বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বংশের এক্স

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Chowdhury Mehraj abir (০ পয়েন্ট)

X সকাল থেকেই ছোট ভাই কান্নাকাটি করছে। তার কান্নার কারণ তার ক্লাসমেট নাদিয়া অনলাইন ক্লাসে আসছে না। কান্নার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে নাদিয়া ক্লাসমেট থেকেও বিশেষ কিছু। অনেক বুঝাইলাম বাসায় সমস্যা হইছে হয়তো এইজন্য অনলাইন ক্লাসে আসছে না। সমস্যা ঠিক হইলেই চলে আসবে। কিন্তু ছোটো ভাই কোনোভাবেই রাজি নয় এসব মানতে। শেষমেশ আব্বাহুজুর ই বললেন " রিফাত ড্রাইভার কে গাড়ি বের করতে কও। তুমি ওরে নিয়ে গিয়ে অই মেয়ের বাসা থেকে ঘুরে নিয়ে আসো। আর দুইজন ই মাস্ক আর গ্লাভস পরে নিবা। বেশি দেরি করবা না"। ছোটো ভাই ড্রাইভার কে ডিরেকশন দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এর আগে অনেকবার ই ও সেই মেয়ের বাসায় গেছে। প্রেমিকার সাথেই এই লকডাউনে ভয়ে আমি দেখা করি না। আর তো ছোটোভাইয়ের ক্লাসমেট। বাসায় গিয়ে শুনলাম পিচ্চি নাই। বাবার সাথে ঘুরতে গেছে। চলে আসতে যাচ্ছিলাম। এমন সময় আন্টি বললেন "তোমরা বসো একটু বাবা আমি ভিতর থেকে আসছি"। আন্টি সেই যে ভিতরে গেছে আসার কোনো নাম ই নাই। একটু পরে যে খাবার হাতে নিয়ে এলো তাকে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলাম। আরে সামিয়া। আমার প্রাক্তন। আমি বললাম "তুই এইখানে"? সামিয়া বললো " অই হারামজাদা তুই আমার বাড়িতে কি করস? বাইর হ আমার বাড়ি থেকে। তোরে এইখানে কে ঢুকতে দিছে"? আমি বললাম "দেখ আমি এইখানে ইচ্ছে করে আসিনাই।ছোটো ভাই ওর ক্লাসমেট নাদিয়ার সাথে দেখা করার জন্য কান্না করছিল, এইজন্য আসছি"। সামিয়া বললো "কি! আমার বোনের সাথে তোর ছোটো ভাই পড়ে? কালকেই ওর স্কুল চেঞ্জ করে অন্য স্কুলে ভর্তি করায় দিয়ে আসমু। তুই কেন তোর চোদ্দগুষ্টির ছায়া যেখানে আছে সেখানে আমার কাউকে যাইতে দিমু না"। রাগে দুঃখে ছোটো ভাইকে নিয়ে বের হয়ে আসলাম। এই মেয়ের সাথে প্রেম করার সময় আমার জীবন শেষ করে দিছে। সারাদিন যে মানুষিক টর্চার গুলো করতো। ছোটো ভাইকে বললাম খবরদার অই মেয়ের ছোটো বোনের সাথে মিশবা না।তাইলে তোমাকে অনেকগুলো ভিডিও গেম কিন্না দিমু। সারাদিন বাসায় বসে বসে খেলবি তাইলে আর অই মেয়ের কথা মনে হবে না। ছোটোভাই বসে বসে ভিডিও গেম খেলছিল। এরমধ্যে আবার কান্না। দৌড়ায় গেলাম ওর কাছে। কি হইছে জানতে চাইলে বলে "গেমের মধ্যে নাদিয়ার মতো একটা ক্যারেক্টর দেখছে" ওটা দেখে নাদিয়ার কথা মনে হইছে। এখনই ও নাদিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চায়"। এর মধ্যে আব্বাহুজুর এসে উপস্থিত। কি হইছে ঘটনা কি। ছোটোভাই জীবনের গল্পের মতো সব গল্প আব্বাকে বলে দিলো। আব্বাহুজুর আমার দিকে তাকিয়ে বললো " তুই মেয়েটার সাথে ওর দেখা না হতেই ওর বড় বোনের সাথে ঝগড়া করে আসছিস। কি ভাববে ওরা। তুই আমার মানসম্মান রাখবি না।