বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Black Hole

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ফেরদৌস ইবনে আবু বকর (০ পয়েন্ট)

X ব্ল্যাকহোল শব্দটি দ্বারা কিন্তু কোন গর্ত বোঝায় না। ব্ল্যাকহোল এমন একটি জায়গা যেখানে খুবই অল্প জায়গায় অনেক অনেক ভর ঘনীভূত হয়ে রয়েছে। নাম গহ্বর হলেও ব্ল্যাক হোলের মধ্যে কিন্তু পুরোটা ফাঁকা জায়গা নয়। বরং এর মধ্যে খুব অল্প জায়গায় এত ভারী সব বস্তু আছে যে এসবের কারণে তীব্র মহাকর্ষীয় শক্তি উৎপন্ন হয়। এখানে কোনো কিছু প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না। এমনকি আলোও এই গহ্বরকে অতিক্রম করতে পারে না। মহাকাশের এক অনন্ত বিস্ময় এই ব্ল্যাকহোল। ব্ল্যাকহোলকে কৃষ্ণবিবর, কৃষ্ণগহ্বর ইত্যাদি বলা হয়। জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি অনুসারে,কৃষ্ণগহ্বর মহাকাশের এমন একটি বিশেষ স্থান যেখান থেকে কোন কিছু, এমনকি আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না। মহাকাশীয় এই দানবের কাছে পথ হারায় আলোকতরঙ্গ। ব্ল্যাকহোলের ধারণা নিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই একটা ধোঁয়াশা কাজ করে।  আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে ব্ল্যাক হোলের আকর্ষণ এতই বেশী যে এর থেকে দৃশ্যমান আলো, এক্স রে, অবলোহিত রশ্মি কিছুই রক্ষা পায় না। এজন্য ব্ল্যাক হোল আমাদের কাছে অদৃশ্য। যেহেতু আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না তাহলে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ত কিভাবে দেখা যায় বা বুঝা যায়? মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময়েই মহাকাশে প্রচুর তারকারাশি দেখা যায় যারা একটি বিশেষ বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে অথবা সর্পিলাকার গ্যাসীয় বস্তু দেখা যায় যা কোন বিন্দুকে কেন্দ্র করে অবস্থান করছে। এই বিশেষ বিন্দুগুলোই হল ব্ল্যাক হোল যেগুলোকে দেখা যাচ্ছে না ঠিকই কিন্তু তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে তারকারাশি বা গ্যাসীয় বস্তুগুলোর অবস্থান আর তাদের গতি-প্রকৃতির মাধ্যমে। কৃষ্ণগহ্বর শব্দের অর্থ কালো গর্ত। একে এই নামকরণ করার পেছনে কারণ হল এটি এর নিজের দিকে আসা সকল আলোক রশ্মিকে শুষে নেয়। কৃষ্ণগহ্বর থেকে কোন আলোক বিন্দুই ফিরে আসতে পারে না ঠিক থার্মোডায়নামিক্সের কৃষ্ণ বস্তুর মতো। আমাদের মহাবিশ্বে এত বেশি ব্ল্যাকহোল রয়েছে যে তা গণনা করা অসম্ভব।সৌভাগ্যের কথা হল,মহাবিশ্ব অসীম ও কোনো ব্ল্যাকহোলই পৃথিবীর ক্ষতি করার মতো যথেষ্ট কাছে নেই। ব্ল্যাকহোলের সংখ্যা গণনা করার একটু চেষ্টা করা যাক। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে প্রায় 100 বিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে। যাদের মধ্যে কমপক্ষে 100 মিলিয়ন নক্ষত্রের স্টেলার ব্ল্যাকহোল হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ভর রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকগুলো নিশ্চয় ইতিমধ্যে ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয়েছে {যার মধ্যে আমরা শনাক্ত করেছি মাত্র 12/13 টি ব্ল্যাক হোল} আর হয়তো বা বাকিগুলো পরে ব্ল্যাকহোল হবে।