বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
২০১১ সালের কথা,তখন রাত বারোটা জাহেদ ঘুমোচ্ছে হঠাৎ ফোন বাজতেই দেখে তার বন্ধু হারুনের ফোন।কিরে এখনো ঘমোস নি?কালকের কথা বলছি যে মনে আছে? তুই আসবি তো আমার স্ত্রীকে রক্ত দিতে তখন জাহেদ চেঁচিয়ে বলল আরে আসবো বলছি না, এত বার বলা লাগে?আসবো বলছি আসবো।মোবাইলের ঐ পাশ থেকে হারুন কাঁদতে কাদঁতে আবারো অনুনয়-বিনয় করে বলতেছে ভাই তুই সকালে সকাল আসিস এই কথা শুনার অপেক্ষা করেনি জাহেদ।সেই আগের মতো মোবাইলের মধ্যে ডুকে গেলো।
সকালে ঘুম থেকে উঠছে আর ভাবতেছে ৮:০০ এর সময় হারুনের স্ত্রীকে রক্ত দিতে হবে আর ঐদিকে নাজিমও যে আজকে কলেজে যেতে বলছে ১০:০০ টা বাজে।ভাবতেছে আর শার্টের বোতাম লাগাচ্ছে জাহেদ এমন সময় মা এসে বলল কিরে তুই এত সকাল বেরুবি?কোনো দিন তো এত সকাল সকাল বের হস নি?মায়ের দিকে রাগান্বিত চেয়ারা নিয়ে জাহেদ বলল কোনো বের হয়নি বলে কি আজ বের হবো না!আমি আজ দুপুরে খাবো না।এই কথা বলতে না বলতে মা বলল কেন?কোথায় খাবি?কোথায় যাবি নাকি!সে চেঁচিয়ে বলল একবার বলছি খাবো না এত কপিয়ত দিতে পারবো না সরো আমি বের হচ্ছি।
বাবা মরার পর ছেলের কত কষ্ট-ই না করে মানুষ করেছে সপ্না বেগম, ছেলের যাওআর পথে তাকিয়ে আছে আর ভাবতেছে ওই ছোট বেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় কত বার যে পিছনে ফিরে মাকে হাত নাড়াতো বার বার তাকাতো আর সেই ছেলে এখন যেন কেন অন্যরকম হয়ে গেছে এইগুলা ভাবছে আর স্বপ্না বেগমের চোখ দিয়ে জ্বল গড়াচ্ছে।
জাহেদ যথারীতি হাসপাতালে গেছে হারুনের স্ত্রীকে রক্ত দিতে আর ভাবতেছে তাড়াতাড়ি রক্ত দিয়ে নাজিম যে নিমন্ত্রন করেছে ঐ জায়গায় যেতে হবে।হাসপাতালে জাহেদ কে দেখেই হারুন হাউমাউ করে কাদতে লাগলো আর বলল তোর ভাবি ভালো নাইরে দোস,সেই আমাকে বলছে যদি এমন কোনো সিচুয়েশান আসে যে ছেলেকে না হয় মাকে বাঁচানো যাবে দুইজন কে একসাথে বাঁচানো যাবে না তখন আমার স্ত্রী বলছে ওর কথা চিন্তা না করে আমি যেন আমি যেন আমার সন্তানকেই বাঁচানোর কথা বলি।মূহুর্তের মধ্যে জাহেদ চলে গেলো ভাবের জগ, সেও ভাবতেছে আমার জন্মের সময় আমার মাও কি আমার বাবাকে ধরে এই কথা বলছে?আমার বাবা কি ঐ সময়ে হারুন এর মতো অধীর আগ্রহে সন্তানের জন্য বসে ছিলো?
এইগুলা ভাবতে না ভাবতেই জাহেদ কে রক্ত দিতে ডাকা হলো জাহেদ রক্ত দিয়ে এসে চলে যাবে এমন সময় হারুন এসে চলমল চেহারা নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল আমার ছেলে হয়েছে তার এই উজ্জীবিত উজ্জ্বলতা দেখে জাহেদ ভাবল তার বাবাও কি এইভাবে তার আগমনে খুশি হয়েছিলো!এমন ভাবতে ভাবতেই জাহেদ এর আর কিছু ভালো লাগছে না সেই আজ আর কলেজের ফাংশন এ না গিয়ে বাড়িতে চলে গেলো আর বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতেই মা বলল তুই না আজ আসবি না বলছত?তাহলে কেন আসলি এতো তাড়াতা? আজ আর জাহেদের মুখে কথা নাই অপলক দৃষ্টিতে শুধু মায়ের দিকে তাকিয়েই আছে!
মা বুঝতে পারছে যে আজ তার ছেলের বোধের উন্মেষ হয়েছে।আমার ছেলেটি আবার আগের মতো হয়েছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now