বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্রেকআপ নাম্বার ১০১ রানিং

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tarikul Islam (০ পয়েন্ট)

X ক্রিং ক্রিং ক্রিং.....ক্রিং ক্রিং ক্রিং -দূর এই এতো সকালে আবার কে ফোন দিল চোখ কচলাতে কচলাতে মোবাইলের স্কিনে তাঁকিয়ে দেখি "Babuni" লেখা।বুঝলাম এটা মেঘার কল। -হ্যালো(আমি) -রাখ তোর হ্যালো(মেঘা) -কি হইছে বাবুনি? -একদম খবরদার।আমারে বাবুনি ডাকবিনা।তুই তারাতারি কলেজে আয়। বলেই ফোনটা কেটে দিল।আমি কিছু বুঝতে পারছিনা ও কেন এমন করলো।সরাসরি তুমি থেকে তুইতে।বুঝতে পারছি ও খুব রেগে আছে। . আমি শুভ। অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছি।মেঘাও আমার সাথে পড়ে একই ডিপার্টমেন্টে।৬ মাস হলো ওর সাথে আমার রিলেশনের।এর মধ্যে ওর সাথে অনেক ঝগড়া হয়েছে,রাগ হয়েছে।এমনকি ৯৯ বার ব্রেকআপ ও হয়েছে।আবার ঠিক ও হয়ে গেছে। . ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।কলেজে গিয়ে দেখি একটি বট গাছের নিচে মেঘা বসে আছে। আমি জানি ওকে এখানেি পাওয়া যাবে।এই জায়গাটা সব সময় খালি থাকে।তাই আমরা এখানে এসে গল্প করি। মেঘার কাছে গিঢে বললাম -কি হইছে বাবুনি?(আমি) -তরে না কইছি আমারে বাবুনি ডাকবিনা (মেঘা) এমনিতে মেঘা আমাকে তুই করে বলে না। কিন্তু বেশি রেগে গেলে ও তুইতুকারি শুরু করে দেয়য়।এজন্য এই মেয়েকে অনেক ভয় পাই আমি। -তাহলে কি ডাকব? -এই একদম চুপ -হুমম(মুখে আঙ্গুল দিয়ে) -ঐ বৃষ্টির সাথে তোর কিসের সম্পর্ক? -কোন বৃষ্টি? -এই একদম চালাকি করবি না। -ওর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই।ও তো শুধু ফ্রেন্ড। -শুধু ফ্রেন্ড তাইনা।কাল ওরে নিয়া ফুচকা খাইতে গেছছ।আমারে শিখাছ? -বিশ্বাস করো ও আমারে ফুচকা খাওয়াইতে নিয়া গেছিলো -চুপ।আমি বুঝছি তর এখন আমারে আর ভাল লাগে না। তাই অন্য মেয়ের লগ ধরছস। -কি বলো এসব?তুমি আমার জান।আমার একটা মাএ বাবুনি। আমি তোমারে অনেক অনেক ভালবাসি। -কি রকম ভালবাসস সেটা তো বুঝতে পারছি। আজ থেকে তর আর আমার ব্রেকআপ। -মজা করছো? -কি আমি মজা করছি তর সাথে? -তা নয়তো কি।এই নিয়ে সেঞ্চুরী হলে।এর আগে নিরানব্বই বারর ব্রেকআপ করছো।আর এখনের টা লাগিয়ে একশো। -এই শেষ।তুই বৃষ্টিকে নিয়াই থাক।তর সাথে ব্রেকআপ ব্রেকআপ ব্রেকআপ। বলে ও চলে গেলো। আমি বসে বসে ভাবছি বৃষ্টি আমারে ফুচকা খাওয়াইছিল ও জানলো কেমনে?নাকি ও দেখছিল।এর আগে নিরানব্বই বার ব্রেকআপ করছে মেঘা।ও আবার ফিরেও এসেছে।তাই ভেবেছি এবারো হয়তো ফিরে আসবে।রাগ কমলে এমনিতেই ফোন দিবে। সারাদিনের মধ্যে একটা ফোন আসল না। আমিও ফোন দিতে পারছিনা।ওর মোবাইল বন্ধ। ফেইসবুক আইডি ডিএক্টিভ করা।