বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

'বন্ধু বন্ধুত্ব টানাপোড়ন অত:পর...'

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X 'বন্ধু বন্ধুত্ব টানাপোড়ন অত:পর...' নাঈমূল হাছান . বিদগ্ধ আত্নারা আজই কুঞ্চিত হয় - হয় সংকুচিত এই বুঝি আবারও নেমে এলো; অশনি শঙ্কার কোন কাল রাত! দূর্যোগের অমানিশায় বুঝি ডুবে গেল স্বপ্নের রঙিন কল্পনাগুলো। শঙ্কিত আত্নারা আমার দগ্ধিত হয় বারিবার এমনই এক অশনি উপাখ্যানের! . চোখ বন্ধ করে আবৃত্তি করছে রবিন। . এটা তোর কত নাম্বার ছ্যাঁকারে? সম্মিলিত সুরে এমন প্রশ্ন শুনে ঘোর কাটে রবিনের! ও বিরক্তি প্রকাশ করে উত্তর দেয়: মানে কি? . কবি গিরি ফলাতে হবেনা তোর; পুরো ক্যাম্পাস তিনজনে গরু খোঁজা খুঁজেছি তোকে। অবশেষে এখানে এসে পেলাম:বললো সৌরভ। এখন বলতো কেন এতো খুঁজছি তোকে? :প্রশ্ন করলো শাখাওয়াত। জানিনা! দুর্বল কন্ঠে উত্তর দেয় রবিন। . আমিন,সৌরভ,শাখাওয়াত একজন আরেকজনের দিকে তাকালো একবার; আর সাথে সাথেই হাসতে শুরু করলো সবাই। কারণ কি বলবি তো: ক্ষীণ কন্ঠে জানতে চায় রবিন। অনেক বড় কারণ... খালি মুখে বলা যাবেনা! রবিনের সন্দেহ বাড়িয়ে দেয় সৌরভ। এর জন্য চাই ট্রীট স্পেশাল ট্রীট:সাথে যোগ করে আমিন! আর এই বিলটা দিবি তুই.. বলেই তিনজন মিলে রবিনকে চ্যাংদোলা দিতে দিতে পেস্টি শপের দিকে নিয়ে চললো। অনেকদিনের পরে ওদের হই হুল্লোড় শুনে পেস্টি মামা অবাক হয়ে গেলেন! কি হলো মামা টেবিল একটা তো দিবেন;নাকি? হাঁক ছাড়লো আমিন। পেস্টি মামা হাসতে হাসতেই ছয়টা চেয়ারসহ একটা টেবিল খালি করে দিলো। টেবিলের পাশে ছয়টা চেয়ার দেখেই মাথা গরম সৌরভের রাগ উঠে গেল! চেঁচিয়ে উঠে বললো: এখানে ছয়টা চেয়ার কেন? লাগবেনা আমাদের আর চারের অধিক চেয়ার ... বাড়তি চেয়ার নিয়ে যান এখান থেকে; হুঙ্কার দেয় ও। দ্রুত এক বেয়ারা এসে বাড়তি চেয়ার সরিয়ে নেয় টেবিলের পাশ থেকে। . মুহুর্তেই নিরবতা নেমে আসে পেস্টি শপে; চার বন্ধু থেকে পেস্টি শপে উপস্থিত সবাই চুপসে গেছে। . এক ভার্সিটির নবীনবরণ হয়েছে গতকাল। আজ থেকে ক্লাস শুরু। পুরু চশমার আড়াল থেকে একজোড়া চোখ ENT-02 রুমটা খুঁজছে। . যেখানে ক্লাস নিচ্ছেন জেনারেল টাইপ মোচধারী নিপুণ চন্দ্র কর্মকার স্যার। 'সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়;বুঝেছ? সময় হেলাকারীদের একদমই দেখতে পারিনা আমি ......' সময়ানুবর্তিতার ব্যাপারে বৃহৎ এক লেকচারই শুরু করেছেন তিনি। ঠিক সে সময়টাতেই একটা ছেলের আবির্ভাব হলো দরজায়! :may I come in sir; অনুমতি চাইলো ও। :who are you? ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইলেন স্যার। :I am Robin;student of EEE Of this session. উত্তর দিলো ছেলেটা। :what time is it now? গলার স্বরে রুক্ষতা ঝরে পড়লো নিপুণ স্যারের। :10:30 am. :which time u had need to come? গলার আওয়াজটা কঠিন হয়ে গেল স্যারের। gjorry siR; মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো রবিন। gjk come in কিছুক্ষণ পর রবিনকে ক্লাসে ঢোকার অনুমতি দিলেন তিনি। That's the 1st & last warning for everyone, বলেই আবার লেকচার দেয়াতে ডুবে গেলেন স্যার .. * ততক্ষণে সব সহজ হয়ে গেছে। কাঠিন্যতার আড়াল থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসেছেন জেনারেল টাইপ মোচধারী স্যারটি! এতক্ষণ যে ছাত্ররা ভয়ে শ্বাস নিচ্ছিলনা; এখন তারাই প্রাণ খুলে মজা পাচ্ছে স্যারের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায়! . হঠাৎই স্যার বললেন; আচ্ছা তোমাদের এমন কোন উপাধি মানে ব্যাঙ্গাত্বক নেই? যা নিয়ে অন্যরা তোমাদের পেছনে ডাকে বা ক্ষেপায়! সত্যি করে বলবা কিন্তুক .. স্যারের এমন অদ্ভুত কথায় ক্লাসের সবাই দারুণ মজা পেয়েছে। এক এক করে ক্লাসের সবাই নিজের এমন একটা করে নাম বলে যাচ্ছে; যে নামে বন্ধুরা ক্ষেপায় বা অন্যরা পেছনে ডাকে। এক একজন বলছে আর বাকিরা সবাই হাসতে খুন হয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বেশ কিছু মজার নাম বেরিয়ে এসেছে ক্লাস থেকে । যেমন: রবিন কবিতা লিখে বলে ওকে ডাকা হয় জীবনানন্দ বলে। আমিন কথা রাখতে পারেনা; তাই মিথ্যুক নামটাই ওর সাথে জড়িয়ে গেছে বন্ধুমহলে । সৌরভের নাম ইবনে বতুতা আর শাখাওয়াতের শরীরই ওকে জলহস্তী নামে পরিচিত দিয়েছে। . ক্লাসে উপস্থিত সব শিক্ষার্থীরই বলা শেষ। এখন সবাই মিলে ধরেছে স্যারকে , যে স্যারের এমন কোন নাম আছে কিনা। চয়ন তো দাঁড়িয়ে প্রশ্নটা করেই ফেললো। . প্রশ্ন শেষ হওয়ার মুহূর্তেই স্যার ক্ষেপে গেলেন। এত সাহস তোমাদের? আমার সাথে মজা করো .... নিমিষেই চুপ হয়ে গেল ক্লাস। চয়ন তো জড়োসড়ো হয়ে গেছে ততক্ষণে! . ক্লাস নিরব হয়ে যেতেই মুচকি হাসলেন স্যার। . 'আমার এমন ভয়ংকর রাগের জন্য ছাত্ররা পেছনে আমাকে টাইগার স্যার বলে ডাকে; আমি জানি সেটা' বলেই নিজে নিজেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন জেনারেল টাইপ মোচধারী নিপুণ স্যার। ব্যাপারটা বুঝতেই ক্লাসের বাকি সবাই স্যারের হাসিতে যোগ দিলো ততক্ষণে! . ক্লাস ক্যাপ্টেন আর নিজেদের মতো করে গ্রুপ তৈরির কথা বলে স্যার ঐদিনের মতো ক্লাস শেষ করলেন। দুই ইউনিভার্সিটির প্রথম ক্লাসটা দারুণ উপভোগ্য হলো কি বলিস? চারজনের গ্রুপে কথাটা বলল রবিন। হুম্মম.. আমিতো ভাবতেই পারিনি; ভার্সিটির কোন টিচার এতটা প্রাণবন্ত হতে পারে; এমনকি নিজেকে নিয়ে সস্তা রসিকতা করতে পারে! নিজের মন্তব্য করে আমিন। . আচ্ছা তোরা কি শুধু কথাই বলবি; নাকি পেটে কিছু দিবি? খাওয়ার কথাটা পাড়ে ভারী শরীরের অধিকারী শাখাওয়াত। জলহস্তী কিন্তুক ঠিক কথাই বলেছে; ফোঁড়ন কাটে সৌরভ! জলহস্তী শব্দটা শুনতেই সবগুলা একসাথে হেসে উঠলো এবার। শুধু শাখাওয়াতের