বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বন্ধুর জন্য সব সম্ভব........

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ARAB AHMED(guest) (০ পয়েন্ট)

X রাত ১ টা বাজতে চলল....।হোস্টেলের কোথাও কোনো মানুষের আওয়াজ নেই।শুধুমাত্র ১০৭ নম্বর রুমটায় এখনও আলো জ্বলছে।মাঝে মাঝে মানুষের গলার আওয়াজও শোনা যাচ্ছে।স্বপ্নের ঠিকানা নামের গালর্স হোস্টেলটায় এমন ঘটনা প্রথম নয়।মাঝে মাঝেই ১০৭ নম্বর রুমটা জাগ্রত থাকে গভীর রাত পর্যন্ত।কিন্তু ঘটনাটা কি.....???১০৭ রুমে ৪ টি মেয়ে থাকে.......।।কিন্তু আজ এখন পর্যন্ত ৩ জন ভিতরে আছে!আর একজন এখনও ফেরেনি।এজন্যই এখনও রুমের সবাই জেগে আছে।হঠাৎই দরজায় কেউ কড়া নাড়ল।কে.......ভিতর থেকে প্রশ্ন এল..........।।।। মাইশা:::আরে আমি......দরজা খোল.....।।। সোহা তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দিল।।। সোহা::তুই কই ছিলি.....??তুই জানিস তোর জন্য কত মিথ্যা কথা আজ বলতে হইছে......!!!! মাইশা::সরি ইয়ার.....।।আমার জন্য আর কখনও তোকে মিথ্যা বলতে হবে না।।রাগ করিস না সোনা....প্লিজ।।। সোহা::ওকে......তুই কয়েকদিন পরপরই একটা কান্ড বাধাবি আর সমস্যা সমাধান করব আমি......এইতো কাজ!!!!! মাইশা::বললাম তো সরি.......।।আর আমি না তোর বেস্ট ফ্রেন্ড।।।আমার জন্য তুই নাকি সব পারিস..!! সোহা::পারি বলেই তো বিপদ.....।।।আচ্ছা আর কিচ্ছু বলতে হবে না...।।তুই তো একটা ফাজিল।।তুই জানিস আমি তোর কথা ফেলতে পারি না....এই সুবিধাই তো নিস তুই.....শয়তান!!!! মাইশা::এইতো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড.......!!! সোহা::চল ঘুমিয়ো পড়ি........!!!! মাইশা::চল.......।।। এই হলো মাইশা.......সোহার বেস্ট ফ্রেন্ড।।।।।। সোহা মাইশার জন্য সব করতে পারে....।।করেও...।মাইশা মেয়েটা খুবই মজার মানুষ...।।।সোহার সাথে সবসময় ফাজলামো করে...।।।।ওর জীবনের এমন কোনো সত্যি নেই যা সোহা জানে না.....।।মাইশা ওর কাছে চেয়েছে আর ও তা সামর্থ্য থাকলে ও দেয় নি এমন কখনও হয়নি.....।।।মাইশা সোহাকে ওর বোনের চাইতেও বেশি ভালোবাসে...।।।সোহা আর মাইশা এক জায়গার নয়...!!!সোহার বাড়ি পাবনা।আর মাইশার বাড়ি সিলেট।সিলেটে পড়াশুনা করতে এসে ওদের বন্ধুত্বের শুরু।দুজনের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপের শুরু স্কুল লাইফ থেকে।।৮ম শেণি থেকো একসাথে...।আজও আছে।তো সোহার কাছে ওর আবদারও আছে.....আবার অধিকারও আছে।মাইশা যখন জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়ে দাড়িয়ে ছিল তখন সোহাই একমাত্র ওকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করত।একবার মাইশা একজনের সাথে রিলেশন করছিল।মাইশা সোহাকে তা বলেছিল।।সোহা ওকে বলেছিল ......মাইশা এসব টিকবে না....তুই এসব করিস না।।।কিন্তু কথায় বলে প্রেম অন্ধ।তাই ও ওর ভুল বুঝতে পারেনি।বুঝতে পারল তখন যখন সবাই জেনএ ফেলল ওর রিলেশনের বিষয়টি।তখন পরিবারের সবাই ওকে প্রচন্ড অপমান করল....!!ওর পড়ালেখা বন্ধ করিয়ে দিল।।সেই সময় সবাই ওকে ঘৃণা করত....বিশ্বাস করত না।