বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
বন্ধুত্ব
"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ela (০ পয়েন্ট)
X
আজ খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছি।
যদিও এটা
আমার অভ্যাস নয়।
.
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠার কারন
আজকের দিনটা আমার জন্য একটু
স্পেশাল।
একজনের সাথে দেখা করবো।
.
একটা মেয়ের সাথে। তবে সে শুধুই
আমার ফ্রেন্ড। এ ব্যতীত কিছুই নয়।
অন্তত
আমি তাই মনে করি।
.
রাতে ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলাম।
মা
জিজ্ঞেস করেছিলো। কেন ব্যাগ
গোছাচ্ছি? এবং কোথায়'ই বা
যাবো?
বলেছি এক ফ্রেন্ডের বাড়ি যাচ্ছি।
ভাগ্যিস জিজ্ঞেস করেনি কার
সাথে
দেখা করতে যাচ্ছি। তাহলে তো
হতোই।
.
হালকা নাস্তা করে চলে গেলাম
বাসষ্ট্যান্ড। গিয়ে একটা খুলনার
টিকিট
কিনলাম। হ্যাঁ খুলনাই আমার ফ্রেন্ডের
বাড়ি। আর ঐখানেই যাচ্ছি।
.
তো এভাবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে
থাকার পর
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো।
মোবাইলটা পকেট থেকে বের করে
স্ক্রীনে
তাকিয়ে দেখি "তূরি" নামটা
ভাসছে। এই
সে মেয়ে যার সাথে দেখা করতে
যাচ্ছি।
-- হ্যালো
-- সাহেবের কি ঘুম থেকে ওঠা
হয়েছে?
নাকি এখনও পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছে? আজ
যে
সে তার সবচেয়ে কাছের ফ্রেন্ডের
সাথে
দেখা করবে এটা কি তার মনে আছে,
নাকি
ভুলে গেছে?
-- আচ্ছা তুই আমারে কি ভাবিস বল
তো? বাস ষ্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি।
আর তুই কিনা...
জানিস আমি জীবনেও সকাল পাঁচটায়
ঘুম
থেকে উঠি না। কিন্তু আজ উঠেছি।
একমাত্র
তোর কারনে।
-- ওলে আমার টুকুটুকু রে। আমি জানি
তো
তুমি অন্নেক ভাল। জাষ্ট একটু
ক্ষ্যাপাইলাম
আর কি। আচ্ছা শুন সাবধানে আসিস।
আমি পথ চেয়ে বসে আছি। আর হ্যাঁ
কেউ কিছু দিলে খাবি না কিন্তু। তুই
তো আবার পেটুক।
-- কি? আমি পেটুক? তোরে...
.
টুট... টুট... টুট...
.
যাহ্ বলার আগেই ফোন রেখে দিলো।
ওকে
ঠিক আছে। গিয়ে নিই। তারপর
বুঝাবো।
.
বাস আসতে বেশিক্ষণ লাগলো না।
কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে গেল হালকা
বেগুনী রং এর একটি বাস।
আমি সীটে গিয়ে বসে পড়লাম।
মালামাল
বলতে একটা ব্যাগ আর পেপার
হোল্ডার।
.
পেপার হোল্ডার কেন? বন্ধুর সাথে
দেখা
করবো আর গিফট নিবো না, তা কখনও
হয়?
তূরির জন্য একটা গিফট নিয়েছি।
দেখা যাক
তার কেমন লাগে।
.
ইতিমধ্যে বাস চলা শুরু করে দিয়েছে।
অনেক্ষণ হয়ে গেল বাস তার গন্তব্যে
আঁকা-
বাঁকা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
হ্যান্ড ওয়াচের দিকে তাকালাম।
মাত্র
দুঘন্টা
হয়েছে, বাস যাত্রা শুরু করেছে!
.
আমার কাছে মনে হচ্ছে কয়েকদিন
হয়ে
গেছে। পথ যেন ফুরোচ্ছেই না।
.
বাসের হালকা ঝাঁকিতে। উপরে
রাখা
পেপার হোল্ডারটা পড়ে গিয়ে
আমার নিজ
হাতে আঁকা ছবিটা বেরিয়ে গেল।
পেপার হোল্ডার আর ছবি আঁকা
পেপারটা হাতে তুলে নিলাম।
পেপারটায়
তূরীর ছবি এঁকেছি।
.