আমার মধ্যে এক অজানা ভয় কাজ করতে লাগল।মনে মনে বললাম ও কি সত্যি ব্রেকআপ করে দিল।কিন্তু এই তুচ্ছ কারনে ও ব্রেকআপ কেন করবে।আমার মাথা কাজ করতেছে না।তাহলে কি এই ১০০ তেই শেষ। আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না।ওর সাথে যোগাযোগ ও করতে পারছি না। . . রাতে ওর বাসার সামনে গেলাম।কিন্তু ওকে দেখতে পেলাম না।ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসলাম। এক একটা মুহুর্ত যেন এক এক বছর মনে হতে লাগল। . পরেরদিন কলেজে গেলাম।কলেজে গিয়ে আমি যা দেখলাম তা দেখার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। মেঘা অন্য একটি ছেলের সাথে কথা বলছে একবারে ক্লোজ হয়ে।আমি মেঘাকে ডাক দিলাম। -বলো(মেঘা) -তোমার ফোন বন্ধ কেন?(আমি) -আমার ফোন বন্ধ থাকবে না খোলা থাকবে সেটা সম্পূর্ণ আমার বিষয়। -তুমি এভাবে কথা বলছো কেন? -তো কিভাবে কথা বলবো? -ঐ ছেলেটা কে? তোমার সাথে যে বসছিল। -আকাশ।আমার বয়ফ্রেন্ড। -মানে?তাহলে আমি? -তোমার সাথে গতকাল ব্রেকআপ করছি তোমার মনে নেই? -তাহলে তুমি যে বললে আমাকে বৃষ্টিরর সাথে দেখে। -বলেছিলাম।কিন্তু তোমার সাথে আমি আর থাকতে পারছি না।তাই ব্রেকআপ করে দিয়েছি। -ও আমাকে আর ভাল লাগছে না? -না।তুমি আর আমার সাথে যোগযোগ করবে না। -তাহলে এটাই শেষ ব্রেকআপ তাই না? -হুমম।ব্রেকআপ নাম্বার একশো। বলে মেঘা চলে গেলো।আমার তখন কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল।সেখান থেকে বাসায় চলে আসলাম।দিনগুলো অনেক কষ্টে যাচ্ছিল আমার।না পারছিলাম কাউকে বলতে,না পারছিলাম সইতে।সব সময় ছাদে বসে থাকতাম।কারো সাথে তেমন কথা বলতাম না।বাইরেও তেমন বের হতাম না। ® ® ↓ (তিন মাস পর) রাত প্রায় বারোটা।ছাদে বসে আছি একা একা হঠাৎ মোবাইলে একটা ফোন আসলো।স্কিনে তাঁকিয়ে দেখি সেই পরিচিত নাম "Babuni"। ভাবলাম মেঘা কেন হঠাৎ আমাকে ফোন দিল।ধরবো কি ধরবোনা এসব ভাবতে ভাবতে কল কেটে গেলো।দ্বিতীয়বার রিং হতেই ফোনটা ধরলাম। -কেমন আছো শুভ?(মেঘা) -যেমনটা রেখে গিয়েছিলে(আমি) -কাউকে ভালবাসনি আর? -কাউকে ভালবাসবো বলে তো আর তোমাকে ভালবাসিনি। -I am sorry shuvo.please forgive me.(বলেই মেঘা কাঁদতে লাগল) -তুমি কেন সরি বলছো।আকাশকে নিয়ে তো সুখে থাকার কথা -আকাশ আমাকে ঠকিয়ে চলে গেছে।ঠিক যেমন আমি চলে গিয়েছিলাম তোমার জীবন থেকে।আমি আবার ফিরতে চাই তোমার জীবনে(কেঁদে কেঁদে) -কিন্তু আমি চাই না। -কেন? -দুদিন পর তুমি যে আমায় আবার ছেড়ে চলে যাবে না তার কি গ্যারান্টি আছে? -আমি তোমাকে এখনি বিয়ে করতে রাজি আছি -কিন্তু আমি রাজি না -কেন? -দেখো মেঘা তোমার সাথে এটা আমার একশতম ব্রেকআপ।আমি চাইনা ব্রেকআপের সংখ্যাটা আরো বারুক -কিন্তু আমি চাই।