বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বসেন_বসেন_বসে_যান----১

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান R.H (dangeor-virus) (০ পয়েন্ট)

X #পর্ব_এক " ওই মাতারি কি জান্নাত পাবে? পাবে না।" হুজুরের এমন কথা শুনে আমার ইচ্ছে ছিলো বিছানা থেকে উঠে গিয়ে নিচে নেমে ঘন্টা দুয়েক পিটিয়ে আসি। পরে ইচ্ছেটা বাদ দিলাম। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মানে হয় না। আমি ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু মাইক থেকে এবার ভেসে আসলো," মাতারি ন্যাংটা হইয়া ঘুরবো,দু* দেখাইবো,পা* দেখাইবো। আর পোলাপান তাকাইলে নাকি মাতারির সমস্যা।" হুজুরের এমন ওয়াজ শুনে আমার এবার আর রাগ আসলো না। একজন বিখ্যাত চটি লেখক রসময় গুপ্তের নাম মনে পরে গেলো। ফারাক এই রসময় গুপ্ত চটি গল্প লিখতেন; আর এই ভণ্ড হুজুর চটি গল্প শোনাচ্ছেন। আর সহ্য করতে পারলাম না। কয়েকটা পলিথিনে পানি ভরলাম। ছোট ভাইকে নিয়ে ছাদে উঠলাম। এরপর হুজুরের স্টেজ লক্ষ্য করতে ছুড়তে লাগলাম। অবশ্য আমি ব্যর্থ হলাম। দু'টো পোটলা হুজুরের মাথায় পরার পরেও হুজুর দমলেন না। আধা ঘন্টা বিরতি নিয়ে তিনি পুনরায় ওয়াজ করা শুরু করলেন। শীতকাল আসি আসি করছে। শীতকালে যেমন বাজারে হরেক রকম সবজি উঠে বাজারে; তেমনি হরেক রকম হুজুরের আমদানি হয়। সবাই যে খারাপ তা না; কিন্তু ভালোর সংখ্যা বিপন্ন প্রাণীর মতো কম। সেই হুজুরদের গল্প বলার আগে আরো একটা মজার ঘটনা বলি- গতো শীতে আমার এক বন্ধু বিয়ে করলো। রাত বারোটার সময় বন্ধুকে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আমি আমার বাসায় চলে আসলাম। রাত তিনটার দিকে সেই বন্ধু কল দিয়ে বলছে," তোর বাসার নিচে বিড়ি টানছি। নাম।" আমি তো অবাক। জলদি নিচে নেমে জিজ্ঞেস করলাম," তোর আজকে বাসর রাত। নতুন বউ এর সাথে ইস্ক-মহব্বত করবি।তুই আমার বাসার নিচে কি করিস?" বন্ধু সিগারেটে একটা কষে টান দিয়ে বললো," সবে গিয়ে নতুন বউ এর ঘোমটা তুলবো এমন সময় জানালা দিয়ে আওয়াজ আসলো ' এ যুগের পোলাপান বউ পাইলে মায়েরে ভুইলা যায়। শালী পাইয়া বোইনরে ভুইলা যায়। ও মাবুদগো এমনি করলে কি দুনিয়া চলবে?' জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি পাশের রাস্তায় ওয়াজ চলছে।মাইক দিয়ে হুজুরের বয়ান ভেসে আসছে। এমন ওয়াজ শোনার পর আর কেমনে বাসর রাত করি? ভাবলাম একটু পর ওয়াজ থেমে যাবে। কিন্তু কিসের থামা কিসের কি?এখনো ওয়াজ চলছে। আর হুজুর তিন ঘন্টা ধইরা বউ নিয়াই ওয়াজ করতাছে।" আমার বেশ হাসি পেলেও ব্যপারটা আসলেই সিরিয়াস। আপনি বিয়ে করে বাসর রাতে বউ এর ঘোমটা তুলতে যাবেন এমন সময় কেউ যদি বউ আর মা'র তুলনা নিয়ে বসে; তখন আর যাই হোক বাসর রাত করা যায় না। এবার আসি শীতকালীন হুজুরদের কাছে। শীতকাল এলেই শহরের রাস্তাঘাট দখল করে শুরু হয় ওয়াজ মাহফিল। আর এইসব ওয়াজে হুজুরদের বক্তব্য থাকে কয়েকটি জিনিস নিয়ে। মা আর বউ,নারীর পর্দা আর স্টার জলসা। এর বাইরে তারা ভুলেও অন্য কোন টপিক নিয়ে আলোচনা করে না।