হয়তো বা এই মুহূর্তে কিছু ব্ল্যাক হোলে পরিণত হচ্ছে! যদি এখন তা হয় তাহলে তা জানতেও আমাদের কয়েক বছর লেগে যাবে! তাছাড়া মিল্কিওয়ের মতো বড় গ্যালক্সিগুলোর কেন্দ্রে থাকে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল। তাহলে আমরা বলতে পারি যে,প্রতিটি গ্যালাক্সিতে কয়েক মিলিয়ন ব্ল্যাকহোল রয়েছে। পৃথিবী হতে দৃশ্যমান মহাবিশ্বে কয়েক কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে। তাহলে দৃশ্যমান মহাবিশ্বেই ব্ল্যাক হোলের সংখ্যা কয়েক শত বিলিয়ন। ব্লাক হোলের অস্তিত্ব সম্পর্কিত ধারণাটি প্রথম প্রস্তাব করা হয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে। এই ধারণাটি প্রস্তাব করা হয় সেই সময়কার জানা মধ্যাকর্ষণ সূত্রগুলোর উপর ভিত্তি করে। 1783* সালে জন মিচেল বলেছিলেন,”যদি একটি বস্তুর আকার যথেষ্ট ছোট ও ভর যথেষ্ট হয় যে কোনো কিছুর পক্ষে ঐ বস্তুর আকর্ষণ বল হতে পালানো সম্ভব নয়। এমনকি আলোও চিরকালের জন্য আটকে যেতে পারে।” ১৭৯৬ সালে গণিতবিদ পিয়েরে সিমন ল্যাপলেস একই মতবাদ প্রদান করেন তাঁর ‘Exposition du systeme du Monde‘ বইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে। 1967 সালে হুইলার ‘ব্ল্যাক হোল’- নামটির সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন। পদার্থবিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে,ব্ল্যাক হোলের নিকটবর্তী স্থান-কাল ব্যতিক্রমধর্মী আচরণ করে। এ কারণে সায়েন্স ফিকশন লেখকদের কাছে এটি লেখার জন্য প্রিয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। (* Wikipedia অনুযায়ী। কিন্তু প্রথমআলো প্রতিবেদনে আছে 1784) ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন তার “জেনারেল রিলেটিভিটি তত্ত্ব ” দিয়ে ধারনা করেন ব্ল্যাকহোল থাকা সম্ভব। আর ১৯৯৪ সালে এসে নভোচারীরা প্রমাণ করেন আসলেই ব্ল্যাকহোল আছে। এটি কোন সায়েন্স ফিকশন নয়। জার্মান বিজ্ঞানী কার্ল শোয়ার্জস্কাইল্ড ১৯১৬ সালেই দেখান, যেকোন তারকা ব্ল্যাকহোলে পরিণত হতে পারে।   ব্ল্যাকহোলে রয়েছে শক্তিশালী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র। ব্ল্যাক হোলের পেছনে ‘ইভেন্ট হরাইজন’ নামের একটি স্থান আছে, যাকে বলা হয় ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’। এই জায়গায় মহাকর্ষীয় শক্তি এতটাই তীব্র যে এখান থেকে কোনো কিছুই আর ফেরত আসতে পারে না। এইভাবেই মহাকাশের মহাবিস্ময় হয়ে বেঁচে আছে ব্ল্যাকহোল। একে নিয়েই চলছে বিজ্ঞানের নিরন্তর চর্চা। আলোকে গিলে খাওয়া এই মহাকাশীয় দানবকে নিয়ে তাই আজও কৌতূহলের শেষ নেই। প্রকৃতপক্ষে এই স্থানে সাধারণ মহাকর্ষীয় বলের মান এত বেশি হয়ে যায় যে এটি মহাবিশ্বের অন্য সকল বলকে অতিক্রম করে। ফলে এ থেকে কোন কিছুই পালাতে পারে না। অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রথম