মুখটাই চুপসে গেলো একটু! চল সবাই মিলে বিরিয়ানী খেয়ে আসি:সৌরভের এমন প্রস্তাবে হিস জাতীয় শব্দ করে জিহ্বের জল টান দেয় জলহস্তীটা! * ক্লাস থেকে বেরুতে বেরুতেই অল্প কথাতেই জমে যায় রবিন, আমিন, সৌরভ আর শাখাওয়াতের আড্ডাটা। হয়ে যায় বন্ধুত্বটাও! . দুইদিন পর .. ক্লাস শেষে টেস্টিং ল্যাবের পেছনে আড্ডা দিচ্ছে সবাই। আমাকে সিগারেট খেতে হবে উঠিরে:বলল রবিন। পেছন থেকে শাখাওয়াত বলল: আমিও বলতাম এমনটা। ওর সিগারেট খাওয়ার কথা শুনে কেন জানি সন্দেহ হলো রবিনের! শাখাওয়াত কে পাশের টং দেখিয়ে বলল: যা দুটো সিগারেট ধরিয়ে নিয়ে আয়। শাখাওয়াত সিগারেট আনতে চলে গেল। . পেছন থেকে চোখ রাখছে রবিন। ওর সন্দেহই সত্যি হলো! . আনাড়ি হাতে সিগারেট ধরাতে গিয়ে হাত পুড়িয়ে ফেললো শাখাওয়াত! রবিন ব্যাপারটা দেখেই দ্রুত আড্ডায় ডুবে গেল। শাখাওয়াত বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বুঝলো ওরা আড্ডায় মশগুল হয়ে আছে। তার করুণ অবস্থা দেখেনি কেউ। যাই হোক নানা কায়দা করে অবশেষে সিগারেট দুটো ধরালো ও। এবার গর্বের প্রতীক ভেবে দুই হাতে দুই জলন্ত সিগারেট নিয়ে বন্ধুদের কাছে চলে এলো শাখাওয়াত। . পাশে আসতেই রবিন জিজ্ঞেস করলো: কয়দিন ধরে সিগারেট খাস তুই? দুই বছর ধরে! ভাব ধরা গলায় উত্তর দিলো শাখাওয়াত। ওর কথা শেষ হওয়ার আগেই, কানের নিচে ঠাস শব্দে রবিনের হাতটা নেমে এলো। সত্যি করে বল;রবিন বলল। দুই মাস ধরে,মিনমিন করে করলো যেন শাখাওয়াত। কানের নিচে আরেকটা পড়তেই বলল: দুই সপ্তাহ ধরে! রবিনকে আবার হাত তুলতে দেখেই বলল; আজই প্রথম! . কাঙ্খিত উত্তর পেতেই হাসতে শুরু করলো সবাই। . এবার বলতো: তুই সিগারেট খাস,সে ভান করলি কেন? কেননা সিগারেট খেলে সবাই স্মার্ট বলে, বন্ধুদের মাঝে সোসাইটি রক্ষা হয়:মিনমিন করছে যেন শাখাওয়াত। ওর কথা শুনে আমিন,সৌরভ,রবিন হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে বারবার! . শাখাওয়াত আর বসে থাকেনি। শ্রাগ ধরে আড্ডা ছেড়ে উঠে হাটতে শুরু করলো ও। কিরে কই যাস? বলতে বলতেই বাকিরা ওর পেছন পেছন হাটতে শুরু করলো। তিন এ হলো ফিরোজা আর ও কামিনী দুজনই আর্কিটেকচারে পড়ে; আমাদেরই ব্যাচমেট। পরিচিত হতে চায় আমাদের সাথে তাই নিয়ে এলাম। সাথে থাকা মেয়ে দুটোকে পরিচয় করিয়ে দিলো আমিন। . রবিন;সৌরভ;শাখাওয়াত তিনজনই অপ্রস্তুত হয়ে গেছে তখন। ওদের চারজনের সার্কেলের বাহিরে অতিরিক্ত কাউকে এড করার ইচ্ছে ছিলোনা কারোরই। তাও আমিন কিভাবে দুটো অপরিচিত মেয়েকে এভাবে আড্ডায় নিয়ে এসেছে? সেটা ভাবতেই ওদের এতোসব অস্বস্তি। সে অস্বস্তি গোপন রেখে তাও স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছে সবাই। . মেয়ে দুটোও দারুণ! এমন ভাবে কথা বলছে যেন কতদিনের চেনা। হঠাৎই ফিরোজা বলল: তো জনাব জীবনানন্দ একটা আবৃত্তি শোনান না প্লিজ! আমি আবার আপনার আবৃত্তির