অথচ দেশপ্রেম,সততা,নামাজ,রোজার মতো সিরিয়াস বিষয়গুলো তাদের দৃষ্টিগোচর হয় না। মুসলমানের ঘুমও ইবাদত। ঘুমের দোয়া পরে ঘুমালেই হলো। এছাড়া রাত জেগে আরো ইবাদত আছে। যেমন - নফল নামাজ,তাহাজ্জুদের নামাজ। কিছু জন্মগত মুসলিম আছে তারা এসব ইবাদত রেখে ওয়াজের স্পনসর করবে। আর কর্মজীবী মানুষের রাতের ঘুম হারাম করবে। অথচ ইসলামে সাফ সাফ বলা আছে - ' কারো ঘুমের সমস্যা হলে কোরআন শরীফ আস্তে পাঠ করতে হয়।' কে বোঝাবে এদের? বোঝাতে গেলেই আপনি কাফির!আপনি নাস্তিক! সারারাত জেগে বসেন বসেন বসে যান কোন ধরণের ইবাদত আমি আজও জানতে পারলাম না। কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় সারারাত ব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হলো। রাস্তাঘাট বন্ধ করে সাজানো হলে স্টেজ। রাত দু'টোর সময় হুজুর তখন মা আর বউ নিয়ে বিশদ বক্তব্য দিচ্ছেন। এমন সময় একটা এমবুলেন্স আসলো। পেছনের লাইনের এক মহিলার প্রসব বেদনা উঠেছে। তার স্বামী এমবুলেন্স কল করেছে। কিন্তু আবেগপ্রবণ বাঙালী মুসলমান জান্নাত পাবার জন্য রাস্তাঘাট বন্ধ করে ওয়াজের স্টেজ বানিয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো-' একজন মা এবং নবজাতকের জন্মের জন্য রাতের বেলা রাস্তা ফাঁকা থাকাটা জরুরী নাকি রাস্তা দখল করে ওয়াজ হওয়াটা জরুরী? ' এতোক্ষণে হয়তো অনেকেই ইট পাথর নিয়ে রেডি হয়ে গেছেন। কেউ কেউ নাস্তিক নাস্তিক বলে গালি দিতে দিতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছেন। কিন্তু আমার কথা হলো ভিন্ন। আমি রাত জেগে ওয়াজ শুনতে চাই না কিংবা বিজয় দিবসের গানও শুনতে চাই না; কোন পূজা অর্চনা বা মন্দিরের ঘন্টা শুনতে চাই না। আমি ঘুমাতে চাই। যাতে ভোরে উঠে ফজরের নামাজ পরতে পারি। যাতে ভোরে উঠে আমি পূজো করতে পারি। আমি সময়মতো আমার কাজে যেতে পারি। কারণ আমার কাজটাও একটা ইবাদত ; একটা প্রার্থনা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ রেখে সারারাত জেগে বসেন বসেন বসে যান করার যৌক্তিকতা কি? যদি করতেই চান কোন অডিটোরিয়ামে করুন। দুই লাখ টাকা দিয়ে হুজুর ভাড়া করতে পারবেন; কিন্তু বিশ হাজার টাকা দিয়ে একটা কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করলে কি হয়? এবার আসি বাবা ভক্তদের কাছে। বাংলাদেশে এক প্রজাতির মুসলিম পাওয়া যায় যারা নিজেদের কে বাবাদের মুরিদ ভাবেন। বাবা মানে নিজের জন্মদাতা বাবা না। উনাদের বাবারা হলেন খাজা বাবা,পাগলা বাবা,ল্যাংটা বাবা ইত্যাদি। একটা মজার ব্যপার হলো উনাদের এই বাবারা যেই কালেই জন্মগ্রহণ করুক; সবগুলো মরেছে এই শীতকালে। তাই শীতকালে এই বাবা ভক্তদের তোড়জোড় বেড়ে যায়। বাবাদের মৃত্যুবার্ষিকী থুক্কু উরশ পালন না করলে বাবারা কবরে শুঁয়ে রাগ করবেন। তাই উনারা রাস্তার পাশে মটকা বসিয়ে একটা লাল কাপড় পেঁচিয়ে দেন। এরপর শুরু হয় চাঁদা তোলার পালা।