বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বন্ধুর ক্রাশ

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X গভির ঘুমে ছিলাম হঠাৎ কানের কাছে ফোন বাজার আওয়াজ পেলাম।কোন হালা যে ফোন দিচ্ছে।তারপর ঘুম ঘুম চোঁখে ফোন ধরলাম ধরতেই আওয়াজ আসলো কিরে তুহিন কই তুই। আমি:-কেডা রে সকাল সকাল আমার ঘুম নষ্ট করলি। আরেহ আমি সায়েম।আজ ভার্সিটি তে আসবি না।গতকাল আসিস নি কেন? আমি:-ধুর এই কথা বলার জন্য ফোন দিছিস।আহা কি আরামে ঘুমাচ্ছিলাম।ঘুমের মধ্যে একটা সুন্দরি মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলাম।মেয়েটা একটা পাপ্পি দিবে আমাকে আর তুই ফোন দিয়ে সব শেষ করে দিলি। সায়েম:-তুই খালি স্বপ্নই দেখে যা।বাস্তবে তো মেয়ে পটানোর ঢং নেই।যাই হোক তোকে ফোন দিছি একটা জরুরি কথা বলার জন্য। আমি:-কি কথা? সায়েম:-ভার্সিটিতে আয় বলছি।ফোনে বলা যাবে না।আসিস কিন্তু আজ না আসলে তোর খবর আছে।এখন রাখলাম আমি। সায়েম ফোন কেটে দিল।কিহ যে বলবে কে জানে।হায়রে আমার সাধের ঘুমটাই ভেঙ্গে দিল।কি আর করার ফ্রেস হয়ে নিলাম।তারপর ঠিক ১০ টায় ভার্সিটিতে গেলাম।বলে রাখি আমি ঢাকা ভার্সিটিতে বাংলা বিভাগে অনার্স ২য় বর্ষে পড়ি। আর সায়েম ও আমার সাথেই পড়ে এবং আমার ভালো বন্ধু।তোহ ভার্সিটি যাওয়ার পর সায়েম এর সাথে দেখা হলো।তারপর...... সায়েম:-কিরে তুহিন আসছিস তাহলে। আমি:-হয় এখন বল তো কি বলবি।কি এমন জরুরি কথা বলার জন্য সকাল সকাল আমার ঘুম ভাঙ্গছিস। সায়েম:-দোস্ত একটা মেয়েকে দেখে সেই ক্রাশ খেয়েছি।ওরেহ দেখার পর আমার রাতের ঘুম যেন ছুটে গেছে।সারাদিন শুধু ওরে নিয়া ভাবি। আমি:-বলিস কি মাম্মা।মেয়েটা কে?নাম কি?বাসা কই?দেখতে কেমন?ট্রিট দিতে হবে কিন্তু। সায়েম:-ওরে আইছে এক ইতিহাসের স্যার।আরেহ থাম থাম তুই দেখি পুরো ইতিহাস জানতে ব্যাস্ত হয়ে গেছিস।আর মেয়েটার সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।শুধু ওর চোঁখ দেখছি।মাথায় হিজাব করে মুখ ঢেকে রাখে।এখন তোকে আমায় সাহায্য করতে হবে। আমি:-ওরেহ হালা শুধু চোঁখ দেখে তোর রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেলো।এহ কেমন প্রেম রে।যাই হোক এখানে আমার কাজ কি?আমি কি করতে পারি?মেয়েটাকে তুই দেখছিস কবে? সায়েম:-আরেহ গতকাল দেখছি।ভার্সিটি থেকে বাসায় যাওয়ার জন্য ভার্সিটির বাইরে আসছি তখন দেখি ওই মেয়েকে।আমার সামনে দিয়ে চলে গেল তারপর বাসে উঠলো।এখন তোকে আমায় মেয়েটার সাথে কথা বলিয়ে দিতে হবে প্রেম করিয়ে দিতে হবে।প্রেম করিয়ে দিতে পারলে তোকে আমি ট্রিট দিব। আমি:-আরেহ আমি কিভাবে কি করবো?আমি নিজেই তো কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে পারি না।