বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বৃষ্টির অসম্পূর্ণ গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান প্রীতম ভট্টাচার্য (guest) (০ পয়েন্ট)

X বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা গায়ে পড়তেই শিহরণ জেগে উঠে অন্তরীপার শরীরে । শীতল জলকনাগুলো যেন শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে, অনেক ভেতরে । শরীরের প্রতিটা নালিকায় এই বৃষ্টি যেন শীতলতার স্পর্শ দিয়ে যায়। বৃষ্টি আসলে বরাবরই এমন মনে হয় অন্তরীপার। বহুদিন আগে থেকেই, সেই কিশোরীবেলা থেকেই ।ঠিক তখন থেকেই, যখন থেকে যৌবন উকি ঝুঁকি মারতে থাকে অন্তরীপার শরীরে ।বৃষ্টি আসলেই মুখ উঁচু করে দাঁড়ায় অন্তরীপা, যেন আকাশ তাকে ডাকে চুমু খেতে। একটা একটা করে বৃষ্টির ফোঁটা সে গুনতে পারে। চিবুক, গলা বেয়ে দুই বুক পেড়িয়ে নাভিমূল পর্যন্ত বয়ে আসে বৃষ্টির চোরা স্রোত। এ এক তীব্র শরীরী অনুভূতি।যেন সারাটা শরীর জড়িয়ে ধরে কোন প্রেমিক পুরুষ। অন্তরীপার ভাল লাগে, ভীষণ ভাল লাগে। মেঘের ঘনত্বে আকাশ কালো। অসময়ে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বিকাল মাত্র ৫ টা।বর্ষাকাল হলেও সকালে রোদ ছিল, তাই অফিস যেতে ছাতা নিয়ে বের হয়নি। আজকাল বৃষ্টির কোন ভরসা নেই। হঠাৎ করে নাজানি কোথা থেকে মেঘ গুলো ছুটে আসে। বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি ধীরে ধীরে প্রবল হয়ে উঠে।এখন আর হালকা বৃষ্টি হয়না। প্রবল মানে প্রবল। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে থাকে অন্তরীপা, অফিসের কাগজপত্র আছে বলে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ভ্যানিটিব্যাগ। শরীর ভিজুক, তবু ব্যাগ ভিজতে দেওয়া যাবে না। পথবাতিদের ঝাপসা করে অবিরাম ঝরে পড়ছে বৃষ্টি। অন্তরীপা হেটে চলছে সামনের দিকে। বৃষ্টিতে রাস্তার সব আবর্জনা ধুয়ে মুছে পরিস্কার। বৃষ্টিতে ভিজতে না চেয়ে দোকানের শেডে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলো কিছু বলাবলি করছে কি না,সে দিকে খেয়াল নেই অন্তরীপার। সে হেটে চলছে সামনের দিকে, বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে। অফিসের ক্লান্তিহীন চাপ, বাড়িতে অসুস্থ মা, সব ভুলে হাটতে হাটতে কখন যে অবিনাশদের বাড়ির সামনে চলে এল, অন্তরীপা জানে না। অন্তরীপার থেকে বছর দুয়েকের ছোট অবিনাশ।অবিনাশের দিদি অন্তরীপাদের সহপাঠী। স্কুল থেকেই পরিচয়। দূরশিক্ষা ব্যাবস্থায় ইতিহাসে এম. এ করছে অবিনাশ।