বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"বিরিয়ানির চাল কিনে এনে যখন বৌ এর হাতে তুলে দিলাম, বৌ টু শব্দও করেনি৷
তখন অতটা গুরুত্ব না দিলেও বুঝতে পারছি বৌ আমার রেগেছে ভীষণ৷
কিন্তু এই কয়েক মিনিটে কি এমন অঘটন ঘটিয়েছি যে রাগ করা লাগবে৷
বিকেলে বৌ যখন বাপের বাড়ি থেকে বাসায় ফিরলো৷ আমি তখন ফুল সাউন্ডে বিটিভি দেখছিলাম৷ বৌ আসার খবর শুনে সকাল থেকেই অবশ্য বিটিভি দেখছিলাম৷ বৌ আমার বড্ড চালাক৷ আসবে বলেছিল ঠিকই৷ কিন্তু সময়টা বলেনি৷
সেই কারণে দাঁত দাঁত চেপে সারাক্ষণ বিটিভি দেখে গেলাম! দেখা বললে ভুল হবে অবশ্য৷ শুনেছিলাম৷"
.
এই বিটিভি দেখার কারণ আছে বটে৷ বৌ আমার একটু রাগী হলেও প্রচুর ভালোবাসে আমাকে৷
বৌ এর ধারনা বিটিভির সব সংবাদ পাঠিকাগুলো আন্টি টাইপের৷ সেহেতু আমি যদি সারাদিন খবর দেখি তাতেও কোনো মেয়ে, না মহিলার উপর মুগ্ধ হবো না৷
অন্যান্য চ্যানেলের সংবাদপাঠিকাগুলো নাকি একটু কিউট টাইপের৷
বৌ এর পাশে বসে বসে তাদের বকবকানি দেখবো এটা বৌ এর সহ্য হয় না৷
আর মাঝেমধ্যে নাটক দিলেও, সে নাটকের নায়িকারাও যথারীতি সংবাদ পাঠিকার কাছাকাছি বয়সের৷ আন্টি টাইপ নায়িকা৷
বৌ বাপের বাড়ি যাওয়ার আগে ফোনটাও সাথে করে নিয়ে গিয়েছে৷ বদলে নকিয়া ১১০০ মডেলের বাবার আমলের ফোনটা দিয়ে গিয়েছে৷
আমি যখন কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে বললাম,
-বাবু এটা কি হলো? আমি যখন তোমাকে মিস করবো৷ তখন ভিডিও কল কিভাবে দিবো?
বৌ আমার নাক টেনে বলেছিল,
-মিস করলে অফিস শেষে আমাকে দেখে আসবা বাবু৷ এখন আমার শাড়ির আঁচলটা ঠিক করে দাও৷
মনে মনে বললাম,
আমিতো লুঙ্গিই ভালোমতৌ পরতে পারি না৷ আবার আঁচল ঠিক করবো ক্যামনে!
আঁচল অবশ্য ঠিকই ছিল৷ বৌ একটু ভালোবাসা দেখালো আরকি৷
সেই ভালোবাসার জের ধরে ন্যাকা ন্যাকা গলায় বললাম,
আচ্ছা তুমি যখন ব্যস্ত থাকবা৷ আমি তখন কীভাবে সময় কাটাবো বাবু বলো?"
আমার কথা শুনে বৌ মুচকি হেসে বলেছিল,
-অমা! ফোনে সাপ খেলা আছে জানো না তুমি? সাপখেলা খেলবা৷ হাইস্কোর করবা তুমি৷ আর বাপের বাড়ি থেকে এসে আমি সেটা ভাঙবো৷"
বৌ এর কথাশুনে আমি কিছুক্ষণ দাঁতে দাঁত শক্ত করে খিঁচে রেখেছিলাম৷"
যাওয়ার সময় বৌ যখন দু'গালে দু'টো চুমু দিয়ে গেল৷ সেই খিঁচুনিটা দুই চুমুতেই ছুটে গেল!
.
বৌ ঘরে ঢুকতেই বিটিভির সাউন্ড শুনেই আবেগে গদগদ হয়ে গেল৷ আমি সামনে যেতেই টুপ করে জড়িয়ে ধরলো৷ আমিও ভালোবাসায় গদগদ হয়ে যখন টুপ করে একটা চুমু দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, বৌ তখন চিমটি দিয়ে দিল৷
আমার মনেই ছিলনা পাশে শালাবাবু ছিল৷
তারপর বৌ এর নরম হাতখানা আমার হাতের মধ্যে নিয়ে মালিশ করে দিতে দিতে বললাম,
-শুনো না৷ আমার বিরিয়ানী খেতে ইচ্ছে করছে৷ অনেকদিন খাইনা৷ রান্না করবা?"
এবার বৌ কথা রেখেছে৷
ফ্রি হয়ে রান্না শুরু হবে৷
বাসায় নাস্তা ছিল না৷ বাইরেই খেয়েছিলাম এতোদিন৷
শালাবাবুকে রুমে বসিয়ে নাস্তা আনতে গেলাম৷
শেষে খাইয়ে দাইয়ে বিদায় করলাম তারাতারি৷ শালাকে বিদায় করতে না পারলে ঘুম হবে না আমার৷
যেদিন বৌ বিরিয়ানী রাঁধে, সেদিন বাসায় রোমান্টিক আবহাওয়া বিরাজ করে৷ বৌ রান্না করবে আর আমি বৌ কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রাখবো৷
বৌ কে এরকম জড়িয়ে ধরলে বিরিয়ানী মজা বেশী হয়৷
তাই মাঝে মাঝে পেটে অসুখ হওয়া সত্ত্বেও বৌ বিরিয়ানী রাঁধতে বলি৷"
.
