বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ব্যথা-নিশীথ
রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি।
আকাশ মেঘলা কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না। এতেই আশেপাশে কোনো রিকশা দেখতে পাচ্ছিনা; রাস্তায় লোকজনও নেই তেমন। হেঁটে আসতে দেখলাম একটা মেয়েকে...দূর থেকে চেহারা চিনতে পারছিনা,খানিক পরেই দেখলাম মেয়েটা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরল আমাকে...রাস্তার ওপরেই। এটা নীতু। কি সুন্দর হয়েছে মেয়েটা!!
আমি কোনোমতে তাকে ছাড়িয়ে বললাম-‘এই,তুই এত সুন্দর হলি কি করে?’
খিলখিল করে হেসে উঠল নীতু, “প্রথম কথা এটাই?”
আমার হাত ধরে আছে ও; সেই আগের মত...কতবছর পর দেখলাম ওকে?চার? না পাঁচ হবে সম্ভবত। একদম বদলে যায়নি ও। কত্ত কথা বলে যাচ্ছে মেয়েটা আর আমি সবসময়ের মতো হাসিমুখে ওর কথা শুনছি।
“বিয়ে করিসনি তাইনা?”,আচমকা প্রসঙ্গের বাইরে প্রশ্নে একটু চমকে গেলেও সামলে নিয়ে হাসলাম আমি।
“হুম,হাসতে হবেনা,বুঝেছি...চল এখন”।
আমার খুব তাড়া ছিলনা আবার খালি সময়ও ছিল না। কিন্তু নীতুকে এতদিন পরে পেয়ে গল্প করার সুযোগটা হাতছাড়া করলাম না।
বাবুল ভাইয়ের সেই দোকাল। ও বলল-“চল আজ আবার এককেজি ফুচকা খাই,সেবারের মতো”...হেসে উঠলাম দুজনেই। এত ফুচকা খেয়ে যে কি অবস্থা হয়েছিল!! তখন স্যালাইনই ছিল ভরসা।
“তুই যে বিয়ে করেছিস এটা শুনেছি আমি”।
ফুচকায় কামড় দিতে দিতে উজ্জ্বল চোখে হাসল নীতু। পরক্ষনেই ম্লান হয়ে গেল হাসিটা।নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “এটা ছাড়া উপায়ও ছিলনা রে”।
-কতদিন হল রে নীতু?
-সাড়ে তিন হবে...
আবারো হাসল ও,মেয়েটা যা হাসতে পারে।
-কাকে...
আমাকে প্রশ্নটা শেষ করতে দিলনা ও, “কাকে আবার,আরিফকে!”
আরিফ ভাই আমাদের কয়েক ব্যাচ সিনিয়র ছিলেন। ওদের মধ্যের যোগাযোগটাও আমি করিয়ে দিয়েছিলাম।
“কেমন আছেন উনি?”
“ভালো আর কেমনে থাকে”, দুঃখের কপট ভঙ্গি করল ও।
“আমি যা জ্বালাই ওকে...ও আমার সবটা সহ্য করে রে”।
নীতু কথা বলেই যেতে লাগল।সবই সংসার সংক্রান্ত আর আরিফ সংক্রান্ত। মেয়েরা একটা সময় অন্য একটা মানুষকে, যার সাথে তার রক্তেরও কোনো সম্পর্ক নেই তাকে কতটা আপন করে নেয়! কি মোহময়ী লাগছে নীতুকে আরিফ ভাইয়ের কথা বলতে...
নিঃশ্বাস নিল ও, “বল্ তোর কথাও বল গাধী”
আমি হাসলাম, “আমার কোনো কথা নেই। যেমন ছিলাম আছি”।
ভ্রু কুঁচকে তাকালো ও আমার দিকে, চোখে সন্দেহ।
আমি হাত তুললাম, “বাপরে এমন করে তাকাস না,সত্যিই খবর নেই আমার”।
“হুম,ভালো। বিয়ে কবে করবি বল?”নীতু তাকালো আমার দিকে।
“করব,কোনো একদিন...”
“আচ্ছা, তুই কি জানিস একটা ব্যাপারের উপলব্ধি মানুষকে জীবনে কতটা সুখী করতে পারে?”
সুখ সম্পর্কে আমার ধারনা,অভিজ্ঞতা দুটোই কম...তাই মাথা নাড়লাম শুধু।
নিতু উজ্জ্বল মুখে বলল- ‘এটাই, আমি যাকে ভালবাসি সেও আমাকেই ভালবাসে’
ও যোগ করল, ‘ আচ্ছা তুলি, তোর ভাই বলছিল তুই আর সে নাকি একটা ব্যাপার জানিস যা আমি জানি না! বল না’।
নিতুর মুখের দিকে তাকালাম,কি শান্ত আর মিষ্টি একটা মুখ! ভালবাসায় ঝলমল করছে।
আমি ওকে বলতে পারলাম না, আরিফ ভাইয়ের ভালবাসার মানুষটি আমি ছিলাম!
এই কথাটি আমি আর আরিফ ভাই জানি।
কিন্তু যেটা তিনিও জানেন না,জানেন না তাকে ফিরিয়ে দেবার কারণ সেটা থাকুক গোপন।
একজন বৃহন্নলার গল্প সবার জন্য না।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now