বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বন্ধুত্ব বনাম ভালোবাসা

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X > দোস্ত আজ বিকেলে দেখা করতে পারবি। >> কেন দোস্ত? > পারবি কিনা সেইটা বল। >> হুম পারব , কিন্তু কি দরকার সেইটা বলবি তো। > তুই বিকেল ৫ টায় করিম চাচার চায়ের দোকানে চলে আসিস। সেখানেই বলবো কথাটা। >> রাখি বাই। > বাই। এতক্ষণ ফোনে কথা হচ্ছিল নীল আর হাসিব এর মাঝে। তারা দুই জন জানের জিগার দোস্ত। সেই স্কুল লাইফ থেকেই বন্ধুত্ব। বর্তমানে দুইজনেই একটা ভার্সিটিতে পড়ছে। হাসিব বসে আছে করিম চাচার চায়ের দোকানে। চা খাচ্ছে আর বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। ৫.০০ টা বাজে শালার নীলটা এখনও কেন যে আসছে না। ঠিক তখনই রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখে নীল আসতেছে। > ঐ শালা তোর আসতে এতক্ষণ লাগে, যানিস কতক্ষণ ধরে বসে আছি। >> আসার সময় একটু সমস্যা হইছিল। তাছাড়া আমিতো ঠিক সময়েই আসছি । (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে) > বস চা খা, চাচা ওরে এককাপ কড়া লিকারে চা দেন। >> এখন বল কিসের জন্য এখানে ডাকলি। >> আগে চা খা, তারপর বলতেছি। > আমি খাইতেছি তুই বল। >> মামা আমি তো ক্রাস খাইছি । > কস কি মামা? কেডা সেই ভাগ্যবতী। >> নাম জানি না । > নাম জানস না তো ক্রাস খাইলি কেমনে। >> ক্রাস খাইতে কি নাম জানোন লাগে > তা অবশ্য ঠিক বলছত ,এখনকার যুগে ওইডা ব্যাপার না। এখন বল কই দেখা হইছিল। > আজিজুল হক কলেজর সামনে কলেজ ড্রেস পড়া অবস্থায় ছিল। আর এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সাড়ে পাচটার সময় প্রাইভেটে যায় । >> কই মামা এখনতো ৫.৪৫ বাজে, তোর প্রেয়সি কই। > এত দেরি করার কথা না তো। >> মনে আজকে আর আসবো না > আমারো তাই তাই মনে হইতেছে । > আজকে ত তাহলে আর খামখা বসে থেকে লাভ নাই । এবার তাহলে ওঠি। >> আমিও তাই ভাবতেছি। > চল তাহলে। >> চল। . রাতে নীল শুয়ে আছে এমন সময় হাসিব এর ফোন - > হ্যালো নীল । >> হুম বল। > কাল দুপুরে আজিজুল হক কলেজর সামনে আসতে পারবি। >> কেন সেখানে কি দরকার । > আসলে আমি ঐ মেয়েটির সাথে দেখা করব। >> তো আমি কি করব ? > তুই তো জানিস আমি একটু ভিতু প্রকৃতির ,মেয়েদের দেখলেই আমার হাটু কাপে। >> বাব্বাহ ! ক্রাস খাইবার সময় তো হাটু কাপে নাই, এখন দেখা করতে গেলে এত ভয় পাস ক্যান। > দুস্ত প্লিজ না করিস না। >> ঠিক আছে, এখন ঘুমা। . পরের দিন দুপুরে আজিজুল হক কলেজের সামনের দাড়িয়ে আছে নীল আর হাসিব। > দুস্ত তোর প্রেয়সী কখন বের হবে রে । >> আগে তো কলেজ ছুটি হতে দে । >কলেজের ছুটির বেল পড়ল। সব ছাত্র ছাএীরা বের হচ্ছে - > কই মামা তোরটা কই। >> এত ব্যাস্ত হচ্ছিছ ক্যান আগে বের হতে দে তো ? > দোস্ত সাদা হিজাব পড়া মাঝখানের মেয়েটাই সেই মেয়ে। >> .....