বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আঠারো শ' সাতান্ন সালের সিপাহী বিপ্লবে
শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলেন বিপ্লবী
মুজাহিদগণ। তখন ঘোর অন্ধকার নেমে আসলো
ভারতের ভাগ্যাকাশে। ফলে বৃটিশ উপনিবেশ
সাম্রাজ্যবাদীদের শাসন ক্ষমতা আরো সুসংহত হয়।
দিল্লীর মসনদে বৃটিশরা পাকাপোক্ত হওয়ার পর
প্রথমেই যে কাজটিকে গুরুত্ব দিয়েছিল, তা ছিল
ইসলাম- মুসলমানদের দীনী ঐতিহ্য, সভ্যতা, শিক্ষা-
সংস্কৃতি চিরতরে ধ্বংস করা, যাতে মুসলমানরা কোন দিন
মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। যে জাতিকে
ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, চাপ প্রয়োগ করে
দাবানো যায়নি, তাদের চিন্তাধারায় আস্তে আস্তে
এমন পরিবর্তন আনতে হবে যে, তারা এক ভিন্ন জাতি
হিসেবে যেন নিজেদের অস্তিত্ব ভুলে যায়। তারা
নিজেদের দীনী ঐতিহ্য, সভ্যতা-সংস্কৃতি এবং
সোনালী অতীত থেকে দিনে দিনে গাফেল
হয়ে যায়। এমনকি দীর্ঘদিন পরে যেন তাদের
একথা স্মরণ না থাকে যে, তারা কেমন সিংহের জাতি
ছিল অথচ আজ শৃগালে পরিণত হয়েছে। এই হীন
উদ্দেশ্য পূরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা
তারা এই গ্রহণ করলো যে, মুসলমানদের শিক্ষা
ব্যবস্থায় এমন কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে
যার দ্বারা তাদের মস্তিস্কে প্রভাব প্রতিপত্তিপূর্ণ
দমে বসে যায় এবং এতে তারা প্রভাবিত হয়ে স্বীয়
বিবেক বুদ্ধি দ্বারা মুক্ত চিন্তার যোগ্যতাই যেন
একেবারে হারিয়ে ফেলে। আগ্রাসী ইংরেজ
শক্তি মুসলমানদের ঈমান আক্বিদা, তাহযীব-
তামাদ্দুনের উপর ব্যাপক কুঠারাঘাত হানে।
১৮৫৭ সালে সংঘটিত ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর বৃটিশ
সরকার ভারতের মুসলমান তথা আলেম সম্প্রদায়কে
এর মূল নায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের উপর
এক লোমহর্ষক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ অধ্যায়ের
সূচনা করে। লাখ লাখ আলেমকে প্রকাশ্যে
দিবালোকে শহীদ করা হয়। ত্রাস ও ভীতি সৃষ্টির
লক্ষ্যে স্বাধীনতার স্বপ্নালোকটির আশা
আকাংখাকে মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে দিনের পর
দিন শহীদের বিকৃত লাশ বৃক্ষের ডালে ডালে
লটকিয়ে রাখা হয়, ইতিহাস অনুসন্ধানে জানাগেছে,
দিল্লীর চাঁদনীর চক থেকে নিয়ে ‘খায়বার' নামক
স্থান পর্যন্ত এমন কোন বৃক্ষ বাকি ছিলো না
যেখানে কোন একজন আলেমের (শহীদের)
লাশ ঝুলেনি। কোন আলেমকে দেখলেই
পাষান্ডরা নির্বিচারে হত্যা করতো। এক তথ্য মতে
১৮৬৪ সাল থেকে ৬৭ সাল পর্যন্ত ১৪ হাজার মুসলিম
মিল্লাতের ধর্মীয় নেতা হক্কানী উলামায়ে
কেরামকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে
শহীদ করা হয়। গ্রামকে গ্রাম খুঁজেও একজন
আলেম পাওয়া যেতো না। নিরাশা- হতাশায় পূঞ্জিভূত
মেঘমালার বিদ্যুৎ চমকে শিউরে উঠছিলো
উপমহাদেশের আলেমগণ। ধীরে ধীরে
নেমে আসছিলো অশিক্ষা-কুশিক্ষা, কুসংস্কৃতি, শিরক,
বিদআতের এক চরম দুর্যোগ। অপর দিকে বৃটিশরা
স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, ভারতে বৃটিশ
সাম্রাজ্য চিরস্থায়ী করতে হলে ভারতীয়
মুসলমানদেরকে আর্থিক অভাব অনটন ও চরম
দুরবস্থায় ফেলতে হবে। তাদের অন্তর থেকে
আল কোরানের আলো চিরতরে নিভিয়ে
ফেলতে হবে। মুসলিম বিদ্বেষী ইংল্যান্ডের
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, বৃটিশ জাতীয় সংসদ
অধিবেশন চলাকালে পবিত্র কোরআন উত্তোলন
করে বলেছিলো- ‘‘যতদিন এই পুস্তক অবশিষ্ট
থাকবে ততদিন পৃথিবী কৃষ্টি ও সভ্যতা লাভ করতে
পারবে না।' এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইংরেজরা ১৮৬১
সালে ভারতবর্ষে তিন লাখ কোরআন শরীফের
কপি জ্বালিয়েছিল। বৃটিশ সরকারের শিক্ষানীতি
সম্পর্কে ইংল্যান্ডের লর্ড ম্যাকালে সুস্পষ্ট ভাষায়
বলেছিলো ‘‘ভারতীয়দের জন্য আমাদের শিক্ষা
ব্যবস্থার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, এমন এক যুব
সম্প্রদায় সৃষ্টি করা যারা বংশে ভারতীয় হলেও মন
মস্তিষ্কে হবে খাঁটি বিলাতী।’’ এ হীন উদ্দেশ্য
বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নানা আইন ফরমান জারী
করে মুসলমানদের থেকে নবাবী জমিদারী
কেড়ে নিয়ে প্রতিবেশী হিন্দুদের মাঝে বন্টন
করে দেয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকুরী এক কথায়
জীবন জীবিকার সকল ক্ষেত্র থেকে
মুসলমানদেরকে বঞ্চিত করে রাখে। তখন
ফার্সীর স্থানে ইংরেজী ভাষার অনুপ্রবেশ
ঘটিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে
মুসলমানদের ঈমান আকিদা বিনষ্টের এক সুপরিকল্পিত
হীন প্রয়াস চালিয়ে যায়।
#সংগৃহীত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now