একবার তূরী আমাকে তার একটা ছবি
দিয়েছিলো। ঐ ছবিটা অনুসরন করেই
তূরীর
ছবিটা একেছি।
.
ছবিতে মেয়েটার চুলগুলো খোলা।
বাতাসে
উড়ছে আর ছোট বাচ্চাদের মতো
হাসছে সে।
আমার কাছে ভালই লাগছে
ছবিটা। যার জন্য আঁকা তার কাছে
জানি
কেমন লাগে!
.
প্রায় একবছর হয়ে গেল। আমার সাথে
তূরীর
পরিচয় এবং বন্ধুত্ব।
ফেসবুকেও যে এত্ত ভাল ফ্রেন্ড
পাওয়া
সম্ভব!
সেটা তূরী আমার জীবনে আসার আগ
পর্যন্ত বিশ্বাস করতাম না।
.
আমার ফ্রেন্ডলিষ্টের কোনো এক
ফ্রেন্ড
তূরী নামের একটি মেয়ের পোষ্টে
সবসময়
লাইক দিতো। আমি দেখতাম।
.
মেয়েটি
কোনো ছবি আপলোড করতো না।
খালি
ছোট ছোট বাস্তবসম্মত ষ্ট্যাটাস
দিতো।
আমার কাছে ভালই লাগতো তার
লেখা।
.
আমার স্পষ্ট মনে আছে ঐ দিনটার কথা
যেদিন তার সাথে আমার প্রথম
চ্যাটিং
হয়। ঐদিন তূরী এতো সুন্দর একটা
ষ্ট্যাটাস
দেয়। যা পড়ে আমি আর রিকোয়েষ্ট
না
পাঠিয়ে থাকতে পারলাম
না। শেষ পর্যন্ত দিয়েই ফেললাম।
রিকোয়েষ্ট।
.
আধা ঘন্টা পর ফেইসবুকে লগইন করি।
দুটো
নটিফিকেশন
এসেছে। একটি হচ্ছে একজন আমার
প্রোফাইল পিকচারে
লাইক দিয়েছে আর একটি হচ্ছে তূরী
আমার
রিকোয়েষ্ট একসেপ্ট করেছে। এটা
দেখে
মনের মধ্যে কেমন যেন একটা আনন্দ
লাগলো।
.
আমি
কিভাবে যেন তাকে একটা
থ্যাংস ম্যাসেজ দিয়ে বসি। সেও
পাল্টা
রিপ্লাই দেয়
-- থ্যাংস কেন?
আমি বললাম
-- রিকু একসেপ্ট করেছেন তাই।
.
এভাবেই আমাদের প্রায় প্রতিদিন
কথা
হতো। একজন আর একজনের সাথে সব
কথা
শেয়ার করতাম। এখনও করি।
.
একসময় আমরা একে অপরের খুব ভাল বন্ধু
হয়ে
যাই। একটা দিন কেউ কারো সাথে
কথা না
বলে থাকতে পারি না। যদি কোন
একদিন
ম্যাসেজিং না হয় তাহলে এক নয়
আমি তার
ওপর রাগ করি না হয় তূরী আমার ওপর
রাগ
করে। অবশ্য তূরীই বেশি রাগ করে
আমার
ওপর। কারন ওরে রাগাতে আমার খুব
ভাল
লাগে।
.
একবার তো টানা তিনদিন ওর সাথে
আমার
কোন যোগাযোগ হয়নি। ফেইসবুকে
গিয়ে
দেখি ব্লকড। ফোন দিয়ে দেখি সুইচড
অফ।
আমি তো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না
তখন।
.
কথা বন্ধ হওয়ার চতুর্থ দিনে তূরী ফোন
দেয়
আমাকে।
ঐদিন তার কি কাঁন্না। আমি কিছুতেই
থামাতে পারছিলাম না তাকে।
সেদিন
আমিও কেঁদেছিলাম।
তারপর গিয়ে তূরী আমাকে মাইয়া
কোনহানকার উপাধিতে ভূষিত করে
কাঁন্না
থামায়।
.