(তাকিয়ে দেখছে মেয়েটিকে) >> এখন বল দেখতে কেমন? > হুম দোস্ত খুবই সুন্দর ,তোর পছন্দ আছে। তোর সাথে খুব ভালো মানাবে। >> কিন্তু মেয়েটা কই ? > ধুততুরি কার আজকেও মনের কথাটা বলতে পারলাম। >> চিন্তা করিস না দোস্ত, আমি কালকেই তোর সাথে মেয়েটিকে মিট করিয়ে দিব। এখন চল > চল । . রাতে নীল শুয়ে সুয়ে ইসরাত এর কথা ভাবছে। ইসরাতকে ভালোবাসে সে। কিন্তু কখনো বলার সাহস পায় নি। ইসরাতের সাথে তার পরিচয়টা হয়েছিল হটাৎ করেই। একদিন ভার্সিটি যাওয়ার সময় একটি মেয়ের সাথে ধাক্কা খায়। এরপ সরি বলতে যাবে তখনই মেয়েটা ওকে কয়েকটা কটু কথা শুনিয়ে দেয়। নীল কিছুই বলতে পারে না। শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মেয়েটির দিকে যেন চোখ ফেরাতে পারছে না । মেয়েটি ওর তাকিয়ে থাকা দেখে আরও রেগে গিয়ে বকবক করতে করতে চলে যায়। ও মেয়েটির চলে যাওয়া দেখে। আহা কি রুপ , হরিনির মতো টানা টানা দুটি চোখ। প্রথম দেখাতে মেয়েটির প্রেমে পরে সে। মেয়েটা আর কেউ নয়।এই সেই ইসরাত। এরপর ইসরাত সাথে আরও অনেকবার দেখা হয় নীল এর প্রথম প্রথম ইসরাত বিরক্ত হলেও ধীরে ধীরে ইসরাতের কাছে ওদের সম্পর্টা অনেক ইজি হয়ে যায়। তারপর থেকেই বন্ধুত্ব দুজনের । নীলের ১ম থেকেই ইসরাতকে ভালোবাসলেও বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার ভয়ে বলে নি। ইসরাতের কথা আর সে ভাবতে পারছে না। কারণ দুপুরে হাসিব যে মেয়েটিকে দেখিয়েছিল সেটিই ছিল ইসরাত। সে জানে হাসিবও এর ইসরাত কে প্রচন্ড ভাবে ভালো বেসে ফেলেছে । এই কথা ভাবতেই যেন তার বুকের ভিতরে চিনচিন ব্যাথা অনুভব করে সে। আবার তার বন্ধুর কথাও মনে পরে যায় তার । এই রকম উভয় সংকটে সে কখনো পড়েনি । একদিকে ইসরাত প্রতি নিজের তিলতিল করে জমানো ভালোবাসা অন্য দিকে তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটির স্বপ্ন । নীল যেন কিছুই ভাবতে পারছে না । তাকে এই দুইটির মধ্যে থেকে যে কোন একটিকে বেছে নিতে হবে। হয় নিজের ভালোবাসাকে কুরবানি দিতে হবে নয়তো তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর স্বপ্ন আর বিশ্বাসকে ভেঙ্গে দিয়ে চিরদিন বন্ধুর সামনে বিশ্বাসঘাতক হয়ে বেচে থাকতে হবে। তার মাথা কাজ করছে না। তবুও তাকে যে কোন একটা বেছে নিতেই হবে। অবশেষে সে সিদ্ধান্ত নেয় তার মাত্র কয়েকদিনের ভালোবাসার জন্য সে তার বন্ধুত্বকে ভাঙ্গতে পারবে না । তার সাথে হাসিবের বন্ধুত্বটা ছোট বেলা থেকেই। সুখে