বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্রেকআপ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Siam 2.0 (০ পয়েন্ট)

X আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি। আজ আমার ব্রেক আপ হবে। ব্রেক আপের সময় তো একটা মানুষের অনেক কষ্ট হয়।আরো কষ্ট হয় যখন সম্পর্কটা অনেক দীর্ঘ হয়। আমার তো ৫ বছরের রিলেশন।এখনো ব্রেক আপ হয় নি।সরাসরি দেখা করে স্নেহার সাথে ব্রেক আপ করবো। মেয়েটার সাথে যখন ১ দিন কথা বন্ধ থাকতো আমি সারাদিন লুকিয়ে কাদতাম।কিন্তু পরের দিন যখন আবার ফোন করে Aaai বলতো তখন মনে হতো স্বপ্নের জগতে আছি। কিন্তু ৫ বছরের সম্পর্কের আজ ব্রেক আপ হবে।আমি কাদছি না।কষ্ট পাচ্ছি কিনা সেটা ও বুঝতে পারছি না। অনুভূতিহীন দেয়াল থেকে বেরিয়ে এসে স্নেহার সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে বের হলাম।৪ টায় দেখা করার কথা।এখন ৩:৪০ বাজে। খুব বেশিবার দেখা হয় নি।যেই কয়বার হয়েছে প্রতিবার আমি অনেক দেরিতে আসতাম।আজ শেষদিন আগেই যাই। পাগলিটা একটু অভিমান করতো।যখন আইসক্রিম দিয়ে বলতাম তোমার আইসক্রিম আনতে গিয়ে দেরি হয়ে গেলো তখন আমার দিকে অন্যরকম দৃষ্টিতে তাকাতো। ওর চোখে দেখতে পেতাম ও আমাকে কতটা ভালোবাসে।৫ বছর আগে ১৪ই ফেব্রুয়ারি আমাদের রিলেশন শুরু হয়। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার সেটা হলো আমরা কেউ কাওকে প্রপোজ করি নি।ওর পিছনে অনেক ঘুরেছি।ও বুঝতে পারতো আমি ওকে ভালোবাসি। ২০১৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি ও দেখা করতে বলে।তারপর বলে আজ থেকে আমার পিছনে আর ঘুরতে হবে না। তারপর হাত টা ধরে বলে কোনদিন ছেড়ে দিও না যেন। কি করবো বুঝতে না পেরে পালিয়ে গিয়েছিলাম।কিছুদিন পর বলেছিলাম ঠিক আছে কোনদিন ছাড়বো না। কিন্তু বুঝতে পারি নি ওর হাতটা ৫ বছর পর ছেড়ে দিতে হবে।প্রতিবারের মতো এবার ও খোলা আকাশের নিচে সুন্দর সেই জায়গাতে দেখা করলাম। দেখলাম স্নেহা আগে থেকেই বসে আছে।ভেবেছিলাম শেষবার আমিই আগে যাবো।কিন্তু পারলাম কই। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলাম।তারপর স্নেহা বললো আমার আইসক্রিম কই? ভুলে গিয়েছি।স্নেহা অভিমানের কন্ঠে বললো আমাকে ভুলে গিয়েছ।আর আইসক্রিমের কথা কি আর মনে থাকে। আমি চুপচাপ বসে থাকলাম।এই মুহূর্তে আমার কি বলা উচিৎ জানা নেই আমার। স্নেহার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম আমি আসার আগে অনেকক্ষণ কেঁদেছে।এখনো চোখের জল লুকিয়ে রাখছে। স্বপ্নের মতো কেটেছিলো প্রথম ৪ টা বছর।কত স্বপ্ন ছিলো আমাদের।কিন্তু গত ১ টা বছরের প্রতিটা দিনই দুঃস্বপ্ন বললে খুব একটা ভুল হবে না। আজ স্নেহা নীল রঙের একটা শাড়ি পরে এসেছে।গত বছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি ও বলেছিলাম। মজা করে বলেছিলো যেদিন ব্রেক আপ হবে সেদিন শাড়ি পরে আসবো।কিন্তু সেদিন কল্পনা ও করি নি আমাদের কখনো ব্রেক আপ হবে। স্নেহাই আমার প্রথম ভালোবাসা।কিন্তু আমি স্নেহার ২য় ভালোবাসা।অবশ্য ও কিছু হাইড করে নি। ও প্রথম যাকে ভালোবেসেছিলো তার সাথে ৬ মাস পর ব্রেক আপ হয়ে যায়। স্নেহা বললো ব্রেক আপ আর কতক্ষণ পর করবা?