তূরী সবসময়ই বলতো চল না দেখা করি।
তোকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। আমি
বলতাম। ক্যান? ফেইসবুকে না আমার
ছবি
দিই। ঐগুলো দেখে পেট ভরে না? ও
বলতো
তোকে আমি বাস্তবে দেখতে চাই।
শুধু
একবার দেখা করবো। আমি তোর
কাছে
আসি? আমি বলতাম না।
ওর এমন কথায় আমি কখনওই সাড়া
দিতাম
না। যদিও আমি তার সাথে দেখা
করার
জন্য ব্যাকুল ছিলাম। কিন্তু সেটা
প্রকাশ
করতাম না।
.
তারপর একদিন তূরী আমার সাথে
দেখা
করার জন্য খুব জেদ ধরে। তখন তাকে
আমি
কথা দিই যে যেদিন আমাদের
বন্ধুত্বের এক
বছর পূর্ণ হবে সেদিন আমরা দেখা
করবো।
আর আজই হচ্ছে সেই কাঙ্খিত দিনটি।
.
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে খুলনা
পৌছে
গেলাম। হেল্পার না বললে বুঝতেই
পারতাম
না।
-- ও মিয়া ভাই নামবেন না?
-- এসে গেছি?
-- হ।
.
বাস থেকে নেমে। শরীর টানা
দিয়ে।
আলসেমি দূর করলাম।
জায়গায় দাঁড়িয়ে চারপাশটায় একটু
চোখ
বুলিয়ে নিলাম। হুমহ্। ভালই।
.
মোবাইল বের করে দেখি। তূরী ফোন
দিয়েছে।
পঁচিশবার!! ওহ্ শীট!
মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখায়
বুঝতেই
পারিনি। তাড়াতাড়ি করে ফোন
দিলাম।
-- দোস্ত
-- কুত্তা, বিলাই, বান্দর, শুয়োর, গরু,
মহিষ
কৈ ছিলি এতক্ষণ? কতবার ফোন
দিয়েছি।
দেখছিস? আমার কত চিন্তা হচ্ছিলো
তুই
জানিস? ফোন ধরিসনি কেন?
-- ভাবনায় বিভোর ছিলাম। তাই? তা
কেমন চিন্তা হচ্ছিলো? শুনি।
-- যেমন চিন্তাই হোক। তোকে বলতে
হবে?
যা ভাগ।
-- ওকে। খুলনায় এসেও তোর সাথে
দেখা না
করে চলে যাবো। ভালই। গেলাম
তাহলে?
-- ওই বলদা। আমি কিন্তু এবার কেঁদে
দিবো
বলে দিলাম।
-- মাফ চাই। কাঁদতে হবে না। গতবার
যে
অবস্থা করছিলি। বাব্বা! জীবনে
ভুলবো
না।
-- হি হি হি আচ্ছা যাই হোক। এখন
একটা
রিকশায় উঠ্। রিকশাওয়ালাকে বলবি
খুলনার ভার্সিটির সামনে নামাতে।
তারপরের কাজ আমার। যা এবার।
-- ওকে ম্যাডাম।
.
তারপর একটা রিকশা নিয়ে চলে
গেলাম
খুলনা ভার্সিটির সামনে।
.
তূরীকে ফোন দিলাম
-- কিরে আসলাম তো এখন কি করবো?
-- মূর্তির মতো দাড়িয়ে থাক বলে
তূরী
ফোনটা কেঁটে দিলো।
.
এর কিছুক্ষণ পরেই দেখলাম দূর থেকে
একটা
রিকশা আসছে।
এটা ব্যাপার না। ব্যাপারটা হচ্ছে।
রিকশায় একটি মেয়ে বসা যার পড়নে
পিংক
কালারের একটি ড্রেস।
বুঝলাম এটাই তূরী। কিন্তু এটা বুঝলাম
না
আমার হৃদস্পন্দন এত ফাষ্ট হচ্ছে কেন!
কেমন
যেন লাগছে! একদমই অন্যরকম।
.
-- এই যে মিষ্টার। রিকশায় উঠে
আমাকে
ধন্য করুন।
.
