বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
.
.
আমাদের সমাজে অনেকেই আছেন যারা ভিক্ষুক কে দেখে বলেন, "আপনি কেন ভিক্ষা করছেন? আপনার শক্তি সামর্থ আর যোগ্যতা সবই তো আছে? সব দিক থেকে সামর্থ থাকা সত্ত্বেয় ভিক্ষা করেন কেন? আমরা আপনাকে ভিক্ষা দিবো না! আবার, অনেকে বলেন, "ঐ টাইপের ভিক্ষুকরা নাকি ভন্ড? এটা নাকি ওদের ব্যবসা? ওরা নাকি ইচ্ছে করেই এভাবে সকলের কাছে হাত পাতে? এটা নাকি টাকা ইনকামের একটা বিশেষ চাল?"
হ্যাঁ, ঐসব মানুষের উদ্দেশ্যে বলছি, চাইলে আপনিও তো ঐ ব্যবসায় নেমে যেতে পারেন। স্বল্প পরিশ্রমে বিনা পুঁজিতে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। নাহ! আপনি কেন সেটা করতে যাবেন? আপনি তো বিনা পরিশ্রমে এসিতে বসে সকাল থেকে রাত অব্দি সমান তালে দু'হাতে টাকা কামান। নাহ! প্রশ্নই ওঠে না আপনার ভিক্ষা করার! তাই, আপনাদের ও কথা বাদ দিলাম।
কিন্তু, যারা একেবারেই সব দিক থেকে সামর্থহীন। হ্যাঁ, তাদের কথাই বলছি যারা না পারে খাটতে; আর না পারে কারো কাছে হাত পাতটে! কিংবা, না পারে কারো কাছে শেয়ার করতে। তাদের কথাই বলছি, যারা তিন দিন না খেয়ে থাকলেও প্রয়োজনে পেটে পাথর বেধে রাখে! যারা ছিন্ন বস্তু বার বার মেরামত করে আবারো পরিধান করতে বাধ্য হয় নতুন একটা বস্ত ক্রয়ের সামর্থাভাবে।
চাইলে ঐ শ্রেণির মানুষগুলো তো এই ভন্ড ভিক্ষুকের রুপ ধারন করতে পারেন! কিন্তু, না! ওনারাও সেটা করবেন না! এটা কোনভাবেই সম্ভব না। কেননা, যেনারা তিন দিন না খেয়ে থেকেও ছিন্ন বস্তটুকুও অন্তত মেরামত করে লন্ডি করে তারপর সেটাতে আবার পারফিউম পাত্রে জমে থাকা একেবারেই শেষ অংশটুকু হলেও না মেশালে বাহিরে বাহির হোন না তেনারা কোনভাবেই মরে গেলেও কারো কাছে কখনও হাত পাতবেন না। কেননা, তাদের কাছে আত্নসম্মানবোধ টুকু সবথেকে বেশি প্রাধান্য পায়। তাই, তাদেরও ভিক্ষা করা সম্ভব না সেটা মানলাম। কেননা, ওরা ভাজবে/মচকাবে কিন্তু ভাঙ্গবে না।
.
.
আচ্ছা, তাহলে এবার তাদের কথাই বলি যারা দিনের পর দিন না খেয়ে ছিন্নবস্ত্রটুকুও কোন কৌশলে ঢেকে রেখে রাস্তা রাস্তা ঘুড়ে বেরাই তাদের কথায় বলি। তারা চাইলে তো এ ভন্ড ব্যবসা ভিক্ষুক ব্যাবসা করতে পারে? কিন্তু, নাহ! ওরাও তো এটা করে না। কারন, ওদের ও নূন্যতম লজ্জাবোধ আছে। আছে নূন্যতম আত্নসম্মানবোধ।
.
.
এবার আসুন খচিয়ে দেখি কারা এ ভিক্ষাবিত্তী পেশায় যায়?
প্রত্যেকটা মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে কি না করে? কখনও কখনও বিপরীত কিছুও করে থাকে। যেমন, ধরুন চুরি,ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ধোঁকাবাজি আরও অনেক কিছু। কেন এসব করে জানেন? কারন, "ন্যাসেসারি নোন নো ল'স"। আসলেই, অভাব যখন দূয়ারে এসে দাঁড়ায় তখন মানুষের মধ্যে হিতাহিত বোধ থাকে না। কোনটা ভালো কোনটা মন্দ সেটা তখন মাথায় থাকে। মাথায় থাকে শুধু অভাব নিবারনের ধান্দা! ওরাও কিন্তু ভিক্ষাবিত্তী পেশাটা বেছে নেয় না। তাহলে, তারা কারা যারা ভিক্ষুক? তারা কারা যাদের পেশা ভিক্ষাবিত্তী?
হ্যাঁ, তারাই ভিক্ষুক! তাদের পেশাই ভিক্ষাবিত্তী যারা লজ্জার একেবারেই নিম্নস্থানে অবস্থান করেন, যাদের নূন্যতম আত্নসম্মানবোধ টুকুও বিকিয়ে দিতে হয় বাস্তবতার বাজারে। কতটা নিচে নামলে পরে একজন ভিক্ষাবিত্তি পেশা বেঁচে নিতে পারে সেটা সত্যিই অভাবোনীয়? আসলে কেউ ভিক্ষা করে না, তাকে ভিক্ষা করতে বাধ্য হতে হয়।
.
.
আমরা সমাজের কিছু কিছু মানুষ বলি, "অ্যাজ ইউ সোও, অ্যজ ইউ রিপ"। আসলে, মানুষ কি নিজেই তার কর্মের জন্য দায়ী? এর উত্তরে আমি বলবো, না কোন মতেই দায়ী নয়। কেননা, একজন রিক্সাচালকও চায় একদিন তার নিজেরই একটা রিক্সা গ্যারেজ থাকবে। সে এক দিন অনেক বড় হবে। সে কি কখনও চাই যে কোন একদিন বাস্তবতার প্রকোপে পরে তার রিক্সাটাও বিক্রি করে দিতে হোক? একদিন তাকে কোন উপায় না পেয়ে ভিক্ষা করতে রাস্তায় নামটে হোক? কখনও চায় না! আর, কেউ
সেটা চায় না। চাওয়াটাও কোনভাবেও সম্ভব না। কেননা, একজন মানুষের কাছে সব থেকে বড় ধন হলো তার আত্নসম্মানবোধ।
.
তাহলে, এক্ষেত্রে আপনি কাকে দায়ী করবেন ব্যাক্তির কর্মপ্রচেষ্টাকে নাকি কপালের লিখন নিয়তি কে? আমি কপালের লিখন নিয়তিকেই দায়ী করবো। কেননা, কেউ বাস্তবতার কাছে হার মানতে চায় না, বাস্তবতা তাকে হারিয়ে দেয়। কেউ নিয়তির কাছে হারতে চায় না, নিয়তি তাকে হারিয়ে দেয়। তাই, শেষ অব্দি আমি বার বার কপালের লিখন নিয়তি কেই দোষারুপ করবো। এই কাহিনী বা এ গল্পটার নাম কি দিবেন? আমি এ কাহিনীটার নাম দিবো বোবা কাহিনী। কারন, ওনাদের হাত থেকেও নেই। মুখ থেকেও নেই। বোবার মত সব শুনতে হয়, বলার মত কিছুই থ্কে না।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now