বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বোকা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Sumon Al Hasan (০ পয়েন্ট)

X অনেক আগে এক দেশে এক সুখী কৃষক ছিলো। একদিন রাজা তাকে তার সভাসদে ডেকে পাঠালেন এবং জানতে চাইলেন, "তার সুখের রহস্য"। কৃষক উত্তর দিল,"আসলে আমার যা আছে আমি তাতেই সুখী আর সন্তুষ্ট আর এ জন্যই আমি সুখী।" উপস্থিত সকলে হাততালি দিলো। রাজা অবশেষে জবাব দিলেন, "কিন্তূ তোমার কাছে তো কোনও হীরা জহরত নেই। তুমি বোঝো না ঐশ্বর্য কাকে বলে। যার কাছে হীরা থাকে সেই বোঝে আসলে সুখ কি। তাই আমার কাছে মনে হয়না তুমি সুখী।" রাজার এমন কথা শুনে কৃষক দুঃখ ভরাক্রান্ত হৃদয়ে রাজদরবার থেকে বেরিয়ে গেলো। এদিকে রাজার মন্ত্রী সেনাপতিরা রাজার এমন কথা বলার কারণ জানতে চাইলো। রাজা বললেন, "আসলে কৃষক সুখী আছে তা আমিও জানি কিন্তু তাই বলে নিজের উন্নতির চেষ্টা না করলে সে এই সুখকে ধরে রাখবে কি করে? তাই আমি ওকে হীরার কথা বলেছি যাতে ও এবার হীরার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে আর কঠোর পরিশ্রম করে । কিন্তূ ও যদি শুধু হীরাটাকেই খোঁজে তাহলে ও নিশ্চিতভাবে সর্বস্ব হারাবে কিন্তু যদি হীরা খোঁজার সাথে অন্য কোনও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে তাহলে ও নিশ্চিতভাবে জয়ী হবে কারণ হীরা জিনিসটা পাওয়ার সময় খনিতে আকরিক কয়লাও পাওয়া যায় আর তাই যদি ও আকরিক আর কয়লার ব্যবসা করে তাহলে একসময় কয়লা ঘাটতে ঘাটতে ও ঠিকই হীরা খুঁজে পাবে। অর্থাৎ সুযোগের পেছনে লেগে থাকলে সামনে আসা অন্য সুযোগগুলোও একসময় আসল সুযোগের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে।" এদিকে কৃষক বাড়ি এসে ভাবতে থাকে রাজা তো আসলে ঠিকই বলেছেন। আমার কাছে কোনও হীরা মানিক নেই। আমি শুধুই আমার আগের জিনিসগুলো নিয়ে সুখে আছি কিন্তূ আরও কিছু পাবার চেষ্টা করছি না। এইসব মনে করে কৃষক এবারে আশে পাশের মানুষদের কাছে হীরা কোথাই পাওয়া যাই জানতে চাইলে তারা বলে হীরা কয়লার খনিতে পাওয়া যায় আর অনেক কয়লার খনি পাওয়া যায় আফ্রিকাতে। লোকেদের কথাগুলো শুনেই কৃষক এবারে তার ঘর বাড়ি রাজার একজন সৈন্যের কাছে বেঁচে দিয়ে আফ্রিকাতে হীরার সন্ধানে বেরিয়ে পড়লো। এদিকে রাজার যে সৈন্য কৃষকের বাড়িটা কিনেছিল সে একদিন বিকেল বেলা সদ্য কেনা কৃষকের বাড়ির পাশ দিয়ে হাটতে হাটতে হঠাৎ একটা পরিত্যাক্ত কুপ দেখতে পেল। সৈন্যটি দেখতে পেলো ঐ কুপটিকে আসলে কৃষক একটা ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতো।। তখনকার সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল। পানির সঙ্কটে চারিদিক ফেটে চৌচির।তাই সৈন্যটি ঠিক করলো সে ঐ কুপের সব ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে কুপটিকে নতুন করে খনন করবে যেন পানির একটা সমাধান হয়। লোকবল ডেকে নিয়ে কুপের মাটি খনন করা হচ্ছে এমন সময় একজন লোক কুপের ভেতর মাটি থেকে একটা চকচকে জিনিস তুলে সৈন্যের হাতে দেয়। সৈন্যটি দেখেই বুঝতে পারে এটি আসলে একটি হীরা, এরপর ভালোভাবে মাটি কাটার পর আস্তে আস্তে আরও অসংখ্য হীরার সন্ধান পাওয়া যায়। সৈন্য তখন রাজার কাছে যেয়ে সব ঘটনা খুলে বললে রাজা বলেন, “ঐ কৃষকটি আসলে একটা বোকার বুদ্ধ। ও জীবনেও উন্নতি করতে পারবে না। ওর বাড়ির পাশেই রয়েছে হীরার খনি অথচ সেটাকে একটা আবর্জনা ফেলার জায়গা ভেবে সে এই হীরার খনি খুইয়েছে, আর এখন মানুষের কথা শুনে সে গেছে আফ্রিকাতে অথচ হীরার যে উৎস কয়লা, সে কয়লার খনি যে এদেশেও আছে তাও ও জানতে চায়নি। অতঃপর, ভিনদেশে কোনও কাজ না পেয়ে একদিন না খেতে পেয়ে কৃষকটির মৃত্যু হয় আর সেই সৈন্য যে কিনা কৃষকের বাড়ি কিনেছিল,সে তার হীরার খনির সুবাদে আস্তে আস্তে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়। শিক্ষাঃ আমাদের আশে পাশেই আমাদের জন্য সুযোগ অপেক্ষা করে। শুধুমাত্র মানুষের কথায় পরিচালিত না হয়ে সৎ পথে থেকে নিজের বুদ্ধি-বিবেক- শিক্ষাকেও কাজে লাগাবেন আপনার সুযোগকে সদব্যাবহার করার জন্য। আর মনে রাখবেন, উচ্ছিষ্ট জিনিসের মাঝেও লুকায়িত থাকতে পারে আমাদের সৌভাগ্য। তাই হেলায়- অবহেলায় হারাবেন না, আপনার ভাগ্যকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বোকাভূ
→ বোকা ভূত
→ রাগী রাবণ এবং বোকা রাজকন্যা
→ বোকা দাঁড়কাক
→ বোকা লোকের গল্প
→ বোকা ভূতের গল্প
→ বোকার শহর-১
→ বোকার শহর -১
→ বোকার শহর
→ বোকার শহর -১
→ বোকার শহর -১
→ "বোকা ছেলে"
→ বোকা সেই ছেলেটা
→ বোকা গার্লফ্রেন্ড
→ "বোকা রাজার গলায় দড়ি"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now