আমি কিছুক্ষণ চুপ চাপ থেকে বললাম আর ১ ঘণ্টা পর। দেখলাম স্নেহার চোখে জল।মনে পড়ে গেলো যেদিন আমাদের সম্পর্ক ১ বছর হয় সেদিন স্নেহা কেদেছিলো। আনন্দে কেদেছিলো আর আমি ওর চোখের জল মুছে দিয়েছিলাম।আজ ও ইচ্ছা করছে ওর চোখেত জল মুছে দিই।কিন্তু আর ১ ঘণ্টা পরই তো আমাদের ব্রেক আপ। শুধু শুধু মায়া বাড়িয়ে লাভ কি। আমি অনেক কথা বলতাম।কিন্তু স্নেহা লাজুক একটা মেয়ে।খুব কম কথা বলতো। কিন্তু আজ আমি কথা বলতে পারছি না।স্নেহা কিছুক্ষণ পর পর কথা বলছে। আকাশের দিকে তাকালাম।মনে পড়ে গেলো অতীতের কথা।যখন আকাশের দিকে তাকাতাম স্নেহাকে বলতাম ভবিষ্যতে তোমার কোলে শুয়ে আকাশ দেখবো।পাগলিটা লজ্জায় মাথা নিচু করে ছিলো। তারপর বলেছিলো ভেবে দেখবো।স্নেহা বললো ৫ টা বছর আমাদের সম্পর্ক।তুমি একদিনে ভুলে যেতে পারবা। কিছুক্ষণ পর বললাম কিছুদিন লাগবে ভুলতে।দেখলাম আবার কাদছে। আমি অন্য দিকে তাকালাম।১০ মিনিট চলে গেলো।আর ৫০ মিনিট পর আমাদের ব্রেক আপ। আজ সময় যাচ্ছেই না।অন্যদিন দেখতে দেখতেই সময় কেটে যায়। স্নেহা কিছুক্ষণ পর বললো তোমার বিয়েতে আমাকে ইনভাইট করবা?আমি বললাম আমার বিয়ে মানে?? স্নেহা বললো তোমার তো একটা সময় বিয়ে হবে অন্য একটা মেয়ের সাথে।বিয়েতে আমাকে ইনভাইট করবা?আমি বললাম জানি না। স্নেহা হয়তো অন্য কিছু শুনতে চেয়েছিলো।কিন্তু আমার এই মুহূর্তে ওর সাথে মিষ্টি করে কথা বলার একদম ইচ্ছা নেই।দেখতে দেখতে আরো ২০ মিনিট কেটে গেলো। আমার মনে হলো আর ৩০ মিনিট পর আমাদের ব্রেক আপ।চাইলে ও আর কোনদিন দেখা হবে না।থাকবো কি করে।আমার চোখে ও এবার জল আসছে। কিন্তু এসব ভাবলে হবে না।আমাকে শক্ত হতে হবে।ব্রেক আপ করতেই হবে। গত বছর আমি ওকে শাড়ি পরে আসতে বলেছিলাম।কিন্তু ও শাড়ি পরে এসেছিলো না।এই জন্য আমার খুব অভিমান হয়েছিলো। কিন্তু ওর উপর অভিমান করে আমি ১ টা মিনিট ও থাকতে পারি না।কিন্তু তার কিছুদিন পর যখন দেখেছিলাম ও শিশিরের সাথে শাড়ি পরে দেখা করেছে অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু ওকে কিছু বলেছিলাম না।পরের মাসে একদিন দেখা করতে বলেছিলাম।ও বলেছিলো ওর খুব জ্বর।কিন্তু সেদিন ও দেখেছিলাম ওকে শিশিরের সাথে দেখা করতে। তারপর বুঝতে পারলাম হয়তো ওর জীবনে শিশির আবার ফিরে এসেছে।ঐদিন থেকেই ঠিক করলাম ব্রেক আপ করবো। ওকে শিশিরের ব্যপারে কিছুই বলি নি।ও হয়তো ব্রেক আপ চাই কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারছে না।ও ফোন করলে ফোন ধরতাম না।ওর সাথে কোথাও গেলে তারপর থেকে ওর সাথে কথাই বলতাম না। একটা সময় ও বুঝতে পারে আমি ব্রেক আপ করতে চাচ্ছি।কিছুদিন আগে ও বলেছিলো তুমি কি ব্রেক আপ করতে যাও?আমি বলেছিলাম হ্যা। তারপর বলেছিলো প্রায় ৫ বছরের সম্পর্ক আমাদের।আমি বলেছিলাম তোমার সাথে সারাজীবন থাকতে পারবো না। স্নেহা অনেক কেদেছিলো।বলেছিলো ঠিক আছে তোমার ইচ্ছা পূর্ণ হবে।১৪ই ফেব্রুয়ারি আমাদের ব্রেক আপ হবে। এসব ভাবতে ভাবতে আরো ১০ মিনিট চলে গেলো।আর ২০ মিনিট পর আমাদের ব্রেক আপ হবে।স্নেহা বললো সব সময় সুখে থাকবা। আমি কিছু বললাম না।