তৎকালীন মহাকর্ষের ধারণার ভিত্তিতে কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্বের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুসারে, কৃষ্ণগহ্বর মহাকাশের এমন একটি বিশেষ স্থান যেখান থেকে কোন কিছু, এমনকি আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না। এটা তৈরি হয় খুবই বেশি পরিমাণ ঘনত্ব বিশিষ্ট ভর থেকে। কোন অল্প স্থানে খুব বেশি পরিমাণ ভর একত্র হলে সেটা আর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে পারে না। আমরা মহাবিশ্বকে একটি সমতল পৃষ্ঠে কল্পনা করি। মহাবিশ্বকে চিন্তা করুন একটি বিশাল কাপড়ের টুকরো হিসেবে এবং তারপর যদি আপনি কাপড়ের উপর কোন কোন স্থানে কিছু ভারী বস্তু রাখেন তাহলে কি দেখবেন? যেইসব স্থানে ভারি বস্তু রয়েছে সেইসব স্থানের কাপড় একটু নিচু হয়ে গিয়েছে। এই একই বাপারটি ঘটে মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে। যেসব স্থানে ভর অচিন্তনিয় পরিমাণ বেশি সেইসব স্থানে গর্ত হয়ে আছে। এই অসামাণ্য ভর এক স্থানে কুন্ডলিত হয়ে স্থান-কাল বক্রতার সৃষ্টি করে। প্রতিটি গ্যালাক্সির স্থানে স্থানে কম-বেশি কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিতের কথা জানা যায়। সাধারণত বেশীরভাগ গ্যালাক্সিই তার মধ্যস্থ কৃষ্ণগহ্বরকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণয়মান। যখন একটি তারকার জীবনকাল শেষ হয়ে যায়, সেই মুহূর্তে তার অভিকর্ষ শক্তি এতই প্রবল হয় যে আলো ওখান থেকে বের হতে পারে না। আর এই ঘটনা তখনই ঘটে যখন একটি তারকার জীবনকাল অর্থাৎ তার নির্দিষ্ট জ্বালানি শেষ হয়ে যায়।  নক্ষত্র যখন তার জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে তখন নক্ষত্র গুলো সংকুচিত হতে থাকে। যখন নক্ষত্রের বাইরের তাপমাত্রার চাপে ভেতরের মধ্যাকর্ষন বাড়তে থাকে তখন, তখন সেই বলের কারণে নক্ষত্র চুপসে যেতে শুরু করে। সব ভর একটি বিন্দুতে পতিত হতে শুরু করে। এটি ধীরে ধীরে ছোট এবং অধিক ঘনত্বে আসতে শুরু করে এবং এক সময় সমস্ত ভর একটি ছোট্ট বিন্দুতে ভিড় করে যার নাম সিঙ্গুলারিটি। সাধারনত গ্যালাক্সি গুলোর মাঝে অবস্থানরত বড় বড় নক্ষত্র তাদের বিবর্তনের সর্বশেষ পরিণতিতে সুপারনোভা বিস্ফোরনের মাধ্যমে ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি করে। নক্ষত্র গুলো অনেক বেশি সংকুচিত হয়েই ব্ল্যাক হোলের জন্ম দেয়। কিন্তু সেই সংকুচিত হওয়ার মাত্রা কতটুকু? তা শুনে অবাক হবেন। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যের ব্যাসর্ধ প্রায় ৬,৯৬০০০০০কিলোমিটার। এই বিশালাকার আয়তনকে যদি কোনোভাবে মাত্র ১০ কিলোমিটারে (একই ভর রেখে) নামিয়ে আনা যায়, তাহলে সেটি একটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে। আর আমাদের পৃথিবীকেই (ভর ঠিক রেখে) যদি চেপেচুপে মাত্র ০.৮৭ সেন্টিমিটার বানানো যায়, তাহলে পৃথিবীও একটি ক্ষুদে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে।  