আমি চাই বিয়ের পর তোমার সাথে আমার হাজার বার ব্রেকআপ হউক। -বিয়ের পর ব্রেকআপ?হাঁসালে।তখন তো আমাকে ডিভোর্স দেবে। -বিশ্বাস করো আমি সত্যিই তোমার কাছে ফিরতে চাই। -তা আর হবে না -কেন? -আমি তোমাকে আর ভালবাসি না -মিথ্যে বলছো -না সত্যি বলছি -সত্যি ভালবাসো না? -হুমম -মন থেকে বলছো? -কত বার বলবো সত্যি সত্যি সত্যি -প্লিজ শুভ তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিও না। -আমিও তোমায় এভাবে বলেছিলাম কিন্তু তুমি শোনোনি। -একটা শেষ সুযোগ দেয়া যায় না? -জীবনটা খেলাঘর নয় যে সুযোগ দেবো। -প্লিজ -সরি মেঘা ফোনটা কেটে দিল।কিছু সময় পর মোবাইলে একটা মেসেজ দিল মেঘা 'শুভ ভেবেছিলাম তুমি আমাকে ফিরিয়ে দেবে না।তাই তোমার কাছে ফিরে আসতে চেয়েছিলাম।কিন্তু তুমি যখন না করে দিলে তখন নিজেকে খুব একা মনে হলো।আর আমি একা থাকতে পারি না।তাি নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি ভাল থেকো। . মেসেজটা দেখার সাথে সাথে আমি মেঘাদের বাসায় গেলাম।গিয়ে দেখি মেঘার মা-বাবা মেঘাকে নিয়ে হাসপাতালে গেছেন।হাসপাতালেরর নাম আমিও হাসপাতালে গেলাম।গিয়ে দেখি মেঘার হাতে ব্যান্ডেজ।আর ও বেডে ঘুমিয়ে আছে। বুঝলাম যে ও হাত কেটেছে।তখন নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে।হবেই না কেন।আমি তো ওকে এখনো ভালবাসি।ওর ওপর অভিমান হয়েছিল তাই ও রকম কথা বলেছিলাম।কিন্তু ও যে এই রকম করবে আমি ভাবতেই পারিনি। . মেঘার পাশে বসে ওর মাথায় হাত রাখতেই ও আমার দিকে তাঁকালো -তুমি?(মেঘা) -হুমম আমি(আমি) -কেন এসেছো? -তোমাকে নিয়ে যেতে -কোথায়? -আমার বাড়িতে বউ করে -সত্যি?(লজ্জামাখা হাসি দিয়ে) -হুমম . আজ আমার আর মেঘার বিয়ে হয়ে গেলো। ফুলশয্যার ঘরে ঢুকে দেখি মেঘা লম্বা ঘোমটা দিয়ে বসে আছে।আমি ওর কাছে গিয়ে বসতেই ও একটা কাগজ বের করে আমার হাতে দিলো।তাতে লেখা ছিলো,ব্রেকআপ নাম্বার ১০০ শেষ।এখন ব্রেকআপ নাম্বার ১০১ রানিং।আমি বললাম -ব্রেকআপ নাম্বার ১০১ হলে তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবো(আমি( -কি? -হুমম -আমি যতবার খুঁশি ব্রেকআপ করবো।ডিভোর্স দিলে তোমার হাত পা ভেঙে রেখে দেবো। বলেই অন্যদিকে মুখটা ফিরিয়ে নিলো মেঘা। -আমার বাবুনিটা রাগ করছে?(আল্লাদি কন্ঠে বললাম) -হুমম(মেঘা) -রাগ ভাঙাতে হলে কি করতে হবে? -আমাকে জড়িয়ে ধরতে হবে। আমি সাথে সাথে মেঘাকে জড়িয়ে ধরলাম। মেঘাও জড়িয়ে ধরলো। -এই শুধু জড়িয়ে দরো অন্য কিছু করবে না কিন্তু।মনে রেখো ব্রেকআপ নাম্বার ১০১ রানিং। ব্রেকআপ নাম্বার ১০১ রানিং হলেও বাকীটা কিন্তু ইতিহাস হয়ে গেল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ব্রেকআপ নাম্বার ১০১ রানিং

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now