বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্যর্থ বাবা**ব্যর্থ স্বামী

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ****ব্যর্থ বাবা***ব্যর্থ স্বামী****** রিকশার প্যাসেঞ্জার সিটে বসে থাকা কলেজ পড়ুয়া ছেলেটি আরো জোরে হাক দিল... - চাচা একটু জোরে চালান কলেজের দেরি হয়ে যাচ্ছে! ষাটোর্ধ বয়সি রিক্সাচালক মুজিব মিয়া শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে রিক্সার প্যাডেলে জোরে চাপ বসাতেই মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। . এভাবে অনেক্ষন কেটে গেল। জ্ঞান ফিরতেই মুজিব মিয়া নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করলেন। অনেকটা হকচকিয়ে উঠে বসার চেষ্টা করতেই চিকিৎসক ডাক্তার তাকে ঈশারায় শুয়ে থাকতে বললেন। বিচানায় শুতে শুতে মুজিব মিয়া খেয়াল করলেন তার রিক্সায় প্যাসেঞ্জারের সিটে বসা কলেজ পড়ুয়া ছেলেটি তার পাশেই বসে আছে। ছেলেটি অবশ্য একা নয় এখন তার সাথে তার দুজন বন্ধুও আছে। . অনেকটা লজ্জিত হয়ে মুজিব মিয়া বলে উঠলেন, - ইয়ে মানে বাবাজি আমার চোখেমুখে কেমন আঁন্ধার নাইমা আইছিল আর কিছুই মনে নাই বাবাজি। . কলেজ পড়ুয়া ছেলেটি অনেকটা শ্রদ্ধার সাথেই রিক্সাচালক মুজিব মিয়ার হাত দুখানি শক্ত করে ধরে বললো, -- ও কিছু নয় চাচা। আপনি মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। আপনি এই বয়সে রিক্সা চালান দেখে বেশ অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু এখানে আনার পর জানতে পারলাম আপনার শরীরে প্রচুর রক্ত ঘাটতি। . রিক্সাচালক মুজিব মিয়া অনেকটা করুন স্বরেই বললেন, -- তা ত হবেই বাবা। সাপ্তা দুয়েক আগে এক ব্যাগ রক্ত বিক্রি করছিলাম। . বেশ অবাক হয়েই ছেলে গুলো বললো, - কিন্তু কেন চাচা? . এবার রিক্সাচালক মুজিব মিয়া হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে বলতে আরম্ব করলেন, - বাবারে আমি আগে রিক্সা চালাইতাম না। আমরা আগে গ্রামে থাকতাম। আমরা বলতে আমি, আমার স্ত্রী আর এক ছেলে। আমার ছেলেটা অনেক মেধাবী ছিল। পড়ালেখাও করাইছিলাম। ছেলেটা একটু বড় হয়ে যখন কলেজে উঠলো তখন বললো গ্রামের জায়গাজমি বেঁচে আমরা যেন শহরে বাসা করি। ভাবলাম ছেলে আমার পড়ালেখা জানে। ছেলের বুদ্ধি আছে। তাই গ্রামের সব জায়গা জমি বিক্রি করে ছোট্ট একটা বাসা কিনলাম। গ্রামে ত কৃষি কাজ করতাম কিন্তু শহরে আইসা বেকার হইয়া পড়লাম। তাও কোনো রকমে চারটা বছর কেটে গেল। ছেলেটারে ভালো একটা কলেজে ভর্তি করাইছিলাম.... . মুজিব মিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলতে লাগলেন, - বছর খানিক আগে আমার পোলাটা এক মাইয়ার সাথে প্রেম কইরা পলাইয়া গেছে। পোলাটার আর কোনো খবর পাইনাই। বাঁইচা আছে নাকি মইরা গেছে? ছেলেটার শোকে কাঁদতে কাঁদতে আমার স্ত্রী অনেকটা অসুস্থ হইয়া গেছে। রিক্সা চালাইয়া আর কতই বা পাই! দিনে এনে দিনে খাই। আবার বয়স দেখে অনেকে রিক্সায়ও উঠতে চায়না। তাই উপায় না দেখে দু- সাপ্তাহ আগে এক ব্যাগ রক্ত বিক্রি করে স্ত্রীরে ভালো ডাক্তার দেখাইছি। ডাক্তার সাবরা অবশ্য আমার রক্ত দিতে না করছিলো। কিন্তু রক্ত না বেঁচলে টাকা জোগাড়ের অন্য উপায় ছিলনা.. . ষাটোর্ধ বয়সি রিক্সাচালক মুজিব মিয়ার চোখ বেয়ে বেয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো। নিয়তির কাছে হেরে যাওয়া এক অসহায় পিতা এক অসহায় স্বামীর এই চোখের জল কোনো বাঁধা মানেনা। চোখের পানি পড়তে পড়তে চোখের দুপাশে কালো দাগ পড়ে যায় তবুও কান্না থামেনা... . কলেজ পড়ুয়া ছেলে গুলো তখনো অপলক দৃষ্টিতে মুজিব মিয়ার দিকে চেয়ে আছে। হঠাৎ তারা নিজেদের চোখ দুটোও কেমন ভেজা ভেজা অনুভব করে। --------✍ এইচ আই ফাহাদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ব্যর্থ বাবা**ব্যর্থ স্বামী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now