এভাবেই একটি ব্ল্যাকহোলের সৃষ্টি হয়। সব চুপসে যাওয়া নক্ষত্রই কিন্তু কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়না। কৃষ্ণগহ্বর হবে কিনা তা নির্ভর করে তার ভরের উপর। যাই হোক, কৃষ্ণগহ্বর হতে হলে নক্ষত্রকে বা বস্তুকে একটি নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধে আসতে হবে। নিচে সমীকরণটি দেওয়া হলো যার সাহায্যে আমরা নির্ণয় করতে পারি কৃষ্ণগহ্বর হতে হলে কোনো বস্তু বা নক্ষত্রের ব্যাসার্ধে আসা দরকারঃ Rs=2GM/c^2 ………………………………(3) যেখানে M বস্তু বা নক্ষত্রটির ভর। G মহাকর্ষিয় ধ্রুবক। C আলোর বেগ। একটি নক্ষত্রের নির্দিষ্ট জ্বালানি নিঃশেষ হয়ে গেলে এর মৃত্যু ঘটে। যতক্ষণ পর্যন্ত এর অভ্যন্তরীণ হাইড্রোজেন গ্যাস অবশিষ্ট থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর ভিতরে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া চলতে থাকে। হাইড্রোজেন শেষ হয়ে গেলে এর কেন্দ্রীয় মূলবস্তু সংকুচিত হতে থাকে। এভাবে একটি তারার মৃত্যু হয়। ব্ল্যাকহোল ছোট হতে পারে আবার বড়ও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে ক্ষুদ্রতম ব্ল্যাকহোল একটি পরমাণুর সমান হতে পারে। এই জাতীয় ব্ল্যাকহোলগুলো অনেক ক্ষুদ্র কিন্তু তাদের এক একটার ভর হতে পারে বিশাল কোন পর্বতের সমান। অন্য এক ধরনের ব্ল্যাকহোলকে বলা হয় “স্টেলার” বা“নাক্ষত্রিক”। এর ভর আমাদের সূর্যের ভর এর চেয়েও ২০ গুণ বেশি হতে পারে। এমএইটসেভেন নামে একটি বহুদূরবর্তী গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে এটি পাওয়া গেছে। পৃথিবী থেকে এই ব্ল্যাক হোল ৫০ কোটি ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরে, এবং এটার ভর (এর মধ্যেকার পদার্থের পরিমাণ) সূর্যের চাইতে ৬৫০ কোটি গুণ বেশি। ব্ল্যাক হোলটি এতই বড় যে এটাকে একটা ‘দানব’ বলে বর্ণনা করছেন বিজ্ঞানীরা। এর উজ্জ্বলতা ওই ছায়াপথের সব তারা মিলে যত ঔজ্জ্বল্য হবে তার চাইতেও বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দানবাকৃতির এই ব্ল্যাক হোল পৃথিবী যে সৌরজগতের অংশ - তার চাইতেও বড়। এ মাথা থেকে ওমাথা পর্যন্ত এর আয়তন ৪ হাজার কোটি কিলোমিটার - যা পৃথিবীর চাইতে ৩০ লক্ষ গুণ বড়। খুব সম্ভবত অনেক অনেক বেশি ভরেরও নক্ষত্র রয়েছে পৃথিবীর ছায়াপথে। আর পৃথিবীর এই ছায়াপথকে বলা হয় “মিল্কিওয়ে”। সবচেয়ে বৃহৎ ব্ল্যাকহোলকে বলা হয় “সুপারমেসিভ ব্লাক হোল”। কৃষ্ণবিবরকে ভাগ করা হয় তার মাঝে থাকা ভর, আধান, কৌণিক ভরবেগের উপর ভিত্তি করে। ভরের উপর ভিত্তি করে কৃষ্ণবিবর চার ধরনের। যেমন- ১. Super Massive Black hole (সুপার মেসিভ ব্ল্যাকহোল) ২. Intermediate Black hole (ইন্টারমিডিয়েট ব্ল্যাকহোল) ৩. Micro Black hole (মাইক্রো ব্ল্যাকহোল) ৪. Steller Black hole (স্টেলার ব্ল্যাকহোল) Stellar black hole সৃষ্টি– সাধারনত একটি নক্ষত্রে প্রতিনিয়ত নিউক্লীয় বিক্রিয়া চলতে থাকে। হাইড্রোজেন গ্যাসের পরমাণু সমুহ পরস্পরের সাথে মিশে হিলিয়াম গ্যাসে পরিণত হয়। এ বিক্রিয়ার ফলে নক্ষত্রে প্রচুর তাপ ও চাপ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন তাপ নক্ষত্রকে উজ্জ্বল করে