অন্নেক বড় ফ্যান। . প্রথমে মিন মিন করলেও ঠিকই চোখ বন্ধ করে আবৃত্তি শুরু করলো রবিন! দ্রুতই আড্ডাটা জমে উঠলো ওদের। রবিন,আমিন,সৌরভ,শাখাওয়াতের সাথে সদ্যই যোগ দেয়া ফিরোজা আর কামিনী যেন কত দিনের বন্ধুত্ব ওদের ! আড্ডার শেষে এসে কামিনী শাখাওয়াতকে বলল: এতক্ষণ আড্ডা দিয়ে পেটের ভেতরের দানবটা জেগেছে; তাইনা জলহস্তী? চল আজ আমি খাওয়াবো তোদের সাথে যোগ করলো ও। একটা মেয়ের মুখ থেকে জলহস্তী ডাক শুনে মন খারাপ হলেও খাওয়ার কথা শুনে দুকান অবধি প্রসারিত হাসি উপহার দিলো শাখাওয়াত! . সেদিন থেকেই সৌরভ রবিনদের সার্কেলে বন্ধু সংখ্যা চার থেকে বেড়ে ছয়ে এসে দাঁড়ালো। . তিনমাস পর.. সময়ের পিঠে চড়ে সদা পরিবর্তনশীল বিচিত্র মানুষ মন দ্রুতই পরিবর্তন হচ্ছিলো তখন। বা পরিবর্তন হয়ে গেছে ততক্ষণে। . কে যেন বলেছিলেন; ছেলে মেয়েতে কখনো বন্ধুত্ব হয়না। বন্ধুত্ব হলেও একটা সময় পরে সেটা অন্যকিছুতে রূপ নেয় বা নিবেই। . এই কথার সত্যতাই বা তারও বেশি কিছু হবে হয়তো! ফিরোজা, কামিনী, রবিন, সৌরভদের মাঝে বন্ধু সম্পর্কের টোটকাটাও বদলাচ্ছিলো দ্রুত। বা ততক্ষণে বদলে গিয়েছে প্রায়! . রবিনের কবিতায় এখন, আমি,তুমি,দুজনা শব্দগুলোই বেশি ব্যবহৃত হয়। . সৌরভের বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানোর ভূতটা এখন মাথাতেই নেই আর! তার পরিবর্তে কামিনীর সাথে সময় কাটানোতেই ওর যতো আনন্দ। . শাখাওয়াত নিজের ভারী শরীরটা কমাতে জীমে সময় কাটাচ্ছে বেশকিছুদিন ধরেই! . আমীন একটা মেয়েকে ভীষণ ভালবাসে এটা ক্যাম্পাসের প্রায় সবার কানেই পৌঁছে গেছে! . কবিতার জন্য রবিনের প্রতি ফিরোজার মোহ কখন যে ভালবাসায় রূপ নিয়েছে; বুঝতেই পারেনি ও। এতে ফিরোজা এতটাই ডুবেছে যে, আমিনের আবেগটা বুঝতে চাইছেনা আর! * রবিন,সৌরভদের আড্ডার আসর আগের মতো বসেনা এখন, বসলেও জমেনা আর। . ওদের চারজনের সার্কেলটা পুরো ক্যাম্পাসে পরিচিত ছিলো। পরে সেটা ছয়জনে এসে দাড়ালো। তাও চিরপরিচিত সুরটা এখন আর বাজেনা! চার আর্কিটেকচার প্যাকাল্টিতে আড্ডা বসেছে আজ। . আমিন আমাকে ভালবাসি বলেছে; হাসতে হাসতেই জানালো ফিরোজা। তাই নাকি? মুখ বাঁকা করে মন্তব্য করলো শান্ত। তা তোর আপডেট কি? কামিনীকে বলল :সুজন। Same here; শাখাওয়াত ও আমাকে তার ভালবাসার কথা জানিয়েছে। বিজয়ীর বেশে বললো কামিনী! তা তোরা কি উত্তর দিলি? সম্মিলিতভাবে জানতে চাইলো সুজন,শান্ত। কি করবো আবার? প্ল্যানিং মতোই বললাম: দেখ সম্ভবনা সেটা, কেননা আমি রবিনকে আর রবিন আমাকে ভালবাসে: বলল ফিরোজা। . আর আমি বলেছি; সৌরভ আমাকে তার ভাল লাগার কথা আরও আগেই জানিয়েছে। তাই তোকে গ্রহন করা সম্ভব না এখন আর। যোগ করলো কামিনী! . তার মানে অপারেশন সাকসেস? বিস্ময় ঝরে পড়লো ইভানের গলায়! সুন্দরীদের দ্বারা সবই সম্ভব বস ; গর্বে বুকটা ফুঁলে উঠে ফিরোজার। . এবার বাজির টাকাটা দে শালা! শান্তর