সেই সময় ও ওকে মনপ্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করত শুধু সোহাই।কেউ যদি বলত ও খারাপ তখন সোহা তা মানতে পারত না....।।ও বলত এটা শুধুমাত্র একটা ভুল ছিল।।সবাই ভুল করে।।।মাইশাকে আর একবার সুযোগ যদি দিত।।সোহা ওদের বাসায়ও গিয়েছিল কিন্তু ওর খোজ পায়নি।অনেক সংগ্রামের পর মাইশা আবার পড়ালেখা শুরু করতে পেরেছিল।যখন ও আবার এসেছিল....তখন সোহার থেকে বেশি খুশি কেউ হয়নি।তখন সোহা মনে মনে বলেছিল...আমি মাইশাকে আর খারাপ পথে যেতে দেব না।।আর না!! এজন্যই তো মাইশাকে বলেছিল ওকে ছুয়ে কসম করতে যে আর মাইশা এই ভুল করবে না।মাইশা সোহার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।সোহা জানে মাইশা ওর কথা রাখবে।।তাইতো ওর জন্য সোহা সব করতে পারে।।ওর জন্য সবার কাছে খারাপ হইতে পারে......ওর শখ পুরণের জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে পারে....ওর হয়ে কথা বলতে পারে.....ও যা বলবে তাই করতে পারে.....ওর জন্য মিথ্যাও বলতে দুবার ভাববে না সোহা।।।।যে বান্ধবী ওর জীবনের আলোর মশাল.......জীবনের খুশি......তার জন্য সোহা সব করতে পারে....।।।সোহাকে মাইশা খুব ভালো করে চেনে।।মাইশা জানে কেউ না থাকলেও সোহা তার পাশে থাকবে সারাজীবন।।।মাইশার জন্যই তো সোহা নকল পরিচয় দিয়ে ফোনে কথা বলেছিল মাইশার আগের বয়ফ্রেন্ড এর সাথে.....কারণ ওর কাছে মাইশার ছবি ছিল....ছবিগুলো কি করেছে সে তা জানার জন্য।তো নকল পরিচয় দিয়ে কথা বলে জানতে পারল....ছবিগুলা ও ছিড়ে ফেলেছে।।।।। তো মাইশার একটা অদ্ভুত শখ আছে.........।।।। মাইশা প্রায়ই সোহাকে বলে জানিস.....আমার যদি একটা ফ্রেন্ড থাকত কি ভাল হতো তাই না....।!!!সোহা বলল....আমি তোর কে তাহলে....?? মাইশা তখন বলল......আরে ভাই ছেলেদের ভিতরে যদি একটা ফ্রেন্ড থাকত।।।বয়ফ্রেন্ড তো হবএ নআ এমনি হাসি ঠাট্টার জন্য ছেলেদের মধ্য কাউকে ফেন্ড বানাবো।।। তখন সোহা বলল.....আমি খুজে দিব।। এরপর সোহা ভাবতে লাগল কেমনে ফ্রেন্ড পাওয়া যায়।।।একদিন হঠাৎ ফ্রেন্ড জুটে গেল।।।মেয়েটা গল্পের ঝুড়ি ব্যবহার করত।।তো ওখানে সে একটা মানুষ পাইল.......তার গল্পটগুলা খুব ভালো লাগত।তো ও একদিন তার কাছে থেকে জানতে পারল ছেলেটার ম্যাসেন্জার আছে।।।।পাঠিয়ে দিল রিকুয়েষ্ট!!ছেলেটিও আকসেপ্ট করল।।কিন্তু আসল কথা হলো ফ্রেন্ডশিপের জন্য সোহা ছেলেটির সাথে কথা বলত ছেলে সেজে....।।মানে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে।।মাঝে মাঝে ভয় হয় যদি আসল পরিচয় পেয়ে আর ছেলেটা কথা না বলে।।।কিন্তু যাই হোক সোহা এইটা করেছে মাইশার জন্য।তাই ওকে যদি ছেলেটি খারাপ বলে ওর কিচ্ছু হবে না।।।কেননা ও এটা করেছে ওর ফ্রেন্ড এর জন্য।কিন্তু একটু খারাপ তো লাগবেই যে ও মিথ্যা বলেছে।।।!যাই হোক এসব নিয়ে ও ভাবে না....কারণ সত্য বলে দিলে রাগ করতে হয়না.....।। বন্ধুর জন্য সব সম্ভব.................আর সোহও তাই করেছে।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বন্ধুর জন্য সব সম্ভব........

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now