আচ্ছা ট্রিট দিবি বলছিস তাইলে সাহায্য করবো তোকে।আজ ভার্সিটি শেষে খুজবো নি মেয়েটাকে কিন্তু আমি তো চিনি না। সায়েম:-আমি আছি তো।ওর চোঁখ আমার মনের মধ্যে গেথে গেছে আমি আরেকবার দেখলেও চিনতে পারবো। আমি:-ওহ বাবা একদিন দেখেই এমন প্রেম পড়ছোস মনে হচ্ছে কত বছর চিনিস মেয়েটাকে।যাই হোক এখন চল নেহা ম্যামের ক্লাস আছে ক্লাস করি গিয়ে। তারপর ক্লাসে চলে গেলাম। এখন ক্লাস করছি নেহা ম্যামের।কি সুন্দর বোঝান তিনি।আর কি সুন্দর দেখতে।ক্লাসের বেশিরভাগ ছেলেপেলেই নেহা ম্যাম এর উপর ক্রাশ।কিন্তু ম্যাম দেখে কেউ তাদের মনের কথা বলার সাহস পায় না।আর কেউ নেহা ম্যাম এর ক্লাস ফাকিও দেয় না।অন্য ক্লাস না করলেও নেহা ম্যাম এর ক্লাসে সবাই হাজির হয়ে যায়।যাইহোক তারপর ভার্সিটি শেষে বাইরে গিয়ে দাড়ালাম আমি আর সায়েম। আমি:-কিরে ভালো করে দেখ কই তোর প্রেমিকা। সায়েম:-এখনো তো আসছে না।এতো দেরি হচ্ছে কেনো বুঝতে পারছি না। আমি:-মেয়েটা যে আমারে ভার্সিটিতেই পড়ে সেটা তো বুঝছিস।তাইলে ভার্সিটি খুজে দেখলে হতো না। সায়েম:-তুই আগে এখানে দাড়া তো এদিক দিয়েই যাবে মেয়েটা।গতকাল এখানেই প্রথম দেখি। কিছুক্ষণ পর সায়েম:-তুহিন এইতো মেয়েটা আসছে।এটাই সেই মেয়ে।আর আজও একই হিজাব পড়ে আছে।তুহিন যা তুই মেয়েটার সাথে কথা বল। আমি:-আরেহ তোর ক্রাশ আমি কেনো কথা বলবো।আজব ঝামেলায় ফেললি তো। সায়েম:-আরেহ ব্যাটা চলে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি গিয়ে আটকা।আমি আসছি তারপর। তারপর আমায় ঠেলে পাঠিয়ে দিল মেয়েটার কাছে। আমি এবার পিছন থেকে ডাক দিলাম মেয়েটাকে..... আমি:-এই যে মেয়ে শুনছেন। মেয়েটি পিছন ঘুরে আমার দিকে তাকালো তারপর বললো মেয়েটি:-কিহ আমাকে ডাকছেন? আমি:-হ্যা আপনাকে ডাকছি।আপনার সাথে কিছু কথা বলার ছিল আমার। মেয়েটি:-আমার সাথে কি কথা থাকতে পারে আপনার।তাহ কি কথা বলবেন বলেন? আমি:-আসলে আমার বন্ধু গতকাল আপনাকে দেখে আপনার প্রেমে পড়ে গিয়েছে।আপনার চোঁখ দেখে ওর রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। মেয়েটি:-তাই নাকি।তাহ আপনার বন্ধু কোথায়?আপনাকে কেন পাঠিয়েছে আমার সাথে কথা বলতে?আপনার বন্ধুকে ডাকুন। এবার আমি পিছনে ঘুরে দেখলাম সায়মে গাছের আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের দেখছে।আমি সায়েম ডাক দিয়ে নিয়ে আসলাম।সায়েম আসার পর..... মেয়েটি:-আপনি আমাকে পছন্দ করেন।আমার চোঁখ দেখেই আপনার রাতের ঘুম ছুটে গেছে।আর কথা বলার সাহস নাই এখন।তাই বন্ধুকে পাঠিয়েছেন। সায়েম:- নাহ ইয়ে মানে হইছে টা কি..... সায়েম কে থামিয়ে দিয়ে মেয়েটি:-মেয়ে দেখলেই খালি প্রেম করতে মন চায়।যাই হোক চোঁখ দেখছেন তো এবার মুখও দেখে নিন।