চল বাবু আমি তোকে নিয়ে যাচ্ছি নাদিয়ার কাছে। বলে আব্বা বাবুকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। আব্বাহুজুর যখন ফিরে এলো তখন তার মনে উদাস উদাস ভাব। দেখলেই মনে হচ্ছে চোখের সামনে অনেকদিন পরে কিছু একটা দেখেছে। কিছু কইতে যামু এর আগেই আব্বা বললো "ওর স্কুল চেঞ্জ করাতে হবে। ওরে অই স্কুলে আর পড়ামু না। তুই ভালো একটা স্কুলের খোঁজ কর"। ঘটনা কিছুই বুঝতে পারলাম না। রাত্রে ছোটো ভাইকে ডাক দিয়ে বললাম " কি হইছে বাবু। নাদিয়ার সাথে দেখা হয়নাই? ছোটোভাই যা বর্ণনা দিলো তা মোটামুটি এইরূপ। বাসার দরজা খুলছে নাদিয়ার মা। খুলেই আব্বাকে দেখে বলে" এতদিন পরে তুমি কেন এসেছ। এখান থেকে চলে যাও। বাসায় আমার স্বামী আছে। এখন আমি দুই মেয়ের মা। আমার স্বামী জানতে পারলে আমার সমস্যা হবে। আমি তোমাকে ভুলে গেছি। কিন্তু স্মৃতি ভুলতে পারিনা। প্লিজ তুমি চলে যাও "। এরপর আব্বা বাবুকে নিয়ে সেই বাসা থেকে চলে এসেছে। ছোটোভাই বললো " আচ্ছা ভাইয়া আন্টি আব্বাকে দেখে এসব বললো কেন?উনি কি আব্বুকে চিনেন? ওরে ধমক দিয়ে বললাম " এসব বড়দের ব্যাপার। সেদিন নাদিয়ার আপুর সাথে ঝগড়া করছি মনে নাই। মনে হয় আঙ্কেল শুনছে। এইজন্য আব্বাকে এসব বলছে। তুমি এখন যাও। গিয়ে গেম খেলো। আর শোনো এসব কথা আম্মুকে বলবা না। জীবনটা বড় অদ্ভুত। বাপের এক্সের মেয়ে ছেলের এক্স। ক্যামনে সম্ভব। কিছুদিন পরের ঘটনা। রুমে বসে বই পড়ছি। এমন সময় ছোটোভাই বাবু এসে বললো " ভাইয়া আজকেও নাদিয়ার সাথে দেখা করতে পারলাম না। আমি বই রেখে চমকে উঠলাম। মানে? তুমি কার সাথে ওখানে গিয়েছিলে আবার? ছোটভাই বললো " আম্মুর সাথে গিয়েছিলাম। অনেক কষ্টে আম্মুকে ম্যানেজ করছি। কিন্তু ওর বাসায় যাওয়ার পরে আঙ্কেল দরজা খুলে দেয়। আম্মুকে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠে বলে, আয়েশা এতদিন পরে তুমি। তোমার কথা এখনো আমি ভুলে যাইনি। মাঝেমধ্যেই তোমার কথা মনে হয়। কিন্তু তুমি এখানে কেন? প্লিজ তুমি ওখান থেকে চলে যাও। ভিতরে আমার বউ মেয়েরা আছে। ওরা জানলে আমি মুখ দেখাব কিভাবে"? তাই আম্মু আর ভিতরে না গিয়ে ওখান থেকেই চলে আসছে। আচ্ছা ভাইয়া উনারা কি আমাদের পরিচিত? ছোটো ভাইয়ের গালে দুইটা লাগায় দিয়া বললাম" যাও তোমার রুমে। আর শোনো এসব কথা আব্বুকে বলবা না"। আজকের ঘটনা... ড্রাইভার কল দিয়ে বললো " স্যার নাদিয়া আপুর বাসায় আর ঘুরতে যাবেন না? আমি বললাম "আক্কাস ঘটনা কি"?আক্কাস আমতা আমতা করে বললো " না মানে স্যার, আপনি তো জানেন আগে আমি গার্মেন্টসে চাকরি করতাম। ওখানে আমি একটা মেয়ের সাথে প্রেম করতাম। সেদিন খালাম্মার সাথে নাদিয়া আপুদের ওখানে গিয়ে দেখি নার্গিস ওখানে। নাদিয়া আপুদের ড্রাইভারের বউ। তাই বলছিলাম যদি যান আরকি "। মাথার চুল সব হাত দিয়ে টেনে টেনে ছিঁড়তেছি। আমার চোদ্দগুষ্টি এক্স অই বাসায় কেন? কেন? কেন????? এটি লিখালিখি গ্রুপ থেকে নেয়া এটি নিখেছেন @রিফাত আহমেদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বংশের এক্স

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now