বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বন্ধুর জম্মদিন
।
ফেসবুকের নোটিফিকেশন দেখে বুঝতে পারি বন্ধু রাসেলের জন্মদিন।আমার গ্যালারিতে থাকা সবচেয়ে বাজে ছবিটায় রাসেলকে ট্যাগ করে একটা পোস্ট দেই। রিপন্দার স্টাইলে ক্যাপশনে লিখি"বন্ধু তোমায় ভালবাসি,তুমি একটা মাল..... জন্মদিনের ট্রিটটা কিন্তু দিয়া দিও কাল"""
আমি কখনো আমার জন্মদিন পালন করিনি।কিন্তু ভার্সিটিতে ভর্তির কিছুদিন পর যখন আমার জন্মদিন আসে,রাসেল তখন বড় ভাইদের নিয়ে খুব ধুমধাম করে আমার জন্মদিনটা পালন করে।আমি তাতে অন্য রকম একটা আনন্দও পাই।
তাই চিন্তা করি আমাকেও রাসেলের জন্মদিনে কিছু না কিছু করা উচিত।
কিন্তু কিভাবে কি করব? পকেট তো ফাঁকা ।এক হচ্ছে ডিসেম্বর মাস, টিউশন আপাতত বন্ধ আবার মাসেরও একদম শেষ দিক।ডাইনিং এ বাকি খেয়ে কোনোরকম দিন চলছে।
এই অবস্থায় জন্মদিন পালন করাটা বিলাসিতা ।এটা করতে গেলে কমপক্ষে পাঁচশ টাকা তো খরচ হবে। কিন্তু আমার কাছে আছে মাত্র পঞ্চাশ টাকা।এই টাকা দিয়ে কেক টেক তো দূরের কথা কেকের বক্সটাও কিনতে পারব কিনা সন্দেহ ।।
কিন্তু,কিছু তো করতে হবে।
তাই পরামর্শের জন্য আরো কয়েকটা ফ্রেন্ডকে নক দেই। নক দিয়ে বুঝতে পারি আমার থেকে ওদের অবস্থা আরও খারাপ।কথা শুনে মনে হয় গত এক মাস টাকা পয়সার অভাবে তাঁরা কিছু খায় নাই।
একজন বলে," মামা,বিড়ি খাওয়ার টাকা নাই আবার জন্মদিন!!!পারলে দুইটা বিড়ি নিয়া আসো জন্মদিন পালন কইরা দিমু!!!
আরেকজন তো জন্মদিনের কথা শুনে রাগে পুরা আগুন, বলে ," ঐ শালা রাসেইল্লেরে ডিসেম্বর মাসে জন্ম নিতে কইছে কেডা? ও জানেনা ডিসেম্বর মাসে আমাদের টিউশন থাকেনা? ওরে বল ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নিতে!,এহন এসব পারুম না!!!!!
যাই হোক।যে যা পারে বলুক।
সবাই সিদ্ধান্ত নেয় একটা পাঁচ টাকার কেকের উপর দশ টাকার মোমবাতি বসিয়ে ফুঁ দিয়ে নিভাই দিবে। রাসেলের জন্মদিনে এর চেয়ে বেশি কিছু করার অবস্থা এখন নেই।ফাইনাল সিদ্ধান্ত হয় সন্ধ্যায় সবাই একসাথে বের হবো। একসাথে হাঁটব। তারপর হুট করে কোনো দোকানে ঢুকে জন্মদিনের কাজটা সেরে ফেলব।
।
শীতের সন্ধ্যা।আমরা ছয় জন এক সাথে হাঁটছি। ক্যাম্পাস জোড়ে সে এক অন্যরকম পরিবেশ । একদিকে ভাঁপা পিঠার ধোঁয়া একদিকে ফুচকার ঘ্রাণ। আহ্ দারুণ ।কিন্তু আমাদের তো টাকা নাই।আমরা গরীব। আমাদের হাঁটতেই হবে।
ক্যাম্পাসের এ মাথা ও মাথা ঘুরে আমরা ততক্ষণে শহীদ মিনার পর্যন্ত চলে এসেছি। কোনো দোকানে ঢুকতে পারি নাই।আসলে একটু একটু লজ্জাও করছিল।
এরকম পাঁচ দশ টাকা কেক কেটে জন্মদিন হয় নাকি?
কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না।
একজন আরেকজনের দিকে তাকাই।
বুঝতে পারি চোখের ইশারায় সবাই বলছে, " থাক্, বাদ দে "
কি আর করা।
আমিও ইশারায় সম্মতি দেই।
হাঁটতে হাঁটতে এক বাদাম বিক্রেতার গাড়ির কাছে যাই।বন্ধু জাহিদ আমাদের বাদাম খাওয়াবে।গাড়িতে ছোলা,শিম,বাদাম সাজানো আছে ।তার উপর কেরোসিনের দুইটা বাতি মিটমিট করে জ্বলছে। আমরা গাড়ির চারপাশে ঘিরে দাঁড়াই।
জাহিদ হঠাৎ এক ফুঁ দিয়ে বাতি দুইটা নিভিয়ে দেয়।নিভিয়েই চিৎকার করে বলে উঠে," হ্যাপি বার্থডে টু ইউউউউ........"
আমরাও কিছু বুঝে উঠার আগেই সবাই চিৎকার করে উঠি," হ্যাপি বার্থডে টু ইউ , হ্যাপি বার্থডে টু ইউ রাসেএএএল!!!
।
বাতি নিভে যাওয়ায় অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে দেখি রাসেল হ্যাঁ করে তাকিয়ে আছে।ও মনে হয় পুরা সারপ্রাইজড হয়ে গেছে।
রাসেল সারপ্রাইজড হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বুঝলাম। কিন্তু বাদাম বিক্রেতা কই গেল?
আমরা আশপাশে বাদাম বিক্রেতা কোনো হদিস পেলাম না।
কিছুক্ষণ পর কোথা থেকে যেন সে আসল। ভয়ে তাঁর চেহারা পানসে হয়ে গেছে।বুক উঠানামা করছে।
জিজ্ঞেস করলাম, "মামা, কই গেছিলেন?
মামা হাঁপাতে হাঁপাতে উত্তর দিলেন, " ধূর ভাই, আমি মনে করছি আফনেরা মারামারি লাইগা গেছেন "
পরে বাদাম মামার কাছ থেকে দশ টাকার বাদাম কিনে রাসেলকে খাইয়ে দেই। রাসেলের চোখ ছলছল করে উঠে।
আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি।
।
লেখাঃ#Manowar_Hossain
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now