এবং উৎপন্ন চাপ নক্ষত্রের কেন্দ্রে বহির্মুখী চাপের সৃষ্টি করে যা মহাকর্ষীয় বলের কারণে নক্ষত্রে সৃষ্ট কেন্দ্রমুখী সংকোচনধর্মী চাপের সৃষ্টি হয়। একটি নক্ষত্রের জীবন কালের বেশীর ভাগ সময় এই দুই বিপরীতমুখী চপের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। এরকম অবস্থা চলতে থাকে কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে। কিন্তু এক সময় নিউক্লীয় জ্বালানিগুলো শেষ হয়ে যায় ও নিউক্লীয় বিক্রিয়া বন্ধ হয়। ফলে কেন্দ্রমুখী সংকোচনধর্মী চাপ এই নি্উক্লীয় বিক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট বর্হিমুখী চাপের উপর বিজয় লাভ করে। ফলে তারার সকল ভর কেন্দ্রে সংকুচিত হতে শুরু করে। চন্দ্রশেখর সীমার নিচের নক্ষগুলোর ক্ষেত্রে যখন এটি হয় তখন এরা শ্বেত বামনে পরিণত হয়। চন্দ্রশেখর সীমার উপরের তারাদের ক্ষেত্রে আবার এমনটি ঘটে না। সংকোচনের ফলে বাইরের ও ভিতরের চাপ সমান করতে গিয়ে এই নক্ষত্রগুলো প্রচন্ড বিষ্ফোরনের মাধ্যমে নিজের ভিতরের কিছু অংশ বইরের দিকে প্রচন্ড বেগে বের করে দেয় এ ঘটনাকে বলা হয় সুপারনোভা। সুপারনোভার পর বাকী অংশের ভর যদি সূর্যের ভরের ২.৫ গুণের অধিক হয় তবে ঐ নক্ষত্রের সকল ভর দ্রুত কেন্দ্রে সংকুচিত হয়ে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয়। আর বের করে দেয়া অংশ প্রায়ই একটি ছোট নক্ষত্রে পরিনত হয়। Super Massive black hole সৃষ্টি-- এর নিশ্চিত ব্যাখ্যা এখনো আমাদের নেই। তবে আমাদের আছে কিছু ভবিষ্যদ্বাণী। কিছু বিজ্ঞানীর মতে,স্টেলার ব্ল্যাকহোলগুলো কয়েক সহস্র কোটি বছর ধরে বেড়ে উঠে সুপারম্যাসিভে পরিণত হয়।যেহেতু সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলগুলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত,তাই এ ভবিষ্যদ্বাণী মতে বলা যায়:সকল স্টেলার ব্ল্যাকহোলগুলো নয়,শুধু গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত স্টেলারগুলোই সুপারম্যাসিভে পরিণত হওয়ার সামর্থ্য রাখে কেননা সুপারম্যাসিভে পরিণত হওয়ার জন্য গ্যালাক্সির কেন্দ্রেই প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাওয়া যায়। অনেক বিজ্ঞানী আবার মনে করেন শুধু একটি স্টেলার হতে নয়,বরং অনেকগুলো স্টেলার ব্ল্যাকহোল মিলেই সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল সৃষ্টি করে। আবার,ব্ল্যাকহোল দ্বারা নক্ষত্র গিলে ফেলার মাধ্যমে অথবা বিশাল পরিমাণ মহাজাগতিক গ্যাস হতেও সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল উৎপন্ন হতে পারে। যদি 2 টি গ্যালাক্সির সংঘর্ষ হয়, তবে সেই বিশাল মহাজাগতিক ঘটনা থেকেও এ রকম ব্ল্যাকহোল সৃষ্টি হতে পারে। ব্লাক হোল আলোক রশ্মিকে বাকিয়ে দিতে পারে। যে সকল আলোক রশ্মি ব্ল্যাক হোলের ঘটনা দিগন্তের নিকট দিয়ে যায়(ঘটনা দিগন্ত অতিক্রম করে না),তারা ব্ল্যাক হোলে আটকা পড়ে না ঠিকই কিন্তু ব্ল্যাক হোলের মধ্যাকর্ষণ বলের কারণে বেঁকে যায়। ধরেন,আপনি একটা ব্ল্যাক হোলকে নিরাপদ দূরত্ব হতে দেখতেছেন এবং ব্ল্যাক হোলটির বিপরীত পাশে একটি নক্ষত্র রয়েছে। এখন,আপনি এ পাশ থেকে ঐ নক্ষত্রটির একাধিক প্রতিবিম্ব দেখতে পাবেন। কারণ ঐ নক্ষত্র হতে আলো আপনার কাছে আসার সময় ব্ল্যাক হোল তার মধ্যাকর্ষণ বলের কারণে বাঁকিয়ে দেয়। আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিল যে,প্রত্যেক বস্তু তার মধ্যাকর্ষণ বলের মাধ্যমে আলোকে বাঁকিয়ে দেয়।