প্রতি বাড়ীতে, প্রতি দোকানে গিয়ে তাদের বাবাদের নামে চাঁদা তুলবেন। এরপর উনারাও বাবাদের মৃত্যুদিন রাস্তা দখল করবেন। প্যান্ডেল টাঙাবেন।স্টেজ বানাবেন। বাবাদের নাম করে তোলা চাঁদা দিয়ে গরু কিনে জবাই দিবেন। ডেকচি ভরে পোলাও মাংস রান্না হবে। বড় বড় সাউন্ডবক্সে বাজবে," গান গাইছিলো বাবায় যেই দিন ; যেই দিন " নয়তো " ল্যাংটা বাবার পরশে দুঃখ ভুলি নিমিষে।" এদের যদি গিয়ে আপনি জিজ্ঞেস করেন," ভাই আপনারা গান বাজাচ্ছেন কেন? ইসলামে তো গান বাজনা হারাম।" উনারা উত্তর দিবে," আমরা মারফতি কিংবা আমরা ভাণ্ডারি।" মানে হলো ইসলাম আরেকটা ধর্ম; মারফতি আর ভাণ্ডারি হলো আরেকটা ধর্ম। আসলেই তাই। ইসলামের সাথে এদের কর্মকাণ্ডের কোন মিল নেই। একটা মজার ঘটনা বলি। একবার ফরিদপুর গিয়েছিলাম বন্ধুর নানীর চল্লিশা খেতে। চল্লিশা খাবার পর ভাবলাম এতো সুন্দর এলাকা কয়েকদিন থেকেই যাই। একদিন রাতের বেলা দেখি বন্ধুর নানী বাড়ীর কয়েক বাড়ী পরে সাউন্ডবক্সে ডিজে গান বাজছে। আমি আর এক ফ্রেন্ড মিলে গেলাম। ভাবলাম মে বি বিয়ে হচ্ছে। যাই কিছু সুন্দরী মেয়ে দেখে আসি। গিয়ে দেখি কোন মেয়ে নাই। একগাদা লোক টুপি পরে হাটাহাটি করছে। আমি না পেরে একজনকে জিজ্ঞেস করলাম," ভাই এখানে হচ্ছেটা কি?" -" ভাই খাজা বাবার ওরশ আজকে।" লোকটার কথা শুনে এবার সাউন্ডবক্সের গানের দিকে মনোযোগ দিলাম। শুনি বাজছে-" ওয়ে ইয়ে খাজাবাবা! খাজাবাবা! ওয়ে ইয়ে মারহাবা মারহা হা হা বাবাবাবা।" আমি গান শুনে বেচারা খাজাবাবার কথা ভাবছিলাম। সেদিন যদি তিনি বেঁচে থাকতেন; নিজের নামের ডিজে গান শুনে অবশ্যই সাতবার আত্মহত্যা করতেন। যাই হোক মারফতি আর ভাণ্ডারিদের কাছে ফিরে আসি। পোলাও মাংস রান্না চলছে একদিকে। আরেকদিকে সাউন্ড বক্সে গান চলছে। রাত যখন বারোটা তখন শুরু হলো আসল খেলা। স্টেজে দু'জন শিল্পী উঠবেন। একজন পুরুষ আর একজন মহিলা। স্টেজের আশে পাশে তখন গাজার গন্ধ। সেই শিল্পী দু'জনের মুখ থেকে অবশ্য দেশী মদের ঘ্রাণ বেরোচ্ছে। তবে জনতা তখন উৎসুক সেই মহিলা শিল্পীকে নিয়ে। মহিলা শিল্পী একটু নড়লে চড়লেই তার বুক থেকে শাড়ীর আঁচল খসে যাচ্ছে। আঁচল ঠিক করতে করতেই মদ্যপ কণ্ঠে সেই মহিলা শিল্পী প্রথম যে কথাটা বলবেন তা হলো," আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তনির রাজিম।" চলবে........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৯০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বসেন_বসেন_বসে_যান----১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now