিছে? অথচ খিস্ট্রান ধর্ম,ইহুদী ধর্ম এমন কি সেখানে মুসলিম ধর্মও রয়েছে। * জিন্স পরা মেয়েরা বাজে ধরণের হয়। তার মানে মেয়েদের চরিত্র মাপার স্কেল হলো- কাপড়। * যেসব ছেলে মেয়েরা দেশের বাইরে পড়ালেখা করতে যায়; তারা সেখানে নেশাপানি করে। বাংলাদেশে কি ড্রাগসের অভাব পরছে? * কোন অবিবাহিত মেয়ে যদি অফিস থেকে সন্ধ্যার পরে বাসায় ফিরে; তাহলে সে প্রেমিকের সাথে ফষ্টিনষ্টি করছিলো। ঢাকার জ্যাম আর পরিবহন সংকট এর ব্যপারটা তবে গুজব। * কোন বিবাহিত মেয়ে যদি অফিস থেকে সন্ধ্যার পরে বাসায় ফিরে তবে তার কলিগের সাথে পরকিয়া সম্পর্ক রয়েছে। এক্ষেত্রেও ঢাকার জ্যাম আর পরিবহন সংকট এর ব্যপারটা গুজব। * আমি অফিস অফিস করছি অথচ অনেকে তো মেয়েদের কাজ করাটাই ভালো চোখে দেখেন না। তাদের কথা হলো-" মাইয়া মাইনষের আবার অফিস কি? ঘরের কাম করলেই পারে?" কে বোঝাবে এদের আজকাল একজনের ইনকামে সংসার চলে না। ধারণাবাদীদের কাছ থেকে এবার ফিরে আসি আজাইরাবাদীদের কাছে। তার আগে একটা গল্প শুনুন- আমাদের এলাকার মুরুব্বী শাজাহান শিকদার তিনবার হজ করেছেন। পেশায় রিটায়ার্ড হাবিলদার। দু'টো ছয়তলা বাড়ী তার।তিনবার হজ করেছেন বলে তার গর্বের সীমা নেই। তার একটা সমস্যা হলো তিনি মানুষকে ছোট করে দেখেন। তুই তুগারি ব্যবহার করেন। হাবিলদার ছিলেন কিন্তু নিজেকে আইজিপি ভাবেন। মহল্লার রাস্তায় বোরখা ছাড়া মহিলা দেখলেই বলবেন," এই মা* তোর বোরখা কই? বোরখা ছাড়া যেন আর না দেখি।" স্কুলে কলেজে পড়া বাচ্চা মেয়েদের দেখলেই বলবেন," স্কুলে রূপ দেহাইতে যাও নাকি পিরিত করতে যাও? ঠোঁটে লাল লাল কোন বা* লাগাইছো?" মেয়েগুলো কথাগুলো শুনে আবার মাথা নিচু করে হেটে যায়। আর যদি কোন হিন্দু লোক শাজাহান সিকদারের সামনে পরে যায়; তাকে মালাউনের বাচ্চা গালিটা না দিয়ে তিনি ছাড়বেন না। কেউ কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারে না। শাজাহান সিকদারের আবার উপর মহলে বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এই যখন অবস্থা তখন হুট করে একদিন শুনি শাজাহান সিকদারের মেয়ে এক হিন্দু ছেলের সাথে পালিয়েছে। তার কিছুদিন পর আবার জানতে পারি তার বড় ছেলে এক নামকরা মডেল ও অভিনেত্রীকে বিয়ে করেছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আরো খবর আছে। সর্বশেষ কিছুদিন আগে তার ছোট ছেলেকে পুলিশ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে। আসলে আমাদের দেশের ধর্মীয় সমাজ ব্যবস্থা শাজাহান সিকদারের মতো লোকদের হাতেই বন্দী।যাদের নিজেদের ঘরে ধর্মের কোন বালাই নেই। সারা জীবন দূর্নীতি করা কামাই দিয়ে হজ করে। তাদের কাছ থেকে আমাদের ধর্মের কথা শুনতে হয়। গ্রামে গঞ্জে গেলেই দেখা যায় বহু সুদ ব্যবসায়ী সুদের টাকা দিয়ে হজ করে এসেছে। এরকম কিছু লোকদের জন্য ভালো হাজীদের দিকেও মানুষ সন্দেহর দিকে তাকায়। লালশালুদের নিয়ে গল্প অনেক হলো। এবার একটু নীলশালুদের কাছে আসি। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একজন নামকরা লেখকের নির্মিত দেশপ্রেমের মুভি দেখছিলাম। মুভির আগাগোড়া কিছুই না বুঝলেও এটুকু বুঝেছিলাম দেশপ্রেমের ছবি মানে দাঁড়ি আর টুপিওয়ালা ভিলেন। ধর্ষণ করছে দাঁড়িওয়ালা পাক বাহিনী আর রাজাকার ,খুন করছে দাঁড়িওয়ালা পাক বাহিনী আর রাজাকার। আচ্ছা ৭১ এ ক'জন রাজাকার আর হানাদার বাহিনীর দাঁড়ি ছিলো? মুভি দেখার পর মনে হচ্ছিলো মাওলানা ভাসানীও তবে ভিলেন। কারণ তার দাঁড়ি ও টুপি আছে। কাল তো বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দেখার সময় সাকিব আল হাসানরেও রাজাকার মনে হয়েছিলো। কারণ সেও দাঁড়ি রেখেছে। আচ্ছা দাঁড়ি আর টুপি দিয়ে কি মানুষ মাপা যায়? বলা যায় সে রাজাকার নাকি মুক্তিযোদ্ধা? নারীবাদী নিয়ে একটা মজার ঘটনা বলি। ক্লাশের এসাইনমেন্টের ড্রাফট ফাইলটা দেখানোর জন্য ডিপার্টেমেন্টের অর্চনা ম্যাডামের কাছে গিয়েছিলাম। আমি গিয়ে দেখি ম্যাম মোবাইলের দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমি বললাম," ম্যাম আসবো?" -" আরে খান যে। আয় আয়। " আমি ভেতরে প্রবেশ করে ম্যামকে ড্রাফট ফাইল দিয়ে বললাম," ম্যাম সময় পেলে এসাইনমেন্টের ড্রাফটা একটু দেখে দিয়েন।" -" রেখে যা। কাল নিয়ে যাস।" বলেই ম্যাম আবার হাসতে লাগলেন। আমি না পেরে জিজ্ঞেস করলাম," ম্যাম একটা কথা জিজ্ঞেস করি?" -" কর।" -" মোবাইলে কি দেখে এতো হাসছেন?" -" আমার বান্ধবীর মেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে নারীমুক্তির অন্তরায় হলো বোরখা। বোরখা পরা যেদিন থেকে বন্ধ হবে সেদিন থেকে নারীরা মুক্তি পাবে।" ম্যাম একটু হেসে আবার বললেন," বিসিএস দিয়ে ক্যাডার হলাম,বাইরে গিয়ে পিএইচডি করলাম। কতো শত রিসার্চ করলাম। আমিই জানলাম না নারী মুক্তি কিসে মিলে। আর সবে ভার্সিটিতে পা দেয়া মেয়ে তা জানে। না হেসে উপায় আছে? নারীবাদীরা আজকাল পুরুষ আর বোরখা বিরোধী হয়ে গেছে ।" নারীবাদী নিয়ে বলতে গেলে আমি বলবো," এ যুগের সদ্য জন্ম নেয়া মেয়েটাও নিজের ফেসবুকের বায়োতে লিখে রাখে FEMINIST। অথচ আজকাল সিংহভাগ নারীবাদীরা নারীদের অধিকার ও সুযোগ সুবিধা নিয়ে ভাবে না। তাদের কাজ হলো বোরখা বিরোধী মন্তব্য করা আর পুরুষদের বিরুদ্ধে খোচামূলক মন্তব্য করা। তাই তো শহরের বাসে সংরক্ষিত ছয় থেকে নয়টি মহিলা সীটেও পুরুষরা বসে থাকে। অথচ একটু নারীদের নিয়ে ভাবলেই বাসের অর্ধেক সীট বরাদ্দ হতে পারে নারীদের জন্য। শুধু নারীদের নিয়ে একটু ভাবলেই কুমিল্লার তনু সেদিন বাসায় ফিরতো কিংবা খুনীদের বিচার হতো। আজ শুনলাম চিটাগাং এর তাসফিয়া আত্মহত্যা করেছে। আসলেই কি বিশ্বাসযোগ্য? সিএনজিতে চরে কেউ আত্মহত্যা করতে যায়? আমরা আমজনতারা খুব খারাপ। আমরা নারীদের নিয়ে ভাবি না। অথচ নারীবাদীরাও যদি নারীদের নিয়ে একটু ভাবতো তাহলে কোন ধর্ষক দিব্যি হাওয়া খেয়ে ঘুরে বেড়াতো না। জয় হোক ফেমিনিজমের! জয় হোক মানবতার! বেলাশেষে ঘরে ফিরুক আমার তোমার সবার মা,বোন এবং প্রিয়তমা।" এখন মজার ব্যপার হলো এই- গতো পর্বে লালশালুদের (ভণ্ড হুজুর) বিপক্ষে লিখার জন্য অনেকেই বাহবা দিয়েছে। আজ এই পর্ব পড়ার তারাই আমাকে আজ মৌলবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করবে। আর আমি তাদের এটুকুই বলবো," গল্প এখনো বাকী রয়েছে। তাই আপনারা বসেন বসেন বসে যান।" #চলবে.... ( সমস্ত গল্প, ঘটনা ও চরিত্র কাল্পনিক। বাস্তবতার সাথে কোন মিল নেই।কোন অংশ বা পুরো গল্প এবং কোন চরিত্র কোন ব্যক্তি বা কোন ঘটনার সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ী নয়। শুকরিয়া। )


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বসেন_বসেন_বসে_যান-২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now