তূরীর কথায় আমার কেমন যেন লজ্জা
লাগলো। বুঝলাম না। হয়তো প্রথম
দেখা।
তাই।
.
রিকশায় উঠে আমি একদম চুপ থাকাতে
তূরী
বললো।
-- কিরে এমন চুপ কেন? আমায় দেখে তুই
খুশি হসনি মনে হচ্ছে?
-- না না। কি বলিস তুই এসব! খুশি হবো
না
কেন? আমি যে কি খুশি হয়েছি। তা
তুই
নিজেও জানিস না।
-- তাহলে কথা বলছিস না যে? আচ্ছা
বাদ
দে। ঐ পেপার হোল্ডারে কি দেখি।
-- এখন না। পরে আমিই তোকে
দেখাবো।
-- আচ্ছা ঠিক আছে।
.
তূরীর বাসায় গেলাম। গিয়েই অবাক
হোলাম।
সবাই আমাকে আগে থেকেই চিনে!
কিন্তু
কিভাবে! আমায় তো এরা কখনও
দেখেইনি।
.
তূরীর মা, বাবা, দাদা, দাদু, খালা,
খালু সব
বয়োজেষ্ঠ্যদের সালাম করলাম। একদম
কোমড় ব্যাথা হওয়ার অবস্থা।
.
একটা জিনিস আমার খুব ভাল লাগলো।
তাদের পরিবারটা যৌথ পরিবার।
দেখেই
বোঝা যায় খুব সুখী পরিবার।
.
একদিনেই সবাই আমাকে কেমন আপন
করে
নিয়েছে! মনে হচ্ছে আমি যেন আমি
তাদের খুব কাছের কেউ।
রাতে সবাই একসাথে খেয়েছি।
ঘুমানোর
আগ পর্যন্ত সবার সাথে খুব কথা-বার্তা
এবং মজা করলাম।
.
পরদিন সকালে আমি ফ্রেশ হয়ে
নাস্তা
করে রুমে বসে আছি। এমন সময় তূরী
আসে।
-- কেমন লাগছে সবকিছু?
-- শুধু ভাল বলবো না। খুব ভাল।
-- আমার রুমে আয় তো একটু।
.
তূরীর সাথে তূরীর রুমে গেলাম। খুব
সুন্দর
পরিপাটি একটা রুম। বিভিন্ন
দেয়ালে
বিভিন্ন কালার করা। দেয়ালে
বিভিন্ন
মানুষের ছবি টাঙ্গানো। অনেককে
দেখেছি। এর মধ্যে একটা ছবি দেখে
খুবই
অবাক হোলাম।
.
দেয়ালে আমার অনেকগুলো ছবি একত্র
করে
বড় করে টাঙ্গানো! আর খুব সুন্দর
ডিজাইন
করে লেখা মাই বেষ্ট ফ্রেন্ড
ফরএভার
--কি করে এলো ছবি এখানে! তূরীকে
জিজ্ঞেস করলাম।
.
তূরী আমার চোখে কয়েক সেকেন্ড
তাকিয়ে
থাকলো। তারপর মৃদু হেসে বললো।
-- তোর ফেইসবুক থেকে নিয়েছি। খুব
অবাক
হচ্ছিস নারে? তুই জানিস না তুই যে
আমার
জন্য কি।
.
আমি কি হাসবো না কাঁদবো বুঝে
উঠে
পারছি না। জীবনে আজ পর্যন্ত মা
ব্যতীত
এত আদর, ভালবাসা কারো কাছ
থেকে
পাইনি। চোখটা ভিজে উঠলো।
কিভাবে
পারে এত ভালবাসতে।
তূরীকে দেখে মনে হচ্ছে তূরী আমার
চোখ,
মন দুটোই পড়ে ফেলেছে।
.
এবার আমি তূরীকে নিজের রুমে
নিয়ে
গেলাম।
পেপার হোল্ডার থেকে ছবিটা বের
করে
তূরীর হাতে দিয়ে বললাম।
-- আমার পক্ষ থেকে তোর জন্য একটি
ছোট্ট
উপহার।
.
