বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বৃষ্টির দিনগুলোতে

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X বহুদিন পর তোমার কথা মনে পড়লো। আমাকে কি তোমার মনে পড়ে? বৃষ্টির দিনগুলোতে?? সবুজ কার্পেটের মতো বিছিয়ে থাকা শ্যাওলা ধরা ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে দেয়ালটার ইটগুলোর ঘুপড়িতে ছিল তোমার বাসা। টুপটাপ বৃষ্টি শুরু হলেই আমি ছুট লাগাতাম বাসার পেছনের জানালাটাতে,যেখান থেকে দেখা যেত তোমার অবাধ আনাগোনা । আর বৃষ্টির ছোঁয়া পেতেই তোমরা হুড়মুড় করে ঘরের ভিতর ঢুকে যেতে। আর নৃশংস আমি শলার কাঠির খোঁচায় খোঁচায় তোমাদের বের করে আনতাম। কি যে বীভৎস আনন্দ পেতাম!! টুপটুপ আওয়াজ করে একটা একটা দেহ পড়ত ড্রেনের জলে!! কি তীব্র চেষ্টা বাঁচবার, বাঁচাবার!! যেই আপু দেখত এমন অসৎ কর্মে লিপ্ত আছি আমি, ওমনি গলা ফাটানো চিৎকার দিত, “এই নোংরা মেয়ে কোথাকার!! এগুলো এখন জানালা বেয়ে ঘরে আসবে না!!” আর তাতে আম্মু এসে দিত এক কানমলা আর তাতেই তোমরা যেতে বেঁচে। এর চেয়ে মজা লাগত যেটায় তা হল তোমার গায়ে লবণ ছেটানোয়। কি শত্রুতা তোমাদের বল তো!! কোনকালে কি অভিশাপ কামায় আসছ কে জানে। আমার কিন্তু দারুণ লাগতো। লাল শরীরটার উপর যেই না শুভ্র লবণগুলো ছিটিয়ে দিতাম ওমনি এঁকে-বেঁকে-তেড়ে লবণগুলো সরিয়ে দিতে চাইতে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত না পেরে শরীরের সব রক্ত ছেড়ে দিয়ে ধবধবে সাদা শরীরটা ফেলে রেখে যেতে। সবাই যখন তোমার আগমনে গগনবিদারী চিৎকারে বাসা ফাটাত আমি তখন তোমার ছোট্ট শরীরটা নিয়ে ব্যস্ত। তোমার কল্যাণে অনেক উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলাম,এই যেমন “বস্তি”, “নোংরা”, “উচ্ছনে” আরো কত কি!! তারপর বহুদিন কিভাবে জানি তোমাকে ভুলে গিয়েছিলাম। হয়ত ঝকঝকে ইট পাথরের জীবনে তোমাকে আর পাইনি বলে। সেদিন বাথরুমের কোণে তোমাকে আবিষ্কার করে আমার ছোট বোনের সে কি কান্না!! তারপর তোমাকে মারবার জন্য পুরো কামান দাগার ব্যবস্থা। তোমাদেরই সহধর্মী ওই তেলাপোকার কথা বলছি আরকি যাকে দেখলে কারো কারো নাকি জানের পানি চলে যায়, তাকে আমার কেমন নিরীহ নিরীহ লাগে জানো,ঠিক আমারই মতো। ওর সম্মুখে চোখের মতো বড় বড় অংশটা যে চোখ নয়, ওটা যে একটা ভাওতা সেটা বইয়ে পড়বার আগেই আমি আবিষ্কার করেছিলাম টয়লেটে বসে বসে। আর আমি যখন আমার এই আবিষ্কারের কথা “ইউরেকা, ইউরেকা” বলে বলতে লাগলাম, নাক চোখ কুঁচকে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে রইল। ছোট বোনটা তো আমার সাথে সেদিন ঘুমলোই না! তারপর থেকে বাথরুমে দেরি করলেই দরজায় বাড়ি লাগাত সবাই, “ওইখানে বসে রিসার্চ করতে হবে না, বইয়ে ওসব লেখা আছে!!” gj তবে কেন জানি ভয় পেতাম মাকড়শাকে। সবাই বলত এটা ভালো কিন্তু আমার কেন জানি ভালো লাগতো না। দেখলেই গা গুলিয়ে উঠত,এখনো উঠে। আমার ছেলেবেলার একটা ক্ষুদ্র অংশ জুড়ে তুমি আছো। শহুরে নোংরা জীবনে তোমার বাস,যারা তোমাকে পায় তারাও নোংরা হয়, সবাই তোমায় ভুলে থাকতে চায়, ফেলে দিতে চায়। কিন্তু কেউ কি কখনো ভাবে, এই আদরে যত্নে গড়া দেহটা একদিন তোমারই আবাস হবে,আহার হবে?? তোমায় নিয়ে খেলতাম যখন, তখন আমি বড় হইনি। মৃত্যু মানে আমার কাছে ১০০ বছর। এখন আমি অনেক বড়, খুব ভয় পাই তোমাকে, খুউউব। ক্ষমা করো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বৃষ্টির দিনগুলোতে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now