আজকে রোমান্টিকের বদলে গুমোঢ় আবহাওয়া বিরাজ করছে৷ অনেকক্ষণ খুটিয়ে খুটিয়ে দেখার পরও কারণ বের করতে পারলাম নাহ৷
তারপর গুটি গুটি পায়ে রান্না ঘরের সামনে গেলাম৷ ভাবলাম বিরিয়ানীর সুভাষ পাবো৷
আমার আশায় জল ঢেলে বিরিয়ানীর বদলে অদ্ভূত একটা পোড়া গন্ধ আসছে৷
আস্তে আস্তে গিয়ে বৌ টুপ করে জড়িয়ে ধরতেই বৌ চ্যাত করে উঠলো৷
পাশ থেকে রুটি বানানোর খুন্তিটা নাড়িয়ে নাড়িয়ে বলল,
-এটা কি দেখেছিস?
-বৌ তুমি কি বিরিয়ানীর চাল দিয়ে রুটি বানাচ্ছো? হাতে খুন্তি কিসের জন্যি?
বৌ এবার দ্বিগুণ রেগে বলল,
-তোর মাথা ফাটানোর জন্য৷ আর শোন, বিরিয়ানী রাঁধবোনা৷ পিয়াজ পুড়াচ্ছি৷ পিয়াজ পোঁড়া দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়াবো তোকে!"
বৌ এর রাগ দেখে আমি নিরাপদ দূরত্বে এসে মিনমিন করে বললাম,
-বাবু আমিতো পোঁড়া জিনিস খেতে পারিনাহ৷ সেটা তো জানোই৷"
বৌ এবার চারগুণ রেগে বলল,
-পোঁড়া খেতে পারিস না? যেখানে দাঁড়ানো ঐখানেই দাঁড়া৷ নয়তো খবর আছে৷"
আমি আর এগুলোম না৷ বৌ আমার হাত ধরে টেনে টেনে রুমে নিয়ে গেল৷
তারপর সিগারেটের সদ্য নতুন প্যাকেটটা দেখিয়ে বলল,
-তোকে এসব খেতে মানা করেছিলাম?
প্যাকেট দেখে আমি আকাশ থেকে পড়লাম৷ আমি কিছু বলতে যাওয়ার আগেই বৌ লাইটারটা বের করে বলল,
বাহ! লাইটারও দেখছি দামি দেখে কিনেছে!"
আমি বৌ কে টুপ করে পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফেললাম৷
ভালোবেসে না অবশ্য৷ সেফটি হিসেবে৷ বৌ আমার জোরাজুরি করছে ছাড়ানোর জন্য৷
অনেক কষ্টে বৌ কে শান্ত করে বললাম,
-বিশ্বাস করো আমি এসব খাই নাহ৷ আমিও জানিনা এসব কেমনে আসলো৷ যদি বিশ্বাস না হয়, তুমি আমাকে চুমু দিয়ে দেখো!"
এই কথা শুনে বৌ আবার জ্বলে উঠলো৷
বৌ কে বিশ্বাস করানো গেলো না৷
বৌ কে বললাম,
-আচ্ছা আমার ফোনটা দাও৷ আমার বন্ধুদের কাছে জিজ্ঞেস করো তুমি৷"
বৌ তার বাপের বাড়ি নিয়ে যাওয়া ফোনটা আমার হাতে দিল অবশেষে৷
ডাটা অন করতেই টুং করে মেসেন্জারের শব্দ৷
বৌ আমার এক ঝটকাতেই ফোনটা কেড়ে নিল৷"
আমি বসেই রইলাম৷ আজকে আমার রেহাই নেই৷
বৌ এবার ফোন ঘাটাঘাটি করে আমার দিকে তাকালো৷
এবার আর অগ্নি দৃষ্টিতে না!
বৌ এর এহেন লুক দেখে আমি শিহরিত হলাম৷ তারপর বৌ কাঁদো কাঁদৌ গলায় বলল,
-বাবু আমি না সরি৷ না বুঝে কত কি বলে ফেলেছি৷ সিগারেটের প্যাকেটটা আমার ভাই ফেলে গিয়েছে৷ এই দেখো মেসেজ পাঠিয়েছে তোমাকে৷"
আমি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলাম হ্যা শালাবাবু মেসূজ পাঠিয়েছে৷
"আপুর কাছ থেকে হেফাজতে রেখো প্যাকেটটা৷ জানলে খুন করে ফেলবে"
জবাবে আমি লিখেছি,
করুক৷ আরেকটু হলেই আমাকে মেরেই দিতো তোর বোন৷"
বৌ কে বললাম,
-চলো রান্না ঘরে চলো৷
তারপর বিরিয়ানী রান্না হলো,,আমি বায়না ধরলাম যে আমায় খাইয়ে দিতে হবে,,,,বৌ আমার মুচকি হেসে আমাকে তার নিজ হাতে খাইয়ে দিতেছে।
খাওয়া শেষে রুমে আইসা বেডের কাছে গিয়ে আমার শার্টের কলার ধরে ভ্রু কুঁচকিয়ে বলল ,
-আচ্ছা লাইটার তো বেডের নিচে পাইছি। এটা কিভাবে আসলো৷
-কয়েল জ্বালিয়েছি এটা দিয়ে ৷ এতো সন্দেহ করো ক্যান?
-ভালোবাসি তাই৷
বৌ হাসলো অবশেষে৷ গুলুগুলু গালে টোল পরেছে৷ আমিও আর দেরী না করে টুপ করে চুমু বসিয়ে দিলাম বৌ এর গালে৷"
এবং তারপর........তারপর........।
লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now