তূরী কৌতূহলী হয়ে আমার হাত থেকে
পেপারটা নিলো। এক দৃষ্টিতে
তাকিয়ে
আছে ছবিটার দিকে। একটু হাসছে।
চোখের
পানিগুলো চিকচিক করছে।
-- এটা আমার জন্য ছোট উপহার নয় রে
বোকা। বিশাল উপহার।
.
তারপর তূরীর সাথে বের হোলাম
খুলনা
ঘুরতে। অনেক জায়গা ঘুরলাম।
প্রথমবারের
মতো।
উল্লেখযোগ্য সুন্দর জায়গার মধ্যে
ভাল
লেগেছে। হেডিস পার্ক, খুলনা
ইউনিভার্সিটির ঐদিকের কিছু
জায়গা আর
খুলনা ওয়ান্ডারল্যান্ড।
.
দিনটা খুব ভালই কাটলো।
.
দেখতে দেখতে তিনটা দিন
পেরিয়ে গেল
মানে ফিরে যাবার ঘন্টা বেজে
উঠেছে।
রাতে সবাইকে বললাম। সকালে চলে
যাবো। সবাই বললো আরও কিছুদিন
থেকে
যেতে কিন্তু আমি আর থাকবো না
বলে
জানিয়ে দিলাম। দেখলাম তূরীর
মুখটা
একদম শুকিয়ে গেছে। দেখা মাত্রই
আমার
খারাপ লাগা শুরু করলো। মন চাইছে
না
যেতে কিন্তু উপায় নেই।
.
সকাল।
নাস্তা সেড়ে যাওয়ার জন্য তৈরি
হয়ে
গেলাম। এখন শুধু যাওয়ার পালা। সবার
কাছ
থেকে একে একে বিদায় নিলাম।
বড়দের
সালাম করলাম। এদের মনে থাকবে
সারাজীবন।
.
তারপর গেলাম তূরীর কাছে
বিদায়ের জন্য।
-- যাই রে।
.
তূরীর চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে
এক্ষণি
কেঁদে দিবে।
-- যাই না বল আসি।
-- ঠিক আছে।
-- আমি তোর সাথে আসি? মানে
বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত এগিয়ে দিই?
.
তূরীর মায়াবী চোখগুলোর দিকে
তাকিয়ে
না করতে পারলাম না।
-- চল...
.
বাসষ্ট্যান্ড এসে গেছি। এখন
বিচ্ছেদের
পালা।
তূরীকে বললাম
-- ভাল থাকিস।
-- হুমহ্। আবার আসবি না?
-- বেঁচে থাকলে হয়তো আবার
আসবো।
.
তূরী একটু ইতস্তত বোধ করছে। তা দেখে
আমি বললাম।
-- কিছু বলবি মনে হচ্ছে?
.
তূরী কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
-- তোকে একটু জড়িয়ে ধরবো?
.
কথাটা শুনে আমি একদম স্তম্বিত। কি
বলছে
এসব!
এই পাবলিক প্লেসে এত লোকের
সামনে! না
বলতে ইচ্ছে ছিল কিন্তু
কেন যেন বলতে পারলাম না। আচ্ছা
বলে
দিলাম।
আর ওমনি তূরী আমাকে শক্ত করে
জড়িয়ে
ধরলো। যেন আমার হ্যাঁ বলার
অপেক্ষাতেই
ছিলো। লোকজন হা করে তাকিয়ে
আছে।
.
মেয়েটা হুহু করে কাঁদছে। শুধু একটা
বন্ধুর
জন্য তো একটা মেয়ে এভাবে কাঁন্না
করতে
পারে না। তাহলে কি?
.
না না। এখন বিদায় নেয়া দরকার।
তূরীকে ছাড়িয়ে নিলাম। চোখটা
মুছে
দিলাম।
.
যাই রে বলে বাসে উঠে পড়লাম। বাস
ছেড়ে
দিলো। আমি জানালা দিয়ে
তূরীকে হাত
নাড়িয়ে বিদায় জানালাম। তূরীও
তাই
করছে। হাত নাড়াচ্ছে। আর কাঁদছে।
.
এবার আমিও কাঁদছি। আর আমার
মাথায় শুধু
একটা কথাই ঘুরছে। এটা কি শুধুই বন্ধুত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now