একে বলা হয় গ্র্যাভিশন্যাল লেন্সিং।কোনো বস্তুর ভর যত বেশি হবে,তার লেন্সিং তত শক্তিশালী হবে। 1919 সালে ব্রাজিলে পূর্ণ সূর্যগহণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখা যায় যে, সূর্য দূরবর্তী নক্ষত্র হতে আগত আলোকে বাঁকিয়ে দেয়। সুতরাং এটা প্রমাণিত হয় যে গ্রাভিটেশন লেন্স এর মত কাজ করে। তাই বলা যায়, ব্লাক হোল আলোক রশ্মিকে বাকিয়ে দিতে পারে। আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে ব্লাক হোল যেহেতু সব কিছু কেই আকর্ষণ করে তাহলে এরা পরস্পর কেও আকর্ষণ করছে। যদি দুইটি ব্লাক হোল কাছাকাছি আসে তাহলে কি হবে? যদি দুইটি ব্ল্যাক হোল এতই কাছাকাছি পৌছে যে তারা নিজেদের মধ্যকার আকর্ষণ বল হতে পালাতে পারে না, তবে তারা মিলেমিশে একাকার হয়ে আরো বড় একটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে [এভাবেও সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি হতে পারে] এই রকম একটি মহাকর্ষীয় ঘটনা অতি ধ্বংসাত্নক হবে। এমনকি শক্তিশালী কম্পিউটারেও এ ঘটনা পুরোপুরি বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। এ রকম একটি ঘটনা বিপুল পরিমাণে শক্তি সৃষ্টি করে ও মহাবিশ্বের স্থান-কাল জালের মধ্যে তরঙ্গ প্রেরণ করে। যাকে আমরা বলে থাকি মহাকর্ষীয় তরঙ্গ (Gravitational wave)। এই মহাকর্ষ তরঙ্গ সম্পর্কে আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি সর্বপ্রথমে ভবিষ্যদ্বাণী করে।এই মহাকর্ষ তরঙ্গ বর্তমানে শনাক্ত করা হয়েছে। 130 কোটি আলোকবর্ষ দূরে সূর্য হতে যথাক্রমে 29 গুণ ও 36 গুণ ভরের দুইটি ব্ল্যাক হোল পরস্পরের সাথে মিশে গিয়ে একটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হওয়ার সময় এ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল যা পৃথিবীর যন্ত্রে ধরা পড়ে 2015 সালের 14 সেপ্টেম্বর প্রায় 130 কোটি বছর পর! এর মাধ্যমে থিওরি অফ রিলেটিভিটির সত্যতা প্রমাণিত হয়। ব্ল্যাকহোল হতে কোনো কিছু তার মধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পালাতে পারে না, তাই এটা অনেক সময় ধরে ভাবা হয়েছিল যে ব্ল্যাকগুলো কখনো বিলীন হবে না। কিন্তু বর্তমানে আমরা জানি ব্ল্যাকহোলগুলো ধীরে ধীরে শক্তি বিকিরণের মাধ্যমে বিলীন হয়ে যায়। 