দেখি কেমন লাগে আমাকে আপনাদের। তারপর মেয়েটি হিজাব সড়িয়ে তার মুখ খুলে দিল।মেয়েটির মুখ দেখে তো আমি আর সায়েম যেন আকাশ থেকে পড়লাম।দুজনের কাপাকাপি শুরু হয়ে গেলো।কারণ মেয়েটি আর কেউ নয় মেয়েটা হচ্ছে আমাদের নেহা ম্যাম।যার ক্লাস আজ সকালে করলাম।ম্যাম কে তো হিজাব দিয়ে মুখ ঢাকতে দেখি নি কখনো।ম্যাম তো মুখ খুলেই রাখে।তাইলে বাইরে কি ম্যাম মুখ ঢেকে রাখে।কামতো হয়ে গেছে এখন একটা।সায়মে তো দিল ফাসিয়ে।এত মেয়ে থাকতে হালা নেহা ম্যাম এর প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছে।সায়েম এর দিকে তাকিয়ে দেখি ওই ও অবাকের উপর অবাক হচ্ছে।আমার মনে হচ্ছে যেন মাটি খুড়ে মাটির ভিতর ঢুকে গিয়ে পালাই। নেহা ম্যাম:-কি চুপ করে আছো কেন তোমরা?মুখ দেখে কি কাউকে চিনে ফেললে। এই কথা শোনার পর সায়েম দিল এক দৌড়।ওর আর থামাথামি নাই এক দৌড়ে পগাড় পাড় হয়ে গেছে হালা।আমায় একা ফেলে পালাইছে।এবার আমার সামনে নেহা ম্যাম।আমি একা দাঁড়িয়ে আছি নেহা ম্যাম এর সামনে। এখন আমি যে কিভাবে পালাই।ওহ ক্ষোদা রক্ষা কর।নেহা ম্যাম এর হাত থেকে বাচাও আমায়। নেহা ম্যাম:-তোমার ক্রাশ খাওয়া বন্ধু তো পালাইছে।আমায় বুঝি দেখে ভাল লাগলো না। আমি:- নাহ ইয়ে মানে হইছি টা কি ইয়ে.... নেহা ম্যাম:-থামো এবার।তোমাক তো আমি চিনি তুমি তুহিন না।আর তোমার যেই বন্ধু পালালো সে তো সায়েম।তোমরা ভার্সিটি এসে এসব করছো।নিজের ম্যাম কে প্রেমের প্রস্তাব দিতে আসো।ভার্সিটিতে আসো পড়াশোনা না করে এসব করার জন্য।দেখি তোমার বাবার নাম্বার টা দাও তো? ওহ মাগো ম্যাম দেখি এবার বাবার নাম্বার চায়।তুহিন যদি তুই বাচতে চাস এখনই পালা।নইলে তোর বাবা এই কথা জেনে গেলে তোরে আস্ত চিবিয়ে খাবে।তারপর...... আমি:-ম্যাম আপনার পিছনে সাপ। এবার ম্যাম পিছনে তাকাতেই।দিলাম আমি এক খিইচ্চা দৌড়।তুহিন দৌড়া আরো জোরে দৌড়া।পিছন থেকে ম্যাম ডাকছে এই ছেলে ওই তুহিন দাঁড়াও।ধুর ম্যাম এর ডাক আর কে শুনে।চাচা আপন প্রাণ বাচা এই জীবনে আর নেহা ম্যাম এর সামনে যাওয়া যাবে না।আজ তো উসাইন বোল্ট এর থেকেও জোরে দৌড়াতে হবে।দৌড়ে আগে এখান থেকে কেটে পড়ি তারপর সায়েম এর মজা দেখাবো হালা আমারে রেখে পালাইছে।হালায় বন্ধু নাকি শত্রু।ওর এখন থেকে চোঁখ দেখে ক্রাশ খাওয়া বাড় করবো আমি।চোঁখ দেখে ক্রাশ খাওয়া যে কি বিপদজনক আজ টের পেলাম।তারপর আর কি এক দৌড়ে ভার্সিটির এলাকার বাইরে চলে গেলাম এবং এই যাত্রায় নেহা ম্যাম এর হাত থেকে রক্ষা পেলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বন্ধুর ক্রাশ-শেষ পর্ব
→ বন্ধুর ক্রাশ-পর্ব২
→ বন্ধুর ক্রাশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now