দুঃখে একে অপরের পাশে এসে দাড়িয়েছে । এই কয়েকদিনের ভালোবাসার জন্য কিভাবে তার বন্ধুকে ভুলে যাবে। দরকার হলে সে নিজেই হাসিবের সাথে ইসরাতের মিট করিয়ে দেবে। কিন্তু কেউ কখনো জানবে না যে সে ইসরাত নামে কাউকে জীবনের চেয়ে ও বেশি ভালোবেসেছিল। . পরের দিন দুপুরবেলা নীল আর হাসিব কলেজের দাড়িয়ে আছে । কলেজ ছুটি হয়েছে সবে মাত্রই। সবাই বের হচ্ছে, ইসরাতও বের হল । ইসরাত নীলকে দেখেই ডাক দিল- > এই যে এখানে কি মনে করে। (ইসরাত) >> আসলে তুমার সাথেই দেখা করতে আসছিলাম।(নীল) > কেন? (উৎফুল্ল ভাবে) >> কি করে যে বলবো কথাটা > বলে ফেল কথা মনের ভিতরে লুকিয়ে রাখতে নেই।> >> .এই হচ্ছে আমার জিগার দোস্ত হাসিব। আর ও তোমাকে প্রথম দেখাতেই প্রচন্ড ভালোবেসে ফেলেছে। > কি (দমে গিয়ে) >> হুম ও প্রচন্ড লাজুকতো তাই তোমাকে ওর মনের কথা বলতে ভয় পাচ্ছে । তাই ওর হয়ে আমাকেই বলতে হলো কথাটা। > হুম >> ও খুব ভালো ছেলে । বর্তমানে ওর মতো ছেলে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।তুমি সত্যি অনেক লাকি । > সত্যি। >> হুম, তুমরা সুখি হও এই দোয়াই করি।আর যাইরে দোস্ত । এই বলে নীল চলে আসল। আসার সময় সে খ্যায়াল করল ইসরাতের চোখে পানি , ইসরাত হয়তো কিছু কলতে চেয়েছিল তাকে। কিন্তু সে শোনে নি । কি হবে সেখানে থেকে, থাকলে শুধু কষ্টটাই বাড়বে। আসার সময় তার মনে হল সে যেন তার কলিজাটা ছিড়ে সেখানে ফেলে আসছে । মাথাটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। বেখেয়াল ভাবে সে পা ফেলছে । . ৫ বছর পর, আজ হাসিব আর ইসরাত স্বামী স্ত্রী মিলে গাড়ীতে কোথায় যেন যাচ্ছে । গাড়িটা হটাৎ একটা কবরস্থানের কাছে এসে থামল। গাড়ি থেকে নেমেই তারা একটা কবরের কাছে ছুটে গেল। কবরের সামনে গিয়ে তারা দুইজনেই কাদতে লাগল। এই কবরটি আর কারোরই নয় বরং নীলের। হাসিব আর ইসরাতের মিট করানোর পর বাড়ী ফিরার পথে এক্সিডেন্ট হয় তার এবং ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয় । এর ৩ বছর পরে নীলের বোন হাসিবকে নীলের একটা ডাইরি দেয়। এইটাই সেই ডাইরি যাতে নীলের তার সব আবেগ, আর ভালোবাসার কথা এবং বন্ধুর জন্য তার আত্নত্যাগ কথা লিখে রেখে ছিল। ডাইরিটা পরে সে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল । আজ নীলের ৫ মৃত্যু বার্ষিকি ।তাই হাসিব আর ইসরাত তার কাছে ফিরে এসেছে হয়তো ভবিষতেও আসবে। কারণ নীলের সাথে তার বন্ধুত্বটা কোনদিন ছিন্ন হওয়ার নয়। কারণ সে কি করে ভুলবে তার এই অকৃত্তিম বন্ধুটিকে ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বন্ধুত্ব বনাম ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now