মাঝে মাঝে বাজারে দেখা হয় ওর সাথে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল অবিনাশ। অন্তরীপাকে দেখেই চিৎকার করে উঠে, হাই অন্তু দি । কোথায় চললে ভিজে ভিজে? চোখ মুখের উপর থেকে ভেজা চুল গুলো ডান হাতে সরিয়ে লাজুক হেসে অন্তরীপা বলল-আর বলিস না, হঠাৎ করে বৃষ্টিটা এসে গেল। ভিজেই যখন গেলাম তখন ভাবলাম ভিজে ভিজেই বাড়ি চলে যাই। - বৃষ্টিতে ভিজতে বুঝি তোমার খুব ভাল লাগে? - হুম। সেই ছোটবেলা থেকেই।বৃষ্টি আমার বন্ধু। - অনেক ভিজেছ। এখন ঘরে এস। ভদ্রতা দেখিয়ে অন্তরীপা বলল- না , না ঠিক আছে, অনেকটাই তো চলে এসেছি। আর অল্প। চলে যাব হাঁটতে হাঁটতে। বৃষ্টিতে ভিজতে আমার অসুবিধা হয় না। ধমকের সুরে অবিনাশ বলল- থামাও তো তোমার ডায়লগ। তাড়াতাড়ি এসো বলছি। আমি বলছি মানে তোমাকে আসতেই হবে। অবিনাশদের বারান্দায় এসে দাঁড়ায় অন্তরীপা। ঘর থেকে একটা তোয়ালে নিয়ে এল অবিনাশ। বলল- এই নাও, মাথাটা মুছে ঘরে এসো। যেভাবে ভিজেছ জ্বর না উঠলেই হয়। - না না জ্বর উঠবে না। বললাম না, বৃষ্টি আমার বন্ধু। - কি খাবে বল? - এখন কিছু খাব না। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারলেই হয়। - একটু চা করে আনি? - না না তোর কষ্ট করতে হবে না। মাসিমনিরা বুঝি বাড়িতে নেই? - না। আমি একা একাই তিনদিন ধরে বাড়িতে আছি। বাবা মা বেড়াতে গেছে দিদির বাড়িতে। - কবে আসবে? - সেতো বলে যায় নি। মামা হব বুঝলে। সে জন্য। - সেতো খুব ভাল খবর। অবিনাশের দিদি অবন্তিকার বিয়ে হয়েছে দু বছর হল। অন্তরীপাও এসেছিল বিয়েতে। ব্যাপক আয়োজন। রান্না বান্না, নাচ গান সব কিছুরই ব্যপক আয়োজন। এই না হলে বিয়ে। অন্তরীপা বলল- তাহলে রান্না বান্না কে করে? তুই করতে পারিস? - পারি মানে? সব পারি। শুঁটকী থেকে ইলিশ ভাপা। তুমি খাবে কি না বল?শুধু শুধু মুখে বললে তো আর বিশ্বাস করবে না। মাথা মুছতে মুছতে অন্তরীপা বলল- আমাকে কি গিনিপিগ পেয়েছিস? রান্না খেয়ে শেষে মরব না তো? - ধুর। কি যে বল? রান্না জানি বলেই তো কাজের মাসিকে ছুটি দেওয়া হয়েছে কয়েকদিনের জন্য। কথার মাঝেই অবিনাশের অবাধ্য চোখ ঘোরাফেরা করছে অন্তরীপার সারা শরীর জুড়ে। অন্তরীপা হয়ত তেমন রূপসী নয়। তবে তার বড় বড় চোখ,চাপা শ্যামলা গায়ের রঙ, পাতলা ঠোঁট,দীর্ঘ দেহ,টানটান যৌবনের একটা মাদকতা আছে। তাছাড়া এই বৃষ্টিতে গায়ের সাথে লেপটে থাকা ভেজা বসন ভেদ করে সুঠাম দেহ অনেকটাই প্রকট । সদ্য যুবক অবিনাশ তো কিছুটা বেসামাল হতেই পারে। সে অধিকার তার আছে। পুরুষের দৃষ্টি অন্তরীপা চেনে। এসব ব্যাপার সে খারাপ পায় না,খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। আবার মাঝে মাঝে দেয়। দিলেও তেমন করে গায়ে মাখে না। হালকা হেসে বলল- একটা ছাতি দে। রান্না করতে অসুবিধা হলে আমাদের বাড়ি চলে আসিস।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বৃষ্টির অসম্পূর্ণ গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now