চুপ করে থাকতে থাকতে আরো ১০ মিনিট চলে গেলো। আর ১০ মিনিট পর আমাদের ব্রেক আপ। স্নেহার দিকে তাকালাম।কান্না লুকানোর চেষ্টা করছে।পারছে না।মেয়েটা অনেক কাদছে। চেষ্টা করছে কান্না থামানোর কিন্তু পারছে না।মনে হলে ওর চোখের জল মুছে দিই কিন্তু আমাকে তো ব্রেক আপ করতেই হবে। আর ৫ মিনিট পর আমাদের ব্রেক আপ।স্নেহা এবার বললো ব্রেক আপ না করলে হয় না?আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।তারপর আবার কাদতে লাগলো। আমি আবার চুপ থাকলাম।কি বলবো বুঝতে পারছি না।আর ২ মিনিট পর আমাদের ব্রেক আপ।আমি উঠে দাড়ালাম।চলে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। আমার ও খুব কষ্ট হচ্ছে।কিন্তু আমি কষ্ট নিজের মধ্যেই রাখি।তাই আমি কাদছি না।আর ১ মিনিট পর আমাদের ব্রেক আপ। স্নেহা আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো।বললো ১ মিনিট তোমাকে দেখবো।আর তো হয়তো কোনদিন এভাবে দেখতে পারবো না।আর ৩০ সেকেন্ড পর ব্রেক আপ। দুইজন দুইজন কে বিদায় দিয়ে চলে যাচ্ছি।বার বার চোখের সামনে ভেসে আসছিলো স্নেহার মুখ। একবার পিছন ফিরে তাকালাম।নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।স্নেহা accident করেছে। আমি আর থাকতে পারলাম না। ওর কাছে ছুটে গেলাম। আমাকে বললো কোন ভুল করলে ক্ষমা করে দিও।এবার আর কান্না থামাতে পারলাম না।ও বললো ব্রেক আপের কারণ টা কি জানার কোন ইচ্ছা ছিলো না।মরেই তো যাবো হয়তো।তাই জানার ইচ্ছা জাগলো। খুব কষ্ট করে কথাগুলো বললো।বললাম তুমি শিশিরের সাথে দেখা করতে তাই। স্নেহা বললো এতোদিনে তুমি আমাকে এই চিনলে।ওর সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছিলো।আর ও রাজি হয়ে গিয়েছিলো।ও যেন বিয়ে টা না করে সেই জন্যই দেখা করেছিলাম। তারপর বললো তোমাকে অনেক ভালোবাসি।তারপর অজ্ঞান হয়ে গেলো।নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে।স্নেহাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো।ডাক্তার বললো ৯৮% বাচার কোন সম্ভাবনা নেই।২% আছে।আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। কিন্তু ২% টাই সত্য হয়ে গেলো।স্নেহা সুস্থ হয়েছে আল্লাহর রহমতে।ওর কাছে গেলাম।বললাম আমাকে ক্ষমা করে দিও। ও বললো এই পাগল তুমি আমার কাছে আবার ফিরে এসেছ এতেই আমি খুশি।তারপর বললো কিন্তু ব্রেক আপ হয়ে গেছে তো। আমি এবার ওর দিকে তাকিয়ে হাসলাম।তারপর বললাম, "আই লাভ ইউ"..ও বললো, " আই লাভ ইউ টু" এই প্রথম প্রপোজ করলাম।তারপর বললাম পরের বছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি ব্রেক আপ করবো।ও এবার চোখ মারলো। (collected


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩৫৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্পের নাম- ব্রেকআপ
→ ব্রেকআপ
→ ব্রেকআপের তিনবছর পর
→ ব্রেকআপের তিনবছর পর
→ ব্রেকআপের তিনবছর পর
→ ব্রেকআপের গল্প
→ ব্রেকআপ
→ "ব্রেকআপ 99"
→ গল্প : #ব্রেকআপ_পাগলি !!!
→ ব্রেকআপ
→ ব্রেকআপ
→ ব্রেকআপ
→ ব্রেকআপ দিবস...!
→ ব্রেকআপ হওয়ার পর
→ ব্রেকআপ_পরবর্তী_স্মৃতিপট

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now