বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#লেখা: অস্তিত্ব হীন মামুন" টিংটিং টিংটিং " শিপ্রার ম্যাসেঞ্জারের নটিফিকশন টোনটা বেজে উঠল হটাৎ।"এই দুপুর বেলায় এটা আবার কে? বাবু তো এখন কিছু পাঠায় না.....?" চশমাটা চোখে দিতে দিতে অনভ্যস্ত হাতে মুবাইলের লকিংটা খুললো শিপ্রা। শিপ্রার ছেলে চাকরি সূত্রে ব্যাঙ্গালুরুতে।বৌমা ও নাতনীও সেখানেই। সেই কারনেই এই নতুন ফোনটার আমদানি, যাতে নাতনীর সব স্পেশাল মুহূর্তের ছবি দেখতে পায় ফেসবুক, হওয়াটস্এপ্পের মাধ্যমে। ছেলে শিখিয়ে দিয়েগেছে সবই কিন্তু তাও যেনো প্রতিদিনই সবকিছুই আনকোরা লাগে। "তনুজা পারভীন! কে এটা?" স্ক্রিন ছুঁয়ে ম্যাসেজটা খুললো....'শিপ্রা, কেমন আছিস?'প্রোফাইল পিকচারটা চেনার চেষ্টা করল......"আরে তনুজা তো এটা!.....তনুজা"চেঁচিয়ে লাফিয়ে উঠল শিপ্রা। চিনতে পেরেছে সে, মুখটার যে বদল হয়নিএই বত্রিশ বছরেও।শিপ্রা আর তনুজা গ্রামের স্কুলের সহপাঠী। দুজনের বন্ধুত্ব স্কুলের অন্য সকলের কাছে ঈর্ষণীয় ছিলো। কিন্তু হটাৎ একদিন স্কুল আসা বন্ধ করেদেয় তনুজা। দুদিন পরে শিপ্রা ওদের বাড়ি গিয়ে জানতে পারে ওর দাদারা তনুজার বিয়ের ঠিক করেছে বাংলাদেশের এক জমিদারের ছেলের সাথে। আর স্কুলে যাবে না...বিছানায় শুয়ে তখনো কেঁদে চলেছে তনুজা। দাদাদের চোখ রাঙ্গানি আর অপমানে শিপ্রার প্রতিবাদটাই ঠুনকো হয়ে থেকে গেলো সেদিন...ফিরে এসেছিল।মাঝে অনেক গুলো বছর কেটেছে... শিপ্রা নিজের বিয়ের পরে আর একবার গিয়েছিল ওই বাড়ি....অপমানটাহজম করেই। বাংলাদেশের ঠিকানাটা জোগাড় করেছিল তনুজার মায়ের থেকেই। যোগাযোগ এর মাধ্যম হিসাবে চিঠি লেখা শুরু। প্রথম চিঠির উত্তর পেয়েছিল, তখন শিপ্রার ছেলের বয়স মাত্র একমাস। তারপর শিপ্রা লিখেছে, অনেকবার, কিন্তু প্রত্যুত্তর আসেনি।মুঠোফোনটার কম্পন আর শব্দে হুশ ফিরলো শিপ্রার..."কিরেচিনতে পারলি না?" ম্যাসেঞ্জারে ভেসে উঠল লেখাগুলো।"হুম! কেমন আছিস? বাড়ির সবাই কেমন" কাঁপা হাতে শব্দ গুলো টাইপ করল শিপ্রা।তারপর আরো অনেক কথপোকথন চলল সেই ম্যাসেঞ্জারেই। মান-অভিমান কাটিয়ে জানতে পারল হঠাৎ করে দাঙ্গার জন্যে বাড়ি বদল...ফেলা আসা চিঠি...সংসার...বাড়ির রক্ষনশীলতা...মেয়ের কথা...সকলের সাথে লড়াই করে মেয়েকে বিদেশ পড়তে পাঠানো...মেয়ের জোরাজুরিতে ফেসবুকে আসা...তারপর এক সপ্তাহের চেষ্টায় শিপ্রাকে ফেসবুকে খুজে পাওয়া। দুজনই ফিরে যায় সেই বহু বছর আগে ফেলে আসা স্কুলজীবনেএক সাথে স্কুল যাওয়া...বৃষ্টিতে ছাতা ভাগ করে নেওয়া...খেলা....পড়াশোনা...ঝালমুড়ি....বারোভাজা...টিউশনি যাওয়া...স্কুলেরপর বাগান বাড়ির গাছ থেকে তেঁতুল চুরি....টিউশনি থেকে ফেরার পথে হারিকেন নিভিয়ে সামন্ত বুড়ির জানালায় ভূত সেজে ভয় দেখানো...সব যেন এক নিমেষে ঠান্ডা হাওয়ার মতো ঝাপটা দিলো।"কিরে লাস্ট যখন তোর চিঠি পেয়েছিলাম, তোর ছেলের তখন এক মাস বয়স...এখন সে কত বড় হয়েছে রে? কি করে?" শিপ্রার কাছে আবার জিজ্ঞাসা ভেসে এলো মুঠোফোনের এপ্সে।"দাঁড়া! এক টা জিনিস দেখাই!" লিখেই মুবাইলে আগে থেকেই সেভ করে রাখা কয়েকটা ছবি পাঠালো শিপ্রা।"এই বাচ্চাটা কেরে? এতো তোর মত দেখতে!""এটা নাতনী আমার। সেই এক মাসের বাচ্চা ছেলেটার মেয়ে!" দু দিক থেকেই হাসির ফোয়ারা। যেন বলতে চাইল ধন্যবাদ ডিজিটাল দুনিয়া....ধন্যবাদ বন্ধুত্ব।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now