কলার চেপে ধরে কামিনী। তা তো অবশ্যই পাবি সাথে বোনাসও দিবো। আশ্বাস দেয় শান্ত! * এই দাড়া দাড়া আমার জান রবিন ফোন করেছে আমাকে চুপ কর তোরা; ফিরোজা হাঁক ছাড়লো যেন। . ফোনটা রিসিভ করে আড়ালে চলে গেলো। কথা বলে যখন ফোনটা রাখলো বুঝলো কিছু একটা হারিয়ে ফেলেছে ও। চুপসে গেল একদমই! পাঁচ আমিন, সৌরভ,রবিন,শাখাওয়াত এই চারজনের ফ্রেন্ড সার্কেলটা গড়ে উঠেছিল ভার্সিটির প্রথম দিন থেকেই। গত দুই বছর ধরেই ওদের বন্ধুত্বটা বেড়েছে বৈ কমেনি একটুও। চারজনের মানুসিকতাও একই রকম। ভার্সিটির কালচারাল প্রোগ্রাম, বিতর্ক প্রতিযোগিতা,বিজ্ঞান মেলাসহ সবকিছুতেই চারজন একই সাথে অংশগ্রহণ করে। ফলাফলটাও নির্ধারিত! বরাবরই ভাল করে ওরা। যার জন্য ওদের এই চতুষ্টয় এর নাম ক্যাম্পাসের প্রায় সবারই জানা। ওদের এই অসাধারণ ফ্রেন্ডশীপের জন্য অনেকেই এদের ঈর্ষা করে ভীষণ! কেউ কেউতো ওদের ফ্রেন্ডশীপ ভাঙার চেষ্টাও করেছিল;সফল হয়নি! . এবার রবিনদের ফ্রেন্ডশীপ নষ্ট করার জন্য লেগেছে আর্কিটেকচারের কামিনী,ফিরোজা সার্কেল। সেজন্যই ওরা বাজী ধরেছে শান্ত,সুজনদের সাথে। নারীর ছলনা করার ক্ষমতাটুকু প্রয়োগ করেছে ওরা! কিছুটা স্বার্থকও হয়েছে বটে। তবে শেষ পর্যন্ত পারেনি! . এভাবে কাটলো কিছুদিন .. রবিন,আমিন,সৌরভ,শাখাওয়াত প্রত্যেকেই নিজেদের অসহায়ত্ব বুঝতে পারলো এই অল্প কয়দিনেই। ওদের বুঝতে আর বাকি রইলোনা যে, এরা নিজেরা একে অপরকে ছাড়া একান্তই নস্যি;দারুণ একাও বটে। সামান্য মেয়েলী ব্যাপার নিয়ে বন্ধুত্ব বিসর্জন দেয়া সম্ভব নয় কিছুতেই! এমন বোধোদয় চারজনেরই হয়েছিল। . প্রথমে রবিনই আবার সবকিছু শুরু করেছিল। ফোন করে ফিরোজাকে বলেছে , আমার সাথে আর কোনদিন যোগাযোগই করবেনা তুমি। এমনকি বন্ধুত্বের দাবী নিয়েও আসার চেষ্টা করোনা কোনদিন। . কামিনীও প্রায় এমন ধরনেরই একটা ভয়েস কল পেয়েছিল সৌরভের নাম্বার থেকে। . এভাবে গেল আরও কিছুদিন .. রবিন, আমিনদের আড্ডা জমছে আবারও। আবারও পুরনো সব খুনসুটিতে চলছে ওদের দিন যাপন। . আজ ষোলই এপ্রিল! ওরা এইদিনই প্রথম বন্ধুত্ব নামক অদ্ভুত এক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ছিলো। হ্যাঁ আজ ওদের ফ্রেন্ডশীপ ডে! ওরা আজ তৃতীয় বারের মতো দিনটা উদযাপন করবে। কিন্তু ভুলোমনা রবিন দিনটার কথা ভুলেই গেছে! শাস্তি হিসেবে তাই আজ পার্টির সমস্ত বিল ওকেই দিতে হবে! আজকের দিনে এমন শাস্তি মাথা পেতে নেয়াই যায় কি বলিস? রবিন একথা বলতেই হেসে উঠলো সবাই! সৌরভ ডাক দিলো: কই মামা এইদিকে আসেন আপনিও বসে পড়েন আমাদের সাথে। হাসি মুখেই পেস্টি মামা ওদের পাশে এসে বসে পড়লো! * হঠাৎই রবিনের মোবাইলটা ভাইব্রেট করলো। দেখলো ফিরোজা লেখা নাম্বার থেকে কল আসছে অনবরত! ধরার দরকারও মনে করেনি রবিন। মোবাইলটা সাইলেন্ট করে রেখে দিলো ব্যাগের পকেটে!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now