বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বন্ধু

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান EvA AhMED (০ পয়েন্ট)

X সকাল সোয়া নটা। মোহিত সরকার সবেমাত্র টাইয়ে ফাঁসটা পরিয়েছেন, এমন সময় তাঁর স্ত্রী অরুণা ঘরে ঢুকে বললেন, ‘তোমার ফোন।’ ‘এই সময় আবার কে?’ কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে নটায় অফিসে পৌঁছানোর অভ্যাস মোহিত সরকারের; ঠিক বেরোনোর মুখে ফোন এসেছে শুনে স্বভাবতই তাঁর কপালে ভাঁজ পড়ল। অরুণাদেবী বললেন, ‘বলছে তোমার সঙ্গে ইস্কুলে পড়ত।’ ‘ইস্কুলে? বোঝ!—নাম বলেছে?’ ‘বলল, জয় বললেই বুঝবে!’ ত্রিশ বছর আগে ইস্কুল ছেড়েছেন মোহিত সরকার। ক্লাসে ছিল জনাচল্লিশেক ছেলে। খুব মন দিয়ে ভাবলে হয়তো তাদের মধ্যে জনাবিশেকের নাম মনে পড়বে, আর সেই সঙ্গে চেহারাও। জয় বা জয়দেবের নাম ও চেহারা দুটোই ভাগ্যক্রমে মনে আছে। কারণ সে ছিল ক্লাসে সেরা ছেলেদের মধ্যে একজন। পরিষ্কার ফুটফুটে চেহারা, পড়াশোনায় ভালো, ভালো হাইজাম্প দিত, ভালো তাসের ম্যাজিক দেখাত, ক্যাসাবিয়াঙ্কা আবৃত্তি করে একবার মেডেল পেয়েছিল। স্কুল ছাড়ার পর তার আর কোনো খবর রাখেননি মোহিত সরকার। তিনি এখন বুঝতে পারলেন যে এককালে বন্ধুত্ব থাকলেও এতকাল ছাড়াছাড়ির পর তিনি আর কোনো টান অনুভব করছেন না তাঁর ইস্কুলের সহপাঠীর প্রতি। মোহিত অগত্যা টেলিফোনটা ধরলেন। ‘হ্যালো!’ ‘কে, মোহিত? চিনতে পারছ ভাই? আমি সেই জয় —জয়দেবস বোস। বালিগঞ্জ স্কুল।’ ‘গলা চেনা যায় না, তবে চেহারাটা মনে পড়ছে। কী ব্যাপার?’ ‘তুমি তো এখন বড় অফিসার ভাই; নামটা যে মনে রেখেছ এটাই খুব!’ ‘ওসব থাক—এখন কী ব্যাপার বল।’ ‘ইয়ে, একটু দরকার ছিল। একবার দেখা হয়?’ ‘কবে?’ ‘তুমি যখন বলবে। তবে যদি তাড়াতাড়ি হয় তাহলে…’ ‘তাহলে আজই করো। আমার ফিরতে ফিরতে ছয়টা হয়। সাতটা নাগাদ আসতে পারবে?’ ‘নিশ্চয়ই পারব। থ্যাঙ্ক ইউ ভাই। তখন কথা হবে।’ হালে কেনা হালকা নীল স্ট্যান্ডার্ড গাড়িতে আপিস যাবার পথে মোহিত সরকার ইস্কুলের ঘটনা কিছু মনে আনার চেষ্টা করলেন। হেডমাস্টার গিরীন সুরের ঘোলাটে চাহনি আর গুরুগম্ভীর মেজাজ সত্ত্বেও স্কুলের দিনগুলি ভারি আনন্দের ছিল। মোহিত নিজেও ভালো ছাত্র ছিলেন। শঙ্কর, মোহিত আর জয়দেব—এই তিনজনের মধ্যেই রেষারেষি ছিল। ফার্স্ট সেকেন্ড থার্ড তিনজনে যেন পালা করে হতো। ক্লাস সিঙ্ থেকে মোহিত সরকার আর জয়দেব বোস একসঙ্গে পড়েছেন। অনেক সময় এক বেঞ্চিতেই পাশাপাশি বসতেন দুজন। ফুটবলেও পাশাপাশি স্থান ছিল দুজনের; মোহিত খেলতেন রাইট-ইন, জয়দেব রাইট-আউট; তখন মোহিতের মনে হতো এই বন্ধুত্ব বুঝি চিরকালের। কিন্তু ইস্কুল ছাড়ার পরেই দুজনের রাস্তা আলাদা হয়ে গেল। মোহিতের বাবা ছিলেন অবস্থাপন্ন লোক, কলকাতার নামকরা ব্যারিস্টার। ইস্কুল শেষ করে মোহিত ভালো কলেজে ঢুকে ভালো পাস করে দু’বছরের মধ্যেই ভালো সদাগরী আপিসে চাকরি পেয়ে যায়। জয়দেব চলে যায় অন্য শহরের অন্য কলেজে, কারণ তার বাবার ছিল বদলির চাকরি। তারপর আশ্চর্য ব্যাপার, মোহিত দেখেন যে তিনি আর জয়দেবের অভাব বোধ করছেন না; তার জায়গায় নতুন বন্ধু জুটেছে কলেজে। তারপর সেই বন্ধু বদলে গেল যখন ছাত্রজীবন শেষ করে মোহিত চাকরির জীবনে প্রবেশ করলেন। এখন তিনি তাঁর আপিসের চারজন মাথার মধ্যে একজন; এবং তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলো তাঁরই একজন সহকর্মী। স্কুলের সহপাঠীদের মধ্যে একমাত্র প্রজ্ঞান সেনগুপ্তের সঙ্গে মাঝে মাঝে ক্লাবে দেখা হয়; সেও ভালো আপিসে বড় কাজ করে। আশ্চর্য, ইস্কুলের স্মৃতির মধ্যে কিন্তু প্রজ্ঞানের কোনো স্থান নেই। অথচ জয়দেব—যার সঙ্গে ত্রিশ বছর দেখাই হয়নি— স্মৃতির অনেকটা জায়গা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্পের ঝুড়ির বন্ধুত্ব
→ বই : জীবনের প্রকৃত বন্ধু
→ দুই বন্ধুর পবিত্র ভালোবাসা
→ বন্ধুত্বের বাঁধন
→ বন্ধুত্ব থেকে শুরু
→ আমার বন্ধু রাশেদ (১৯)(শেষ পর্ব)
→ আমার বন্ধু রাশেদ (১৮)
→ আমার বন্ধু রাশেদ (১৭)
→ আমার বন্ধু রাশেদ (১৬)
→ আমার বন্ধু রাশেদ (১৫)
→ আমার বন্ধু রাশেদ (১৪)
→ আমার বন্ধু রাশেদ (১৩)
→ আমার বন্ধু রাশেদ (১২)
→ আমার বন্ধু রাশেদ (১১)
→ আমার বন্ধু রাশেদ (১০)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now