1974 সালে বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং এটি প্রমাণ করেন। তিনি এটির জন্য কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নীতিগুলোর সাহায্য নিয়েছিলেন। কোয়ান্টাম মেকানিক্স ক্ষুদ্রতম স্কেলে পদার্থের আচরণ ব্যাখ্যা করে। কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী, শূন্যস্থান আসলে শূন্য না। সে শূন্যস্থানে প্রতিনিয়ত ভার্চুয়াল কণা নামক কণিকারা জোড়ায় জোড়ায় উৎপন্ন হচ্ছে এবং ধ্বংসও হচ্ছে। এই জোড়ার মধ্যে একটি বাস্তব কণা, অন্যটি প্রতিকণা। এই বাস্তব কণা ও প্রতিকণা উৎপন্ন হবার পর এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মত ক্ষুদ্র সময়ে পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়। এই কণাগুলো সৃষ্টি হওয়ার সাথে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু এই ভার্চুয়াল কণাগুলো যদি ব্ল্যাকহোলের ঘটনা দিগন্তের কাছে সৃষ্টি হয় তখন কী ঘটবে? কণাগুলো কি একইভাবে পরস্পরকে বাতিল করে দেবে? এ প্রক্রিয়াটি ঘটনা দিগন্তের কাছে ভিন্নভাবে ঘটবে।কারণ ব্ল্যাকহোল এই কণাদের প্রভাবিত করে। ব্ল্যাকহোল কর্তৃক প্রযুক্ত শক্তির প্রভাবে এই কণাগুলো একে অপরের সাথে মিলিত হয় না। দুটি কণার মধ্যে একটকে ব্ল্যাকহোল তার নিজের দিকে টেনে নেয় ও অপরটিকে বাইরের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে অপর কণাটি মুক্ত হয়ে যায় (অর্থাৎ ভার্চুয়াল কণাটি বাস্তব কণায় পরিণত হয়)। কণাটির বাইরে আসতে যে শক্তি লাগে তা সরবরাহ করে ব্ল্যাকহোল নিজে। লক্ষণীয়: এই যে কণাটি বাইরে আসছে তা কিন্তু সরাসরি ব্ল্যাকহোলের অভ্যন্তর হতে আসছে না।ব্ল্যাকহোল শুধু এ কণাকে বাইরের দিকে ঠেলে দেয়।এ কণাটিকেই আমরা বিকিরণ আকারে বের হতে দেখব ঘটনা দিগন্তের সীমানা হতে।এ বিকিরণকেই আমরা বলি “হকিং বিকিরণ “। ব্ল্যাকহোলের ভর যত কম হয় হয় ,এ বিকিরণের পরিমাণ ততই বাড়তে থাকে। অর্থাৎ, ছোট আকারের ব্ল্যাকহোলগুলো বড় আকারের ব্ল্যাকহোলগুলো হতে বেশি পরিমাণ কণা বিকিরণ করবে। যার শক্তি আসবে ব্ল্যাকহোল হতে।ফলে ব্ল্যাকহোল শক্তি হারাবে।শক্তি হারানোর অর্থ তার ভর কমে যাওয়া।এভাবে যদি বিকিরণ চলতেই থাকে তবে ব্ল্যাকহোল তাত্ত্বিকভাবে ভর হারাতে হারাতে একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে।উল্লেখ্যঃ ব্ল্যাকহোলের মধ্যাকর্ষণ টানের কারণে সময়ের বিচ্যুতি ঘটার ফলে এই প্রক্রিয়াটি ঘটে অত্যন্ত ধীরে ধীরে।যার কারণে আমরা দেখী বিলিয়ন -ট্রিলিয়ন বছর ধরে ব্ল্যাকহোল টিকে আছে। ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে এখনো বিজ্ঞানিরা অনেক কিছুই জানতে পারেনি। তাই এটি এখনো রহস্য। তথ্যসূত্রঃ 1. https://bn.m.wikipedia.org/wiki/কৃষ্ণগহ্বর 2. https://www.ekushey-tv.com/%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%BF/66873 3. https://m.prothomalo.com/technology/article/1588145/ব্ল্যাক-হোল-দেখতে-কেমন 4. https://bigganpotrika.com/2016/08/the-mysterious-black-hole/ 5. https://www.techtunes.co/sci-tech/tune-id/36618 6. http://jumscience.com/cosmology/%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%B2-black-hole-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81-%E0%A6%95%E0%A6%A5/14474


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Black Hole
→ "Black Hole" {কৃষ্ণগহ্বর}

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now