বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্বঃ 2
স্ত্রীকে কিছু একটা বলতে গিয়ে আর পারলোনা কলিমুদ্দিন। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন । চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কলিমুদ্দিন । যথারীতি অন্যসব মূর্দার মতই কলিমুদ্দিন কে দাফন করা হলো পারিবারিক কবরস্থানে । আর স্ত্রী জেলেখা বেগম সন্তান কে পরম স্নেহে খেয়ে না খেয়েঅন্যের বাড়ীতে ঝি এরকাজ করে মানুষ বানাতে লাগলেন । এভাবে কেটে গেল অনেকটা বছর । সাজু এবার ক্লাস নাইনে । কিছুদিন হলো বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে । ছাত্র হিসেবেও খারাপ না । এদিকে মাতবর জয়নালের দাপট অনেকটা কমে গেছে । এখন সে বৃদ্ধের কাতারে । হঠাত্ মাতবর জয়নাল ঘোষনা দিল সে একটি পুকুর কাটবে । আর এজন্য তার ৫০-৬০ জন শ্রমিক লাগবে । যারা এই পুকুর খনন কাজ করতে আগ্রহী তারা যেন আজ বিকেলের মধ্যেই মাতবরের কাছে গিয়ে নাম জমা দিয়ে দেয় । সাজুর এখন পড়াশুনা নেই সে একদম ফ্রি আর তাই ওর ইচ্ছে হলো সে মাতবরের পুকুরে কয়েকদিন শ্রম দিবে ।আর এর বিনিময়ে যা পাবে তা দিয়ে তার মাকে একটি সুন্দর শাড়ী কিনে দিবে । সাজু তার মাকে তার আগ্রহের কথা জানালে মা রেগে যায় । নিষেধ করে বলে তোকে এতকষ্টকরতে হবেনা । তারচেয়ে মনঃযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়া । সাজু মায়ের সাথে অনেকক্ষন জেদাজেদির একপর্যায়ে মা বলে তোর যা ভাল হয় কর গিয়ে । সাজু মাতবরেরকাছে গিয়ে নিজের নামটি শ্রমিক লিষ্টে উঠায় । পরদিনথেকেই পুকুর খনন শুরু হবে । সকল শ্রমিক উপস্থিত পরদিন সকালে । যে জমিটার উপর পুকুর খনন করা হচ্ছে সেটি আর কারো জমি নয় সাজুর বাবার কাছ থেকে জুলুম করে নেয়াসেই জমিটি । সাজু একমনে পুকুর কাটছে আর ভাবতে থাকে আমি কিনা এমন হতভাগ্য যেনিজের জমিতে নিজেই অন্যের শ্রমিক হয়ে কাজ করছি । এটা যে কতটা কষ্টের তা সাজূর চোখ দেখলেই বুঝা যায় । সাজুর দুচোখ বেয়ে টপ টপ গড়িয়ে পড়ে লোনাপানি তার বাবার জমির উপর । অবশ্য এ দৃশ্য কারও চোখে পড়েনা । যাহোক, সারাদিন কাজ করে বিকেলে সবাই যায়মাতবরের কাছে পারিশ্রমিক নেওয়ার জন্য । লাইনে দাড়িয়েআছে সাজু । সাজুর সামনের জনকে পারিশ্রমিক মিটিয়ে দেওয়া হলে সাজুর পালা এসে যায় । মাতবর সাজুকে পারিশ্রমিক দিতে ধরলে সাজু কিছু একটাভেবে বলে মাতবর চাচাআমি একসঙ্গে আমার সবপাওনা একদিনেই নেব ।আমার এখন টাকার দরকার নেই । মাতবর বলে ঠিক আছে আমি তোকে একদিনেই অর্থাত্ শেষের দিনই তোর সমস্থ পাওনা মিটিয়ে দেব । এভাবে একদিন দুইদিন করে ১৫দিন কেটে গেল । আজ পুকুর খনন কাজ শেষ হবে । সাজুর চোখে মুখে তৃপ্তির ছায়া । আজ মাতবরের কাছ থেকে সমস্ত টাকানিয়ে সোজা চলে যাবে বাজারে সেখান থেকে মায়ের জন্য একটা সুন্দর দেখে শাড়ী কিনবে আর বাজারের সবচেয়ে বড় যে মাছটি তা কিনে নিয়ে মাকে চমকে দেবে । পড়ন্ত বিকাল বেশিরভাগ শ্রমিকরা উঠে গেছেন । কেবল আছেন সাজুসহ আরো ৪-৫ জন । আর একটু যায়গা কাটার বাকী আছে । সাজু কোদাল চালালো মাটিতে অমনি কটাং একটা শব্দ হলো । সাজু আবার কোদাল চালালো আবারো একী শব্দ কটাং । সাজু লক্ষ্য করলো কোদালের মুখ পড়েছে ।কিসের সাথে কোদাল লাগলো চিন্তা করতে লাগলো সাজু। হয়ত ইটাজাতীয় কিছু হবে, কিন্তু না আস্তে আস্তে মাটি সরিয়ে দেখতে পেল পিতলের মতকি যেন একটা । সাজু এদিক ওদিক তাকালো নাহ্ আশে পাশে কেউ নেই যারা আছেন তারা অনেক দূরে । হয়তঃ কোদালের এমন কটাং শব্দটা কেউ শুনতে পায়নি বিধায় কেউ এদিকে আসেনি । সাজু আস্তে আস্তে আরো মাটি সরিয়ে ফেলে । এবার তার চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল । একি এতো একটা ছোট আকারেরসিন্দুক । তা পিতলেরতৈরী । সিন্দুকের গায়ে কিছু আশ্চার্য্য ধরনের কারুকার্য করা নকশা । মাটি লেগে আছে বিধায় তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছেনা । সাজু ভাবতে থাকে আমিকি গুপ্তধন পেয়ে গেলাম নাকি ? এখন এ সিন্দুকটি আমি নিয়ে যাব কিভাবে ? মানুষজন দেখে ফেলতে পারে । এখন তার কি করা উচিত্ ?
. . . . . . . . . . . .
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now